Ahassn Habib

Ahassn Habib social worker

ব্যর্থ সমাজ চিনবেন কিভাবে…??১২ টি লক্ষণ আছে, যা দেখে আপনি সহজেই ব্যর্থ সমাজ চিনতে পারবেন, জানতে পারবেন।👉ব্যর্থ সমাজের মা...
30/12/2025

ব্যর্থ সমাজ চিনবেন কিভাবে…??
১২ টি লক্ষণ আছে, যা দেখে আপনি সহজেই ব্যর্থ সমাজ চিনতে পারবেন, জানতে পারবেন।

👉ব্যর্থ সমাজের মানুষগুলো কখনো জ্ঞান-বিজ্ঞানে
জেগে ওঠে না, ওরা জেগে ওঠে হুজুগে। সেখানে বই পড়া, মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞানচর্চার অভ্যাস খুব কম থাকে। 📚

👉ব্যর্থ সমাজের মানুষেরা দেখবেন, অর্থহীন সস্তা বিনোদনের পিছনে ছুটে চলে। ফলে সস্তা বিনোদন দিয়েও অপাংক্তেয় এক শ্রেণীর অথর্ব মানুষ খুব তাড়াতাড়ি প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করে ফেলে। 🎭

👉ব্যর্থ সমাজে দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোরদের সবচেয়ে সফল ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। লোকের চোখে ওরাই হয়ে ওঠে রোল মডেল। 💰

👉ব্যর্থ সমাজে অশিক্ষিতরা আপনার ভাগ্য নির্ধারণ করার দায়িত্ব নেয়। মানুষ শিক্ষাকে কম, টাকা আর ক্ষমতাকে বেশি মূল্যায়ন করে। 🧠

👉ব্যর্থ সমাজে প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষের বিপরীতে হাজার-হাজার বোকার আখড়া থাকে এবং প্রতিটি সচেতন শব্দের বিপরীতে থাকে শত-শত পচনশীল শব্দ। 🗣️

👉ব্যর্থ সমাজে উদ্যোক্তার চেয়ে চাকরিজীবীর দাম বেশি হয়। সেখানে উদ্যোক্তাদের কেউ সম্মান করে না। 🚫

👉ব্যর্থ সমাজে চিন্তাশীল ব্যক্তির মূল্য কেউ বোঝে না। যে কঠিন সত্য বলে বাস্তবতাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করে তাকে কেউ গ্রহণ করে না, মর্যাদাও দেয় না। ⚠️

👉ব্যর্থ সমাজে তরুণ প্রজন্মের সামনে সৎ ও মহৎ কোন লক্ষ্য থাকে না। যুবসমাজ সেখানে শর্টকাটে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে সবার মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাওয়ার রাস্তা খোঁজে বেড়ায়। 🏃‍♂️

👉ব্যর্থ সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হয় নির্বোধ। সমাজের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ আলোচনায় মেতে থাকে আর মূল টপিকগুলো ধীরেধীরে হারিয়ে যায়। 📉

👉ব্যর্থ সমাজে অর্থহীন তত্ত্ব দিয়ে, ভুলভাল স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষকে দিনের পর দিন নেশাগ্রস্ত করে রাখা হয়। লোকজন এই নেশা কাটিয়ে উঠে সৃষ্টিশীল কাজে আর মনোনিবেশ করতে পারে না। 🌫️

👉ব্যর্থ সমাজে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পায়ুপথের মতো সবার একটি করে মতামত থাকে, কারণ সবাই সেখানে সবজান্তা শমসের। 🤡

👉ব্যর্থ সমাজে মানুষ সমস্যার উপর দিয়ে মেঘের মতো ভেসে বেড়াতে ভালোবাসে কিন্তু গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। সমস্যা সমাধানের চেয়ে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতেই সবাই স্বাচ্ছন্দবোধ করে। ☁️


---

⚖️🔥💥🧩🪞📌🚨❌

"লোকটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। ইলেকট্রিক চেয়ারে বসানো হয়েছে হাত-পা বেঁধে। ভয়ানক ইলেকট্রিক শকের যন্ত্রণার ভয়ে অঝোর...
29/12/2025

"লোকটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। ইলেকট্রিক চেয়ারে বসানো হয়েছে হাত-পা বেঁধে। ভয়ানক ইলেকট্রিক শকের যন্ত্রণার ভয়ে অঝোরে কাঁদছে সে। তখনই এলো অভাবনীয় প্রস্তাবটি: জনৈক বিজ্ঞানী জানালেন তাকে─ আপনাকে মৃত্যুদণ্ড একটি বিকল্প প্রক্রিয়ায় যন্ত্রণাবিহীনভাবে কার্যকরে আগ্রহী আমি; এটি আমার একটি সায়েন্টিফিক এক্সপেরিমেন্ট। খুব সূক্ষ্মভাবে আপনার একহাতের কব্জির শিরা হালকা করে কাটা হবে, আপনি বুঝতেও পারবেন না; হাতটির কনুইয়ের নিচে রাখা স্টিলের পাত্রে ধীরেধীরে রক্তের ফোঁটা পড়বে; আপনি কিছুক্ষণ পরেই সম্পূর্ণ কষ্টবিহীন অবস্থায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবেন। রাজি?

লোকটি রাজি হয়ে গেলো।

বিকল্প প্রক্রিয়াটি ছিল একটি মনস্তাত্ত্বিক এক্সপেরিমেন্ট।

তাকে বসানো হলো, চোখে পট্টি দেওয়া হলো, ভাঁজ করা কনুইয়ের নিচে একটি স্টিলের পাত্র রাখা হলো। অল্প পরেই, পাত্রটিতে পড়তে লাগলো ফোঁটায়-ফোঁটায়...

না, রক্ত নয়; জল।!

আলাদাভাবে জল ফেলা হচ্ছিলো ধীর-ধারায়। লোকটি শুনতে পাচ্ছে পাত্রে পড়া তরলের শব্দ। ফোঁটা পড়ার শব্দ ধীর থেকে ধীরতর হতে লাগলো। একসময় থেমে গেলো শব্দ, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো লোকটিও, শব্দ শুনতে না-পেয়ে আর।"

উপরের ঘটনাটি সত্যিকারের নয়, একটি গল্প। মনস্তত্ত্ববিদরা বলছেন, এভাবে মৃত্যু সম্ভব। এক্ষেত্রে সাইকোলজি ব্রেইন ও হার্টের ক্রিয়া বন্ধ করে দিতে পারে।

লোকটির কব্জিও কাটা হয়নি, রক্তও পড়েনি, অথচ সে ভেবেছে─ ওসব হয়েছে, এবং তার মৃত্যু হচ্ছে। কারণ তার ব্রেইনে আগেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বা সে বিশ্বাস করে ফেলেছে এসব ঘটবে, এবং সে এসবের ফলে মারা যাবে। সাইকোলজি। বিশ্বাস।

আমরা এভাবেই ব্যর্থ হই, বা সফল হই। আমরা আমাদের ভেবে নেওয়া ভাবনাকেই, বিশ্বাসকেই, বাস্তবতায় রূপ দিই। আমরা যখন নিশ্চিত হই যে, এই ঘটনাটি ঘটবেই, তখন ঘটনাটিকে প্রতিহত করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। যদি ভাবি যে, ঘটনাটি প্রতিহত করার ক্ষমতা আমার আছে, তাইলে সেই ঘটনা থামিয়ে দেওয়াও সম্ভব আমাদের দ্বারা, অথবা ঘটনাটি সত্যিকার অর্থে না-ও ঘটতে পারে।

আমাদের মনস্তত্ত্ব এভাবেই আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। ভয় কিংবা আশা, যাকে আমরা সত্য হিসেবে গ্রহণ করি, তাতেই আমরা ঢুকে পড়ি, তার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাই। বিশ্বাস। বিশ্বাসই নিয়ন্তা। যে বিশ্বাস করে যে, সে ব্যর্থ হবে, সে ব্যর্থ হয়েই গেছে; যে জয়ের আশা করে, একধাপ এগিয়ে গেলো সে জয়ের দিকে।

#সংগৃহীত

রিযিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ২০টি গুনাহ!✴️১. সুদ :যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আল্লাহ নিজেই যু/দ্ধ ঘোষণা করেছেন,সেখানে কখনো বারকাহ আ...
29/12/2025

রিযিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ২০টি গুনাহ!

