21/12/2025
🌴🌼এক নজরে উমরাহ🌼🌴
এক নজরে উমরাহ: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব নিয়ম একসাথে।
◈ মিকাত পাওয়ার আগেই ইহরাম বাধতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে যারা সরাসরি মক্কায় যাবেন
তাদের মিকাত ইয়ালামলাম,
যেটা জেদ্দা বিমানবন্দর পাওয়ার আগেই।
তাই এয়ারপোর্ট থেকেই ইহরাম বেধে যেতে হবে।
আর যারা প্রথমে মদিনায় যাবেন
তারা মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে
যুলহুলাইফা নামক মিকাতে গিয়ে ইহরাম বাধবেন।
এরপর উমরাহর নিয়ত করতে হবে।
اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ عُمْرَةً
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা 'উমরাতান।
◈ এরপর কাবা শরীফে প্রবেশের আগ পর্যন্ত তালবিয়াহ পড়তে হবে:
لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ ، لَا شَرِيْكَ لَكَ
উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা- শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা অন নি'মাতা লাকা অল মুল্ক লা- শারীকা লাক।
অর্থ: আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির।
আমি হাজির, আপনার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নিয়ামত আপনারই এবং রাজত্বও আপনারই, আপনার কোনো শরীক নেই।
◈ মসজিদুল হারাম এ প্রবেশ করার দু'আ:
(যেকোনো মসজিদে প্রবেশের সময় এই দু'আ পড়তে হয়)
بِسْمِ اللّٰهِ وَ الصَّلَاةُ وَالسَّلاَمُ عَلٰي رَسُوْلِ اللّٰهِ ، اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি অস সলা-তু অস সালা-মু 'আলা- রসূলিল্লা-হি, আল্লা-হুম্মাফ তাহলী আব অ- বা রহমাতিকা।
অর্থ: আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।
সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উপর।
হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা
উন্মুক্ত করে দিন।
◈ কা'বা ঘর দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্র বলতে হবে:
اَللّٰهُ اَكْبَر
আল্লা-হু আকবার
◈ তাওয়াফের শুরুতে 'হাজরে আসওয়াদ' এর দিকে হাত ইশারা করে বা চুমু খেয়ে বা স্পর্শ করে বলতে হবে:
بِسْمِ اللّٰهِ اَللّٰهُ اَكْبَرُ
বিসমল্লা-হি আল্লা-হু আকবার
◈ তাওয়াফের প্রতি চক্করে 'রুকনে ইয়ামানী' থেকে "হাজরে আসওয়াদ' পর্যন্ত স্থানে নিম্নোক্ত দোয়া পড়তে হবে:
رَبَّنَآ اٰتِنَا فِي الدُّنْیَا حَسَنَۃً وَّ فِي الْاٰخِرَۃِ حَسَنَۃً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণঃ রব্বানা- আ-তিনা- ফিদ দুনইয়া 'হাসানাতাও অফিল আ-খিরাতি হাসানাতাও অকিনা 'আযা-বান্নার।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দাও ও আখিরাতে কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও।
আর বাকী ৩ পাশে যেকোনো দু'আ পড়া যায়।
◈ তাওয়াফ শেষ করে সম্ভব হলে "মাকামে ইব্রাহীম' এর পিছনে এসে নিম্নোক্ত আয়াতটি পড়তে হবে:
وَاتَّخِذُواْ مِنْ مَّقَامِ اِبْرٰهٖيْمَ مُصَلّٰي
অত্তাখিজু মিম মাকা-মি ইবরা-হীমা মুসল্লা
অর্থ: ইব্রাহীম এর দন্ডায়মান স্থানকে সালাতের স্থান হিসেবে
গ্রহণ করো।
◈ মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দুই রাকাত নামাজ: প্রথম রাকাতে সূরা কাফিরুন, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তে হয়।
◈ জম-জমের পানি পান করার সময়ের একটি ছোট্র দু'আ-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا وَاسِعًاوَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা 'ইলমান না-ফিআন অ রিযক্বান অ-সিআন, অ আমালান স-লিহা; অ শিফা-আন মিন কুল্লি দা-য়িন।
অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের উপকারী জ্ঞান দান করুন; আমাদের রিযিকে বরকত দিয়ে দিন; আমাদের নেক কাজ করার তাওফিক দান করুন; সকল অসুস্থতাতে শেফা বা সুস্থতা দান করুন’।
◈ জম-জম পানি পান করার পর হাজরে আসওয়াদের কাছে যাবেন, সম্ভব হলে ডান হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন এবং চুমু খাবেন। হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার সময়ে বলবেনঃ
بِسْمِ اللهِ، وَاللهُ أَكْبَرُ
(বিসমিল্লাহি অল্লাহু আকবার)
