05/02/2026
৭০ -এর দশকে নিজেদের গ্রামের বাড়িতে জাম গাছ,আর বরই গাছ ছিল না। তবে প্রচুর আম গাছ ছিল।কোন পোকা নেই নেই আমে প্রচুর মিষ্টি যা মধুর মতো ছিল।আম গাছগুলো ছিল দাদার আমলের গাছ-ইয়া মোটা মোটা।আমার আপন বাপ চাচারা ছিলেন চারজন।চাচাতো চাচা ছিলেন দুইজন।টানা লম্বা উঠান,এক সাড়িতে ঘর বাবান্দা বেয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়া হতো।
গাছের ফল যার যখন ইচ্ছে পাড়তো,খেতো।আমার তো বড় ভাই ছিল না মামুন,সুমনের আব্বা (আমার চাচাতো ভাই)গাছে উঠে আম পাড়তো।আমি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে চিল্লাইতাম। বলতাম,"ভাই আমাকেও দে"।একটু কান্নাকাটি করিয়ে তারপর দিত। আমি সবসময় মামুনের আব্বার পিছ পিছ থাকতাম।তার সাথেই প্রথম স্কুলে যাওয়া শুরু করেছিলাম।আম একটা দুটো পাকা শুরু হলে সব গাছগুলোর ফল পেড়ে সমহারে ভাগাভাগি হতো।
ছোটবেলা অন্যের বাড়ির বরই গাছে বরই পাড়তে কত ঢিল দিয়েছি গাছে।কখন পাখি মগ ডালে বসে বরই ফেলবে তাকিয়ে থেকেছি তীর্থের কাকের মতো।জোড়া কচু পাতায় জাম কুড়িয়েছি হন্যে হয়ে।
আমিও বড় হচ্ছি,পড়শি বাড়ি যাই আর গাছে ঢিল দেই,আমার এমন অবস্থা দেখে আব্বা নতুন পুকুর পাড়ে বরই গাছ ও জাম গাছ লাগিয়েছিলেন পরম যত্নে।তিন বছর পর ১৯৮০ সাল থেকেই সেই গাছেই আশানুরূপ ফল ধরেতো।
আব্বার কত স্মৃতি মনে পড়ে।আমি যতটুকু গ্রামের পরিবেশ,প্রিতপালন,শাসন বারণ আব্বার কাছে পেয়েছি,আমার ছোট ভাইবোন এত বেশি পায়নি।
আমি যেদিন জন্মেছিলাম সুদুর প্রসারী আমার চিন্তাবিদ ও সচেতন বাবা আমার নামে কড়ই গাছ লাগিয়েছিলেন।গাছটা দেখিয়ে আব্বা আমাকে বলতেন,"তোর জন্মের দিন এই গাছটা লাগাইচি,এইটা বেইচ্চা তোরে বিয়া দেম"।
কেন্দুয়া আরামবাগের বাড়িতেও আব্বা আম গাছ,আমরা গাছ,বরই গাছ লাগিয়েছিলেন।
গাছে কলম দিয়ে গাছটাকে কুল বরইয়ে রূপান্তর করেছিলেন।এত বরই ধরতো একদম গাছের ডাল বরইয়ের ভারে নূয়ে পড়তো।আর এত স্বাদের বরই কোথাও পাই না।
শহরে এসেছি বাজারে হরেক রকম বরই টক, মিষ্টি আপেল কুল,বল সুন্দরী,নারকেলি কুল।অভাব নেই।
কিন্তুু আগের স্বাদ পাই না।হায়রে সময়।
আব্বার কথা খুব মনে পড়ে,বুকটা শূণ্য লাগে।সারাদিন দিন-রাত ২৪ঘন্টার মধ্যে ১২ ঘন্টাই রাজিবপুর আর বলাইশিমুল দিয়ে মনে মনে ঘুরি।বাড়ির সবার কথা পাড়া পড়শি মৃত জীবিত সবার কথাই মনে পড়ে।শৈশব,কৈশোর ও যৌবনের কিছুটা সময় আমার কেটেছে রাজিবপুর আর বলাইশিমুলে।
কত মানুষ আর নেই-ফেলে আসা জায়গাটাও আগের মতো নেই।এখন কেউ চিনে কেউ চিনে না।আল্লাহ সবাইকে সুস্থতার সাথে বাঁচিয়ে রাখুন।যারা মৃত্যুবরণ করেছেন আমার বাবা, দাদা-দাদি,চাচা চাচি,নানা-নানি, মামা,খালা,ভাই বোন,পাড়া প্রতিবেশি সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি হে আল্লাহ।তুমি তাদের বেহেশত নসীব করো।আমার আব্বাকে তোমার রহমতের চাদরে জড়িয়ে রাখো।