15/10/2025
কেমন ছিল আমাদের সোনালী যুগের দাম্পত্য জীবন?
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) যখন বিয়ে করতে মনস্থির করেন তখন তার চাচিকে বলেন, ওই শাইখের বাড়িতে দু'জন বিবাহযোগ্য মেয়ে আছে। আপনি তাদের দেখে আসুন এবং তাদের সম্পর্কে আমাকে জানান।
চাচি মেয়ে দুটিকে দেখে আসার পর ইমামের কাছে তাদের বর্ণনা দিতে শুরু করলেন। তিনি বাড়ির ছোট মেয়ের ব্যাপারে অনেক প্রশংসা করলেন। ফর্সা চেহারা, তার চোখ ও চুলের সৌন্দর্য, দীর্ঘতা বর্ণনায় পঞ্চমুখ হলেন। ইমাম আহমাদ তখন তাকে বড় মেয়েটির ব্যাপারে বলতে বললেন। বড় মেয়েটির ব্যাপারে তিনি অনেকটা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে কথা বললেন। অবিন্যস্ত চুল, খর্বকায় উচ্চতা, শ্যাম বর্ণ এবং একটি চোখে ক্রটি থাকার কথা উল্লেখ করলেন।
এরপর ইমাম আহমাদ তাকে দুজনের দ্বীনদারির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে চাচি বললেন, বড় মেয়েটি দ্বীনদারির দিক থেকে ছোট মেয়ের তুলনার বেশ এগিয়ে। একথা শুনে ইমাম আহমাদ বললেন, তাহলে আমি বড় মেয়েটিকেই বিয়ে করব।
বিয়ের ত্রিশ বছর কেটে যাওয়ার পর ইমাম আহমাদের স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলেন। দাফনের সময় ইমাম আহমাদ বললেন, “ইয়া উম্মে আবদুল্লাহ! মহান আল্লাহ তোমার কবর শান্তিময় রাখুন। দীর্ঘ ত্রিশ বছরের বৈবাহিক জীবনে আমাদের মধ্যে একবারও ঝগড়া-বিবাদ হয়নি।”
একথা শুনে তাঁর এক ছাত্র অবাক হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া শাইখ! এটা কিভাবে সম্ভব?” জবাবে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) বললেন, “যখনই আমি তার প্রতি রেগে যেতাম তখন তিনি চুপ থাকতেন, আর যখন তিনি আমার প্রতি রেগে যেতেন তখন আমি চুপ থাকতাম। তাই আমাদের মধ্যে কখনোই ঝগড়া-বিবাদ হয়নি।”
[আল ইলমু ওয়াল উলামা, ৩৩৬]