✴️১. সুদ :
যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আল্লাহ নিজেই যু/দ্ধ ঘোষণা করেছেন,
সেখানে কখনো বারকাহ আসতে পারে না ৷
রেফারেন্স: সূরা আল-বাকারা ২৭৯ - "আল্লাহ ও তাঁর

রাসূলের পক্ষ থেকে যু/দ্ধের ঘোষণা। ”

✴️২. অকৃতজ্ঞতা:
যে রিযিককে তুমি তুচ্ছ করো, সেটাই ধীরে ধীরে
তোমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
রেফারেন্স: সূরা ইবরাহীম ৭ - "কৃতজ্ঞ হলে বাড়িয়ে দেব,
অকৃতজ্ঞ হলে শা/স্তি কঠিন।”

✴️৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা:
রিযিকের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক সরাসরি যুক্ত। সম্পর্ক
কে/টে দিলে রিযিকের দরজা বন্ধ হয়।
হাদিস: "যে রিযিক বাড়াতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার
সম্পর্ক বজায় রাখে।”- বুখারি ২৯৮৬ -

✴️৪. অসততা:
ব্যবসায় মিথ্যা বললে সাময়িক লাভ হতে পারে,
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রিযিক নষ্ট হয়।

✴️৫. প্রতারণা:
কারও হক মেরে খেলে প্রতিটি হা/রাম টাকা জীবনে অভাবডেকে আনে।
হাদিস: "যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের মধ্যে নয়।
মুসলিম ১০২

✴️৬. সালাত অবহেলা:
আজান-সালাত গুরুত্বহীন মনে করলে রিযিকের
বারকাহ কমে যায় ৷
হাদিস: "রিযিক সালাতে আছে।”
সহিহ অর্থে বহু বর্ণনায় প্রমাণিত

✴️৭. গীবত :
অন্যের পিঠ পেছনে খারাপ বলা তোমার নিজ
জীবনের বারকাহ খেয়ে ফেলে।
সূরা হুজুরাত ১২

✴️৮. অহংকার:
রিযিক উপহার, প্রমাণ নয় যে তুমি শ্রেষ্ঠ।
অহংকার আসমানের দরজা বন্ধ করে দেয়৷
হাদিস: "যার অন্তরে অহংকারের অণু পরিমাণ থাকে,
সে জান্নাতে যাবে না।"– মুসলিম ৯১

✴️৯. যাকাত আটকে রাখা:
যাকাত না দিলে সম্পদ অপবিত্র হয়ে যায়
এবং ধ্বং/স হতে থাকে।
সূরা তাওবা ৩৪-৩৫

✴️১০. কর্মচারীদের ওপর জুলুম:
যাদের তোমার ওপর কিছুটা অধিকার আছে, তাদের
হক না দিলে রিযিক শুকিয়ে যায়।
হাদিস: "মজদুরের মজুরি ঘাম শুকানোর আগেই পরিশোধ
করো।" ইবন মাজাহ ২৪৪৩

✴️১১. বেচাকেনায় প্রতারণা বা জিনিসের দোষ লুকানো: এতেসম্পদের বারকাহ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়।

✴️১২. লোভ:
যে শুধু আরও আরও চায় কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ বলে
না-সে শেষ পর্যন্ত কম পায় ৷
হাদিস: "মানুষের মন যদি দুই পাহাড় ভরা সম্পদ পায়,
তবুও সে তৃতীয়টি চাইবে।” – বুখারি ৬৪৩৯

✴️১৩. বাবা-মাকে অবহেলা:
তোমার রিযিক তাদের দোয়া বা অভিশাপের সাথে জড়িত।
হাদিস: "রিযিক ও আয়ু বাড়ে বাবা-মাকে সন্তুষ্ট রাখলে।"
- মুসলিম (হাসান সনদে বহু রেওয়ায়েতে প্রমাণিত)

✴️১৪. জুলুম করে সম্পদ অর্জন:
জুলুমের সম্পদে কোনো বারকাহ নেই,
বরং ধ্বং/স ডেকে আনে।

