24/07/2026
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বালাইনাশক নীতি সংস্কারে ১৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
টেকসই কৃষি উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা ও দেশবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে বালাইনাশকের (কীটনাশক) সার্বিক ব্যবস্থার সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রচলিত বালাইনাশক আইন, বিধিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামো পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী পলিসি গাইডলাইন (নীতিমালা) প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ১৯ সদস্যের একটি শক্তিশালী বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ২১ জুলাই মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়।
উপসচিব মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, গঠিত কমিটিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আহ্বায়ক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সদস্য-সচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন:
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ অনুবিভাগ), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (BARC) নির্বাহী চেয়ারম্যান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ), পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনা), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি), এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BARI) কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক।
এছাড়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন সিটি ইউনিভার্সিটির কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ মামুন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BRRI) কীটতত্ত্ব বিভাগের সাবেক প্রধান ড. শেখ সামিউল হক, BARI-এর কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রধান, একজন ক্যান্সার/কিডনি বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফুড প্রফেশনালসের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরুল হাসান, বারসিক-এর পরিচালক ও পরিবেশ গবেষক পাভেল পার্থ, বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (বালাইনাশক ও মান নিয়ন্ত্রণ)।
কমিটির কাজের পরিধি:
অফিস আদেশে কমিটির জন্য তিনটি প্রধান কার্যাবলি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে:
১. নীতিমালা প্রণয়ন: আগামী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে বিদ্যমান বালাইনাশক আইন, বিধিমালা ও এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেশের মানুষের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা নিশ্চিতে নীতি নির্দেশিকা (পলিসি গাইডলাইন) তৈরি করা।
২. সমস্যা ও সুপারিশ চিহ্নিতকরণ: বালাইনাশক খাতের বিদ্যমান সমস্যাসমূহ দূরীকরণে সুনির্দিষ্ট করণীয় ও সুপারিশ প্রদান করা।
৩. সদস্য কো-অপ্টের সুযোগ: প্রয়োজনে কমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের কো-অপ্ট (যুক্ত) করতে পারবে।