31/08/2026
ঝালকাঠিতে জমি নিয়ে বিরোধ: অবৈধ দখলের অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
মোঃ আরিফ ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:
ঝালকাঠিতে জমি নিয়ে বিরোধ, অবৈধ দখলের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী। তিনি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচন মহল গ্রামের দুলাল চন্দ্র চ্যাটার্জীর ছেলে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকালে রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠির হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি তার মালিকানাধীন সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, নলছিটি থানাধীন নাচন মহল মৌজার এসএ ২৩০ নম্বর খতিয়ানের ৪২১, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৭৩ ও ৫৭০ নম্বর দাগে মোট ৩ একর ৭ শতক জমি তাদের পারিবারিক মালিকানাধীন সম্পত্তি।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়। পরে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির প্রক্রিয়ায় ২০১৪ সালে সম্পত্তিটি অবমুক্ত করা হয় এবং এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়।
তার দাবি অনুযায়ী, পরবর্তীতে বিএস জরিপের সময় সম্পত্তির একটি অংশ ১ নম্বর খতিয়ানে এবং অবশিষ্ট ১ একর ৪৬ শতক জমি ১/১ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত হয়। অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির পর প্রচলিত আইন ও রেকর্ডের ধারাবাহিকতায় ওই ১ একর ৪৬ শতক সম্পত্তি তার নামে বিএস রেকর্ডভুক্ত হয় এবং তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জমির খাজনাও পরিশোধ করেছেন বলে জানান।
উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী আরও বলেন, বিএস ১/১ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ২৮৯ ও ৩০৫ নম্বর দাগের মোট ৮ শতক জমি তিনি বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে আয়নাল হক তালুকদার নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আয়নাল হক তালুকদার কোনো জোরপূর্বক বা বেআইনি উপায়ে জমিটি দখল করতে যাননি; বরং বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করে জমিটি ক্রয় করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ক্রেতা আয়নাল হক তালুকদার ৩০৫ নম্বর দাগের জমিতে দখল নিতে গেলে সেখানে একটি পুরনো ও পরিত্যক্ত ঘর দেখতে পান। বহু বছর আগে সন্তোষ বিশ্বাস নামে একজন ব্যক্তি ওই ঘরটি নির্মাণ করে বসবাস করতেন বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তীতে তিনি ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে ভারতে চলে যান বলেও উল্লেখ করা হয়।
উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জীর দাবি, সে সময় সম্পত্তিটি অর্পিত সম্পত্তির গেজেটভুক্ত থাকায় সন্তোষ বিশ্বাস নিজের নামে বিএস রেকর্ড করাতে পারেননি। পরবর্তীতে আনুমানিক তিন বছর আগে তার ভাই সুনীল বিশ্বাস ওরফে কুট্টি বিশ্বাস এসে ওই পরিত্যক্ত ঘরে তালা দিয়ে সেখানে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সুনীল বিশ্বাস দাবি করেন যে, ১৯৮৪ সালে সাহেব আলী তালুকদার নামে একজন ব্যক্তি কথিত সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে তাকে ওই জমি দিয়েছিলেন। তবে ওই দলিল বা মালিকানার স্বপক্ষে অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র প্রদর্শন করা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার দাবির স্বপক্ষে কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন উল্লেখ করে উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তিনি থানায় উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে মামলা করার কথা বলা হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন না করায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মামলা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ২১ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আয়নাল হক তালুকদার ওই পরিত্যক্ত ঘরে প্রবেশ করে ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। তার দাবি অনুযায়ী, বৈধভাবে ক্রয় করা জমি ব্যবহারযোগ্য করার উদ্দেশ্যেই ঘরটি পরিষ্কার করা হচ্ছিল।
তবে প্রতিপক্ষ গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে বলে অভিযোগ করেন উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী। তিনি বলেন, প্রকৃত মালিকানা, সরকারি রেকর্ড, অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির গেজেট, বিএস রেকর্ড এবং বৈধ রেজিস্ট্রি দলিলের বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন না করে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন বৈধভাবে জমি ক্রয়কারী ব্যক্তিকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, এই ঘটনাকে কোনোভাবেই হিন্দু-মুসলিম বিরোধ হিসেবে দেখতে চান না তারা।
উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, “বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। কোনো ব্যক্তি হিন্দু, মুসলমান বা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী—এটি তার নাগরিক ও সম্পত্তিগত অধিকারের বিচার করার মাপকাঠি হতে পারে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, কোনো পক্ষের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে অপর পক্ষকে ভূমিদস্যু, সাম্প্রদায়িক বা নির্যাতনকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সমাজে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জমিটির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত সব দলিল এবং সরকারি রেকর্ড নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় তিনি বলেন, কেউ যদি কথিত ১৯৮৪ সালের দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করেন, তাহলে ওই দলিলের মূল কপি, রেজিস্ট্রি তথ্য এবং আইনগত বৈধতা যাচাই করা হোক।
পাশাপাশি বৈধ মালিক বা বৈধ ক্রেতার জমিতে কেউ বেআইনিভাবে প্রবেশ বা দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো পক্ষ যাতে ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
উজ্জ্বল নারায়ণ চ্যাটার্জী বলেন, তার এবং বৈধ ক্রেতার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তারা আইনানুগ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে স্বাগত জানাবেন।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু চাই—দলিল, সরকারি রেকর্ড ও আইনের ভিত্তিতে সত্য উদঘাটিত হোক এবং যার বৈধ অধিকার রয়েছে, তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক।”
#ঝালকাঠি #সংবাদ_সম্মেলন #জমি_বিরোধ #অপপ্রচার #আঞ্চলিক_সংবাদ #আজকের_সংবাদ