19/06/2026
কারবালার ইতিহাসের তাৎপর্য ও কারবালার শিক্ষা নিয়ে আলোচনাঃ
পোষ্ট নং- 46-01
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
বিশ্বওলী শাহ্সূফী হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃছেঃআঃ) ছাহেবের মুহাররাম সম্পর্কিত নসিহতঃ
মুহাররামঃ- ধারাবাহিক ১ম পর্ব।
কারবালার ইতিহাসের তাৎপর্য ও কারবালার শিক্ষা নিয়ে আলোচনাঃ
হযরত নবী করীম (সাঃ) এর দৌহিত হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) ছাহেব, তদীয় পরিবারের সদস্য ও অনুগত সহচরগণ কারবালার প্রান্তরে বুকের রক্ত ঢালিয়া আল্লাহতায়ালার সত্য ধর্ম ইসলাম ও তার আদর্শের রক্ষার জন্য যে ত্যাগের নিদর্শন রাখিয়া গিয়াছেন, ইতিহাসে তাহার তুলনা নাই। তুলনা নাই বলিয়াই আজ প্রায় দেড় হাজার বছর পরও তাহা বিশ্বব্যাপী মুসলমানগন স্মরণ করিতেছে। ধর্মের জন্য আদর্শের জন্য ইতিহাসে কোন কোন সময় হয়তো কোন এক ব্যক্তির প্রাণ দান করিয়াছেন কিন্তু সমস্ত পরিবার তথা সমস্ত গোষ্ঠী সত্য রক্ষার জন্য এমন অকাতরে প্রাণ দান করিতে দেখা যায় নাই। কোন পরিবার এমন বারংবার প্রতারণা ও মিথ্যার স্বীকারও হয় নাই যেমন হইয়াছিলেন নূর নবী (সাঃ) এর শোণিতবাহী তাহার প্রিয় দৌহিত্রগণ। এই আত্মত্যাগের ঘটনা স্মরণ করিয়া প্রতিবছর আশুরা আসিয়া নবী করিম (সাঃ) এর ভক্তদের আজও অশ্রুসিক্ত করে।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগিয়া থাকে, যে নবী করীম (সাঃ) কে সৃষ্টি না করিলে আল্লাহপাক এই সৃষ্টি জগতের কিছু সৃষ্টি করিতেন না বলিয়া ঘোষণা করিয়াছেন, সেই নবী করীম (সাঃ) এর আদর্শের পতাকাবাহীবর্গের উপর বারংবার এমন অত্যাচার কেন নামিয়ে আসিল ? জগতের ইতিহাস সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্বের ইতিহাস। সত্য ও মিথ্যা চিরন্তন দ্বন্দ্বে চিরকালের টিকিয়া রহিয়াছে ন্যায় ও ত্যাগের মাধ্যমে, আর মিথ্যার ভিত্তি পতন হয়ে আছে অন্যায় ও প্রতারণার মাধ্যমে। হযরত নবী করীম (সাঃ) এর আদর্শের পতাকাবাহী হযরত আলী (কুঃছেঃআঃ), হযরত ইমাম হাসান (রাঃ), হযরত ইমাম হোসেন (রাঃ) তাই হইয়াছেন শঠতা ও প্রতারণা শিকার। কারবালার ইতিহাস তাই একদিকে আত্মত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল ও অন্যদিকে প্রতারণা ও সততার কলঙ্ককে লিপ্ত। কারবালার ইতিহাস যে সততার কলমকে লিপ্ত, তার সূত্রপাত হয় হযরত আলী (কাঃ) (কুঃছেঃআঃ) এর সময়ে সিফফিনের যুদ্ধে সন্ধির নামে প্রহসন ও তদীয় শাহাদাতের মাধ্যমে।
হযরত ওসমান (রাঃ) এর শাহাদাতের জন্য সিরিয়ার শাসনকর্তা মুয়াবিয়া ও তাহার নেতৃত্বাধীন কিছু লোক হযরত আলী (কঃ) কে মিথ্যা ভাবে দোষারোপ করিতে থাকে। তাহাদের কাঁসা জিতে মুসলিম সাম্রাজ্যে ইরাকের উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দেয়। বিদ্রোহ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় হযরত আলী (কঃ) মদিনা হইতে কুফায় রাজধানী স্থানান্তর করেন। তাহার উদ্দেশ্য ছিল ক্ষীপ্র হস্তে বিদ্রোহ দমন করা। মুয়াবিয়া হযরত আলী (কঃ) এর রাজধানী কুফা আক্রমণ করিলেন-তাহাদের দাবি হলো হযরত ওসমান (রাঃ) ও হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর বিশিষ্ট সাহাবা হযরত তালহা (রাঃ) ও হযরত জুবায়ের (রাঃ) এর হত্যার বিচার করিতে হইবে। হযরত আলী (ক:) এর অনুগত বাহিনী ও