05/09/2026
আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছি—গালির রাজনীতির জন্য নয়।
Tarique Zia Cyber Force-TZCF
আমি S M Sagor দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শে বিশ্বাসী একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে অনলাইনে সক্রিয় থেকেছি। ফ্যাসিবাদী শাসনের দীর্ঘ ১৭ বছরে যখন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, গুম, খুন, নির্যাতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাও ছিল ভয়ংকর ঝুঁকির বিষয়, তখনও আমি তথ্য, প্রমাণ, যুক্তি ও শালীনতার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ করেছি।
সে সময় Sadak Hossain ভাই এর নেতৃত্বে তারেক জিয়া সাইবার ফোর্স পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে এবং একাধীক বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শের অ্যাক্টিভিষ্টদের সাথে নিয়ে দেশব্যাপী রাজপথ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিজমের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু কাউকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে নয়; ব্যক্তিগত চরিত্রহনন করে নয়; মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নয়।
আমাদের সেই প্রতিবাদের মূল্যও কম দিতে হয়নি।
ফ্যাসিবাদী সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাকে বাসা থেকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় গুম করে রাখার পর একের পর এক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হয়েছে। আমার মতো আরও অনেক সাহসী গুনি বাংলাদেশী জাতীয়তবাদী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদেরকে একইভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। কেউ কেউ গুম হয়ে আর ফিরে আসেননি।
কিন্তু এত নির্যাতনের পরও আমরা কি গালির রাজনীতি শিখেছি? না।
কারণ আমরা জানতাম—ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই মানে শুধু একজন শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই নয়; বরং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই, যেখানে সত্যের জায়গায় মিথ্যা, যুক্তির জায়গায় ভয় এবং আইনের জায়গায় ক্ষমতার ইচ্ছা প্রতিষ্ঠিত হয়।
তাই আজ যখন বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস, দ্রব্যমূল্য কিংবা সরকারের যেকোনো ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে—প্রশ্ন উঠবেই। জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলার অধিকার জনগণের আছে। সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখাও গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ।
কিন্তু অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে সেটিকে রাজনৈতিক সত্য বানানো যাবে না। আবার অভিযোগের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কাউকে তার বাবা-মা, পরিবার কিংবা জন্মপরিচয় টেনে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করার অধিকারও কারও নেই।
গাজীপুরের গাছার সিফাতের বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ সত্য হলে—বিলের কাগজ সামনে আসুক, আগের বিলের সঙ্গে তুলনা হোক, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করুক। ভুল থাকলে সংশোধন হোক, অন্যায় হলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কিন্তু অভিযোগ সত্য কি না, সেটি বাদ দিয়ে গালাগালির ভিডিওকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো যাবে না।
একইভাবে, সিফাতের বিরুদ্ধে যেসব আইনগত অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোরও স্বচ্ছ তদন্ত এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া থাকা জরুরি। কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে—এটাই আমরা চাই।
কারণ আমাদের লড়াই ছিল আইনের শাসনের জন্য।
এখানে সরকারের প্রতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে:
কেউ অশালীন ভাষা ব্যবহার করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন। কিন্তু এমনভাবে আইন প্রয়োগ করবেন না, যাতে একজন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি রাতারাতি ‘নিপীড়িত রাজনৈতিক নায়ক’ হয়ে যায় এবং তার অশালীন বক্তব্যের দায় আড়ালে পড়ে যায়।
আমরা ১৭ বছর ধরে দেখেছি কীভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার মানুষকে নিপীড়িত করেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।
বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নয়—রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের জন্য।
আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি গালাগালি প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়—গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য।
আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছি মিথ্যা দিয়ে নয়—তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে।
সুতরাং আজও আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—
সমালোচনা হবে—কিন্তু তথ্যভিত্তিক।
প্রতিবাদ হবে—কিন্তু শালীন।
অভিযোগ হবে—কিন্তু প্রমাণসহ।
আইন প্রয়োগ হবে—কিন্তু যথাযথ ধারায় ও ন্যায়সংগতভাবে।
আর অপরাধের বিচার হবে—রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দিয়ে নয়, আইনের শাসনে।
যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা নির্যাতন সহ্য করেছি, কারাগারে গিয়েছি, গুমের শিকার হয়েছি—সেই বাংলাদেশে গালির স্বাধীনতা নয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা; প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার; অপপ্রচার নয়, সত্য ও প্রমাণ—এগুলোই প্রতিষ্ঠিত হোক।
এটাই আমাদের লড়াইয়ের শিক্ষা।
এটাই আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
“সবার আগে বাংলাদেশ”