05/09/2026
উনি (জাতীয় ভাইয়া) বালতি ঢালতেছেন, পোনা পড়তেছে, আর পোনা ভাইসা উঠতেছে। পেট উপরে দিয়া।
মঙ্গলবার সকাল, জিয়া উদ্যানের ক্রিসেন্ট লেক। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আগে সমাধিতে শ্রদ্ধা, তারপর গাছ লাগানো, তারপর লেকের বেইলি ব্রিজ থেইকা শুরু কইরা কয়েক জায়গায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে পোনা অবমুক্ত করলেন। কাগজে পুরা কর্মসূচি নিখুঁত। সমস্যা হইল ছাড়ার আগেই যে মরা, সে অবমুক্ত হইয়া যাবে কই? সে তো আগেই মুক্ত। প্রধানমন্ত্রী শুধু তার জানাজাটা পড়াইলেন।
ভিডিওতে উনি মরা মাছের দিকে আঙুল তুইলা কিছু একটা কইতেছেন। কী কইছেন শোনা যায় না। আমরা হাসাহাসি করতে পারি এইটা নিয়া। কিন্তু এইখানে একটা দারুণ শিখার জিনিস আছে। সেইটা আমি দেখায়ে দিতেছি। ক্যান মাছগুলা মরলো, আর কী করলে মাছগুলা মরতো না। আর ফাইনালি রাষ্ট্র কেমনে চলে। এই সব কয়টা বুঝার জন্য এর চাইতে ক্লাসিক কেইস আর হয়না।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কইলেন, এই কর্মসূচি অধিদপ্তরের দায়িত্বে ছিল না। কটিয়াদীতে মৎস্য সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী পোনা ছাড়ছেন, সেইখানে কোনো ব্যত্যয় হয় নাই। আজ কারা দায়িত্বে ছিল, "আমরা জানি না।" প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি কইলেন, দায়িত্বে ছিল জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল। আর মৎস্যজীবী দলের সাবেক সদস্যসচিব আবদুর রহিম কইলেন আসল কথাটা। সোমবার রাত তিনটায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেইকা পোনা তোলা হইছে। ভোর সাড়ে ছয়টায় গাড়ি জিয়া উদ্যানে পৌঁছাইছে। তারপর, প্রধানমন্ত্রী পোনা ছাড়ার পৌনে এক ঘণ্টা আগে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা মাছের পলিথিন খুইলা অক্সিজেন বাইর কইরা দিছেন। "তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি; কিন্তু তারা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।"
অধিদপ্তর কয় দলের। দল কয় নিরাপত্তার। নিরাপত্তা কিছু কয় নাই। মাছ কইছে।
মাছ মরা কেনা হয় নাই। মাছ জ্যান্ত আসছিল। মাছ মারা গেছে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার লাইগ্যা।
নিরাপত্তার লোকগুলা কি বোকা? পলিথিনের অক্সিজেন খুললে মাছ মরে, এইটা জানে না? জানে। কিন্তু তার জায়গায় দাঁড়াইয়া দেখেন। তার সামনে বন্ধ পলিথিন, ভিতরে পানি আর পোনা। সে যদি না খোলে, আর ভিতরে যদি কিছু থাইকা যায়, তাইলে সে শেষ। চাকরি যাবে, জেলে যাবে, সারা জীবন ওই একটা ভুলের নাম হইয়া থাকবে। আর সে যদি খোলে, আর মাছ মরে? কিছু হবে না। মাছ মরলে কে তারে ধরবে? কেউ না। মাছ তার দায়িত্ব না, মাছ অন্য কারো দায়িত্ব।
তাইলে সে কী করবে? খুলবে। প্রতিবার খুলবে। তার জায়গায় আপনি দাঁড়াইলে আপনিও খুলতেন। একদিকে নিজের জীবন, আরেকদিকে অন্যের মাছ।