সিরিয়ার শাসনকর্তা মুয়াবিয়া ও মিশরের শাসনকর্তা ও উমাইয়া বংশীয় আমরা বিন আসনের সম্মিলিত বাহিনী সিফফিন নামক স্থানে পরস্পরের মুখোমুখি হইলো। এই স্থানে ও ফোরাত নদীর তীরে অবস্থিত। যুদ্ধের পূর্ব মুহূর্তে মুসলমানদের রক্তপাত বন্ধের জন্য হযরত আলী (ক:) শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে মীমাংসার প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু মুয়াবিয়া বলিলেন, তিনি হযরত ওসমান (রাঃ) ছাহেবের হত্যার প্রতিশোধ নিতে আসিয়াছেন। এই হত্যার জন্য যারা দায়ী বলিয়া তিনি দাবি করিতে লাগলেন, তাহাদের না পাওয়া পর্যন্ত তিনি দামেস্কে প্রত্যাবর্তন করিবেন না। এমন সকল ব্যক্তিকে তিনি হযরত ওসমানের (রাঃ) হত্যার জন্য দায়ী করিতে লাগিলেন, যাহারা এই হত্যার জন্য প্রকৃতপক্ষে দায়ী ছিলেন না। হযরত আলী (কঃ) উহাতে তাই রাজি হতে পারলেন না। সুতরাং যুদ্ধ শুরু হইল। ক্রমে মহররম মাস আসিয়া গেল। এই মাস পবিত্র বিধায় মুসলমানগন এই মাসের যুদ্ধ করিতেন না। যুদ্ধ মোহাররম মাস উপলক্ষে স্থগিত হইল। হযরত আলী (কঃ) এই সুযোগে আবার যুদ্ধবন্দের জন্য মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণ করিলেন। কিন্তু মুয়াবিয়া এইবার হযরত ওসমান (রাঃ) এর হত্যার বিচারের মূল দাবি ত্যাগ করিয়া নতুন প্রস্তাব দিলেন। তিনি বলিলেন, বিনা রক্তপাতের যুদ্ধ বন্ধ হইতে পারে, যদি নতুন ভাবে খলিফা নির্বাচন করা হয়। আর সেই উদ্দেশ্যে হযরত ওসমান (রাঃ) এর মৃত্যুকালে যে রূপ খলিফা নির্বাচনের জন্য একটি সাধারণ সভা আহবান করা হয়েছিল, ঐ রূপ সভার আহবান করা হউক। মুয়াবিয়া এ কথা ও জানাইয়া দিলেন যে, ওই সবাই তিনি নিজেই হযরত আলী (কঃ) এর সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিবেন। হযরত আলী (কঃ) বলিলেন, খেলাফতের দাবী আর হযরত ওসমান (রাঃ) এর হত্যার বিচারের দাবী-দুইটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। দুইটিকে এক করিলে চলিবে না।
হযরত নবী করিম (সাঃ) এর সকল সাহাবা মিলিয়া হযরত আলীকে (কঃ) খলিফা নির্বাচিত করিয়াছেন। তাই তাহার জীবদ্দশায় পুনরায় খেলাফত পরিবর্তনের কথা উঠিতে পারে না। অথচ মুয়াবিয়া খেলা পদ পরিবর্তনের দাবি তুলিল, ফলে সন্ধির সকল চেষ্টা ব্যর্থ হইল। কিন্তু এই ঘটনার দ্বারা ইহাই বোঝা যায় যে, মুয়াবিয়ার যুদ্ধে আসিয়াছিলেন রাজত্বের লিপ্সা লইয়া, হযরত ওসমান (রাঃ) বা হযরত জুবায়ের (রাঃ) এর বিচারের দাবি ছিল একটা মিথ্যা বাহানা মাত্র। তাই সন্ধির চেষ্টা ভাঙ্গিয়া গেল। মহররম মাসের শেষ যুদ্ধ আবার প্রবল বেগে শুরু হইল। যুদ্ধে যখন মুয়াবিয়া পরাজিত সুনিশ্চিত, তখন তিনি এক নতুন কৌশল গ্রহণ করিলেন। কিছু পক্ষকে বৃদ্ধ সৈন্য দিগকে বর্ষায় কোরআন শরীফ বাদিয়া সাদা পতাকা অর্থাৎ সন্ধি প্রস্তাবের প্রতীক হিসেবে রণক্ষেত্রে পাঠাইলেন। বর্ষার মাথায় কোরআন শরীফ বাঁধা দেখিয়া হযরত আলী (কঃ) এর সৈন্য দলের একটি অংশ আর যুদ্ধে যাইতে রাজি হইল না। হযরত আলী (কঃ) তাহাদের বুঝাইলেন, ইহা মুয়াবিয়ার নতুন কৌশল মাত্র, যুদ্ধে শেষ মীমাংসা না হইলে নতুন বিপদ সৃষ্টি হইবে। তিনি শত চেষ্টা করেও তাহাদের সৈন্য দলের ওই অংশকে আর যুদ্ধে পাঠাইতে পারিলেন না। যুদ্ধ স্থগিত করিতে তিনি বাধ্য হইলেন। নতুনভাবে সন্ধি স্থাপনের উদ্যোগ হইল। তিনি সৈন্যদের মধ্যে যুদ্ধ বিমু