21/06/2026
প্রকৃতির রাজ্যে কত বিচিত্র সৃষ্টির অস্তিত্ব আছে, যার সবই আমাদের জানা নেই। কিন্তু এমন এক বিরল সৃষ্টির গল্প আজ আপনাদের শোনাবো, যা পৃথিবীর ইতিহাসে আজ পর্যন্ত একবারই দেখা গেছে। তার নাম ছিল 'স্নোফ্লেক'। সাধারণ গরিলার মতো ভয়ঙ্কর কালো রঙের নয়, বরং এই গরিলাটি ছিল ধবধবে সাদা পশম, গোলাপি ত্বক আর হালকা নীল চোখের অধিকারী। ১৯৬৪ সালের দিকে নিরক্ষীয় গিনির জঙ্গলে জন্ম নেওয়া এই গরিলাটি ছিল ‘অ্যালবিনিজম’ নামক এক বিরল জিনগত পরিবর্তনের ফল। বিজ্ঞানীরা পরে জানতে পেরেছিলেন, তার মা-বাবা একই পরিবারের সদস্য হওয়ায় এই অদ্ভুত জিনটি তার শরীরে প্রবেশ করেছিল।
স্নোফ্লেকের জীবনের গল্পের শুরুটা ছিল ভয়ংকর কষ্টের। ১৯৬৬ সালের অক্টোবরে ফসল নষ্ট করার অভিযোগে কিছু কৃষক তার মাকে গুলি করে মেরে ফেলে। কাছে গিয়ে কৃষকরা অবাক হয়ে দেখে, মৃত মায়ের শরীর আঁকড়ে ধরে কাঁদছে ছোট্ট এক ধবধবে সাদা গরিলা ছানা! স্থানীয়রা তার নাম রাখে ‘সাদা গরিলা’। কিছুদিন পরেই এক স্প্যানিশ বিজ্ঞানী তাকে উদ্ধার করে বার্সেলোনা চিড়িয়াখানায় নিয়ে যান। সেখানেই কেটে যায় তার জীবনের পরের ৩৭টি বছর। এই অপূর্ব সুন্দর গরিলাটি দেখার জন্য সারা পৃথিবীর মানুষ ভিড় জমাতো। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে বার্সেলোনার মেয়রের কাছ থেকে বিশেষ সংবর্ধনা—সবই পেয়েছিল সে।
কিন্তু যে রূপের জন্য সে এত খ্যাতি পেয়েছিল, সেই রূপই কাল হয়ে দাঁড়াল তার জীবনে। শরীরে ‘মেলানিন’ না থাকায় সূর্যের রশ্মি থেকে তার ত্বকের কোনো সুরক্ষা ছিল না। চোখে দেখতেও তার বেশ কষ্ট হতো এবং প্রায়ই চোখ কুঁচকে তাকাতে হতো। যদি সে বুনো প্রকৃতিতে থাকত, তবে হয়তো শিকারিদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষাই করতে পারত না। চিড়িয়াখানায় থাকাকালীন স্নোফ্লেক ২১টি সন্তানের বাবা হয়েছিল, যদিও তাদের কেউই তার মতো সাদা ছিল না। অতিরিক্ত সূর্যের আলোর কারণে শেষ পর্যন্ত তার ত্বকে ক্যানসার ধরা পড়ে। অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে ২০০৩ সালের ২৪ নভেম্বর তাকে ব্যথামুক্ত মৃত্যু (ইউথ্যানেশিয়া) দেওয়া হয়। তাকে শেষ বিদায় জানাতে সেদিন বার্সেলোনার রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছিল।
স্নোফ্লেকের চলে যাওয়ার পর আজ পর্যন্ত আর কোনো অ্যালবিনো গরিলার দেখা মেলেনি, না কোনো বুনো প্রকৃতিতে, না কোনো চিড়িয়াখানায়। প্রকৃতির এই অপূর্ব সৃষ্টিটি স্রেফ একবারই এসেছিল এই ধরাধামে এবং ইতিহাসের পাতায় চিরদিনের জন্য নিজ