27/12/2025
দেশটা আসলে কার কন্ট্রোলে?
আসুন কিছু হিসাব মিলাই:
১। ডেইলি স্টার-প্রথম আলোর ঘটনায় ১২ ঘণ্টায় গ্রেফতার হয় ৩৩ জন। আর হাদির ঘটনায় দিন পেরোয়, সপ্তাহ পেরোয়—কেউ ধরা পড়ে না।
২। আমরা ৫০ লাখ ঘোরালেই ব্যাংক ফোন দেয়, আর হাদির খু~নি দাউদ ফয়সালের অ্যাকাউন্টে ১৬৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়, কিন্তু ব্যাংক নাকি “কিছুই দেখেনি”! বোঝাই যাচ্ছে খেলা কোন লেভেলে চলছে!
৩। হাদিকে কে টেকডাউন করল—এটা নিয়ে গোয়েন্দাগিরির দরকার নাই।
সহজ হিসাব:
হাদির ভিডিও প্রধান উপদেষ্টার পেজ থেকেও উধাও।
হাদিকে নিয়ে যত কনটেন্ট—সব ক্লিন।
👉আসিফ মাহমুদের ৩ মিলিয়ন ফলোয়ারের পেজ উধাও, বড় বড় পেজ উধাও।
👉বিগত ১৭ বছরে হাসিনার আমলেও ইলিয়াসের পেইজ বন্ধ হয়নাই, আর এখন তার পেইজ নাই, বাংলাদেশ থেকে তার কনটেন্ট দেখা যায় না।
মানে খেলা এমন জায়গায় গেছে, যেখানে সরকারের হাতও ছোট।
৪। ৫ দিন আগে খুলনায় NCP র কেন্দ্রীয় নেতা মোতালেব শিকদার মাথায় গু~লি*বি-দ্ধ হলো। মিডিয়াপাড়ায় কোন নিউজ আছে?* স~ন্ত্রা-সী গ্রে*প্তা~র হলো কিনা? সে বেঁচে আছে না মরে গেছে খোদ এনসিপি নেতাদের এ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য আছে? না নাই!
২দিন আগে মাত্র ২০ বছেরের মেয়ে জুলাই অগ্নি কন্যা তাহরিমা জান্নাত সুরভী কে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেল, সে নাকি চাঁদাবাজী করছে আর ওয়াকারের বিরুদ্ধে বলেছে! আপনার পালা এলে পাশে তাকিয়ে দেখবেন—ভিড় আছে, কিন্তু পাশে কেউ নাই।
৫। খালেদা জিয়া যখন সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন, তখন তারেক জিয়া আসতে পারেননি। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন, “এটা আমার হাতে নেই।” এখন প্রশ্ন হলো, এই দুই সপ্তাহে এমন কী হলো যে এখন তারেক জিয়া আসতে পারলেন? যেদিন তিনি ল্যান্ড করলেন, দেখলেন ৩০০ ফিট এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ মিলিয়ে ২০ হাজারের মতো লোক তাকে ঘিরে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এত সিকিউরিটি যদি এখন দেওয়া যায়, তাহলে খালেদা জিয়া সংকটে থাকার সময় দেওয়া যেত না? তখনো তো তিনি আসতে পারতেন! কিন্তু না, তিনি আসেননি, কারণ তখন হয়তো কোনো ডিল হয়নি। এখন ডিল ফাইনাল হয়ে গেছে বলেই তিনি আসতে পারছেন। বোঝাই যাচ্ছে, ভেতরে কী ডিল হয়েছে। তখন যদি একই সিকিউরিটি দেওয়া যেত, তাহলে তখন আসতে সমস্যা ছিল না। আর তখন তিনি বলেছিলেন নিয়ন্ত্রণ তার হাতে নেই—এখন কীভাবে এই নিয়ন্ত্রণ ফিরে এলো?
এখন যদি এখান থেকেই সতর্ক না হন, তাহলে জুলাইয়ের বিপ্লবে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তাদেরকে একে একে নিষ্ক্রিয় করা হবে। আজ পোস্ট উধাও, কাল পেজ উধাও, পরশু বিপ্লবীরাও উধাও—এই হচ্ছে ধাপে ধাপে প্ল্যান। তাই প্রতিবাদ থামানো যাবে না। থামালেই তারা বুঝে নেবে—“ভয় পাইছে, ঘরে ঢুকছে।”
হাদির ওপর হামলার বিচার না হলে মনে রাখবেন—আর কারও বিচার হবে না। যাকে খুশি তুলে নিয়ে যাবে, কেউ কিছু করতে পারবে না।
ইনকিলাব মঞ্চ এখন স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে—তারা থামবে না।
আজ রাতেও সিটিং চলবে, কাল থেকে আরও বড় হবে। সামনে ৩ জানুয়ারী জামাতের নেতৃত্বে জোটদের নিয়ে মহাসমাবেশ—সব মাথায় রাখুন। এখনই ষ~ড়"য-ন্ত্র রু~খে দিতে না পারলে পরে আফসোস করার সুযোগও থাকবে না।
কন্ট্রোল এখন সরকারের হাতে নেই।
তাই এখনই আওয়াজ তুলুন।
আমরা বীর হাদির উত্তরসূরী—হার মানার জন্য না।
যেখানেই কণ্ঠ আছে, সেখান থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠান।
দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা।
গোলামী না আজাদী, আজাদী আজাদী। ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ।
© পোস্ট