06/06/2026
ছেলেটার নাম- বায়েজিদ | বাংলাদেশী নাগরিক | জীবনের তাগিদে পাড়ি জমিয়েছে সৌদিআরব | আরও স্পষ্ট করে যদি বলি, তাহলে বলতে হয় | ও একজন প্রবাসী | যাইহোক - বায়েজিদ এর সাথে আমার কখনো সরাসরি দেখা হয়নি | তবে হ্যাঁ- কয়েক বছর আগে ওর সাথে আমার একবার মেসেজ ইনবক্সে কথা হয়েছিল | ও শুধু বলেছিল ভাইজান, আমি সৌদিআরবে থাকি, আপনার গান শুনি, বলতে পারেন আমি আপনার একজন অন্ধ ভক্ত | বিশ্বাস করবেন কি-না আমি জানি না। তবে- সত্যি বলতে কি ভাইয়া, আপনাকে আমি আমার জীবনের চেয়েও অনেক বেশি ভালোবাসি | আমার একটাই মনের আশা, বাংলাদেশে আসলে আপনাকে সরাসরি এক নজর দেখতে চাই | প্লীজ ভাইয়া প্লীজ... ❣️
আমি- সেইসময় বলছিলাম ঠিক আছে | তুমি ভালোভাবে আগে দেশে ফিরে আসো, এরপর যদি আল্লাহ্ তায়ালা তোমাকে এবং আমাকে জীবিত রাখেন, সুস্থ রাখেন, তাহলে নিশ্চয়ই দেখা হবে ইনশাআল্লাহ্ | সেদিন এইটুকু কথাই আমাদের মধ্যে হয়েছিল | এরপর কয়েকটি বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমাদের মাঝে আর কোন যোগাযোগ হয়নি, কথা হয়নি |
হঠাৎ করে গতকাল রাতে আমার একটা পোস্টের কমেন্ট বক্সে বায়েজিদ এর একটা ছবি দেয় | যে ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ওর পরনের টি-শার্টের মধ্যে ইমন খানের ছবি ছাপানো আছে | এই দৃশ্যটি চোখে দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি | এবং সঙ্গে সঙ্গেই ওর মেসেজ ইনবক্সে আমি নক দিয়ে জিগ্যেস করি তোমার নাম কি, কই থাকো ভাইয়া? ও তখন বললো ভাইজান- আমার নাম- বায়েজিদ সৌদিআরবে থাকতাম | আজ থেকে প্রায় চারপাঁচ বছর আগে আপনার সাথে আমার একবার মেসেঞ্জারে কথা হয়েছিল, এখন আমি দেশে আসছি | আপনার সাথে দেখা করতে চাই | আমি তখন বললাম ঠিকে আছে ভাইয়া- তুমি এই জুন মাসের ১০ তারিখের পর যোগাযোগ করে ঢাকায় আসো, মালিক চাইলে নিশ্চিয়ই আমাদের দেখা হবে ভাই আমার | ও বললো- ঠিক আছে ভাইয়া তাহলে আমি কিন্তু ঢাকায় আসছি | আমার এক জীবনের একটাই স্বপ্ন, সেটা হলো- আপনাকে কাছ থেকে একবার এক নজর দেখবো | এরপর আমার আর কোনকিছু চাওয়ার নেই | আমি আবারও বললাম - ঠিক আছে ভাইয়া আসার আগে অবশ্যই ফোন করে যোগাযোগ করে তারপর আসবে | আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি আল্লাহ্ তায়ালা তোমাকে এবং আমাকে একসাথে করবেন ইনশাআল্লাহ | ভালো থেকো ভাইয়া, ভালোবাসা নিও- আল্লাহ্ হাফেজ...! এই বলেই বিদায় নিয়ে ছিলাম সেদিন | বিদায়ের এতো বছর পরেও যারা কাউকে মনে রাখে, তাঁরা সত্যিকারের নিখাদ ভালোবাসার মানুষ | ❣️🙏
সবশেষে - আমার এই অবুঝ মনটা একটা কথা খুব করে জানতে চায় | আচ্ছা আপনারাই বলুন তো-
বায়েজিদ এর হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের টাকায় শার্ট, প্যান্ট, জুতো, ঘড়ি ও টি-শার্ট কিনে, কেন সেই টি-শার্টের উপর ইমন খানের ছবি প্রিন্ট করে গায়ে পরতে হবে? এসব করে আমিতো বায়েজিদ এর কোন লাভ দেখছি না, ক্ষতি ছাড়া | তবুও এমন হয়- অচেনা, অজানা, হাজারও বায়েজিদরা অযোগ্য এক ইমন খানকে এমনি করে ভালোবাসা দিয়েই তাদের বুকের মধ্যিখানে আগলে রাখে? আমি শুধু ভাবি- তাঁদের এই খাঁটি ভালোবাসার মূল্য পরিশোধ করার ক্ষমতা যে আমার কোন কালেও হবে না। আমাকে তোমরা ক্ষমা করে দিও--- ❣️🙏
আর কিছু বুঝি- বা- না বুঝি, শিখি বা না শিখি | তবে- তোমাদের থেকে এইটুকু শিখেছি বা বুঝেছি যে----|🥰 ভালোবাসা পেতে ভাগ্য লাগে - যা টাকায় কেনা যায়-না | 🙏🤲
তোমার/ এবং তোমাদের সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ.. বায়েজিদ...🙏❣️