14/05/2026
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে মুক্ত বাণিজ্যের পুরনো যুগ দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং তার স্থান দখল করে নিচ্ছে এক আগ্রাসী অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নীতিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা এখন আর কেবল বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং মেক্সিকো, কানাডা এবং চীনের মতো বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর বিশাল অংকের শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপের মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই ঘটনাপ্রবাহকে বিশেষজ্ঞরা এখন আর সাধারণ কোনো বাণিজ্যিক বিরোধ হিসেবে দেখছেন না, বরং একে একটি পূর্ণাঙ্গ 'অর্থনৈতিক শীতল যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার 'ডিকাপলিং' বা 'অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা' এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা—সবকিছুতেই একে অপরকে এড়িয়ে চলার প্রবণতা তুঙ্গে।
এই ডিকাপলিং প্রক্রিয়ার মূলে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াই, যেখানে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত প্রতিটি কৌশলগত খাতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলছে। এর ফলে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন তার জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো ও কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, তখন তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও কাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে; পণ্যের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর মূল্যস্ফীতির বোঝা চেপে বসছে। মূলত বিশ্বায়ন বা গ্লোবালাইজেশনের যে সোনালী সময় আমরা গত কয়েক দশকে দেখেছি, তা এখন এক কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিটি দেশ সহযোগিতার চেয়ে নিজের অর্থনৈতিক সীমানাকে সুরক্ষিত রাখতেই বেশি মরিয়া। এই নতুন মেরুকরণ বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব আগামী বহু বছর পর্যন্ত অনুভূত হবে।