24/08/2026
বাবা হয়েও বাবা হওয়ার স্বাদ পেলাম না আজও আমি! খুব ইচ্ছে করতো রাথিকে বুকে জড়িয়ে ধরার জন্য, সুযোগ ছিলোনা কড়া নিরাপত্তার জন্য।
জেল খানায় স্পেশাল করে দেখা করা যেত ফেনী কারাগারে। জানালার ফাক দিয়ে ছোট্ট পায়ের আঙ্গুল ছুয়ে দিতাম। মুখে হাত লাগিয়ে আদর করতাম তাও দূর থেকে।
কাশিমপুর চলে যাওয়ার পরে মাঝখানে ২ ফুট গ্যাপের খাচা ঠিকমতো মেয়েটা দেখতেই পারেনা আমাকে৷ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো সেই নয়ন জুড়ানো কালো দুটি চোখে৷
আমাকে চিনতোনা সে, চিনবেই বা কেম্নে দেখাই তো যায়না খাচার ভেতর দিয়ে।
এইভাবেই সময় অতিক্রম হচ্ছিলো সারাদিন সবার সাথে হাসিখুশি থেকে রাতভর যন্ত্রনায় ছটপট করা নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিলো। আমাকে অনেকেই জ্ঞান দিতো স্ত্রীর সাথে শুয়ে কিংবা বাচ্ছা বুকে নিয়ে৷ বাস্তবতা আমি পার করেছি আর্তনাদ এক আল্লাহ ছাড়া কেউ শুনেনি।
আজ প্রায় অনেকদিন মেয়েটার সাথে দেখা হয়না
শুক্রবারে একটু কথাও হয়না মোবাইলে। বুকের ভেতর চাপা কষ্ট কোনদিন কাউকে বুঝতে দিইনি।
(কেনো দেখা বা কথা হয়না কেউ জানতে চাইবেন না প্লিজ 🙏)
আমি মাঝে মাঝে ভাবতাম যে ক্ষতি নিজের আমি করেছি কোনদিন আমাকে আমি যদি ক্ষমা করতে চাই পারবো? ১৯ সালে প্রশাসন দ্বারা মারা গেলে কিংবা আমাকে গুম করে ফেললে কি হতো? শুধু মেয়েটাকে কোলে নিবো ইচ্ছেমতো আদর করবো এই আশায় বুক বেধে ছিলাম।
ঝড় থেকে যাদের রক্ষা করতে ছাতা নিয়ে ঝড়ের মধ্যে দৌড়েছি তারাও দরজা বন্ধ করে আমাকে ঝড়ের মধ্যে দাড় করিয়ে রাখেছিলো। কষ্ট এক দিক থেকে পাইনি, এমন অবস্থা হয়েছে এখন সব সয়ে গেছে আমার৷ মেয়েটা ফিরে আসুক বাবা হওয়ার প্রথম স্পর্শ প্রথম আলিঙ্গন বুকটা ভরিয়ে দিক। আর কিছুই চাওয়ার নেই আমার।
এই সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখ রাথির ৭ বছর পূর্ণ হবে। তাকে ছড়া ১৪ টা ঈদ ৭ টা জন্মদিন আমি পার করেছি। কি নিষ্ঠুর বাবা আমি! মেয়েটার জন্য কিছুই করতে পারিনি আমি৷ আমার প্রতিটা মুহূর্তের এক আল্লাহ সাক্ষী আছেন।
জানিনা আমাকে চিনবে কিনা রাথী, জানিনা আমি কিভাবে তার সামনে দাড়াবো অস্থির অস্থির লাগছে আমার৷
- রাশেদুল আলম খান।