14/08/2026
অপেক্ষার শেষ নীলপদ্ম (পর্ব - ২)
মেঘলা তড়িঘড়ি করে ডায়েরিটা বিছানার চাদরের নিচে লুকিয়ে ফেলে দরজা খুলল। জিসান রাগে ফুঁসছে। তার চোখ দুটো লাল।
"তুই আরিয়ানের সাথে কী করছিলি মেঘলা? তুই জানিস ও কেমন লোক? ও আমাদের পুরো পরিবারকে ধ্বংস করতে চায়!" জিসান গর্জে উঠল।
মেঘলা নিজেকে শান্ত রেখে বলল, "আমার ছাতা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, ও পথ দিয়ে যাচ্ছিল তাই হঠাৎ দেখা। তুমি এত উত্তেজিত হচ্ছ কেন ভাইয়া?"
"ওর থেকে দূরে থাকবি! যদি আর কোনোদিন ওকে তোর আশেপাশে দেখি, তবে পরিণতি খুব খারাপ হবে!"— ভয়াবহ হুমকি দিয়ে জিসান রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
জিসান চলে যেতেই মেঘলার মনে সন্দেহের বীজ আরও গভীর হলো। জিসান এত ভয় পাচ্ছে কেন? যদি আরিয়ান শুধুই শত্রু হতো, তবে জিসানের চোখে এই আতঙ্কের ছাপ কেন?
পরদিন বিকেল চারটা। ধানমন্ডি লেকের পাড়ে মেঘলা বসে আছে। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামছে, কিন্তু আরিয়ানের দেখা নেই। মেঘলার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। তবে কি আরিয়ান তাকে আবার ধোঁকা দিল?
ঠিক তখনই মেঘলার ফোনে একটি অচেনা নম্বর থেকে কল এলো। ফোনের ওপাশ থেকে এক নার্স আতঙ্কিত গলায় বলল, "আপনি কি মেঘলা? আপনি যার নম্বর 'নীলপদ্ম' নামে সেভ করে রেখেছেন, উনি আধঘণ্টা আগে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। উনাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে। উনি অজ্ঞান হওয়ার আগে শুধু আপনার নাম বলছিলেন..."
মেঘলার হাতের ফোনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। লেকের ঠান্ডা বাতাস যেন মুহূর্তেই থমকে গেল। সে কোনো কিছু না ভেবেই একটা সিএনজি ডেকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
হাসপাতালে পৌঁছে আইসিইউ-এর বাইরে দাঁড়িয়ে মেঘলা দেখতে পেল, রক্তের বোতলের নিচে শুয়ে আছে আরিয়ান। ঠিক তখনই পেছন থেকে এক প্রবীণ লোক এসে মেঘলার পাশে দাঁড়ালেন। উনি আরিয়ানের গৃহশিক্ষক ও অভিভাবকতুল্য প্রফেসর কবীর।
মেঘলার চোখের জল দেখে প্রফেসর কবীর মৃদু হেসে বললেন, "কেঁদো না মা। আরিয়ান ছেলেটা সত্যিই পাগল। আজ তোমার সাথে দেখা করতে আসার পথেই জিসানের পাঠানো কয়েকজন গুন্ডা ওকে ঘিরে ধরেছিল। ওদের কাছ থেকে বাঁচতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা..."
মেঘলা স্তব্ধ হয়ে গেল, "জিসানের পাঠানো গুন্ডা?"
প্রফেসর কবীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "তুমি তো কিছুই জানো না মেঘলা। যে ভাইয়াকে তুমি অন্ধের মতো বিশ্বাস করো, দুই বছর আগে সে তোমাকে এক ধনী ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার চুক্তি করেছিল। আরিয়ান সেটা জানতে পেরে তোমার মান-সম্মান বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন বাজি রেখেছিল..."
(চলবে...)