07/03/2018
এক্সরে কি? কিভাবে এটি শরীরের ভেতর দেখতে পায়? এটি কি ক্ষতিকর?
যদি আমাদের চোখ রেডিয়েশনের সুপার-এনার্জিক ফর্ম ডিটেক্ট করার ক্ষমতা রাখতো, তো আপনি কারোদিকে তাকালে তার চামড়ার ভেতরের হাড়হাড্ডি গুলো দেখতে পেতেন, এমনকি সে পকেটে করে বা ব্যাগে কি নিয়ে ঘুরছে, সবকিছুই আপনার চোখে ধরা পড়ে যেতো। আর সৌভাগ্যবসত আমাদের কাছে এমন এক টেকনিক রয়েছে, আমাদের চোখ সরাসরি এমনভাবে দেখতে না পেলেও এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহার করার মাধ্যমে মানুষের শরীরের ভেতর দেখতে পাওয়া সম্ভব।
বিজ্ঞানের অনেক মহান আবিস্কার গুলোর মতো এই এক্সরেও আবিস্কার হয়েছিলো ভুলবশত। এক পদার্থ বিজ্ঞানি তার ল্যাবে গ্যাস স্রাব টিউবে ইলেকট্রন বীম নিয়ে পরিক্ষা নিরিক্ষা চালাচ্ছিলেন, এই সময় হঠাৎ তার ল্যাবে থাকা ফ্লোরোসেন্ট স্ক্রীন জ্বলতে আরম্ভ করে, যখন ইলেকট্রন বীমটি অন করা হয়। যদিও এতে চমৎকৃত হওয়ার কিছু ছিল না, কেনোনা ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের আয়তায় আসলে ফ্লোরোসেন্ট ম্যাটেরিয়াল প্রতিক্রিয়া জানাতে জ্বলে উঠে। —কিন্তু এখানে ব্যাপার ছিল, টিবটি চারিদিক থেকে হেভি বোর্ড দ্বারা ঘীরায়িত করা ছিল, ফলে রেডিয়েশন বাহির হওয়া সম্ভব ছিল না, সাথে তিনি আরো অবজেক্ট টিউব এবং স্ক্রীনের মাঝখানে রেখে দিলেন, যাতে রেডিয়েশন ব্লক হয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও স্ক্রীন গ্লো করছিলো। বিজ্ঞানীর বুঝতে আর দেরি লাগলো না যে, সেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী রেডিয়েশন তৈরি হচ্ছিলো। অবশেষে সে টিউবের সামনে তার হাত রাখলেন এবং দেখতে পেলেন, ফ্লোরোসেন্ট স্ক্রীনের মধ্যে তার হাতের হাড্ডির ছায়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তো এভাবেই এক্সরে আবিষ্কৃত হয়ে যায় এবং এর সাথে সাথেই এর বেস্ট ব্যবহার সম্পর্কেও আমরা জেনে যাই।
শুধু মেডিক্যাল ক্ষেত্রে নয়, বর্তমানে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, জ্যোতির্বিদ্যা, এবং শিল্পতেও এর উল্লেখ্যযোগ্য ব্যবহার করেছে। এই আর্টিকেল থেকে জানবো, এটি কিভাবে কাজ করে, এবং কোথায় কোথায় আমরা একে কাজে লাগাই। তো আর দেরি কিসের?
এক্সরে কি?
এক্সরে এবং দৃশ্যমান লাইট অনেকটাই এক জিনিষ। উভয়ই ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফর্মে চলে এবং এই এনার্জিকে ফোটন বহন করে (যদি লাইট নিয়ে বিস্তারিত আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন, তো অবশ্যই জানেন)। দৃশ্যমান আলো এবং এক্সরে উভয়ই অ্যাটমের মধ্যের ইলেকট্রনের নড়াচড়া থেকে উৎপন্ন হয়। যখন ইলেকট্রন তার কক্ষপথ থেকে নিম্নস্তরে নেমে আসে, ইলেকট্রন কিছু এনার্জি ত্যাগ করে, আর এই এনার্জি ফোটন আকারে ত্যাগ করে। যাই হোক, ইলেকট্রন ফোটন বুঝিয়ে আর আপনার মাথা ঘোল করবো না, এক কথায় বলতে এক্সরে হলো সাধারণ লাইটের সুপার পাওয়ার ফুল ভার্সন। সাধারণ আলোর মতো এটিও একই স্পীডে ভ্রমন করতে পারে। আপনি যদি কোন কাগজের টুকরাকে নির্দেশ করে এক্সরে লাইট ছুঁড়ে মারেন তো দেখতে পাওয়া যাবে সাধারণ আলোর চেয়ে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য হাজার গুন ছোট। এর এনার্জি অনেক বেশি, তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খাটো, এবং ফ্রিকুয়েন্সি অনেক বেশি হওয়াতে এটি এমন সকল বস্তুকে ভেদ করতে পারে, যেটা সাধারণ আলো ভেদ করতে পারে না।