23/08/2026
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর।
শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় এডভোকেট আকাশ চৌধুরী ভাই কিছুক্ষণ আগে রিসিতা সুলতানা রাকা এবং ফাহিমের শিক্ষা সহায়তায় ২০০০ (দুই হাজার) টাকা পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, শ্রদ্ধেয় আকাশ চৌধুরী ভাই তাদের শিক্ষার আলো বাঁচিয়ে রাখতে প্রতি মাসেই এই সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন।
বর্তমানে রিসিতা সুলতানা রাকা একটি সরকারি কলেজে ‘ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার’ বিষয়ে ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত, আর ফাহিম একটি মাদ্রাসায় হাফেজি পড়ছে। তাদের এই পথচলায় আকাশ চৌধুরী ভাইয়ের মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানো সত্যি প্রশংসনীয়।
মানুষ মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। এটা আমাদের ধর্মীয়, নৈতিক এবং সামাজিক দায়িত্ব। কিন্তু যখন কোনো নাগরিক তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তখন সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়।
রাকার জীবনের গল্পটি অত্যন্ত করুণ। যখন তার বয়স মাত্র এক বছর, তখন তার পাষণ্ড পিতা এই নিষ্পাপ শিশুটিকে ফেলে চলে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি সন্তানের কোনো খোঁজখবর বা দায়িত্ব নেননি। আমাদের সমাজে রাকার মতো অসংখ্য শিশু প্রতিদিন তাদের পিতা নামক কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কাপুরুষের কারণে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশের নারী ও শিশুরা এখনো অত্যন্ত অসহায়। প্রচলিত আইনের কিছু দুর্বলতা এবং ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অপরাধীরা খুব সহজেই যুগ যুগ ধরে নারী ও শিশুদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে পার পেয়ে যাচ্ছে।
আমরা মনে করি:
আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা: নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
আইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করা: প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনের ফাঁকফোকর বন্ধে আইন সংশোধন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।
দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ বন্ধ করা: পিতার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপের বিধান রাখা জরুরি।
আসুন, সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় আমরা আরো সোচ্চার হই। আর আকাশ চৌধুরী ভাইয়ের মতো উদার মনমানসিকতার মানুষদের প্রতি রইল গভীর কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা।