18/02/2026
এবারের রামাদান হোক আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ রামাদান। এই রামাদানকে স্পেশাল বানাতে আমরা যা যা করতে পারি:
১) প্রতিদিন অন্তত ৪ রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবো এবং কিছু সময় আন্তরিকভাবে দোয়ায় কাটাবো। শেষ রাতের দোয়া ও ইস্তিগফার আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
২) সারা মাসে কমপক্ষে একবার কুরআন মাজিদ পড়ে শেষ করবো। বিশেষভাবে রাতের বেলা কিছু সময় তিলাওয়াত করবো। রাতের তিলাওয়াতের মর্যাদা অনেক বেশি।
৩) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আওয়াল ওয়াক্তে (ওয়াক্তের শুরুতেই) পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আদায় করবো। পুরুষরা অবশ্যই জামাতের সাথে নামাজ আদায় করবো। ধীরে-সুস্থে তারাবি পড়বো। বাসায় তারাবি পড়লে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জামাতের সাথে পড়বো এবং নারীদেরও শামিল রাখার চেষ্টা করবো। তাঁদের কাতার হবে সবার শেষে। নারীদের কাতারে কোনো পুরুষ থাকবে না।
৪) গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবো। বিশেষত রোজা অবস্থায় চোখ কান এবং জিহ্বা দিয়ে কোনো ছোট গুনাহও করব না।
৫) প্রয়োজন ব্যতীত অনলাইনে আসবো না। কারণ অনলাইন হলো গুনাহের মহাসমুদ্র। ইউটিউবের শর্টস, ফেইসবুকের রিল কিংবা টিকটকের ফাঁদে ডুবে যাবো না।
৬) সারা মাসে অন্তত একবার আত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করবো অথবা ফোন করে খোঁজ-খবর নেবো। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফরজগুলোর একটি।
৭) প্রতিদিন অন্তত ২/৩ ঘণ্টা সময় কুরআন তিলাওয়াত, হিফজ এবং কুরআনের অর্থ ও তাফসির পাঠে ব্যয় করবো। সম্ভব হলে সম্মিলিতভাবেও এই কাজটি করা যায়। কুরআন এবং রামাদান একই সূত্রে গাঁথা।
৮) সাধ্যানুযায়ী পুরো মাস জুড়ে অসহায় ও দরিদ্রদের দান-সাদাকাহ করবো। এক্ষেত্রে নিজ আত্মীয়দের প্রাধান্য দেবো। এটিই ইসলামের নির্দেশনা। এমন অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে আছে, যারা লজ্জায় কারও কাছে হাত পাততে পারে না; তাদেরকে খুঁজে বের করে সাধ্যানুযায়ী হেল্প করবো। এটি বিরাট নেকির কাজ হবে। বিশেষ করে তাদের সাহরি ও ইফতারের খোঁজ নেবো।
৯) মনের সংকীর্ণতা দূর করে উদারচিত্তে সবাইকে ক্ষমা করে দেবো। বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালাও আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। কুরআন ও হাদিসে এই ওয়াদা আছে।
১০) রামাদানের শেষ দশকে ইবাদাতে ডুবে যাবো এবং লাইলাতুল কদর তালাশ করবো; শুধু ২৭তম রাতেই নয়, শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই; বিশেষত বিজোড় রাতগুলোতে।
১১) সাহরি ও ইফতারে খাবারের অপচয় করবো না এবং খাবার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা, কথা-বার্তা ও হৈ-হুল্লোড় করবো না। খাবার তৈরিতে বাসার নারীদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করব এবং কোনো খাবার পছন্দ না হলে মেজাজ দেখাব না।
১২) নামাজের পর, সকাল-সন্ধ্যায় ও ঘুমের আগে-পরের মাসনুন যিকরগুলো গুরুত্বের সাথে পড়বো। বিশেষ করে, আয়াতুল কুরসি ও ৩ তাসবিহ নিয়মিত আদায় করবো। পাশাপাশি দোহার/চাশতের নামাজে অভ্যস্ত হবো। প্রতিদিন অন্তত ৪ রাকাত আদায় করবো। অত্যন্ত ফজিলতের আমল।
১৩) সর্বদা তাওবাহ-ইস্তিগফারের আমল জারি রাখবো। সাহরি ও ইফতারের সময়ে দোয়ায় কিছু সময় কাটাবো। এ দুটো সময়ে দোয়া কবুল হয়। রামাদানে মুমিনের প্রধান কাজ হলো, নিজের গুনাহগুলো মাফ করানো। তাই, এটিই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
১৪) আমরা যারা গিবত, গান শোনা, নাটক-মুভি দেখা, অশ্লীলতা, কুদৃষ্টি, কুধারণা, লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার এবং অন্যান্য গুনাহ থেকে বের হতে পারছি না, বরং এগুলো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, তারা রামাদানের দীর্ঘ এক মাসের কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করে নিতে পারি। যারা অনলাইন গেইম এবং খেলা দেখায় আসক্ত, তারাও নিজেদের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারি। দৃঢ়প্রতিজ্ঞা, কঠোর সাধনা এবং দোয়া-কান্নাকাটির মাধ্যমে আমরা আমাদের বদঅভ্যাসগুলো পরিবর্তন করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
১৫) এই রামাদানই হতে পারে আমাদের অনেকের জীবনের শেষ রামাদান। তাই, হাসি-ঠাট্টা, ফূর্তিবাজি ও গতানুগতিক উদ্দেশ্যহীন জীবনযাপন বাদ দিয়ে যথাসাধ্য তাকওয়া, বিনয় ও গাম্ভীর্যের সাথে এমনভাবে এই রামাদান কাটাবো, যেন সবাই আমরা মৃত্যুপথযাত্রী। এই অনুভূতি ধারণ করে রামাদানের মহামূল্যবান সময়গুলো কাজে লাগাবো।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এগুলোর উপর আমল করার তাওফিক দিন, আমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করুন এবং তাঁর সন্তুষ্টির উপর মৃত্যু দিয়ে কবরের অধিবাসী করুন। আমিন।
~সংগ্রহীত