14/09/2026
ভাষা আন্দোলনের ঐ নিন্দিত উক্তি ছাড়া জিন্নাহর আদি ও আসল পাপ মূলতঃ 'অখণ্ড ভারত' তত্ত্ব ও ব্রাহ্মণ্যবাদের ওপর মোক্ষম রাজনৈতিক আঘাত। রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারার দুঃখ, গ্লানি, বেদনা সব যুক্ত হয়েছিল তখন জিন্নাহ ঘৃণায়। এখন অখণ্ড ভারত তত্ত্বের সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক বরকন্দাজরা এবং বলিউড-পড়ুয়া এপারের ইতিহাসবিদরা জিন্নাহ ঘৃণায় সর্বস্ব বিনিয়োগ করছে।
জিন্নাহর রাজনীতির ক্রিটিক আছে। খোদ বাংলাতেই আছে। শেরে বাংলা ফজলুল হক। ইন্টারেস্টিংলি, ডাকসুতে যে ছবিগুলো আজ ভাঙা হলো, সেখানের একটিতে শেরে বাংলাকেও জিন্নাহর পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সকল ক্রিটিক সত্ত্বেও জিন্নাহ যে উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনীতির প্রধানতম নেতা ছিলেন, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ-শক নাই। ইতিহাস বলে খোদ শেখ মুজিবও নাকি জিন্নাহর মৃত্যুতে হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন।
আজকে ব্রাহ্মণ্যবাদের বরকন্দাজদের হাঙ্গামা জিন্নাহর ওপর দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদী আমলে ভাসানী, শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দীর ওপরও গেছে। তখন আমাদের স্বাধীনতা-সংগ্রামের এই আইকনিক ফিগার ও ফাউন্ডিং ফাদার্সদের প্রতি চূড়ান্ত অবিচার করা হয়েছে।
অথচ শেখ মুজিব নিজেও জিন্নাহ ও সোহরাওয়ার্দীর কর্মী ছিলেন। ফ্যাসিবাদী আমলে আল্লামা ইকবালের নাম নিলেও 'পাকিস্তানি' ট্যাগ খাওয়া লাগতো। অথচ বেচারা ইকবাল পাকিস্তান হওয়ারও প্রায় ১০ বছর আগে জান্নাতবাসী হন। ফলে এসব ঘৃণার উৎস কোনো ঐতিহাসিকতার ভিত্তিতে নয়; বরং আদর্শিক।
একটা নোক্তা। জিন্নাহকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট কেউ আপহোল্ড করলে বিপদ হবেই। কারণ জামায়াত এই জিন্নাহর বিরুদ্ধেই রাজনীতি করে গেছে। উইদাউট হিস্টোরিক্যাল রিভিয়্যু,তাদের জিন্নাহপন্থি বনে যাওয়া রাজনৈতিক ও আদর্শিক অসততা।
কিন্তু জামায়াত সংশ্লিষ্ট কেউ জিন্নাহ সেলিব্রেট করলেই তো জিন্নাহর কৃতিত্ব ও অবদান ভুল হয়ে যায় না। ফলে, লড়াই চলবে। এই লড়াই বহুদিনের। এই অখণ্ড ভারতীয় ব্রাহ্মণ্যবাদী সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক বরকন্দাজদের বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, আবুল মনসুর। আমরাও লড়ে যাবো।
পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী, আসামে হেমন্ত বিশ্বশর্মা, যোগী আদিত্যনাথরা যতোবার মসজিদ-মাদ্রাসা-মক্তব বন্ধ করবে, যতোবার মুসকানদের হিজাবে টান দিবে, যতোবার গরু গোস্ত রাখার অভিযোগে মুসলিম পিটিয়ে খুন করবে, যতোবার দলিতদের ওপর নির্মমতা নেমে আসবে, ততোবার মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রাসঙ্গিক থাকবে। যখন অতো ছবি-টবির চল ছিল না, তখনও বাংলায় জিন্নাহর নামে ভোটের ক্যাম্পেইন হইতো। "বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিতি" বইয়ের মোটা ও পুরু ঢাল দিয়ে জিন্নাহকে ঢাকা যাবে না।