27/09/2026
🏫 ১৮৮৭ থেকে আজ—দিনাজপুর জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়
দিনাজপুরের রাজবাটী এলাকার প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনাজপুর জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি শুধু শিক্ষা নয়, দিনাজপুরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও অংশ হয়ে আছে।
বিদ্যালয়ের নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৮৭ সালে তৎকালীন দিনাজপুরের মহারাজা গিরীজানাথ রায় বাহাদুরের উদ্যোগে ১.৯৩ একর জমির ওপর মাইনর স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। এর আগে একই স্থানে একটি পাঠশালা পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে এটি মিডল ভার্নাকুলার স্কুল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
বিদ্যালয়ের নামকরণের সঙ্গেও ১৮৮৭ সালের ইতিহাস জড়িত। সে সময় সম্রাজ্ঞী ভিক্টোরিয়ার শাসনকালের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যজুড়ে জুবিলি উদযাপন হয়। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটেই মহারাজা গিরীজানাথ রায় বাহাদুর প্রতিষ্ঠানটির নাম জুবিলী স্কুল রাখেন বলে বিদ্যালয়ের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
একসময় বিদ্যালয়ের ব্যয়ভার রাজবাড়ীর কোষাগার থেকে বহন করা হতো বলে বিদ্যালয়ের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ১৯৪৬ সালে রাজশাসনের অবসান, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ের ঘটনায় বিদ্যালয়ের অনেক পুরোনো নথিপত্র নষ্ট হয়ে যায়।
📚 শুধু শিক্ষা নয়, মানুষের জন্যও
বিদ্যালয়ের ইতিহাসে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র, দিনমজুর, শ্রমিক ও স্বল্প আয়ের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অন্যান্য অনেক বিদ্যালয়ের তুলনায় বেতন ও বিভিন্ন ফি সহনীয় পর্যায়ে রাখার কথা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ইতিহাসে উল্লেখ করেছে।
১৯৭৬ সালে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তের পর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমন্বিত অন্ধশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে মুক ও বধির শিক্ষার্থীদের জন্য দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটের নামে ৪০ শতাংশ জমি দান করা হয়।
📍 দিনাজপুর জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাটী, দিনাজপুর
আপনি কি এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী?
অথবা জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে আপনার কোনো স্মৃতি আছে?
কমেন্টে জানিয়ে দিন—হয়তো আপনার একটি স্মৃতিই হয়ে উঠবে দিনাজপুরের ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়।
#দিনাজপুর #জুবিলীউচ্চবিদ্যালয় #দিনাজপুরেরইতিহাস