07/09/2026
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা থেকে পশ্চিমা শক্তিগুলো মুসলিম বিশ্বকে বিভক্ত রাখতে ‘শিয়া-সুন্নি’ দ্বন্দ্ব সামনে নিয়ে আসে। দেড়শ বছর ধরে এই কৃত্রিম বিভাজনের কারণে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সুন্নি ব্লক এবং ইরান-ইরাক-সিরিয়াকেন্দ্রিক শিয়া ব্লকের মধ্যে সংঘাত বজায় থাকে। শিয়া ব্লকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার ‘ছাতা’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং বিনিময়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলে। তবে সম্প্রতি যুদ্ধের প্রথাগত ধারণা বদলে গেছে। ইরানের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানকে সামরিকভাবে কাবু করতে পারেনি। এ যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো উপলব্ধি করে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। এ বাস্তবতায় শিয়া ও সুন্নি—উভয় পক্ষের চিন্তাধারার মধ্যে একটি অভিন্ন বিন্দু তৈরি হয়। ইরান স্পষ্ট করে দেয় যে তাদের সঙ্গে আরব দেশগুলোর কোনো মৌলিক শত্রুতা নেই; বরং আরব দেশগুলোয় বিদেশি সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতিই সংঘাতের মূল কারণ। এই পারস্পরিক সমঝোতা এবং জিসিসি দেশগুলোর নিরাপত্তার গ্যারান্টি থেকেই ‘মক্কা চুক্তি’র উৎপত্তি।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণ:
১। বর্তমান ইরান সংকট
২। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট ‘নিরাপত্তাশূন্যতা’
বাংলাদেশের এই চুক্তির প্রতি আগ্রহের কারণ:
১। এই চুক্তির সঙ্গে একটি ধর্মীয় বিশ্লেষণ ও আবেগ যুক্ত করার প্রবণতা
২। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি প্রাধান্য পাওয়া
বাংলাদেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাব্য সুবিধা:
১। সামরিক সহযোগিতা
২। আর্থিক সহায়তা
৩। প্রযুক্তিগত সহযোগিতা
৪। মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল শ্রমবাজারের ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা
বাংলাদেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি:
১। সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অংশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে
২। এই জোটটিকে যদি ‘সুন্নি জোট’ হিসেবে দেখা হয়, তবে অন্য ধারার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে
৩। বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে
৪। ভারতের সাথের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে