01/08/2026
মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে, একটা সার্টিফিকেট তৈরি করতে ঠিক কতটা স্বপ্ন, রাতজাগা পরিশ্রম আর বাবা-মায়ের চোখের পানি লাগে? 💔
ছোটবেলা থেকে আমাদের একটাই স্বপ্ন দেখানো হয়—‘ভালো করে পড়াশোনা করো, একটা সুন্দর চাকরি পাবে, ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।’ কিন্তু পড়ার টেবিলের সেই স্বপ্নগুলো যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার কিংবা কোনো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোর পেরিয়ে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়, তখন দেখা যায় অন্য এক করুণ চিত্র।
প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ সিভি হাতে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বয়সের কোঠা পার হয়ে যাচ্ছে, আবেদনের ফি জোগাতে গিয়ে বারবার পকেটের দিকে তাকাতে হচ্ছে, আর পরীক্ষার নোটিশের জায়গায় ঝুলছে স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি। এক একটা নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে যাওয়া বা অনিয়মের খবরে হাজারো তরুণের বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাস ভারী করে তোলে চারপাশ।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় বাবা-মায়ের মুখোমুখি হতে। যে বাবা নিজের সবটুকু দিয়ে সন্তানকে মানুষ করেছেন, যে মা শেষ সম্বলটুকু দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন—তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে যখন বলতে হয়, "এবারও হলো না," তখন ভেতরের মানুষটা একপ্রকার তিলে তিলে শেষ হয়ে যায়।
আমরা কি কেবল একটা রোল নম্বর? কেবল একটা রিটেন পরীক্ষার রোল কার্ড?
আমরা তো দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারতাম। আমাদের মেধা, আমাদের তরুণ উদ্যম কোনো টেবিলের নিচে আটকে থাকার কথা ছিল না। অথচ আজ বেকারত্বের তকমা গায়ে জড়িয়ে কত শত মেধা ঘরের কোণে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।
তবুও, স্বপ্ন দেখতে আমরা ভুলি না। তরুণদের এই হতাশা চিরদিনের হতে পারে না। এই মেধা যদি সঠিক মূল্যায়নের সুযোগ পায়, তবে এই তরুণরাই কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা আসুক, প্রতিটি যোগ্য হাত তার প্রাপ্য মর্যাদা পাক—এইটুকু চাওয়া কি খুব বেশি?
#বেকারত্ব #তরুণদের_ভবিষ্যৎ #যোগ্যতার_মূল্যায়ন #বাংলাদেশ