22/07/2025
চলুন,, বড় দুর্ঘটনায় Burn Management নিয়ে জানি!
গতকাল উত্তরা মাইলস্টোনের ভয়াবহ প্লেন ক্র্যাশ আমাদের মনে করিয়ে দিল, বড় অগ্নিকাণ্ডে শরীর পুড়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান কতটা জরুরি।
বিশেষ করে, দগ্ধ রোগীর শরীরে কত শতাংশ পুড়েছে – এটা জানা চিকিৎসকের জন্য জীবন বাঁচানোর প্রথম ধাপ।
তাই আজ একটু stable হয়ে মেডিকেল স্টুডেন্ট হয়ে বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত লিখা।।
শরীরের পুড়ার হিসাব করার সবচেয়ে দ্রুত ও সহজ পদ্ধতি হলো - Rule of 9
শরীরকে ভাগ ভাগ করে ধরা হয়ঃ
• মাথা ও ঘাড় ➡️ ৯% (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১৮% )
• একেকটা হাত ➡️ ৯%
• বুকের সামনের দিক (chest+abdomen) ➡️ ১৮%
• পিঠের দিক (Back of the trunk) ➡️ ১৮%
• একেকটা পা ➡️ ১৮% (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১৩.৫% করে)
• গোপনাঙ্গ (Perineum) ➡️ ১%
👉 ধরুন, যদি দুই হাত, বুকের সামনের দিক আর মুখ পুড়ে যায়, তাহলে = ৯% + ৯% + ১৮% + ৯% = ৪৫% দগ্ধ। ( শিশু হলে ৫৪% দগ্ধ)
এই হিসাবের উপর নির্ভর করে রোগী ICU দরকার কি না, fluid কত দিতে হবে ইত্যাদি সিদ্ধান্ত হয়।
Hospital Admit (বা ICU ) মূল শর্ত -
☑️ Partial thickness বার্ণ (2nd degree burn) যদি ১৫% এর উপর হয় (Adult ) অথবা ১০% এর উপর ( Children )
☑️ Full thickness (3rd degree burn) বার্ন হলে ৫% এর উপর হইলেই হাসপাতালে এডমিট করতে হয়।
এছাড়াও শর্ত আছে , যা প্রাসঙ্গিক আজকের জন্য শুধু সেগুলো বললাম।
গতকালকের ভিডিও তে দেখা প্রায় বেশিরভাগেরই ছিল 2nd degree & 3rd degree burn. 🙂🙂🙂
✅ এখন আসি, কীভাবে স্যালাইন দেওয়া হয় দগ্ধ রোগীকে?
পুড়ে যাওয়ার পর দেহ প্রচুর পানি হারায়। বাঁচাতে হলে সেই পানি দ্রুত দিতে হয়।
এই জন্য বিশ্বব্যাপী চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ঃ
👉 Parkland Formula:
Fluid (ml) = 4 ml × Body weight (kg) × % Burn area
কীভাবে দেবেন?
⏳ প্রথম ৮ ঘণ্টায় অর্ধেক
⏳ পরের ১৬ ঘণ্টায় বাকি অর্ধেক
⚠️ উদাহরণঃ
৬০ কেজি রোগী, ৪৫% পুড়েছে।
= 4 × 60 × 45 = 10,800 ml স্যালাইন
প্রথম ৮ ঘণ্টায় ৫,৪০০ ml
পরের ১৬ ঘণ্টায় ৫,৪০০ ml
🔍 শেষ কিছু জরুরী কথা:
✅Burn Injury মানেই শুধু চামড়া পুড়েনি, পুরো শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ছে।
✅সঠিক হিসাব আর দ্রুত স্যালাইনই জীবন বাঁচায়।এই স্যালাইন সময়মত পাচ্ছে কিনা এটার উপরও রোগীর জীবনমরণ নির্ভর করতেসে (prognosis). হাসপাতালে নিতে অনেক বেশি দেরি হয়ে গেলেও কিন্তু এই পানিশুন্যতা থেকে রোগী hypovolemic shock এ চলে যায় , যেটা সময়মত রিভার্স করা না গেলে আস্তে আস্তে একটার পর একটা Organ fail করতে শুরু করে , ফলশ্রুতিতে মৃত্যু অনেকটা অবধারিত।
✅এছাড়াও রোগীর আশেপাশে বেশি মানুষ এসময় এলাউ করা মোটেও medically রাইট না, sepsis ডেভেলাপ করে Septic shock এ চলে যেতে পারে , যেটাও অর্গান ফেইল করে মৃত্যুর দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়।
✅একটা burn patient এর prognosis (ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ) আরও অনেক ফ্যাক্টরের উপর ডিপেন্ড করলেও লাস্ট আরেকটি জিনিস জানিয়ে আজকের পোস্ট শেষ করব যেটা হলো আগুনের বদ্ধ রুমে Inhalation burn(শ্বাসনালিতে পোড়া) হলে সেক্ষেত্রে শুধু ৩০% বার্ণ নিয়েও রোগীর অবস্থা ভালো থাকেনা , বাঁচানো কঠিন হয়ে যায় । তাই সব সময় বার্নের পার্সেন্টেজ দেখেই রোগী মারা গেলে ডাক্তারকে গালি দিতে আসবেন না না বুঝে । এরকম ভাবে Electric burn , Chemical burn এও আপাত ভাবে বার্ন বাইরে কম বুঝা গেলেও রোগীর ভিতরে কন্ডিশন থাকে যায় যায় অবস্থা।
একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট হিসেবে মনে করি, এই জ্ঞান আজকের বাংলাদেশে সবাইকে জানা উচিত।
- A K M Samiul Haque
Sir Salimullah Medical College (MBBS)
(সংগৃহীত)