Vai Brother's

Vai Brother's Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Vai Brother's, Digital creator, Feni.

18/10/2024
15/10/2024

Anwara, Sea Beach

06/10/2024

শেষ বিকেল

16/08/2023

ভালবাসা তৈরী হয় ভাললাগা থেকে,
“স্বপ্ন তৈরী হয়, কল্পনা থেকে ”
“অনুভব তৈরী হয় অনুভূতি থেকে, ”
“আর বন্ধুত্ব তৈরী হয় মনের গভীর থেকে।

11/09/2022

বটতলায় যখন নামলাম তখন রাত বারটা। বাসটা চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে আমি অন্ধকারের সাগরে নিমজ্জিত হলাম। মিনিট দুয়েকের মত চোখ বন্ধ রাখলাম অন্ধকার মানিয়ে নেয়ার জন্য, তবুও আশেপাশের কিছু চোখে পড়ল না। কি ভয়াবহ অন্ধকার।

বেশ অনেকদিন পরে গ্রামের বাড়িতে আসছি। এখান থেকে দেড় দুই কিলোমিটার দক্ষিনে আমাদের গ্রাম। রিক্সাই একমাত্র বাহন। কিন্তু এত রাতে রিক্সা পাব কিনা সন্দেহ হল। বাড়ি যেতে আবার দুটি বিশেষ যায়গা পার হতে হয় যেগুলো গ্রামের কিছু লোকের ভাষায় ’দেও দানব’ এর আবাসস্থল। যদিও এসব কথা এ যাবৎকালে ফালতু বলে উড়িয়ে দিয়েছি। বিংশ শতাব্দীর এই দিনে এসব কথা হাস্যকর মনে হয়। কিন্তু আজ এই পরিবেশে কথাগুলো বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হচ্ছে। দুরে কোথায় যেন ঝি ঝি পোকা ডাকছে। সুনশান নিরবতার মধ্যে থেমে থেমে ডেকে ওঠা ঐ শব্দকে ভৌতিক ভয়ংকর শোনাচ্ছে। মনে হচ্ছে পৃথিবীতে আর কিছুর অস্তিত্ব নেই। আমি আর ঝি ঝি পোকা। সাথে অন্ধকার।
এতক্ষনে আবছাভাবে সবকিছু চোখে পড়তে শুরু করল। পাকা রাস্তা থেকে দক্ষিন দিকে নেমে গেছে আমাদের প্রামের রাস্তা। আমি রাস্তায় নেমে পড়লাম। ছোট দোকানটি চোখে পড়ল; বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। পাশে যেখানে রিক্সা থাকার কথা সে যায়গাটা ফাঁকা। ভয়ে আমার গা গা ছমছম করছে। এখন কি করি? একটু ইতস্ততঃ করে ধীরে ধীরে সামনে সামনে এগুতে থাকলাম। হঠাৎ এক ঝলক আলোর স্ফুলিঙ্গ চোখে পড়ল। সর্বনাশ! ভুতের আগুন নয়তো? মৃদু গুনগুন শব্দ কানে যেতেই ভয়টা কিছুটা কেটে গেল। ভুত আর যাই করুক গুনগুন করে গান করে না; কোনদিন করেছে বলেও শুনিনি। আমি সাহস সাহস করে এগিয়ে যাই। একটা রিক্সা! সিটে বসে বিড়ি ফুকছে রিক্সাওলা। বিড়ির টানে যে আলো সৃস্টি হল তাতেই তার চেহারা পরিষ্কার দেখতে পেলাম। রোগা পাতলা শরীর – শুকনো মুখ। আশ্চর্য! বিড়ির আলো যে এতটুকু তা কখনো কল্পনাও করিনি। দিনের আলোয় কখনো বোঝা যায়না অন্ধকারে এই একটু বিড়ির আলো কত উজ্জল হয়ে জ্বলে!

আমাকে দেখে লাফ দিয়ে নেমে দাড়াল সে রিক্সা থেকে। বিড়িটা ছুড়ে ফেলে দিল। ’বাইত যাইবেন? উঠেন’ – আমি একটু অবাকই হলাম। চেনে নামি আমাকে? হতে পারে, গ্রামের অনেকের কাছেই আমি পরিচিত।

’আপনি হ্যারিকেন জালাননি কেন?’ – আমি জিজ্ঞেস করলাম।

’কমাইতে গিয়া সইলত্যা ভিতরে পইরা গেছে’ – রিক্সাওলা কৈফিয়াৎ দিল।

আমি রিক্সায় উঠে বসলাম। – ’অন্ধকারে রিক্সা চালাবেন কিভাবে? রাস্তা দেখবেন কিকরে?’

’অসুবিধা নাই। বিলাইএর চোখ আমার; অন্ধকারেও সব দেখবার পারি। আপনে শক্ত হইয়া বইসা থাকেন’

রিক্সা ঘুরিয়ে অদ্ভুত কায়দায় লাফিয়ে তার আসনে উঠে বসল রিক্সাওলা। কয়েক মুহুর্তেই দ্রুত চলতে শুরু করল রিক্সা। ঐ রোগা পটকা টিনটিনে শরীরে যে এত শক্তি তা ওকে দেখে বুঝতে পারিনি।

কিছু সামনেই ‘দেও দানবের’ আবাস্থল; বিশেষ যায়গা দুটির প্রথমটি। উত্তর পাড়া আর দক্ষিন পাড়ার ঠিক মাঝখানের কালভার্টটি। কালভার্টের দুই পাশে দুটো শিমুল গাছ – দুই পাড়ার লোকজন বুনেছিল। বিশাল আকৃতি নিয়ে দাড়িয়ে আছে গাছদুটি। দেখতেও হুবহু এক। আর চারিদিক বিস্তির্ন মাঠ, খেত খামার। সবাই বলে নিচ দিয়ে যাবার সময় শিমুল গাছ থেকে ঝাঁপ দিয়ে ঘাড়ের উপর আছড়ে পড়ে ’দেও’।

কিছুক্ষনের মধ্যেই উত্তর পাড়া পার হয়ে গেল রিক্সা। অন্ধকার থেকে আবছা আলোয় আসতেই বুঝলাম উত্তর পাড়ার শেষ বাড়িটি পার হলাম। কিছুদুরেই কালভার্ট।

আমি চোখ বন্ধ করে বসে রইলাম। সত্যিই ভয় পাচ্ছি। মৃদু ঝাঁকি অনুভুত হতেই বুঝলাম কালভার্ট পার হচ্ছি। একটু করে চোখ মেলে তাকাতেই দেখলাম ওপাশের শিমুল গাছটা পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছি আমরা। মনে একটু সাহস ফিরে এল। একটা ঝামেলা তো পার হল!

পরবর্তী স্পট একটু সামনেই। ওখানটা অবশ্য একটু অন্য রকম। বাংলা ’দ’ অক্ষরের মত দুটো বাঁক নিয়েছে রাস্তা – চারপাশে বাঁশের ঝাড়। দিনের বেলায়ই বেশ অন্ধকার হয়ে থাকে। আর রাতে হলে তো কথাই নেই। বাশ ঝাড়ের মুখে ওখানেও বড় একটা শিমুল গাছ দাড়িয়ে। কাকতালীয় ভাবে এটিও একই রকম দেখতে।

রাতের অন্ধকারে গাছটিকে আরও ভয়াবহ দেখায়। মনে হয় বিশাল এক দৈত্য দাড়িয়ে আছে। এর সম্পর্কে নানা রকমের গল্প শুনেছি ছোটবেলায়। দিনের বেলায়ই যেতে গা ছমছম করে। রাতের বেলা ওখান দিয়ে গেলে নাকি ’বোবা’য় ধরে। বোবা বিষয়টা কি তা আমি এখনো কারো কাছে সঠিকভঅবে জানতে পারিনি। অনেককেই নাকি বোবায় ধরেছে এ পযন্ত। কিন্ত এখনো এমন কাউকে পাইনি যাকে বোবায় ধরেছে। সবাই শুধু শুনেই এসেছে।

ভয় কাটানোর জন্য অন্য কিছু ভাবতে বসলাম। বিকেলে রওনা হয়ে রাত বারটায এসে পৌছেছি। মাত্র ১০০ কিলোমিটার পথ। আশ্চর্য, ঢাকা থেকেই যদি তিন ঘন্টা সময় লাগে বের হতে তাহলে কেমন লাগে? ভীষন মেজাজ খারাপ হচ্ছে দেশের ট্রাফিক ব্যাবস্থার উপর।

অন্ধকারে রিক্সাওলা সাই সাই করে প্যাডেল মেরে চলছে। হঠাৎ মনে হল এতক্ষনে তো বাশঝাড় মানে দ্বিতীয় স্পটটা পার হয়ে যাবার কথা। বিষয় কি? আমি চারদিকে একটু খেয়াল করার চেষ্টা করলাম।

ঐতো সামনে আবছা ভাবে শিমুল গাছ দেখা যাচ্ছে; তার মানে আমরা দ্বিতীয় স্পটে ঢুকতে যাচ্ছি। আমি দাঁতমুখ চেপে জবুথবু হয়ে বসে রইলাম।

শিমুল গাছটা পার হবার পরেই আবার মৃদু ঝাকি খেল রিক্স্রা। মনে হল রিক্সাটা আবারো কালভার্ট পার হল। আশ্চর্য। কালভার্ট তো পার হয়েই এলাম। ঘটনাটা কি? আরে! এইতো এপারের শিমুল গাছটি; আবছা আলোয় দেখা গেল; পাশ কাটিয়ে চলে গেলাম। কি ব্যাপার? এমন হল কেন? নাকি ভুতের ভয়ে মাথার ভেতর ওলট পালট হয়ে গেল?

আমি সচেতন ভাবে তাকালাম। ছুটে চলেছে রিক্স্রা। একমনে চালিয়ে যাচ্ছে রিক্সাওয়ালা। কিছু জিজ্ঞেস করব? ইচ্ছে করছেনা। বেকুবি হয়ে যায়। আমি শহরের ছেলে। ভয় পেয়েছি শুনলে একথা রটে যাবে।

ঐতো সামনে আবছা অন্ধকারে আবারো শিমুল গাছে অবয়ব চোখে পড়ছে। পৌছে গেছি এবার বাশঝাড়ের কাছে। আমি সজাগ দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে আছি আমার বাম দিকে, শিমুল গাছটা পারহয়ে গেল। তারপর আবারও মুদু একটা ঝাকি! আমারা তৃতীয়বারের মত কার্লভার্ট পার হচ্ছি! আমার সাড়া শরীরের রোমকূপে শীতল একটা স্রোত বয়ে গেল। ভয়ংকর কিছু একটা ঘটে গেছে বা যাচ্ছে।

আমি রিক্স্রায় বসেই প্যাডেলরত রিক্সাওলার গায়ে হাত রাখলাম। বরফের মত ঠান্ডা হয়ে আছে রিক্স্রাওলার শরীর। আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। আমি চিৎকার করে তার পিঠে ধাক্কাতে লাগলাম – ’এই এই’

রিক্সাওয়ালা কেমন যেন গোঙানীর মত আওয়াজ করতে থাকল। মনে হল কে যেন তার মুখ চেপে ধরে রেখেছে। মনে হচ্ছে প্রানপণে রিক্সার হাতল ধরে রেখেছে সে।

হঠাৎ আমিও শরীরে কিছু একটা চাপ অনুভব করি। তবে কি আমাকেও? – আমার শরীরের রক্ত হঠাৎই গরম হয়ে যায়। ভয়ংকর বিপদের মধ্যে আমি হঠাং রেগে উঠি; আগেও কয়েকবার প্রমান পেয়েছি। আমি স্থান কাল পাত্র ভুলে চেচিয়ে উঠি। ’এই শুওরের বাচ্ছা ওকে ধরেছিস কেন ছাড়। ছেড়ে দে।’ চেচিয়ে উঠার সাথে সাথে আমার সাড়া শরিরে মনে হয়ে রাগের বিদ্যৃত ঝিলিক দিয়ে যায়। হঠাৎ ভয়ঙকর সাহসী মনে হয় নিজেকে। আজ ভুতের একদিন কি আমার একদিন!

’খাইয়া ফালামু শালা। ওকে ছাড় – ছেড়ে দে।’ – জানিনা কাকে উদ্দেশ্য করে আমার এই গালগাল!

হঠাৎ তীব্র আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে মনে হয় কি এক বিরাট বোঝা যেন নেমে গেল আমার উপর থেকে। ’ঐ কি হইছে?’ – কারো গলা শোনা যায়। আবার সেই তীব্র চোখ ধাধানো আলো। একজন পথচারী! বোধহয় আমার চিৎকার শুনেছে দুর থেকে। হাতে ছোট্ট একটি টর্চ! এর আলোকেই এত তীব্র মনে হচ্ছিল!

