25/03/2026
ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনার দৃশ্য সত্যিই হৃদয় বিদারক। এমন দৃশ্য দেখলে নিজেকে স্থির রাখা কঠিন হয়ে যায়, বিশেষ করে যখন মনে পড়ে এই একই পথে আমরা কতবার যাতায়াত করেছি।
বাসচালকের দায়িত্বহীনতা নতুন কিছু নয়। অনেক সময়ই দেখা যায়, দীর্ঘ লাইনের অজুহাতে চালক স্টিয়ারিং হেলপারের হাতে ছেড়ে দিয়ে নিজে নেমে যান। এতগুলো মানুষের জীবন নিয়ে প্রতিনিয়ত এমন তামাশা করে এই ড্রাইভারগুলো! এগুলো সব ওপেন সিক্রেট! দেখার কেউ নেই! এটি শুধু নিয়ম ভঙ্গ নয়, এটি সরাসরি মানুষের জীবনের সঙ্গে খেলা। প্রতিবাদ করলেও তাৎক্ষণিক ফল না মিললেও, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করা যাবে না। সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধই একমাত্র পথ।
প্রশ্নটি কেবল একজন চালকের নয়। এটি একটি বৃহত্তর ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার প্রতিফলন। যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর তদারকি নেই, সেখানে চাঁদা আদায়ের জন্য মানুষের অভাব হয় না। এই বৈপরীত্যই আমাদের দুর্বলতার জায়গা স্পষ্ট করে।
দুর্ঘটনার পর আমরা প্রায়ই দায় নির্ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়ি- ফেরিঘাটের ত্রুটি, বাসের ত্রুটি, নাকি চালকের ত্রুটি। কিন্তু সেই বিতর্কের মাঝেই কিছু পরিবার চিরতরে অন্ধকারে ডুবে যায়। শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী হয় সাধারণ মানুষই।
এই বাস্তবতা আমাদের একটি কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায় - আমরা কি সত্যিই পরিবর্তন চাই? কারণ, ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্ববোধ ছাড়া কোনো পরিবর্তন টেকসই হয় না। আমরা নিজেরা যদি সচেতন না হই, নিয়ম না মানি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে না দাঁড়াই, তবে বাইরের কোনো শক্তিই আমাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই। আল্লাহ তাঁদের আত্মাকে শান্তি দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে ধৈর্য দান করুন। আমিন।