Istiak Chowdhury

Istiak Chowdhury আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।

14/01/2026

শীত নামলেই গ্রামের বুকের ভেতর একটা আলাদা নিঃশ্বাস বয়ে যায়। যেন প্রকৃতি নিজেই ধীরে ধীরে কথা বলতে শুরু করে—ফিসফিস করে। ভোরের আলো চোখ মেলেছে তাকিয়েছে কেবল, কুয়াশার নরম পর্দা সবকিছু ঢেকে রেখেছে তখনও। সেই কুয়াশার ভেতর দিয়ে খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, যতই প্রয়োজনের তাগিদে ইট-পাথরের রাজ্যে দাপিয়ে বেড়াই না কেনো—এই ভেজা ঘাস, এই মাটিই আমার ঠিকানা।

তেপান্তরের মাঠ শীতে অন্যরকম হয়। বর্ষায় যে মাঠ ছিল পানিতে ভরা, গ্রীষ্মে যে মাঠ ছিল রুক্ষ আর ধুলোয় মোড়া, শীতে সে মাঠ শান্ত। দূর দিগন্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা জমিতে শিশিরের মুক্তোর মতো জলকণা ঝিলমিল করে। সূর্যের প্রথম আলো পড়তেই সেগুলো ঝলসে ওঠে, যেন মাটির বুকেই লুকিয়ে আছে অসংখ্য ছোট ছোট তারা। মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে থাকলে মনে হয়, এই বিশালতার মধ্যে আমি খুব ছোট, অথচ অদ্ভুতভাবে নিরাপদ।

মাঠের শেষ সীমানা পরেই বয়ে গেছে আমাদের নদী—ফেনী নদী। শীতের নদী খুব বেশি কথা বলে না। গ্রীষ্মে যেমন তার তেজ, বর্ষায় যেমন তার রাগ—শীতে সে যেন একটু ক্লান্ত, একটু শান্ত। নদীর জল ধীরে বয়ে যায়, গায়ের রঙ হয়ে ওঠে ধূসর-নীল। ভোরের কুয়াশা নদীর উপর নেমে এলে মনে হয়, নদী বুঝি নিজেকে ঢেকে রেখেছে, কারও চোখে ধরা দিতে চায় না। তবু মাঝেমধ্যে নৌকার ছাপ, জেলের ডিঙির শব্দ, কিংবা পানিতে পড়া চিপের টুপটাপ আওয়াজ নদীর নীরবতা ভেঙে দেয়।
নদীতে চিপ দিয়ে মাছ ধরা—এই দৃশ্যটা শীতের গ্রামের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে চোখ বন্ধ করলেই দেখা যায়। কয়েকজন কিশোর, কেউবা বৃদ্ধ—হাতে বাঁশের তৈরি চিপ (এখন অবশ্য ফাইবার চিপের চড়াচড়ি), মুখে হাসি আর চোখে অপেক্ষা। কখনো দীর্ঘক্ষণ কিছুই ধরা পড়ে না, তবু তারা বসে থাকে। কারণ এখানে শুধু মাছ ধরা নয়, সময় কাটানো, গল্প করা, নদীর সঙ্গে নীরব বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। যখন চিপ উঠিয়ে দেখা যায় ভেতরে রুই-কিংবা বোয়ালের নড়াচড়া, তখন সেই আনন্দটা শহরের কোনো বড় সাফল্যের চেয়েও বেশি মনে হয়।

শীত মানেই অতিথি পাখির আগমন। দূর দেশের পাখিরা যেন জানে, এই গ্রামের আকাশ তাদের জন্য খোলা। ভোরবেলায় নদীর চর কিংবা বিলের ধারে দাঁড়িয়ে থাকলে দেখা যায়—ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি, সাদা, ধূসর, কখনো কালচে। তারা উড়ে আসে, বসে, আবার উড়ে যায়। তাদের ডানার শব্দে বাতাস কেঁপে ওঠে, আর মনে হয় পৃথিবীটা তখনো কতটা জীবন্ত। এই পাখিদের কেউ ধরে রাখে না, কেউ বাঁধে না—তবু তারা বারবার ফিরে আসে। হয়তো ভালোবাসা এমনই, যা জোর করে রাখা যায় না, তবু আপন হয়ে ফিরে আসে।

গ্রামের শীত শুধু প্রকৃতিতে নয়, মানুষের জীবনেও নেমে আসে। সকাল কিংবা সন্ধ্যায় উঠোনে ধোঁয়া ওঠে—ধান সিদ্ধের ঢোঙ্গার আগুনের ধোঁয়া। খেজুর গাছের হাঁড়ি থেকে নামানো মিষ্টি রস গ্রাম-বাংলার মানুষের জন্য হয়ে আসে অমৃতসম। কাঁচা রসের স্বাদে থাকে শীতের তাজা ঘ্রাণ, আর জ্বাল দিয়ে বানানো গুড়ের গন্ধে ভরে যায় পুরো পাড়া। সেই গুড় দিয়েই তৈরি হয় পিঠাপুলি। চাল ভেজানো, গুঁড়া করা, নারকেল কোরানো—সব মিলিয়ে রান্নাঘর যেন এক উৎসবের জায়গা।

