05/05/2023
ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ইত্যাদি বড়-বড় শহর গুলোর ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যদি ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সংগঠিত হয় তবে এই শহরের বিল্ডিংগুলো অবস্থা হতে পারে মেক্সিকো সিটির বিল্ডিং গুলোর মতো।
১৯৮৫ সালে মেক্সিকো শহর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে একটা ভূমিকম্প হয়েছিল কিন্তু মেক্সিকো শহরের অনেক বিল্ডিং উল্টে পড়ে।মেক্সিকো শহর যেস্হানে গড়ে উঠেছে ঐস্হানটি কোন এক সময় লেক ছিল। লেকটি শুকিয়ে গেলে ঐ ভূমির উপর শহরটি গড়ে উঠে। মেক্সিকো সিটির ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক গভীর পর্যন্ত পলিমাটি বিস্তৃত ছিল ও মাটির গঠন ছিলও অনেক নরম। ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্টি হওয়া ভূপৃষ্ঠ-তরঙ্গ যখন নরম মাটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন সেই তরঙ্গ খুব ধীরগতিতে প্রবাহিত হয় ও বহু-তরঙ্গ বহু-গর্ভের বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে ছোট-ছোট একাধিক তরঙ্গ একত্রিত হয়ে বড় তরঙ্গের সৃষ্টি করে ফলে বিল্ডিং এর নিচের ভূমি অনেক বেশি উচ্চতায় কম্পিত হয় ও বিল্ডিং এর ফাউন্ডেশনের নিচের মাটি নরম হয়ে পড়ে বিল্ডিং এর নিচের অনেক গভীর পর্যন্ত মাটি পানি দ্বারা প্রায় সংপৃক্ত থাকার কারণে।
ভূমিকম্প বিজ্ঞানের ভাষায় ঝাঁকুনির কারণে মাটির গঠন আলগা হয়ে পড়াকে ভূমির তরলিকৃণ বা soi Liquefaction বলে: When liquefaction occurs, the strength of the soil decreases and, the ability of a soil deposit to support foundations for buildings and bridges is reduced as seen in the photo (SC) of the overturned apartment complex buildings")। উপরে বর্ণিত ভূমির তরলিকৃণা বা Soil Liquefaction এর কারণে মেক্সিকো শহর এর অনেক বহুতল বিল্ডিং ভেঙ্গে না পড়ে একদম গোঁড়া থেকে উল্টে পড়ে গিয়েছিল।
ভূতাত্ত্বিক ভাবে বাংলাদেশের ভূমি গড়ে উঠেছে গঙ্গা নদী ও ব্রক্ষমপুত্র নদ বাহিত পলি মাটি দিয়ে। ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ইত্যাদি বড়-বড় শহর গুলোর ২০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যদি ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সংগঠিত হয় তবে সেই ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্টি হওয়া তরঙ্গ যখন জলাভূমি, পুকুর, ডোবা, নদী-নালা ভরাট করে তৈরি করা বিল্ডিং এর নিচ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বিল্ডিং এর ফাউন্ডেশনের নিচের মাটি নরম হয়ে পড়ে বিল্ডিং ধ্বসে পড়ার প্রচণ্ড ঝুঁকি রয়েছে।
-মোস্তফা কামাল পলাশ
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক পিএইডি গবেষক এবং আবহাওয়াবিদ