সঙ্গে সঙ্গে রিক্সাওয়ালা যেন সংবিত ফিরে পায়। ব্রেক কষে অল্পক্ষনেই থামিয়ে ফেলে রিক্সা। আর একটু হলেই চলে গিয়েছিল খাদে! বেশ জোরে জোরেই দোয়া দরুদ পড়ছে। বেশ ভয় পেয়েছে বলে মনে হল।

আমি বলে উঠি ’না তেমন কিছু না’ ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মানতে পারছিনা। আবার বলতেও ইচ্ছে করছে না কাউকে এই মুহুর্তে। ’ভাই একটু টর্চটা ধরবেন?’ আমি পেছনে তাকিয়ে লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকি।

পেছন থেকে লোকটি টর্চের আলো ফেলে। অল্প সময়ের জন্য চারিদিক আলোকিত হয়। সহসাই বুঝতে পারি আমরা একটু পেছনেই বাশঝাড় ফেলে এসেছি।

’এই চলেন, চলেন।’ – আমি আবার রিক্সাওলাকে তাড়া দেই। রিক্সাওয়ালা দ্রুত রিক্সা টানতে শুরু করে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে সরে পরা ভাল।

’বড় বাচা বাইচা গেছি গো।’ – রিক্সাওলা শব্দ করে বলতে থাকে। – ’আইজক্যা আমাবষ্যার রাত আমার মনেই আছিল না।’

’কেন আমাবষ্যা হলে কি হয়। ’ – আমি জিজ্ঞেস করি।

’আমাবষ্যায় দেও দানোরা শিকার করতে বাইর হয়। একলা পাইলে কথা নাই। ’

’ধুর এগুলো ফালতু কথা।’ – আমি অভয় দেবার চেষ্টা করি। ’বাড়ি গিয়ে ঘুম’দেন। দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।’ – মুখে বললেও মনে ভাবি – সত্যিই বোধহয় বড় বাচা বেচে গেছি।

’আইজকার পর থেকে আর রাইতে রিক্সা চালামু না।’ – নিজে নিজেই বলতে থাকে সে।

****************************

পরদিন একটু বেলা করে ঘুম ভাংল। গত রাতের কথা মনে পড়ল। দিনের আলোয় সবকিছু মনে হল মিথ্যা। ধেৎ খামোখাই ভয় পেয়েছিলাম নিশ্চয়ই। সত্যিই কি কালভার্টটা তিনবার পার হয়েছি? এও কি সম্ভব। দিনের আলোয় অবাস্তব মনে হচ্ছে সব। ভাবতে ভাবতে বাড়ি ছেড়ে রাস্তার কাছে দাড়ালাম। রাতে কাউকে কিছু জানাইনি। খামোখা ভয় দেখিয়ে লাভ আছে?

রাস্তায় পান্জাবী পড়ে টুপি মাথায় চাচাকে দেখে অবাক হলাম। কি হয়েছে? কোথায় যাচ্ছেন?

’আর বলো না। গতকাল রাতে ওই পাড়ার মোতালেব মারা গেছে। ওর বাড়িতে যাচ্ছি।’

কথাটা শোনার সাথে সাথে প্রচন্ড একটা ভয় ঘিরে ধরল আমাকে। ’মোতালেব কি রিক্সা চালাত?’ – আমি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম।

’আরে না ও রিক্স্রা চালাবে ক্যান। জুয়া খেইলা কুল পাইত না। আবার রিক্সা।’

তাই নাকি? – একটা পাষান ভার যেন নেমে গেল আমার মাঝ থেকে।

’হ, বিদেশে আছিল কয়েক বছর। কিছু কাচা ট্যাকা পয়সা নিয়া আসছে। তাই জুয়া খেইলা উড়ায় এখন। ’

’তা হঠাৎ মরে গেল যে?’ – আমি জিজ্ঞেস করি।

’আর বলিস না। গতকাল নাকি রাত বারটার দিকে জুয়া খেইলা বাড়ি যাইতেছিল বাশছোপ তলা দিয়া। ভুতে ধরছিল কিনা কে জানে। বাড়ি গিয়া জ্ঞান হারাইয়া পইড়া যায়। তারপর আর উঠে নাই।’

কথাটা কানে যেতেই আমার পৃথিবী দুলে উঠল। সেই লোক নয়তো? টর্চের তীব্র আলোয় যে চক্র থেকে আমরা উদ্ধার পেয়েছিলাম গত রাতে; ওকি সেই চক্রে পড়ে মরে গেল? দিনের আলোতেই আমি আবার চারিদিকে অন্ধকার দেখতে শুরু করলাম। চাচাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস হলনা।

Address

Feni

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Vai Brother's posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share