11/09/2026
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।
আজকের এই পরিবর্তনশীল ও ব্যস্ত দুনিয়ায় আমরা প্রায়শই নিজেদের মূল উদ্দেশ্য ভুলে যাই। এই জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী, আর দুনিয়া হলো কেবলই আখেরাতের শস্যক্ষেত্র। এখানকার ধন-সম্পদ, রূপ-যৌবন কিংবা চাওয়া-পাওয়া—কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। দিনশেষে আমাদের আসল পরিচয় আর অর্জন হলো আমাদের ঈমান ও নেক আমল। আসুন, দুনিয়ার এই মায়াজাল থেকে খানিকটা সময় বের করে আমরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী থেকে হেদায়েতের আলো খুঁজে নিই।
নিচে হাদিসের কিতাব থেকে একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও দীর্ঘ হাদিস উপস্থাপন করা হলো:
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুসংবাদ ও আখেরাতের বিচার (দীর্ঘ হাদিস)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পূর্বাপর সকল মানুষকে একটি সমতল ময়দানে একত্রিত করবেন, যেখানে একজন আহ্বানকারীর ডাক সবার কানে পৌঁছাবে এবং সবার ওপর দৃষ্টিপাত করা সম্ভব হবে। সূর্য মানুষের একদম নিকটে চলে আসবে এবং মানুষ এমন কষ্ট ও দুশ্চিন্তায় নিপতিত হবে যা সহ্য করা বা বহন করা তাদের সাধ্যের বাইরে চলে যাবে।
তখন মানুষ একে অপরকে বলবে, 'তোমরা কি দেখছ না তোমরা কি বিপদে আছ? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজবে না যিনি তোমাদের রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন?'
তারা প্রথমে হযরত আদম (আ.)-এর কাছে যাবে এবং বলবে, 'আপনি মানবজাতির পিতা, আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, আপনার মধ্যে তাঁর রুহ ফুঁকে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের দিয়ে আপনাকে সেজদা করিয়েছেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন।' কিন্তু তিনি তাঁর ভুলের কথা স্মরণ করে বলবেন, 'আজ আমার রব অত্যন্ত রাগান্বিত আছেন... তোমরা অন্য কারো কাছে যাও, তোমরা ইব্রাহিম (আ.)-এর কাছে যাও।'
এরপর মানুষ একে একে হযরত ইব্রাহিম (আ.), হযরত মুসা (আ.) এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর কাছে যাবে। সকলেই নিজ নিজ ওজর পেশ করবেন এবং বলবেন, 'আজ আমি নিজের চিন্তায় ব্যাকুল (নাফসি, নাফসি)। তোমরা অন্য কারো কাছে যাও।'
অবশেষে মানুষ আমার কাছে আসবে এবং বলবে, 'হে মুহাম্মদ! আপনি আল্লাহর রসূল এবং সর্বশেষ নবী। আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন।'
রসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: 'তখন আমি আরশের নিচে গিয়ে আমার রবের সেজদায় লুটিয়ে পড়ব। আল্লাহ তাআলা আমার অন্তরে তাঁর এমন প্রশংসা ও মহিমা প্রকাশ করে দেবেন, যা আমার পূর্বে আর কাউকে শেখাননি।
এরপর বলা হবে, 'হে মুহাম্মদ! আপনার মাথা উঠান, যা চাও তা দেওয়া হবে, সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ কবুল করা হবে।'
তখন আমি মাথা উঠিয়ে বলব, 'হে আমার রব! আমার উম্মত, আমার উম্মত!'
তখন বলা হবে, 'হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতের মধ্য থেকে যাদের কোনো হিসাব-নিকাশ নেই, তাদের জান্নাতের ডানপাশের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন।' যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! জান্নাতের দরজার দুই পাল্লার মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো মক্কা ও হাজারের (অথবা মক্কা ও বুসরার) মধ্যকার দূরত্বের সমান।"
(সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)