✴️১৫. সদকা অবহেলা:
সদকা কখনো সম্পদ কমায় না, বরং বাড়ায়।
হাদিস: "সদকা সম্পদ কমায় না।
-মুসলিম ২৫৮৮

✴️১৬. হিংসা:
অন্যের রিযিক দেখে মন খারাপ করা নিজের
রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।

✴️১৭. নারীদের ও বাচ্চাদের প্রতি জুলুম:
যাদের যত্নের অধিকার সবচেয়ে বেশি, তাদের প্রতি অন্যায়
করলে রিযিক উঠে যায়।

✴️১৮. মিথ্যা কসম খাওয়া:
টাকা বা ব্যবসার জন্য মিথ্যা শপথ
বারকাহ পু/ড়ি/য়ে ফেলে।
বুখারি ২০৮৭

✴️১৯. অলসতা:
রিযিক চেষ্টা করা মানুষের কাছে আসে।
যারা চেষ্টা করে না, ভাগ্যও দরজা খোলে না।

✴️২০. তাকদির নিয়ে অসন্তুষ্টি :
আল্লাহর সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ করা ভবিষ্যতের রিযিকেরদরজা বন্ধ করে দেয়।
হাদিস: "আল্লাহ্ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকলে সে হৃদয়কে পরিপূর্ণকরেন।”
তিরমিজি ২৫১০

#সংগৃহীত
পোষ্টি ভালো লাগলে শেয়ার করে দিবেন

ভাত খেতে বসে লেখাটা পড়েছিলাম😥😥আমি, আমার মৃত্যু পথযাত্রী মা কে ভাত খাওয়াতে পারিনি দেখে,আমি আজ সাতাশ বছর যাবৎ ভাত খাই না।অ...
28/12/2025

ভাত খেতে বসে লেখাটা পড়েছিলাম😥😥

আমি, আমার মৃত্যু পথযাত্রী মা কে ভাত খাওয়াতে পারিনি দেখে,আমি আজ সাতাশ বছর যাবৎ ভাত খাই না।অথচ এই আমিই আমার ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সাড়ে পনেরো হাজার শ্রমিকের, প্রতিদিন একবেলা ভাতের যোগান দেই।
বিশিষ্ট শিল্পপতি মো:এনামুল হকের বক্তব্যে সবাই নড়েচড়ে বসল।সাংবাদিকরা সাক্ষাৎকারের শিরোনাম শুনে,সবগুলো ক্যামেরা অন করে দিল। বিনয়ের সাথে বলল,
-'যদি পুরো গল্পটা বলতেন,স্যার?
এনামুল হক একটু সময় নিয়ে কি যেন ভাবলেন!তারপর টিস্যু দিয়ে কপালের ঘাম মুছে নিয়ে বললেন,
-'বাবা মারা যাওয়ার পর,আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না।ততদিনে বড়আপার বিয়ে হয়ে গেছে।আর আমি মেধা তালিকায় ১ম হয়ে বুয়েটে চান্স পাই।বই কেনার টাকা ছিল না।সারাদিন বন্ধুদের কাছ থেকে এ নোট সে নোট জোগাড় করে ফটোকপি করে পড়তে হতো।টিউশনি করে যে ক'টা টাকা মাস শেষে হাতে পেতাম।তার থেকে কিছু টাকা মা কে পাঠাতে হতো।আর বাকি টাকা দিয়ে, বন্ধুদের কাছ থেকে ধার দেনা করে কোনরকমে টেনেটুনে পুরো মাস চলতাম।বড়আপার ছিল ভরা সংসার।কিন্তু সেই সংসারে তার কোন মতামত দেওয়ার অধিকার ছিল না।সবকিছুই তার শাশুড়ির কথামত চলত।তাই সে চাইলেও আমাদের খুব একটা হেল্প করতে পারত না।
আমার তখন পরিক্ষা চলছিল।
একদিন খবর এল আমার মা খুব অসুস্থ।আমি কোন রকমে পাস মার্ক তুলেই ছুটলাম।উদ্দেশ্য মা কে ঢাকায় এনে হাসপাতালে ভর্তি করা।যেহেতু হাতে খুব বেশি টাকা ছিল না।এদিকে মায়ের অবস্থাও খুব খারাপ। দিক দিশা না পেয়ে, একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে মা কে ভর্তি করলাম।ডাক্তার টেস্ট দিল।রিপোর্টে জানা গেল,মা ব্রেন স্ট্রোক করেছে।ততক্ষণে মা উল্টো পাল্টা বলতে শুরু করেছে।বার বার ক্যানেলা খুলে ফেলছে।চিৎকার করে কাঁদছে, হাসছে।জোরে জোরে বাবাকে ডাকছে।আমাকে অস্থির হয়ে বলছে,-'তোর বাপ এখনো আসে না কেন রে, এনা?
আমি কি বলব?আমার নিজেকে তখন বেসামাল লাগছিল।সে সময় ফোনের খুব একটা প্রচলণ ছিল না।হাসপাতাল থেকে বাসে করে, বড় আপার বাসায় যেতে লাগে। প্রায় পাঁচচল্লিশ মিনিট। তাড়াহুড়ায় আপাকে জানানো হয়নি।আপাকে একটা ফোন করা দরকার!

