23/07/2026
কেন শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করছেন না মোদি?
ভারতের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)’-এর সমর্থকেরা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। তাদের প্রধান দাবি, একাধিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।
সোমবার পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপে শতাধিক মানুষ আহত হন। এই আন্দোলনকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের সবচেয়ে বড় জনচ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের প্রধান বিরোধী দলগুলোও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
তবে অনেক গণতান্ত্রিক দেশে জনচাপের মুখে মন্ত্রীদের পদত্যাগ বা বরখাস্ত করা হলেও, ধর্মেন্দ্র প্রধান এখনো তার পদে বহাল আছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নতুন কিছু নয়। গত ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে বিভিন্ন বড় বিতর্কের পরও তিনি বহু মন্ত্রীকে পদে বহাল রেখেছেন।
মহেশ শর্মা,,,,,,,,,,,,,,,,,,
২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশে মোহাম্মদ আখলাক নামে এক মুসলিম ব্যক্তিকে গরুর মাংস রাখার সন্দেহে জনতা পিটিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দেয়।
তৎকালীন সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মা ঘটনাটিকে "দুর্ঘটনা" বলে মন্তব্য করেন। এরপর বিরোধী দল ও মুসলিম সংগঠনগুলো তার পদত্যাগ দাবি করলেও তিনি পদত্যাগ করেননি।
পরে তিনি এই মামলার এক অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। তবুও তিনি মন্ত্রিসভায় বহাল ছিলেন এবং ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার সরকার গঠনের পর তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
স্মৃতি ইরানি ও বান্দারু দত্তাত্রেয়,,,,,,,,,,,,,,,,,,
২০১৬ সালে রোহিত ভেমুলা নামে এক দলিত গবেষক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।
রোহিত ও আরও কয়েকজন দলিত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, তৎকালীন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও বান্দারু দত্তাত্রেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
রোহিতের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয় এবং দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ওঠে।
কিন্তু তারা কেউই তখন পদত্যাগ করেননি। পরে স্মৃতি ইরানিকে অন্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং দত্তাত্রেয় পরবর্তীতে রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ পান।
অজয় মিশ্র টেনি,,,,,,,,,,,,,,,,,,
২০২১ সালে উত্তর প্রদেশের লাখিমপুর খেরিতে কৃষক আন্দোলনের সময় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনির ছেলে আশীষ মিশ্রর বিরুদ্ধে গাড়ি তুলে কৃষকদের হত্যার অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় চারজন কৃষক ও একজন সাংবাদিক নিহত হন।
ঘটনার পর টেনির পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন হলেও তিনি মন্ত্রিসভায় বহাল ছিলেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পরই তার মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে।
ব্যতিক্রম:
________________________________________
হর্ষ বর্ধন,,,,,,,,,,,,,,,,,,
মোদি সরকারের আমলে জনচাপের মুখে কার্যত পদত্যাগ করা একমাত্র মন্ত্রী ছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন।
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর তিনি পদ ছাড়েন। পরে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাকে আর প্রার্থীও করা হয়নি।
মোদি সরকারের সমালোচকদের মতে, আগের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারে বড় কোনো বিতর্ক বা ব্যর্থতার পর একাধিক মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন বা বরখাস্ত হয়েছিলেন।
তাদের অভিযোগ, মোদি সরকার সাধারণত জনচাপের মুখেও মন্ত্রীদের অপসারণে অনীহা দেখায় এবং বিতর্কিত মন্ত্রীদের দীর্ঘ সময় পদে বহাল রাখে।
________________________________________
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ না করার সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক মোদি সরকারের দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক ধারা হিসেবে দেখছেন।