অথবা বলবেনঃ
اللهُ أَكْبَرُ
(আল্লাহু আকবার)
তারপর, সাঈ করার জন্য সাফা পাহাড়ের কাছে চলে যাবেন।
◈ সাঈ এর সময় সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী হয়ে নিম্নোক্ত আয়াতটি পাঠ করবেন:
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللّٰهِ ، فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَّطَّوَّفَ بِهِمَا ، وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَاِنَّ اللّٰهَ شَاكِرٌ عَلِيْمٌ
ইন্নাস সফা- অল মারঅতা মিন শা'আইরিল্লাহ। ফামান হাজ্জাল বাইতা আও ই'তামারা ফালা- জুনা-হা 'আলাইহি আই ইয়াততওঅফা বিহিমা-, অমান তাতওঅফা খইরান। ফাইন্নাল্লা-হা শা-কিরুন 'আলীম।
অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ্জ অথবা উমরাহ করবে, তার জন্য এ দু'টি পাহাড় প্রদক্ষিণ করায় কোনো দোষ নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সৎকর্ম করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার যথার্থ মূল্যায়নকারী ও তার সম্পর্কে সম্যক অবগত। (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াতঃ ১৫৮)
◈ সাফা এবং মারওয়াতে নিম্নবর্ণিত দু'আটি পাঠপূর্বক দুই হাত তুলে অন্যান্য দু'আ করতে পারেন:
اَللّٰهُ اَكْبَرُ ، اَللّٰهُ اَكْبَرُ ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার অলিল্লাহিল হামদ।
لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ ، لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ ، وَ هُوَ عَلٰي كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মুল্ক অলাহুল হামদ অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।
لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ ، أَنْجَزَ وَعْدَهٗ ، وَ نَصَرَ عَبْدَهٗ ، وَ هَزَمَ الْاَحْزَابَ وَحْدَهٗ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু আনজাঝা অ'দাহু অ নাসারা আব্দাহু অ হাঝামাল আহঝা-বা অহদাহু।
◈ সাঈ এর সময় সবুজ আলোর জায়গাটুকুতে এই দু'আটি পড়তে হবে: সবুজ আলোর জায়গাটুকুতে একটু দৌড়াতে হবে এবং পড়তে হবে
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ ، إِنَّكَ أَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ
উচ্চারণঃ রব্বিগফির অরহাম, ইন্নাকা আনতাল আ'আঝঝুল আকরাম।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন, রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বাধিক শক্তিশালী ও সম্মানিত।
◈ সাঈ শেষ করে মসজিদুল হারাম থেকে বের হওয়ার দু'আ: (যেকোনো মসজিদ থেকে বের হওয়ার দু'আ)
بِسْمِ اللّٰهِ وَ الصَّلَاةُ وَالسَّلاَمُ عَلٰي رَسُوْلِ اللّٰهِ ، اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ أَسْاَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি অস সলা-তু অসসালা-মু আলা রসূলিল্লা-হি। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাডলিক।
অর্থ: আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ-এর উপর অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষণ কর। হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।
এরপর চুল কাটলেই উমরাহ শেষ হয়ে যাবে।
মদিনায় রাসূল সা. এর রওজায় সালাম পাঠ করাঃ
আসসলা-তু অসসালা-মু 'আলাইকা ইয়া আইয়ুহাননাবী অ রহমাতুল্লাহি অ বারাকাতুহু।
আসসলা-তু অসসালা-মু 'আলাইকা ইয়া নাবীআল্লাহ।
আসসলা-তু অসসালা-মু 'আলাইকা ইয়া হাবীবাল্লাহ।
আসসলা-তু অসসালা-মু 'আলাইকা ইয়া খয়রা খলকিল্লাহ।
আসসলা-তু অসসালা-মু 'আলাইকা ইয়া সাইয়িদাল মুরসালীন।
আসসলা-তু অসসালা-মু 'আলাইকা ইয়া খ-তামান নাবিয়্যীন।
আসসলা-তু অসসালা-মু 'আলাইকা ইয়া রহমাতাল্লিল আলামীন।
আসসলা-তু অসসালা-মু 'আলাইকা ইয়া শা-ফীয়াল মুযনিবীন।
তারপর হযরত আবু বকর (রা.)-এর কবর বরাবর দাঁড়িয়ে পাঠ করতে হবে- আসসালামু আলাইকা ইয়া খলি-ফাতি রসূলুল্লাহি আবু বকর আস সিদ্দীক রাদিয়াল্লা-হু তায়ালা আনহু ।
তারপর হযরত উমর (রা.)-এর কবর বরাবর দাঁড়িয়ে পাঠ করতে হবে- আসসালামু আলাইকা ইয়া আমীরাল মু'মিনীর উমার ইবনুল খত্তা-ব রদিয়াল্লা-হু তায়ালা আনহু।
(সংগ্রিহীত)