টানা তিনদিন হাসপাতাল, ভার্সিটি করে করে পকেটের টাকা শেষ।এক বন্ধুর কাছে ধার চাইলাম।দিল না।এদিকে মা ও একটু একটু করে দূর্বল হয়ে পড়ছিল।বড়আপাকে বললাম। সেও এলো না।আসলে তাকে আসতে দেওয়া হয়নি।সে এসে হাসপাতালে পরে থাকলে,তার সংসারে কাজ করবে কে?
✴️শেষ সময়ে মায়ের স্মৃতি এই আসছে!এই যাচ্ছে।যতক্ষণ আমি মায়ের পাশে বসে থাকতাম।শুধু মা শোয়া অবস্থায় আমার হাত টেনে ধরে বলত,-এনা,ভাত খাব?ও এনা, বাপ আমার! দে না, এক প্লেট ভাত এনে?আমি শুধু নীরবে , চোখের জল ফেলতাম।পকেটে তখন একটা পয়সাও ছিল না।বিশ্বাস করুণ!এক প্লেট ভাতের দাম খুব বরং দশ টাকা ছিল।কী অপদার্থ ছেলে আমি,তাই না?মা কে এক প্লেট ভাত কিনে খাওয়ানোর সামর্থ নেই।তখন ছাত্র ছিলাম।আত্মসম্মান বোধ ছিল প্রবল।কারো কাছে ভাত চাইতেও লজ্জা করছিল।ভাত দেই না দেখে,মা আমাকে রীতিমতো আঁচড়ে,কামড়ে নাজেহাল করে ফেলেছিল।টানা দুই ঘণ্টা মা ভাত খাব,ভাত খাব বলে, ক্লান্ত হয়ে পড়ল।আমি মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,
-'মা,তুমি লক্ষ্মী মেয়ের মতো চুপচাপ বসে থাকো।আমি আপার বাসা থেকে ভাত নিয়ে আসি,কেমন?
-'ভাত খাব,এনা?
-'আচ্ছা।
আমি উঠে পড়লাম।মা পিছু ডেকে বলল,
-'তুই খুব ভাল,এনা।আল্লাহ তোর ভাল করুক।এবার শিগগিরই যা!আমার জন্য ভাত নিয়ে আয়।
আমি রাস্তায় বেরিয়ে উদ্দেশ্যহীন হাঁটছি।বড় আপার বাসায় যাব!পকেটে টাকা নেই।ভয়ে ভয়ে একটা বাসে চড়ে বসলাম।আমার মা মুখ ফুটে ভাত খেতে চেয়েছে।যে করেই হোক, আমাকে ভাত এনে দিতেই হবে।তারজন্য যদি আমাকে বাস কন্ট্রাকটারের কাছে,ভাড়া না থাকার কারণে, অপমানিত হতে হয়।হবো।আসার সময় নার্সকেও বলে এসেছি।'একটু আমার মা কে দেখবেন প্লিজ?আমি এসে বখশিশ দিব।

