23/08/2025
একজন হারুন স্যারের গল্প!
-----------
নদী ভাঙা অবহেলিত চরাঞ্চলে আলোকিত মানুষ গড়ার এক অনন্য শিক্ষক ছিলেন মরহুম হারুন অর রশীদ।
যিনি নিজের হাতে মাটি কেঁটে ভিটা বেঁধে টিনের ছাঁপড়া ঘর তুলে অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চরমাধবদিয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়।
তিনি ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক।
তার প্রথম শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়েছিলো মাধবদিয়া ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে।
তৎকালিন সময়ে চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুম খলিলুর রহমান মন্ডল (ছোট মিয়া) এর পরিবারের জামাতা হবার কারণে তিনি চাইলেন তার জামাতা হারুন অর রশীদ নিজেই একটি স্কুলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করুক। এলাকার সকলের সহযোগিতা নিয়ে শুরু হয় হারুন স্যারের নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষকতা জীবনের আরেক যাত্রা।
প্রথমে খলিল মন্ডল হাট পুরাতন বীজ ষ্টোরে ক্লাস শুরু হয়।
স্কুলের নিজস্ব জায়গার ব্যবস্থা হলে তিনি নিজে সকল কে নিয়ে ঘর তোলার কাজে দিনরাত নিয়োজিত থাকেন।
সে সময়ে টিনের চালের একটি পুরনো লোহার পেড়েক তার মাথার মধ্যে ডুকে যাওয়ায় প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়।
অল্প বয়স থাকায় বিষয়টি তখন তিনি মোটেই গুরুত্ব দেননি।
পরবর্তীতে বৃদ্ধ বয়সে এসে এখানেই তার মাথার টিউমার রোগটি ধরা পড়ে।
তিনি ছিলেন তার পিতা মাতার খুবই আদরের সন্তান।
তাদের চার সন্তানের মৃত্যুর পরে হারুন স্যার জন্ম নিয়ে ছিলেন।
তিনি ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে এস এস সি, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে বি কম এবং যশোহর থেকে বি এড পাস করেন।
পাকিস্তান আমলে খাদ্য বিভাগে তার উচ্চ পদে চাকুরি হওয়া সত্বেও এলাকার ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে খাদ্য বিভাগের চাকুরিতে যোগদান করা থেকে বিরত থাকেন।
চরমাধবদিয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় ছিলো তার সন্তানের মতো।
আজীবন লালন করে গেছেন এ পবিত্র শিক্ষাঙ্গন।
তার হাতে গড়া অসংখ্য ছেলে মেয়েরা আজ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে স্বস্বক্ষেত্রে।
আল্লাহ হারুন স্যার কে জান্নাত দান করুন। আমিন।
লেখা তৈরী অনুপ্রেরণায়- হারুন স্যারের কন্যা নার্গিস ও
স্যারের ছাত্র আক্তার।