07/03/2026
আজ ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস ও উম্মুল মোমিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)'র ওফাত দিবস!
রাসুল ﷺ ইরশাদ করেছেনঃ 'হে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আমার সাহাবারা, তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত।' অন্য এক হাদিস থেকে জানা যায়, বদরী সাহাবাদের জন্য জাহান্নাম হারাম। (মুসলিম : ২৪৯৫) আরো এক হাদিস রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা তাঁদের আগে পরের সব গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। (মুস্তাদরাক : ৪/৮৭)
ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ। চলুন একনজরে জেনে নেই বদরের ইতিহাস।
◼️ যুদ্ধের নাম: غزوة بدر বা বদরের যুদ্ধ।
◼️তারিখ: ১৭ই রমাদ্বান, ২য় হিজরি। ১৭ই মার্চ, ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ।
◼️স্থান: মদিনা থেকে ৮০ মেইল দূরে বদর প্রান্তর।
◼️বিবাদমান পক্ষ: মদিনার মুসলিম বনাম মক্কার কুরাইশ কাফির
◼️ মুসলিম সৈন্যসংখ্যা: ৩১৩ জন পদাতিক (২টি ঘোড়া, ৭০টি উট)
◼️ কাফির সৈন্যসংখ্যা: ১০০০ জন পদাতিক, (১০০টি ঘোড়া, ৭০০টি উট)
◼️ মুসলিম সেনাপতি: মুহাম্মদ ﷺ
◼️ কাফির সেনাপতি: আবু জাহল
◼️ বিজিত পক্ষ: মুসলিম বাহিনী
◼️ হতাহত ও ক্ষয় ক্ষতি: মুসলিম (১৪ জন শহীদ), কাফির (৭০ জন নিহত, ৭০ জন বন্দী)
এই ছিল একনজরে বদরের ইতিহাস। আল্লাহ তা'আলার সরাসরি নুসরাতে (সাহায্য) মুসলমান বাহিনী এ যুদ্ধে জয়ী হয়। সেদিন বদরের প্রান্তরে ইমান ও কুফর, ন্যায় ও অন্যায়ের এক অন্যরকম ইতিহাস রচিত হয় যা যুগ যুগ পর্যন্ত এক আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। মুসলমানরা বিশ্বাস করেন জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। সম্মান অপমান আল্লাহর হাতে।
বদরের যুদ্ধ শুরুর আগে আল্লাহর নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ, তুমি যদি চাও দুনিয়াতে তোমার ইবাদত করার কেউ না থাকুক, তাহলে এই ক্ষুদ্র দলটিকে নিশ্চিহ্ন হতে দাও। আল্লাহতায়ালা রাসূলে কারিম (সা.) এর দোয়া কবুল করেছিলেন। কুরাইশদের অহমিকা ও দম্ভ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।
মহানবি (সা.) মদিনায় হিজরত করে যাওয়ার দ্বিতীয় বছরে যুদ্ধের অনুমতি নিয়ে হজরত জিবরাইল (আ.) কুরআন মজিদের কয়েকটি আয়াত নিয়ে আসেন-‘যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো হচ্ছে, তাদেরকে (যুদ্ধের) অনুমতি দেওয়া হলো এ জন্য যে, তারা নির্যাতিত হয়েছে।
আর আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সক্ষম। তাদেরকে নিজেদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল অন্যায়ভাবে শুধু এ কারণে, তারা বলে আমাদের প্রভু আল্লাহ।’ (সূরা হজ ৩৭)। অবিশ্বাসীদের প্রতিরোধ করার অনুমতি লাভের পর আল্লাহর নবী (সা.) বদর যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
বদরের প্রান্তরে ইসলাম বিজয়ের সূচনা হয়েছিল। তাই প্রতি বছর সতেরোই রমজান এলেই বিশ্ব মুসলিম শ্রদ্ধা ও গৌরবের সঙ্গে বদরের বিজয়কে স্মরণ করেন।
হে আল্লাহ সোবহানু তাআ'লা কাফেরদের সাথে ইসলামের প্রথম বিজয়ী ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী ও শাহাদাৎ বরণকারী সাহাবী (রাঃ) এঁর উসিলায় আমাদের ক্ষমা করুন, আমিন