20/07/2026
১৯৯০-এর দশকে ঘানা থেকে এক ভালো ভবিষ্যতের আশায় বেরিয়ে পড়েন নিকো উইলিয়ামসের বাবা-মা, ফেলিক্স ও মারিয়া। জমানো টাকা দিয়ে
পাচা/রকারী/দের ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পথের মাঝে তাঁদের ফেলে রাখা হয়, ফলে বাধ্য হয়ে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার পথ — যার অনেকটাই সাহারা মরুভূমি — খালি পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয় ৪০-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে, খাবার ও পানি ছাড়াই। এই কঠিন যাত্রার সময় মারিয়া গর্ভবতী ছিলেন তাঁদের প্রথম সন্তান ইনিয়াকিকে নিয়ে।
স্পেনের উত্তর আফ্রিকার এনক্লেভ মেলিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের আটক করা হয়, কিন্তু এক আইনজীবীর পরামর্শে যুদ্ধবিধ্বস্ত লাইবেরিয়া থেকে আসার দাবি করে তাঁরা রাজনৈতিক আশ্রয় পান। পরে এক ক্যাথলিক যাজক, ইনিয়াকি মার্দোনেস, তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে সাহায্য করেন — কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পরিবার তাঁর নামেই বড় ছেলের নাম রাখে, যিনি নিজেও পরে ফুটবলার হন। পরিবারটি শেষ পর্যন্ত স্পেনের বাস্ক অঞ্চলে থিতু হয়, যেখানে ১৯৯৪ সালে ইনিয়াকি ও আট বছর পর নিকোর জন্ম হয়।
বড় হয়ে দুই ভাই-ই ফুটবলকে বেছে নেন, তবে ভিন্ন পথে — ইনিয়াকি ২০২২ সালে বাবা-মায়ের দেশ ঘানার জাতীয় দলে যোগ দেন, আর নিকো খেলেন স্পেনের হয়ে। ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শুরুর একাদশে জায়গা না পেলেও বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নিকো, আর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে তাঁর নিখুঁত পাস থেকেই ফেরান তোরেস করেন ম্যাচের একমাত্র গোল। স্পেন ১-০ গোলে জিতে ঘরে তোলে তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা — এক সময়ের মরুভূমি পাড়ি দেওয়া দম্পতির ছেলের হাত ধরেই। ⚽🎉