17/03/2026
জুলাই আন্দোলনের সময় আমরা একটি স্লোগান শুনেছিলাম—“দিল্লি না ঢাকা”। তখন বিষয়টা ছিল অবস্থান আর আত্মনির্ভরতার প্রশ্ন।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে গল্পটা অন্যদিকে মোড় নিল। আলোচনার ফোকাস বদলাল, দেয়ালের ভাষা বদলাল, আর বাস্তবতার হিসাব-নিকাশ সামনে আসতে শুরু করল। সম্পর্ক, নির্ভরতা, কূটনীতি—সব মিলিয়ে এক জটিল চিত্র তৈরি হলো।
এখানেই একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—এই পুরো পরিবর্তনের সাথে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার সম্পর্ক কোথায়?
বাংলাদেশের খাদ্য ব্যবস্থা আজ অনেকটাই নির্ভরশীল জ্বালানি, সার, কাঁচামাল এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের ওপর। যখন আমরা বিদ্যুতের জন্য বাইরের উৎসের ওপর নির্ভর করি, বা ডিজেল আসে সীমান্ত পেরিয়ে, তখন কৃষি উৎপাদনের খরচ সরাসরি তার সাথে যুক্ত হয়ে যায়। সেচ, পরিবহন, সংরক্ষণ—সবকিছুতেই জ্বালানির প্রভাব আছে।
অন্যদিকে, যদি কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ে—যেমন ভিসা সীমাবদ্ধতা, বাণিজ্য জটিলতা বা সীমান্ত বাণিজ্যে বাধা—তাহলে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলও ঝুঁকির মুখে পড়ে। পেঁয়াজ, চাল, গম বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার তখন অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
অর্থাৎ, যেসব বিষয়কে আমরা শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখি, সেগুলোর প্রভাব কিন্তু খুব বাস্তবভাবে আমাদের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা আবারও সেখানেই ফিরে আসে—আমরা কতটা আত্মনির্ভর হতে পারছি, আর কতটা বাইরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি? কারণ খাদ্য নিরাপত্তা শুধু উৎপাদনের বিষয় না, এটা সম্পূর্ণ একটি সিস্টেম—যেখানে রাজনীতি, অর্থনীতি আর জ্বালানি—সবকিছু একসাথে কাজ করে।