এইটা ওই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকটার দোষ না। এইটা যেইভাবে জিনিসটা সাজানো, তার দোষ। যেইখানে মাছ মরলে কারো কিছু হয় না, আর পলিথিন না খুললে একজনের সব যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেইখানে মাছ মরবেই। আজকের লোক সরাইয়া কালকে নতুন লোক বসান, সেও খুলবে।
তাইলে কটিয়াদীতে মরল না ক্যান? জবাব মহাপরিচালকের কথার ভিতরেই আছে। কটিয়াদীতে কর্মসূচি করছিল মৎস্য অধিদপ্তর। জিয়া উদ্যানে করছে মৎস্যজীবী দল। একটা রাষ্ট্র, একটা দল। যেদিন রাষ্ট্র করছে, মাছ বাঁচছে। যেদিন দল করছে, মাছ মরছে।
অধিদপ্তর পোনা ছাড়লে হ্যাচারি থেইকা ঘাট পর্যন্ত একটা প্রটোকল থাকে, আর প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সেই প্রটোকল আগে থেইকা চেনে। দুই দপ্তর একই রাষ্ট্রের, একজন আরেকজনের কাগজ পড়ে। মৎস্যজীবী দলের কোনো কাগজ নাই। তারা রাত তিনটায় কাঁচপুর থেইকা মাছ আনছে, ভালোবাসা দিয়া আনছে, কিন্তু নিরাপত্তার চোখে তারা রাষ্ট্র না, তারা বাইরের লোক, যাদের পলিথিনের ভিতরে কী আছে সেইটা খুইলা দেখা লাগে। দল ভাবে আমরা তো প্রধানমন্ত্রীর লোক। রাষ্ট্র ভাবে তোমরা কে। মাঝখানে মাছ।
এইটাই মিসম্যাচ। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের। নিরাপত্তা রাষ্ট্রের। কর্মসূচি দলের। কাজটা যার, কর্তৃত্ব তার না। কর্তৃত্ব যার, কাজটা তার না। রাষ্ট্রের কাজ দলের হাতে গেলে ঠিক এইটাই হয়, আর মরার পরে কেউ দায়িত্ব নেয় না, কারণ দায়িত্ব নেওয়ার মতো কেউ ওইখানে ছিলই না। তিনটা জবাব আসছে, একটাও দায় না।
আমরা এই ঘটনাটা জানছি একটা কারণে। মাছ ভাসে। রাষ্ট্রের কাজ দলের হাতে গেলে যা যা মরে, তার বেশির ভাগই ভাসে না। ফাইল ভাসে না। টেন্ডার ভাসে না। নিয়োগ ভাসে না। ক্রিসেন্ট লেকের মাছ শুধু আমাদের একবার দেখাইয়া গেল, মেশিনটা কেমনে চলে।
দলের মহাসচিব যদি মাছগুলা অবমুক্ত করতেন, মাছগুলা কিন্তু মরতো না। কারণ এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল ঢুকতো না। মৎস অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দিলে প্রধানমন্ত্রীর মাছ মরতো না। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রটোকলের সাথে অধিদপ্তরের মিসম্যাচ হইতো না। সমস্যা হইছে তখুনি যখন দলের লোক রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীরে কিছু সাপ্লাই দিতে গেছে।
ভিডিওতে তারেক রহমান কী কইছিলেন শোনা যায় নাই, কিন্তু আন্দাজ করা কঠিন না। উনি জিগাইছিলেন, এইগুলা মরা ক্যান। দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষ, নিজের হাতে বালতি, নিজের পায়ের কাছে মরা মাছ। প্রশ্ন একটা। জবাব আসছে পরদিন, তিন জায়গা থেইকা, তিন রকম, একটাও উনার লাইগ্যা না, সবগুলা নিজের গা বাঁচানোর লাইগ্যা।
যে রাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীর আঙুল দেইখাও কেউ দায় নেয় না, সেই রাষ্ট্র আপনার আঙুল দেখলে কী করবে, এইটা কি আপনার জানার দরকার আছে?
(Collect from Pinaki and edited)