14/08/2023
দ্বীনদার হওয়া এতোটা সহজ নয়। দ্বীনদার হতে প্রয়োজন ইখলাস ও তাওয়াক্কুল।
ইখলাস আর তাওয়াক্কুল মুখে বললেই হয় না। কলবকে পরিশুদ্ধ রাখা এর অন্যতম প্রধান অঙ্গ।
ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি যে রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী চলে ও রাসূলকে ভালোবেসে সুন্নত আদায়ে তৎপর সে ততই আল্লাহর প্রিয় বান্দা/ বান্দী হয়ে ওঠে।
দ্বীনদারদের এমন বৈশিষ্ট্য নয় যে, তারা রাসূলের সুন্নাহকে অবহেলা করে। সে অনুযায়ী জীবন- যাপন করে। তারা স্টাইল করে ছোট দাঁড়ি রাখে কিংবা সুন্নতি দাঁড়ি না রেখে সেটার পক্ষে সাফাই দেওয়া শুরু করে। মদ্দা কথা বলতে গেলে ভালো সাজার চেষ্টা করে।
অধিকাংশ বায়োতে যেমন নয় তেমন লিখা হয়। এমনকি মিথ্যা কথা লিখা হয়। এটি দ্বীনদারের বৈশিষ্ট্য? মিথ্যা কথা তো শয়তানের কথা!
আরেকটি হলো ছবি চাওয়া। এটি পরহেজগার বান্দা/ বান্দীর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে না। কেননা এমন অনেক পরহেজগার বান্দা/ বান্দী আছে যারা ছবি তুলে না। বা ইচ্ছুক নয় এবং পর্দার হেফাজতের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করে। অধিক তাওয়াক্কুল রাখে। কারণ বর্তমান ডিভাইস অনেক উন্নত। চাইলেই অনেক কিছুই করা যায়। এ ক্ষেত্রে পর্দার হেফাজতের যে আমানত, তা রক্ষা করা দূরুহ ব্যাপার!
এই ভুল কাজ করা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
আপনি কতোটুকু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবেসে করছেন তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা ভালো করেই জানেন। ঠুকঠাক করলেই কেই দ্বীনদার হয়ে যায় না। এর জন্য অনেক কিছু সেকরিফাইস করতে হয়। একজন মুখলেস বান্দা / বান্দীতে পরিণত হতে চাইলে দুনিয়ায় মুসাফিরের খাতায় নাম লিখানো অত্যন্ত জরুরি। দুনিয়া আখিরাতে যাওয়ার একটি পরিক্ষাস্থল! যেখানে পাশ করলে চিরস্থায়ী জান্নাত, আর ফেল করলে চিরস্থায়ী জাহান্নাম।
দুনিয়া দু'দিনের। কে কতটুকু হায়াত নিয়ে এসেছে তা আমরা কেউই জানি না। যদি জানতাম তাহলে ইবাদতে মসগুল থাকলাম। আজকাল কোন মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে/ হজ্জ্ব/ কোনমতে দাড়িঁ( সু্ন্নাহ সম্মত নয়) রাখলেই / নিজেকে দ্বীনদার ভেবে নেয়। এটা হলো দ্বীনি ইলমের অভাব। কোরআন, হাদিস খুলে দেখুন কিভাবে চলতে বলা হয়েছে।
এখানে হারামকে হালাল বলার সুযোগ নেই এবং হালালকে হারাম বলার সুযোগ নেই। বান্দা/ বান্দী বলে ইসলাম মেনে চলা কঠিন। কিন্তু তা কি সত্য? একটু ভেবে দেখুন তো! আসলে কি কঠিন!
আজ আপনি( গান,নাটক,মুভি,প্রতিনিয়ত ছবি তোলা ও আপলোড দেওয়া, বেপর্দায় চলাফেরা, গায়ের মাহরাম না মেনে, সহশিক্ষাকে হালাল ও ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ব, হারাম রিলেশন ইত্যাদি) ঘন্টার পর ঘন্টা গুনাহ করে করে ক্বলবটাকে কালো করে ফেলেছেন। শয়তানের আড্ডাখানা বানিয়েছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা কি এগুলোর জন্য পাঠিয়েছেন? উল্লাস করার জন্য? আজ কিসের পিছনে আর কোন জ্ঞানের পিছনে ছুটাছুটি করছেন?
হে আল্লাহর বান্দা/বান্দীরা সময় থাকতেই তওবা করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেখানো পথ অনুসরণ করো। নয়তো চিরস্থায়ী জাহান্নামের আগুনের উত্তাপ অপেক্ষা করছে।
দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী কিন্তু আখিরাত চিরস্থায়ী। কথাটি শয়তান বার বার আমাদের ভুলিয়ে দেয়। তাই আমাদের উচিত আল্লাহর কাছে বিতারিত শয়তান হতে বেশি বেশি দু'আ করা ও পানাহ চাওয়া।
বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু ৬০। আমি না হয় ধরলাম আপনি ৭০/৮০। তারপর? কি করবেন? মৃত্যুকে ঠেকাতে পারবেন? কি নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবো এই ফিকির করা হয়েছে আদও? এখনি একটি অন্ধকার - নির্জন ঘরে আপনাকে আটকে রাখলে ভয়ে শেষ হয়ে যাবেন। আর সেটা তো কবর! কোন মাফ নেই, কোন ছাড় নেই। যেখানে চিৎকার চেঁচামেচি করেও লাভ হবে না।
যেই কবর জান্নাতের সর্দারিনি হযরত ফাতিমা(রা:)কে চিনে নি, নবীর মেয়েকে চিনলো না, জান্নাতের সর্দার হাসান - হুসাইনের মা কে চিনলো না। কবর জবাব দেয় আমি কারো মেয়েকে চিনি না, মা কে চিনি না, জান্নাতের সরদারিনিকে চিনি না, আমি শুধু চিনি নেক আমল! আমল ভালো হলে তার সাথে ভালো ব্যবহার( জান্নাতের বিছানা) ও খারাপ হলে আমার শাস্তি ( জাহান্নামের আগুন)।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের দ্বীনের ইলম অর্জন ও কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী চলার তৌফিক দান করুক ও মুখলেস বান্দা/ বান্দী হিসেবে কবুল করুক ও ঈমানের দৌলত সহকারে মৃত্যু দান করুক আমিন ইয়া রব্বুল আলামীন।
১৪/০৮/২৩