23/03/2019
জুয়া বা লটারি অকাট্যভাবে হারামঃ
আরবী ভাষায় জুয়াকে বলে মাইসির আর মদকে বলে খিমার। আর কিমার এবং মাইসির শব্দ দু’টি সামার্থ বোধক শব্দ। আবার বাংলা এবং উর্দুতে এর প্রতিশব্দ হচ্ছে জুয়া। ইসলামী শরীয়তে জুয়ার যাবতীয় প্রক্রিয়াকে হারাম এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
‘‘হে মুমিনগণ! নিশ্চিত মদ, জুয়া প্রতিমা এবং ভাগ্যনির্ধারক তীর নিক্ষেপ এসবগুলোই নিকৃষ্ট শয়তানী কাজ। অতএব, তোমরা তা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকো, যাতে তোমরা কল্যাণ পেতে পারো’’। (সূরা মায়িদা, আয়াত:৯০)
আপাতঃদৃষ্টিতে যদিও কিছু লোকের কাছে মনে হতে পারে জুয়া একটি লাভজনক ব্যবসা কিন্তু এর সামান্য কিছু লাভ থাকলেও ক্ষতির পরিমান তার চেয়ে বহুগুনে বেশি। যেমন আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
﴿يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ ۖ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا ۗ وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ﴾
(হে মুহাম্মদ) ‘তারা আপনাকে মদ এবং জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন, এ দুটোর মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর এতে মানুষের জন্যে সামান্য কিছু উপকারিতাও রয়েছে। তবে এগুলোতে উপকারিতা অপেক্ষা ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। (সূরা বাকারা, আয়াত-২১৯)
জুয়ার অপকারীতাঃ
মদ এবং জুয়া সমাজ ব্যবস্থার উপর বিরাট ক্ষতির প্রভাব ফেলে যা সমাজে রন্দ্রে রন্দ্রে পৌছে যায়। একটি সমাজে যখন মদ ও জুয়ার প্রভাব বেড়ে যায় তখন সমাজের মধ্যে পারষ্পারিক শত্রুতা বেড়ে যায়, অবৈধ আয়ের প্রতি মানুষের ঝোক প্রবল হয়, মানুষে মানুষে হিংসা বিদ্বেষ বেড়ে যায়, সমাজের মানুষ অলস প্রকৃতির হয়ে যায়, সর্বপোরী আল্লাহর স্বরণ তথা নামাজ থেকে মানুষ গাফেল হয়ে যায়। যা আজ আমাদের সমাজে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা;য়ালা বলেন-
إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ﴾
এরশাদ হচ্ছেঃ ‘‘নিশ্চয় শয়তান মদ ও জুয়ার দ্বারা তোমাদের পরস্পরে শক্রতা ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির ও নামায থেকে বিরত রাখতে চায়, সুতরাং তোমরা কি এগুলো থেকে বিরত থাকবে’’? (সূরা মায়িদা, আয়াত-৯১)