08/03/2026
লিথুয়ানিয়ায় অভিবাসন বা মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে সেখানে যেতে চান, তবে নিচের নিয়মগুলো আপনার জন্য জানা খুব জরুরি:
১. নতুন কোটা পদ্ধতি (Quota System)
২০২৫ সাল থেকে লিথুয়ানিয়া সরকার বিদেশি কর্মীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা (Quota) নির্ধারণ করেছে।
কোটার পরিমাণ: ২০২৫ সালের জন্য এই সংখ্যাটি প্রায় ২৪,৮৩০ জন।
২০২৬ সালের নিয়ম: ২০২৬ সাল থেকে এই কোটা আরও কঠোর হবে। নিয়ম অনুযায়ী, মোট বিদেশি কর্মীর সংখ্যা লিথুয়ানিয়ার স্থায়ী জনসংখ্যার ১.৪% এর বেশি হতে পারবে না (যা প্রায় ৪০,০০০ এর কাছাকাছি)।
সুবিধা: আপনি যদি High Value-added বা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী হন (যেমন: আইটি ইঞ্জিনিয়ার, সায়েন্টিস্ট), তবে আপনি এই কোটার বাইরেও আবেদন করতে পারবেন।
২. বেতনের নতুন সীমা (Salary Thresholds)
ভিসা পাওয়ার জন্য এখন আপনার বেতন একটি নির্দিষ্ট সীমার উপরে হতে হবে:
যদি কোটা শেষ হয়ে যায়, তবে আপনার বেতন লিথুয়ানিয়ার গড় বেতনের অন্তত ১.২ গুণ হতে হবে।
Blue Card বা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের ক্ষেত্রে বেতন গড় বেতনের অন্তত ১.৫ গুণ হতে হবে।
৩. নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের নিয়ম (Changing Employer)
আগে লিথুয়ানিয়া গিয়ে সহজেই কোম্পানি পরিবর্তন করা যেত, কিন্তু এখন নিয়ম অনেক কঠিন:
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আপনাকে প্রথম নিয়োগকর্তার অধীনে অন্তত ৬ মাস কাজ করতে হবে। এর আগে আপনি কোম্পানি পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন না।
৪. ভাষার প্রয়োজনীয়তা (Language Requirement - ২০২৬)
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একটি নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। যারা সরাসরি কাস্টমারদের সাথে কথা বলে কাজ করেন (যেমন: ডেলিভারি রাইডার, ট্যাক্সি ড্রাইভার, বা বিউটি শ্যালন কর্মী), তাদের জন্য লিথুয়ানিয়ান ভাষা জানা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
৫. আবেদন প্রক্রিয়া ও VFS Global
বাংলাদেশিদের জন্য সরাসরি লিথুয়ানিয়ার কোনো এমবেসি বাংলাদেশে নেই। সাধারণত VFS Global-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।
এখন অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং সরাসরি MIGRIS (Lithuanian Migration Information System) পোর্টালের মাধ্যমে করতে হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: বৈধ পাসপোর্ট, কাজের চুক্তিপত্র (Employment Contract), শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (Apostille করা), এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।