14/05/2026
২০১৮-এর সামারে, এক উইকেন্ডে ল্যাবে বসে এই ছবিটা মাইক্রোস্কোপে তুলেছিলাম(এখন অবশ্য উইকেন্ড এ কোন কাজ করাই এলাউড না!)। মাউস ব্রেইনের হিপোক্যাম্পাস, যেখানে মেমোরি তৈরি হয়, সেই পার্টকে ডাইসেক্ট করে কোষ থেকে নিউক্লিয়াস আলাদা করে দেখছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, এর মধ্যে থেকে নিউরনের নিউক্লিয়াসগুলাকে বাছাই করে, এর মধ্যে যে মেসেঞ্জার আরএনএ-গুলা আছে, সবগুলাকে সিকুয়েন্স করা। বয়সের সাথে সাথে হিপোক্যাম্পাসের মেমোরি তৈরি করার যে ক্ষমতা, সেটা কেনো কমে যায়, সেটা বোঝার চেষ্টা করা। কোন জিন, কোন সেল টাইপ এই মেমোরি তৈরির ক্ষমতাকে কমিয়ে ফেলতে রোল প্লে করে, সেটা ডিসকভার করা। একদম হার্ড কোর নিউরোবায়োলজি এক্সপেরিমেন্ট বলতে পারেন।
এখনো মাঝে মাঝে মনে পড়ে, এই ছবিটা যখন তুলছিলাম, মাথায় কী ঘুরতেসিল! এই যে ছবিতে গোল গোল নিউক্লিয়াসগুলা, এর মধ্যে কোনটা নিউরনের? কোনটা অন্য কোনো ধরনের কোষের(গ্লিয়া বলে)? কেনো নিউরনের নিউক্লিয়াসগুলা বেশি বড়, কিন্তু অন্য কোষগুলার নিউক্লিয়াস ছোট, কম্প্যাক্ট? যদিও সব কোষের মধ্যে একই ধরনের ডিএনএ! কেন নিউরনের নিউক্লিয়াসের ডিএনএ এত লুসলি প্যাকড, কিন্তু অন্য সব কোষের নিউক্লিয়াস টাইটলি প্যাকড? ... কারণ কি এই যে, নিউরনের ডিএনএ-গুলা সবসময় আরএনএ > প্রোটিন প্রোডাকশন করছে, সিন্যাপটিক প্লাস্টিসিটি, মেমোরি ফরমেশনের জন্য? কোটি কোটি নিউরন সেলগুলা এত এত মেমোরি ফর্ম করে, সেগুলো কোথায় সেভ করা থাকে? মেমোরিগুলা কীভাবে রিকল হয়? ডিএনএ, ক্রোমাটিন, এপিজেনেটিক মেশিনারিগুলা কীভাবে মেমোরিগুলা স্টোর করে রাখে? কীভাবে সিন্যাপসের সাথে ডিএনএ/ক্রোমাটিন লেভেলে মেমোরিগুলা সিঙ্ক করে? বিভিন্ন মেমোরি ফরমেশনের জিন এক্সপ্রেশন সিগনেচার তো একই জিন দিয়ে ডিফাইন্ড, তাহলে ডিফারেন্ট ডিফারেন্ট মেমোরি কীভাবে নেটওয়ার্ক লেভেলে স্টোর থাকে? বয়সের সাথে সাথে কোন মলিকুলার মেকানিজম আমরা রিভার্ট করতে পারি, কগনিটিভ রিজার্ভ প্রোটেক্ট করতে? ব্রেইনে এনভায়রনমেন্টাল এনরিচমেন্ট করলে, কিংবা আলঝেইমার ডিজিজে এই সেলুলার মেকানিজমগুলা কীভাবে অর্কেস্ট্রেটেড হয়? কেন কিছু মানুষ, বয়সের সাথে সাথে রেসিলিয়েন্ট থাকে?..
