20/09/2024
বিনিয়োগ আগে, নাকি উৎপাদন আগে??
হাজার টাকা বিনিয়োগ করে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখলে সে স্বপ্ন অধরায় থেকে যাবে। শুরুতে একটা গল্প বলি। একবার এলাকার একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাসহ অনেকেই বক্তব্য রাখছিলেন। এবার এক শিক্ষক বক্তব্য রাখতে চাইলে এক নেতা বলে উঠলেন ভাই তুমি শিক্ষক মানুষ, তুমি চুপ থাকো, তোমার কেন এত কথা?
এদেশে শিক্ষকের মানসম্মত বেতন ভাতার কথা বললে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আমলা অনেকেই নাক ছিটকায়। এরা যে টুকু পড়ায়, যে বেতন এটাই বেশি!
প্রযুক্তিতে বর্তমান বিশ্বে এক বিস্ময়ের নাম দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের এই মিরাকলের মূল জিয়নকাঠি উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা। একবিংশ শতাব্দীতে এসে দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বসেরা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এর কারণ শিক্ষা খাতে দেশটির বিনিয়োগ। আরও সরলীকরণ করলে বলা যেতে পারে প্রাথমিক শিক্ষায় এবং শিক্ষকের ওপর তাদের বিনিয়োগ।
আর এত সব সাফল্যে পর্দার পেছন থেকে চাবিকাঠি নাড়ছেন সে দেশের দক্ষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকেরা। উচ্চ বেতন, উন্নত জীবনযাপনের নিশ্চয়তা, সামাজিক মর্যাদা পেয়ে সে দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। দেশ তাঁদের দিয়েছে উন্নত জীবনমান আর শিক্ষকেরা উপহার দিচ্ছেন উন্নত জাতি। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান বা মালয়েশিয়ায় শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা অন্য পেশাজীবীদের চেয়ে অনেক ওপরে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে শিক্ষকদের উচ্চতর স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রদান করা হয়। আর আমাদের দেশের চিত্র উল্টো। শুধু উল্টো বললে ভুল হবে, আমাদের দেশের শিক্ষকদের অবস্থান অন্য পেশাজীবীদের চেয়ে শুধু নিচেই নয়, অপমানজনকও বটে।
বাংলাদেশে একজন প্রাথমিক শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক সম্মান। বেতন পান ১৩তম গ্রেডে। সর্বসাকল্যে যা দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৬৫০ টাকা। দৈনিক হিসাবে ৫৮৮ টাকা। পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি সংসারে বর্তমান বাজারমূল্যে এই কয়টা টাকা দিয়ে কীভাবে সংসার চলে, তা রীতিমতো বিস্ময়ের বিষয়। শিক্ষককে বঞ্চিত করে উন্নত রাষ্ট্রের চিন্তা করা বোধ হয় খুব একটা বাস্তবসম্মত হবে না। তাতে দেশ ও জাতিই বরং বঞ্চিত হবে। তাই এখনই সময় প্রাথমিকসহ সব শিক্ষকের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করা। উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবীদের প্রাথমিক শিক্ষায় সংশ্লিষ্ট করতে চাইলে এর বিকল্প নেই।
সূত্রঃ প্রথম আলো