09/04/2026
দু'আ কবুলের বিশেষ সময়:
বিশেষভাবে যে সময়ে দোয়া কবুল হয়, সেগুলো হল-
১. শবে কদর বা লাইলাতুল কদর (রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা অধিক-অর্থাৎ একুশ তেইশ পচিশ সাতাশ ও উনত্রিশের রাত্রি; তন্মধ্যে একুশ ও সাতাশের রাত্রি আরও অধিক সম্ভাবনাময়)। (হাকেম)
২. আরাফার পুরো দিন (অর্থাৎ জিলহজ মাসের নয় তারিখ)। (তিরমিদি
৩. (পুরো) রমজান মাস। (বাযযার)
৪. জুমার রাত (বৃহস্পতি বার ও শুক্রবারের মধ্যবর্তী রাত)। (নবুল সর
৫. (পুরো) জুমার দিন। (বুখারী, মুসলিম)
৬. (দৈনিক) রাতের শেষ অর্ধেক। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ)
৭. (দৈনিক) রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ)
৮. (দৈনিক) রাতের শেষ তৃতীয়াংশ। (মুসলিম, বুখারী)
৯. (দৈনিক) রাতের শেষ তৃতীয়াংশের মধ্যবর্তী সময়। (বুখারী)
১০. (দৈনিক) সেহরির সময়। (বুখারী)
৮. দন দোয়া কবুলের বিশেষ স দিন
১১. দোয়া কবুলের সর্বাধিক প্রত্যাশিত সময় হল জুমার দিন-দোয়া কবুলের 'বিশেষ সময়'। সময়টির ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনায় নিম্নোক্ত মতামতগুলো পাওয়া যায়-
১. উক্ত সময়টি খতিব খুতবার জন্য মিম্বরে বসার পর থেকে জুমার নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম, আবু দাউদ।
২. জুমার জামাত শুরু হওয়ার সময় থেকে সালাম ফেরানো পর্যন্ত। তিরমিযি, ইবনে মাজাহ)
৩. জুমার নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায়।
। ইবনে মাজাহ।
৪. কোনো-কোনো ওলামায়ে কেরাম বলেন, জুমার দিন আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। (তিরমিযি।
৫. কোনো-কোনো ওলামায়ে কেরাম বলেন, জুমার দিনের শেষ সময়টি (সূর্যাস্তের পূর্বের সময়)। (আবু দাউদ, নাসাঈ)
৬. কোনো-কোনো ওলামায়ে কেরাম বলেন, জুমার দিন সুবহে সাদেক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।
৭. কোনো-কোনো ওলামায়ে কেরাম বলেন, জুমার দিন সূর্যোদয়ের পর।
৮. প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবু যর গিফারী রাযি.-এর অভিমত হল, জুমার দিন দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি ওই দিন সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকে এক হাত পরিমাণ ঢলে যাওয়া পর্যন্ত।
৯. হিসনে হাসিনের লেখক ইমাম জাযারি রহ. বলেন, আমার মতে, জুমার দিন দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি ইমাম জুমার নামাযে সূরা ফাতেহা শুরু করার পর থেকে আমীন বলা পর্যন্ত। (এ ক্ষেত্রে) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত সকল হাদীসের উপর আমল হয়ে যায়। বিষয়টি আমি অন্যত্র স্পষ্ট করে দিয়েছি।
১০. ইমাম নববি রহ. বলেন, জুমার দিন দোয়া কবুলের 'বিশেষ সময়টি'র ব্যাপারে সঠিক অভিমত হল, সহীহ মুসলিমে হযরত আবু মুসা আশআরি রাযি. থেকে বর্ণিত, ওই সময়টি ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসার পর থেকে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত। এর বিপরীতে ভিন্ন কোনো মত গ্রহণ করার সুযোগ নেই (এটাই প্রথম অভিমত')।
বই: হিসনে হাসিন, পৃ;৫৬-৫৭