14/06/2026
❤️আমার নিখোঁজ স্ত্রীকে ৪ বছর পর দুবাইয়ের একটা হোটেলে ৫০ বছরের লোকের সাথে দেখে অবাক হয়ে গেলাম।
বিয়ের আটটা বছর খুব একটা খারাপ কাটেনি। মধ্যবিত্তের টানাটানির সংসার হলেও ভেবেছিলাম বিশ্বাস আর ভালোবাসাটাই আসল। আমাদের একটা সন্তানও হলো। কিন্তু আট বছর এক ছাদের নিচে থাকার পর, আজ থেকে ঠিক চার বছর আগে হুট করেই একদিন নিখোঁজ হয়ে গেল আমার স্ত্রী লিলি।
সেদিন থেকে আমার আকাশটা ভেঙে পড়েছিল। একটা মানুষ কীভাবে এভাবে হাওয়া হয়ে যেতে পারে? আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই বাঁকা চোখে তাকাত। কেউ কেউ বলতে শুরু করল—হয়তো লিলিকে কেউ মে** রে লা** শ গু*ম করে দিয়েছে। নিজের মনের ভেতর হাজারটা সন্দেহ আর ভ*য় নিয়ে আমি থানায় গেলাম, মা*মলা করলাম। বছরের পর বছর পুলিশের দরজায় কড়া নেড়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সবাই যখন ধরে নিল সে আর দুনিয়াতে নেই, আমিও তখন এক বুক পাথর চাপা দিয়ে মেনে নিয়েছিলাম যে আমার স্ত্রী মৃ*ত।
এদিকে ঘরে আমার ছোট সন্তান। ওর তো কোনো দোষ নেই, ওর একটা ভবিষ্যৎ আছে। মায়ের অভাব ঢাকতে না পারলেও ওর জীবনটা যেন নষ্ট না হয়, সেই তাগিদেই আজ থেকে এক বছর আগে সব ছেড়েছুড়ে দুবাই চলে আসি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনরাত খাটতাম শুধু সন্তানের মুখে দুটো ডাল-ভাত তুলে দেওয়ার জন্য।
কিন্তু আজ... আজ ভাগ্য আমার সাথে যে খেলাটা খেলল, তার জন্য আমি বিন্দুমাত্র প্রস্তুত ছিলাম না।
আজ ছুটির দিনে দুবাইয়ের ডাউনটাউনের একটা হোটেলের লবিতে বসেছিলাম। হঠাৎ মেইন গেট দিয়ে একটা জোড়া কাপল ভেতরে ঢুকল। ভালো করে নজর দিতেই আমার সারা শরীর জমে বরফ হয়ে গেল।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার পরনে আধুনিক পশ্চিমা পোশাক, স্লিভলেস টপস আর শর্ট স্কার্ট। চোখে-মুখে চড়া মেকআপ। কিন্তু ওই মুখ, ওই চোখের চাহনি তো আমার চেনা! এ তো অন্য কেউ নয়, এ আমার স্ত্রী লিলি। যাকে চার বছর ধরে মৃ**ত ভেবে আমি চোখের জল ফেলেছি, সে আজ আমার চোখের সামনে জ্যান্ত দাঁড়িয়ে!
তার পাশে একটা মাঝবয়সী, দেখতে বেশ খারাপ টাইপের লোক। লোকটার হাবভাব আর চোখের চাউনি দেখলেই বোঝা যায় সে মোটেও সুবিধাজনক কেউ না। কোনো ভদ্র লোক ওভাবে পাবলিক প্লেসে একটা মেয়ের কোমরে হাত দিয়ে টানতে পারে না। কিন্তু সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেলাম যখন দেখলাম, লিলি সেই লোকটার গায়ে ঢলে পড়ছে। যে মেয়েটা দেশে থাকতে ঘোমটা ছাড়া চলত না, সে আজ এই পরপুরুষের সাথে পশ্চিমা পোশাকে অবলীলায় হেসে হেসে গা ঘষাঘষি করছে।
আমার মাথার ভেতর তখন র** ক্ত চড়ে গেছে। রাগ, ক্ষো*ভ আর অপ*মানে আমার হাত-পা কাঁপছিল। চিৎকার করে ওর নাম ধরে ডাকতে গিয়েও আমি থেমে গেলাম। চার বছর ধরে আমরা যাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি, সে কোনো পাচা**রকারীর খপ্পরে পড়েনি, কেউ তাকে খু** ন করেনি। সে কি নিজের ইচ্ছায়, এই পর**কীয়া আর বিলাসের লোভে আমাদের আট বছরের সংসার আর নিজের দুধের বাচ্চাকে লা*থি মে*রে দুবাই চলে এসেছে?? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
তারা কাউন্টার থেকে চাবি নিয়ে লিফটের দিকে এগিয়ে গেল। আমি নিজের রাগটা কোনোমতে চেপে চো*রের মতো তাদের পিছু নিলাম। লিফট থেকে নেমে করিডোর ধরে হেঁটে তারা সরাসরি একটা রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। লোকটা পকেট থেকে কার্ড বের করে লকটা খুলল। ভেতরে ঢোকার আগে) লিলি লোকটার দিকে তাকিয়ে একটা নোংরা হাসি দিল, তারপর দুজনে একসাথে রুমের ভেতর ঢুকে সরাসরি দরজাটা লক করে দিল।
আমি সেই বন্ধ দরজার সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। ভেতরে তখন আমার আট বছরের বিশ্বাস তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তাছে।, আর আমি বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁপছি। এখন আমার কী করা উচিত? দরজা ভে*ঙে ভেতরে ঢুকব, নাকি এই বিশ্বাসঘা*তকতার শেষ দেখে ছাড়ব?
চলবে...
সুখের পরিনতি
পর্ব ০১
লেখক The Story Haven
আজকেই দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করা হবে সবাই পেজটি ফলো করে ছোট একটা কমেন্ট করবেন প্লিজ তাহলে দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন