01/09/2026
১ মিনিট,আপনি কি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন?
তাহলে শুনুন,
দুশ্চিন্তার বোঝা
রাত তখন প্রায় এগারোটা। রাফি টেবিলে বই খুলে বসে আছে। সামনে পরীক্ষার খাতা, পাশে মোবাইল। কিন্তু গত এক ঘণ্টায় সে বইয়ের একটি পাতাও ঠিকমতো পড়তে পারেনি।
তার মাথায় শুধু একটাই চিন্তা—
“যদি পরীক্ষায় খারাপ করি? যদি সবাই আমার থেকে এগিয়ে যায়? ভবিষ্যতে কী হবে? আমি কি জীবনে সফল হতে পারব?”
রাফির বন্ধু সাকিব ফোন করে বলল,
—কী করছিস?
—পড়ছি।
—কতদূর পড়েছিস?
রাফি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
—পড়তে তো বসেছি, কিন্তু মাথায় কিছু ঢুকছে না।
সাকিব বুঝতে পারল, সমস্যা পড়াশোনার চেয়ে বেশি—রাফি ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করছে।
পরদিন সকালে রাফি ঘুম থেকে উঠল ক্লান্ত হয়ে। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি। নাশতা করতেও ইচ্ছা করল না। কলেজে গিয়ে শিক্ষক যখন একটি সহজ প্রশ্ন করলেন, রাফি উত্তরটি জানত, কিন্তু অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে উত্তর দিতে পারল না।
বিরতিতে সাকিব বলল,
—তুই যে বিষয়টা নিয়ে এত চিন্তা করছিস, সেটা কি এখনই সমাধান করতে পারবি?
—না।
—তাহলে সারাদিন সেটা নিয়ে চিন্তা করে কী লাভ হচ্ছে?
রাফি চুপ করে রইল।
সাকিব আবার বলল,
—দেখ, চিন্তা আর দুশ্চিন্তা এক জিনিস নয়। কোনো সমস্যা নিয়ে চিন্তা করে সমাধানের পথ বের করা ভালো। কিন্তু একই বিষয় বারবার ভাবতে থাকলে, অথচ কোনো কাজ না করলে, সেটা তোকে সমস্যার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাবে।
রাফি বলল,
—কিন্তু আমি কীভাবে দুশ্চিন্তা বন্ধ করব?
সাকিব বলল,
—পুরোপুরি বন্ধ করার চেষ্টা করিস না। বরং চিন্তাটাকে কাজে পরিণত কর।
সে রাফির খাতায় তিনটি কলাম তৈরি করল।
১. যে বিষয় আমার নিয়ন্ত্রণে আছে।
২. যে বিষয় এখন আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।
৩. আজ আমি কী করতে পারি।
রাফি লিখল—
“পরীক্ষার ফলাফল”—পুরোপুরি আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।
“আজকের পড়াশোনা”—আমার নিয়ন্ত্রণে আছে।
“ভবিষ্যতে কী হবে”—এখন পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়।
তারপর সে ঠিক করল, আজ শুধু দুটি অধ্যায় পড়বে, মোবাইল কিছু সময় দূরে রাখবে এবং রাতে যথেষ্ট ঘুমাবে।
কয়েক দিন পর রাফির পরিবর্তন চোখে পড়ল। সমস্যা পুরোপুরি শেষ হয়নি, কিন্তু সে আর প্রতিটি সমস্যাকে নিজের মাথায় সারাদিন বহন করত না।
একদিন সে সাকিবকে বলল,
—আমি বুঝেছি, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় পেয়ে আজকের সময় নষ্ট করলে ভবিষ্যৎ তো ভালো হবেই না, বরং আজকের সুযোগটাও নষ্ট হবে।
সাকিব হেসে বলল,
—ঠিক তাই। জীবনে সমস্যা আসবেই। কিন্তু প্রতিটি সমস্যার সঙ্গে সারাক্ষণ ভয় নিয়ে বসে থাকা আর সমস্যার সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে কাজ করা—এই দুটির ফল এক নয়।
রাফি জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
—তাহলে এখন থেকে সমস্যা এলে আমি নিজেকে একটা প্রশ্ন করব—“এখন আমার হাতে কী আছে?”
সাকিব বলল,
—আর যেটা তোমার হাতে নেই, সেটা নিয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মতো চাপ না নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলবি এবং নিজের কাজে ফিরে যাবি।
শেষ কথা:
দুশ্চিন্তা সমস্যাকে ছোট করে না; বরং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা অনেক সময় ঘুম, মনোযোগ, পড়াশোনা, সম্পর্ক ও দৈনন্দিন জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই যে বিষয় তোমার নিয়ন্ত্রণে আছে, সেটিতে ছোট ছোট পদক্ষেপ নাও; যা নিয়ন্ত্রণে নেই, তা মেনে নিয়ে প্রয়োজনে পরিবার, বন্ধু বা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বলো—কারণ দুশ্চিন্তায় ডুবে থাকা নয়, সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়াই জীবনের জন্য বেশি উপকারী।
ধন্যবাদ।