পিঠাপুলির কথা ভাবলেই মায়ের মুখ মনে পড়ে। শীতের সকালে উনুনের পাশে বসে তিনি পিঠা বানাচ্ছেন, মাঝে মাঝে আমাদের দিকে তাকিয়ে বলছেন, “এইটা খেয়ে দেখ, গরম আছে।” ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, খোলার পিঠা—প্রতিটা পিঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আলাদা গল্প, আলাদা স্মৃতি। পিঠা শুধু খাবার নয়, এটা শীতের ভাষা। এই ভাষায় কোনো তাড়াহুড়া নেই, কোনো হিসাব নেই—শুধু ভালোবাসা।

নতুন চালের মিষ্টি ভাত শীতের আরেকটা আশীর্বাদ। নতুন ধানের চাল, খেজুর গুড়, ঘন দুধ—সব মিলিয়ে যখন হাঁড়িতে ফুটতে থাকে, তখন যে গন্ধ ছড়ায়, তা যেন শীতের আত্মা। সেই মিষ্টি ভাত খেতে খেতে মনে হয়, বছরের সব ক্লান্তি বুঝি একটু একটু করে গলে যাচ্ছে। এক চামচ ভাতের সঙ্গে কত স্মৃতি মিশে থাকে—নানাবাড়ির উঠোন, দাদির গল্প, কিংবা শীতের দুপুরে রোদ পোহানোর সময়।

শীত এলেই গ্রামে বিয়েশাদির আমেজ বাড়ে। খোলা মাঠে কিংবা বাড়ির উঠোনে বসে বিয়ের আসর, চারদিকে আলো, গান, হাসি। শীতের রাতে গান বাজনার শব্দ অনেক দূর পর্যন্ত ভেসে যায়। সেই শব্দ শুনে মনে হয়, জীবন এখনো উদযাপন করতে জানে।

রাত নামলে গ্রাম আরও শান্ত হয়ে ওঠে। কুয়াশা আবার নেমে আসে, আকাশে তারা দেখা যায় কম, তবু চাঁদের আলোয় মাঠ-নদী-ঘর সবকিছু ধুয়ে যায়। দূরে কোথাও শিয়াল-কুকুর ডাকে, কাছাকাছি কোনো বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে মানুষ হাত সেঁকে নেয়। সেই আগুনের আলোয় মুখগুলো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, চোখে দেখা যায় প্রশান্তি।

শীতের গ্রাম আসলে স্মৃতির জায়গা। এখানে সময় ধীরে চলে, মানুষ কথা বলে চোখে চোখ রেখে। শহরের মতো এখানে জীবন ছুটে যায় না, বরং বসে বসে শ্বাস নেয়। তেপান্তর মাঠ, নদী, অতিথি পাখি, কুয়াশা, পিঠাপুলি, বিয়েশাদি, খেজুর রস, নতুন চালের মিষ্টি ভাত, নদীতে চিপ দিয়ে মাছ ধরা—এই সবকিছু মিলেই শীতের গ্রাম। এটা শুধু একটি ঋতু নয়, এটা একটি অনুভূতি।

যখন শীত শেষ হয়ে যায়, কুয়াশা সরে যায়, পাখিরা ফিরে যায় তাদের দেশে—তখনও শীত থেকে যায় আমাদের ভেতরে। থেকে যায় কোনো এক সকালের শিশিরে, কোনো এক সন্ধ্যার আগুনে, কিংবা কোনো এক পিঠার স্বাদে। শীত চলে যায়, কিন্তু শীতের গ্রাম থেকে যায়—মনের ভেতর, গভীরে, খুব নীরবে।

শফিক সাহেবের ছ্যালাপ্যালাদের মতো—জাবির ছ্যালাপ্যালারাও ৫-০ তে ম্যাচ জিতবে বলে আশাবাদী! lesgoooo 👊
11/01/2026

শফিক সাহেবের ছ্যালাপ্যালাদের মতো—জাবির ছ্যালাপ্যালারাও ৫-০ তে ম্যাচ জিতবে বলে আশাবাদী! lesgoooo 👊



11/01/2026

মধুমালতি ডাকে আয়।

10/01/2026

Funny Conversation 🤣

#মামাভগিনা

09/01/2026

আন্ডারগ্রাউন্ডের বাজপাখি — মাথায় হাত দেন 🤣🤣
#নানুবাড়ি

08/01/2026

Funny girl 😆🤣

06/01/2026

মিশন বরই চুরি —মামা ভাগিনা।

#নানুবাড়ি #মামাভগিনা

05/01/2026

#নানুবাড়ি #মামাবাড়ি

বোল্ড & লাউড ✊ধন্যবাদ ইন্টেরিম, ধন্যবাদ বিসিবি।
04/01/2026

বোল্ড & লাউড ✊
ধন্যবাদ ইন্টেরিম, ধন্যবাদ বিসিবি।

01/01/2026

A memorable day for the Chowdhurys! The legacy should be carried forwad...😍😃

28/12/2025

NCP মিলে গেলো জামাতের সাথে, আমজনতার তারেকের সাথে মিলে গেলো হিরো আলম, গনঅধিকারের রাশেদ মিলে গেলো বিএনপির সাথে! তুমি আমার সাথে মিলবা কখন? 🫤

Address

Feni
3900

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Istiak Chowdhury posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share