05/09/2026
🚨 শিক্ষার নামে ম্রো শিশুদের ধর্মান্তর? অভিযোগের কেন্দ্রে কারা?
বান্দরবানের দরিদ্র ম্রো পরিবারগুলোর শি*শুদের বিনামূল্যে পড়াশোনা, থাকা-খাওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মাদ্রাসায় নেওয়া এবং পরে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পরিবর্তনের অভিযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে কক্সবাজারের ইক্বরা তাহসীনুল কুরআন মাদ্রাসা ও শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা: ইউসুফ আলী।
দুজনের বিরুদ্ধে ম্রো শি*শুদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগ ইউসুফ আলী ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কয়েকজন নওমুসলিম অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেন এবং দাবি করেন, শি*শুরা অভিভাবকের সম্মতিতে সেখানে পড়াশোনা করছে। আবার অনেকের দাবী, এইসব টাকার বিনিময়ে ব্রেইন ওয়াশ করে ডা ইউসুফ আলী ও তার সহযোগিরা ম্রো সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করিয়েছে।
২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে, ইক্বরা তাহসীনুল কুরআন মাদ্রাসায় ৩০ জন ম্রো ও ত্রিপুরা শি*শুর সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হয়। একই প্রতিবেদনে ২০২৩–২০২৪ সালে দুই ধাপে ১৪ + ৯ = ২৩ জন ম্রো শি*শুকে উদ্ধার করার দাবি করা হয়েছে। আরেকটি পুরোনো প্রতিবেদনে ২০২১ সালে ১৩ জন ম্রো শি*শুকে উদ্ধার করার দাবি করা হয়। প্রতিবছর এইভাবে নিজের সংস্কৃতি ও মাতৃভাষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ম্রো ও ত্রিপুরা শি*শু।
একজন দরিদ্র ম্রো শি*শুকে শিক্ষা দেওয়া নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ হতে পারে। কিন্তু সেই শিক্ষার সঙ্গে যদি শিশুর নিজস্ব ভাষা, নাম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারিবারিক ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের চাপ যুক্ত হয়—তাহলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবশ্যই প্রয়োজন। শি*শুর জন্য শিক্ষা দরকার। কিন্তু শিক্ষার বিনিময়ে নিজের পরিচয় হারানো নয়। দুজন মাদ্রাসা শিক্ষককে আইনের আওতায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হউক। এই নিয়ে আদিবাসী সমাজে নানা আলোচনা হওয়াটা জরুরি। যদি না হয়, তাহলে একটা সময় ম্রো-ত্রিপুরা আদিবাসী বলতে আর কিছু থাকবে না।
ম্রো শি*শুর শিক্ষা হোক—
ম্রো পরিচয় ও সংস্কৃতিকে সম্মান করেই।
#ম্রো #ম্রো_শিশু #ম্রো_সম্প্রদায় #আদিবাসী
#আদিবাসী_অধিকার #আদিবাসী_সংস্কৃতি #পার্বত্য_চট্টগ্রাম