08/08/2025
স্কেবিস কী?
স্কেবিস হলো এক ধরনের পরজীবীজণিত চর্মরোগ, যেখানে "scabies mite" নামক ক্ষুদ্র পতঙ্গ ত্বকের নিচে গর্ত করে ডিম পাড়ে এবং এর ফলে চুলকানি, র্যাশ, ফোসকা এবং লাল দাগ হয়।
---
🤒 স্কেবিস কেন হয়?
স্কেবিস সাধারণত সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়, যেমন:
একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যজনের সঙ্গে ঘন শারীরিক যোগাযোগ (ঘুমানো, জড়ানো)
একই বিছানা, বালিশ, চাদর, কাপড় ব্যবহারে
গাদাগাদি করে থাকার কারণে যেমন – হোস্টেল, কারাগার, আশ্রয়কেন্দ্র ইত্যাদিতে দ্রুত ছড়ায়
---
⚠️ স্কেবিসের উপসর্গ:
1. প্রচণ্ড চুলকানি (বিশেষ করে রাতে)
2. ত্বকে লাল দানা বা ফুসকুড়ি
3. হাতের আঙুলের ফাঁকে, কব্জি, কোমর, নাভি, স্তন বা যৌনাঙ্গে বেশি হয়
4. শিশুদের ক্ষেত্রে মাথা, মুখ, পায়ের তলায়ও হতে পারে
---
📢 বাংলাদেশে মহামারি:
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশে স্কেবিস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, হোস্টেল, ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম ও শহরে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
এর কারণ:
পরিচ্ছন্নতার অভাব
একই কাপড় বা বিছানা ভাগাভাগি করা
বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে অবহেলা করা
গরিব বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা না থাকা
---
🧪 চিকিৎসা:
1. পারমেথ্রিন ক্রিম ৫% – সারা শরীরে (গলায় নিচে) মেখে রাখতে হয় ৮–১৪ ঘণ্টা
2. আইভারমেকটিন ট্যাবলেট – ওজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে খাওয়া হয়
3. চুলকানি কমাতে অ্যান্টিহিস্টামিন দেওয়া হয়
4. পরিবারের সবাইকে একসাথে চিকিৎসা নিতে হয় – না হলে পুনরায় সংক্রমণ ঘটে
5. সব কাপড়, বিছানা, তোয়ালে গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হয়
---
✅ প্রতিরোধ:
ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড় আলাদা করে ধোয়া
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা যতদিন না সে সুস্থ হয়
স্কুল বা হোস্টেলগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
---
🔴 জরুরি পরামর্শ:
বাংলাদেশে স্কেবিসের মহামারির আকার দেখিয়ে দিচ্ছে এটি অবহেলা করার মতো রোগ নয়। এটি চিকিৎসাযোগ্য এবং প্রতিরোধযোগ্য, তবে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা জরুরি।