03/03/2025
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
যে ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রামাদানের রাতে সলাত আদায় করবে তার পূর্বের সকল (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। [সহীহ বুখারী: ৩৭; মুসলিম: ৭৫৯]
এই যে রাতে সলাত আদায় ব্যাপারটা কেমন?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে অর্ধেক রাত সাহাবীদের নিয়ে সলাত পড়েন। সাহাবারা চাইছিলেন পুরো রাত পড়তে তিনি তখন বললেন,
"নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত সালাত আদায় করবে, তার আমলনামায় সারারাত সালাত আদায়ের সাওয়াব লেখা হবে।"
[তিরমিযী: ৮০৬; ইবন মাজাহ্: ১৩৭৫]
ভাইয়েরা, আপনারা জানেন কিয়ামতের দিন ভয়ংকর কঠিন একটা দিন হবে। সূরা মা'আরিজে কিয়ামতের দিনকে ইশারা করে বলা হয়েছে একটা দিনের দৈর্ঘ্য হবে আমাদের ২৪ ঘন্টার দিনের হিসাবে ৫০ হাজার বছরের দিনের সমান।
আপনারা একটু চিন্তা করতে থাকেন, কোনো একটা লাইনে দশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে আমাদের কেমন লাগে?
এক ঘন্টা রোদের মধ্যে দাঁড়াতে কেমন লাগে?
কিয়ামতের দিন সূর্য একদম মাথার কাছে চলে আসবে।
মানুষ গরমে, দুশ্চিন্তায় ঘামতে থাকবে, ঘামে ডুবে যাবে।
কিয়ামতের মাঠে বসার সুযোগ থাকবে না - মাঠটাই দাঁড়িয়ে থাকার মাঠ। বিচারের জন্য অপেক্ষা করার মাঠ। এইটা কিন্তু শাস্তি না, শাস্তির শুরু।
যেমন যাকাত না দেয়ার শাস্তির মেয়াদ বর্ণনার হাদীসে বলা হয়েছে যে, “তার এ শাস্তি চলতে থাকবে এমন এক দিনে যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর, তারপর তার ভাগ্য নির্ধারণ হবে হয়। জান্নাতের দিকে না হয় জাহান্নামের দিকে”। [মুসলিম: ৯৮৭, আবু দাউদ: ১৬৫৮, নাসায়ী: ২৪৪২, মুসনাদে আহমাদ: ২/৩৮৩]
ভাইয়েরা, একটু কল্পনা করেন - ৫০ হাজার বছর দাঁড়িয়ে থাকতে কেমন লাগবে!
এবার চিন্তা করেন, তারাবীর সলাত - আপনার মাথার ওপর ফ্যান বা এসি চলছে। ছায়ায়, ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে আপনি আল্লাহর কালাম শুনছেন।
দাঁড়িয়ে থাকতে একটু কষ্ট না হয় হচ্ছেই - কিন্তু কিয়ামতের দিনের কথা চিন্তা করলে কোনো তুলনা চলে বলেন?
আপনি যদি সারাদিন পরিশ্রম করে কষ্ট করে এসে তারাবীর নামাজের এই সুন্নাত আমলটা করতে পারেন - আপনি হয়তো আল্লাহকে গিয়ে বলতে পারবেন,
"আল্লাহ, জীবনে ৪০টা রামাদান পেয়েছি, ৩০ দিন করে ধরলে - ১২০০ দিন। আড়াই ঘন্টা তারাবীর সময়ও যদি ধরি - ৩ হাজার ঘন্টা সর্বোচ্চ দাঁড়িয়েছি এই আশায় যে আমাকে আপনি ৫০ হাজার বছর রোদে দাঁড় করিয়ে রাখবেন না, মাফ করে দেবেন।"
আল্লাহ কী আপনাকে মাফ করে দেবেন না? আপনার বিচারটা তাড়াতাড়ি করে জান্নাতে দিয়ে দেবেন না?
ইনশা আল্লাহ, দেবেন।
তারাবীর সলাতটা মাসজিদে ইমাম সাহেবের সাথে পুরোটা পড়েন ভাইয়েরা। বের হয়ে যেয়েন না। এখন কষ্ট করলে কিয়ামতের দিন আরামে থাকবেন।
দাঁড়াতে বেশি কষ্ট হলে আল্লাহকে বলবেন, মালিক তাওফিক দেন দাঁড়ানোর - আল্লাহুম্মা ইন্নি 'আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিয়া ওয়া হুসনি ইবাদাতিক!
দেখবেন আল্লাহ আপনাকে দাঁড়ানোর শক্তি দেবেন - আবার এর পুরষ্কারও দিবেন - খালি আল্লাহর কাছে চাইতে হবে।
আল্লাহ, আপনাদের ভালো করুন ভাইয়েরা - সময় খুব কম। আমলের পাল্লা আমাদের খুবই হাল্কা আর পাপের পাল্লা ভারী।
আমরা যেন সবাই এই রামাদানে আর বছরের থেকে বেশি ইবাদত করে আল্লাহর কাছে থেকে সব গুণাহ মাফ নিয়ে নিতে পারি - জান্নাতে যেতে পারি!
~শরীফ আবু হায়াত