28/12/2025
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অবৈধ ইউনূস সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত ও ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট কারণ কাজ করছে। সেগুলো সংক্ষেপে নিচে উপস্থাপন করা হলো—
১) জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন চায় না,
২) স্বয়ং ইউনূস নির্বাচনমুখী নন,
৩) নির্বাচন চাওয়া একমাত্র দল বিএনপির নির্বাচন আদায় করার সক্ষমতা নেই,
৪) দেশের ন্যূনতম ৬২% ভোটারকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন বৈশ্বিক স্বীকৃতি পাবে না।
এই চারটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করলেই নির্বাচন না হওয়ার সম্ভাব্য চিত্রটি স্পষ্ট হয়।
১) জামায়াতে ইসলামী
জামায়াতে ইসলামী ঐতিহাসিকভাবে নির্বাচনমুখী দল নয় এবং সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা তাদের রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রীয় অংশও নয়। বরং তারা পরোক্ষভাবে ক্ষমতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে প্রভাব বিস্তারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
ইতিহাসে দেখা যায়—একাত্তর, ২০০১–২০০৬ কিংবা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি—কোনো পর্যায়েই জামায়াত সরাসরি ক্ষমতার দায়ভার নেওয়ার দিকে অগ্রসর হয়নি। বরং তারা জোট বা সহযোগী শক্তির মাধ্যমে নীতিনির্ধারণে প্রভাব রেখেছে, যেখানে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায় অন্যদের ওপর বর্তেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে জামায়াত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখলেও, সরকার পরিচালনার পূর্ণ দায় ইউনূস প্রশাসনের ওপর বর্তাচ্ছে। এই অবস্থায় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সরাসরি ক্ষমতা ও দায় নিজের কাঁধে নেওয়া জামায়াতের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
২) ইউনূস
ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার একটি অস্থায়ী ও বিতর্কিত কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই সরকার সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত নয়—এই বিষয়টি ইউনূস নিজেও অবগত। তার রাজনৈতিক টিকে থাকা মূলত অভ্যন্তরীণ শক্তির সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত সমীকরণের ওপর নির্ভরশীল।
নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কোনো নির্বাচিত রাজনৈতিক শক্তির হাতে হস্তান্তর করা হলে ইউনূসের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় পশ্চিমা বিশ্বে তার জন্য স্থায়ী রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগও সীমিত।
ফলে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঝুঁকি এড়িয়ে বর্তমান কাঠামো যতদিন সম্ভব বজায় রাখাই ইউনূসের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প।
৩) বিএনপি
বর্তমান রাজনৈতিক পরিসরে নির্বাচন চাওয়া একমাত্র বড় দল হলো বিএনপি। দলটি নির্বাচনকে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রধান ও কার্যত একমাত্র পথ হিসেবে দেখছে।
তবে সমস্যা হলো—নির্বাচন চাওয়ার রাজনৈতিক অবস্থান থাকলেও, নির্বাচন আদায় করার মতো সাংগঠনিক শক্তি, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বা রাষ্ট্রীয় সমর্থন বিএনপির নেই। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিএনপির লোকজন থাকলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ অন্য শক্তির হাতে।
২০০৯–২০২৪ সময়কালে বিএনপি কোনো ধারাবাহিক ও সফল গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। বর্তমান সাংগঠনিক বাস্তবতায় বড় ধরনের আন্দোলন বা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচন আদায় করার সক্ষমতাও দলটির নেই।
এই কারণে জামায়াত ও ইউনূস যদি স্বেচ্ছায় নির্বাচন না দেন, তাহলে তা বাধ্য করার মতো কার্যকর চাপ সৃষ্টির ক্ষমতা বিএনপির হাতে নেই।
৪) ৬২% ভোটারবিহীন নির্বাচন
এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৮ সালের নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সম্মিলিত ভোটার প্রায় ৬২%। পরবর্তী বছরগুলোতে এই সংখ্যা কমেছে বা বেড়েছে—সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়, দেশের একটি বড় ভোটব্যাংক নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকলে সেই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
তার ওপর যদি নির্বাচনটি একটি বিতর্কিত ও অস্থায়ী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে বৈশ্বিক স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা আরও কমে যায়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়া বর্তমান সরকারের টিকে থাকা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত কঠিন।
উপসংহার
উপরোক্ত চারটি কারণ মিলিয়ে দেখা যায়—বর্তমান ক্ষমতাকাঠামোতে নির্বাচন আয়োজন কোনো প্রধান শক্তির কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে অদূর ভবিষ্যতে অবৈধ ইউনূস সরকারের অধীনে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত বলেই প্রতীয়মান হয়।
= অবৈধ ইউনূস সরকারের অধীনে নির্বাচন না হওয়ার সম্ভাব্য কারণসমূহ |
Milon Syed | The AkaalBodhon