প্রশ্ন করার কোনো শেষ থাকত না। আসলে যখন একবার এইরকম ফ্লো স্টেট-এ ঢুকতাম, সময় কীভাবে পার হয়ে যেত, কোনো ঠিক থাকত না। এখন আমরা হয়তো অনেক কিছুই জানি, কীভাবে এই মেকানিজমগুলা কাজ করে, কীভাবে বয়স কিংবা স্ট্রেস, কিংবা অন্যান্য ইনসাল্টের কারণে আস্তে আস্তে মেমোরি ফরমেশন/রিকল করা কমে যায়। জিনিসগুলা যখন নিউরোবায়োলজির লেন্স দিয়ে ভিজ্যুয়ালাইজ করি, এত আশ্চর্য লাগে! তবে, সব চিন্তার শেষ চিন্তাটা কী ছিল জানেন? এই জিনিসগুলোর আর্কিটেক্ট কে? কীভাবে এই জিনিসগুলা ডিজাইনড? ক্যামনে সম্ভব? প্রত্যেকবার যখন এক্সপেরিমেন্টগুলা করতাম, আরো বেশি হাম্বল হইতাম, কী সুন্দর করে জিনিসগুলা ব্রেইনের মধ্যে সাজানো! মুখ দিয়ে অটো "সুবহানাল্লাহ" বের হয়ে আসতো..
একাডেমিক রিসার্চের এই একটা জিনিস খুব মিস করি, এইযে ডিপ ডাইভগুলা... একটা জিনিসের ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে চিন্তার ব্ল্যাক হোলের মধ্যে হারায় যাওয়া, ইশ!...
তবে দিনশেষে একটা হার্শ রিয়েলিটি হলো, আমাদের এই দুনিয়ার সময় ফুরায় যাচ্ছে। সেলুলার লেভেলে আমাদের ব্রেইন সারাক্ষণ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ফাইট করছে তার মেমোরি আর ফাংশনগুলো ধরে রাখার জন্য। সব কথার শেষ কথা, সময়ের এই রেসে আমাদের ব্রেইনটাকে একটু সাপোর্ট দিতে, কগনিটিভ ইম্পেয়ারমেন্ট থেকে বাঁচতে রেগুলার এক্সারসাইজ, প্রপার স্লিপ, প্রপার নিউট্রিশন, প্রপার স্যোশাল ইন্টারেকশনের ওপর আর কোনো রেমেডি আমার জানা নাই।
এর সাথে, বেশি বেশি রাইটিং। এখন এই এআই আসার পর আমরা সবকিছু এআইকে দিয়ে লেখাই, কিন্তু এই লেখাটা আমি নিজে টাইপ করে লিখেছি। কারণ দুইটা: ১) রাইটিং, থেরাপি হিসেবে কাজ করে। স্ট্রেস কমাতে, প্রতিদিন ২০ মিনিট লিখলে মন ভালো হয়ে যায়। ২) এআই যাতে ব্রেইনে জং না ধরাতে পারে। ...তবে সবচেয়ে ভালো হতো কাগজ-কলমে লিখলে। হাতের ট্যাকটাইল স্টিমুলাস ব্রেইনে সবচেয়ে ভালোমতো পৌঁছায়, লেখার থেরাপিউটিক ইফেক্ট আরও বেশি ইফেক্টিভ হয়। অনেকগুলা স্টাডি অলরেডি এই বিষয়গুলো দেখাইসে।
তবে, এআই ব্যবহার করা যাবে না, এটা বলব না। সত্যি বলতে, আমরা তো এখন সিভিলাইজেশনের একটা এক্সপোনেনশিয়াল ডেভেলপমেন্ট কার্ভ দিয়ে জার্নি করছি। সবকিছু খুব দ্রুত হয়ে যাচ্ছে। টাইম স্কেল কম্প্রেস হয়ে যাইতেসে। যেগুলা ১ বছর, ৫ বছর পরে আসতো, সেগুলো এখনই ইমার্জ করা শুরু করসে। এই সিচুয়েশনে পার্সোনালি একটা জিনিস রিয়ালাইজ করসি। যেহেতু সবকিছু সুপার ফাস্ট আগাচ্ছে, আমাদের কগনিটিভ ফাংশন কিন্তু এগুলা নেওয়ার জন্য একদমই রেডি না। আর হিউম্যান বায়োলজিক্যাল সিস্টেমগুলা কোনো মেশিন না, যে সুইচ চাপ দিলে অটোমেটিক মোড চেঞ্জ করবে। আমাদের অ্যাটেনশন, ফোকাস, এগুলা এক টপিক থেকে আরেক টপিকে চেঞ্জ হইতে সময় লাগে। মেইন গেইমটা হচ্ছে, কীভাবে আমরা আমাদের লার্নিং ক্যাপাবিলিটিকে বার্ন আউট না করে, নতুন নতুন জিনিস শিখতে পারি, রিটেইন করে রাখতে পারি। একটা ইয়াং জেনারেশন যেমন স্মুথলি যেকোনো কিছু শিখতে পারে, আমরা কীভাবে সেই লার্নিং স্টেটটা মেইনটেইন করতে পারি? কারণ, সত্যি বলতে, সারা দুনিয়ার পুরা ওয়ার্কফোর্স একটা ট্রান্সফরমেশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এখানে রিজিড হইলেই সমস্যা। ফ্লেক্সিবিলিটি ছাড়া কোনো উপায় নাই। আর, এইখানেই মনের মধ্যে আনসার্টেনিটি চলে আসে, যেটা স্ট্রেস বাড়ায়। তখন আমাদের এই দুনিয়ার ছোট্ট জীবনের আলটিমেট গোল কী? এইখানে ক্লিয়ারিটি আনাটা সবচেয়ে জরুরি।
এই চক্রে ঢোকার আগে, আমাদের স্পিরিচুয়াল গ্রাউন্ডেডনেস এখানে সবচেয়ে বেশি প্রটেকটিভ টুল হিসেবে কাজ করে। কেনো? কারণ, বাইরের পৃথিবী যখন এক্সপোনেনশিয়াল স্পিডে চেঞ্জ হচ্ছে, তখন আমাদের ব্রেইনের এমন একটা "অ্যাবসলিউট রেফারেন্স পয়েন্ট" দরকার হয়, যেটা আনচেঞ্জড। যখন আমি জানি আমার আলটিমেট ডেস্টিনেশন কী, আমার মেইনটেইনার, সাস্টেইনার এর কাছে আমার ভ্যালু, আমার স্কিল বা প্রোডাক্টিভিটির ওপর ডিপেন্ড করে না, তখন একটা অদ্ভুত শান্তি কাজ করে! আনসার্টেনিটির ভয়টা আর তখন অ্যামিগডালাকে হাইজ্যাক করে কর্টিসলে ভাসিয়ে দেয় না। ব্রেইন তখন সারভাইভাল মোড থেকে বের হয়ে সত্যিকারের লার্নিং মোডে সুইচ করতে পারে। রেজাল্টের চিন্তা আর-রাজ্জাকের ওপর ছেড়ে দিয়ে, শুধু প্রসেসটাকে এনজয় করা যায়। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সিরাত আল মুস্তাকিম এর উপর চলার তৌফিক দিক, আমিন।
আর এই ফ্লেক্সিবিলিটি আর স্ট্রেস-ফ্রি মাইন্ডসেটটাই হয়তো এই এআই এর যুগে আমাদের সবচেয়ে বড় সুপারপাওয়ার।
যাক, অনে--ক দিন একটা ছুটির দিন পেলাম, কিছু লিখার জন্য! আলহামদুলিল্লাহ!
#আমার_নিজের_জন্য_রিমাইন্ডার
#রাইটিং_থেরাপি
#মাইন্ড_মেকানিক্স