✴️মাঝরাস্তায় বাস ড্রাইভার আমাকে নামিয়ে দিল।আমার অপরাধ!আমি ভাড়া দিতে পারিনি।আমি প্রায় ঘন্টাখানিক পায়ে হেঁটে আপার বাসায় পৌঁছেছি।আপা আমাকে দেখে ছুটে এলো।অস্থির হয়ে বলল,
-'মা কেমন আছে,ভাই?
-'বাড়িতে ভাত আছে, আপা?আমি সে'কথায় উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করলাম।
-'আছে।তুই খাবি?আপা ব্যস্ত হয়ে ভাত বাড়তে গেল।
-'আমি খাব না।তুই বরং মায়ের জন্য ভাত বেড়ে দে!আমি পিছু ডেকে বললাম।
আপা আমাকেও জোর করে অনেকগুলো ভাত খাইয়ে দিল।আমি টিফিনবাক্সে ভাত আর কিছু টাকা নিয়ে আপার বাসা থেকে বের হলাম।
হাসাপাতালে গিয়ে, কেবিনে ঢুকে দেখি।আমার মায়ের নিথর দেহ, বড় অবহেলায় পরে আছে।সাদা কাপড়ে মুখ ঢাকা। অথচ তখনো হাতে আমার, মায়ের জন্য আনা, ভাতের বাটি ধরা।নিজেকে তখন আমার পৃথিবীর সবচেয়ে অক্ষম, নিকৃষ্ট লাগছিল।আমিই একমাত্র অপদার্থ ছেলে। যে কি না..মায়ের শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে পারলাম না। ✴️এলোমেলো পায়ে হেঁটে গিয়ে মায়ের পাশে বসলাম।মায়ের হাত দুটো আলতো করে ধরে, বিড়বিড় করে বললাম,
-'ও মা..ভাত খাবে না?উঠো..দেখো, তোমার জন্য ভাত এনেছি। উঠো না মা?
আমার আপা মাকে জড়িয়ে ধরে, হাউমাউ করে কাঁদলেও সেদিন আমি একটুও কাঁদতে পারিনি,জানেন?কি নিষ্ঠুর দু'চোখ !এক ফোঁটা জলও এলো না।শুধু বুকের ভেতর কি যেন কামড়ে ধরছিল।মনের ভেতর অস্থির অনুভূতি।আমি না.. নিজেকে কিছুতেই ক্ষমা করতে পারছিলাম না।আফসোস,মা'র অন্তীম সময়ে একমুঠো ভাত মুখে তুলে দিতে পারলাম না।
স্কলারশিপ পেয়ে,আর দেরী করিনি।আমার ভাগের জায়গা, জমি বেচে, এক স্যারের হেল্প নিয়ে বিদেশে পড়তে চলে গেছি।যে দেশে আমার মায়ের মুখে ভাত তুলে দিতে পারিনি।সে দেশে কেন জানি!আর থাকতে ইচ্ছে করেনি।
পড়াশোনা শেষ করে, আমি যে কোম্পানিতে মোটা বেতনে জব করতাম।আমার কাজের প্রতি একাগ্রতা আর সততা দেখে সেই কোম্পানির মালিকের খুব পছন্দ হলো।তার তিন কূলে কেউ ছিল না।এক মেয়ে ছাড়া।এত এত অর্থ সম্পদ কে ভোগ করবে?তাই আমাকে তার মেয়ে জামাই করার প্রস্তাব রাখল।সাথে ৫০%প্রোপার্টি লিখে দেবে।একসময় আমাকে বিয়ে তো করতেই হতো। তাই আর অমত করিনি।

✴️একটা সময় পর মনে হলো,অনেক দিন তো হলো।বিদেশ ভূয়ে পড়ে রইলাম।এবার দেশে যাওয়া দরকার।দেশের মানুষের জন্য কিছু করা দরকার।
দেশে এসে, গাজীপুরের প্রায় পাঁচশো শতাংশ জায়গা,জমি কিনেছি।বিদেশি বায়ারদের সাহায্যে ফ্যাক্টারি নির্মাণ করেছি।সেই ফ্যাক্টারিতে গেঞ্জি, শার্ট,প্যান্ট,থেকে শুরু করে অনেককিছুই তৈরী করা হয়।সেই সব প্রডাক্ট গুলো চড়ামূল্যে অন্যান্য দেশে রপ্তানি হয়। প্রথমে দেড় হাজার শ্রমিক নিয়ে আমাদের জার্নিটা শুরু করেছিলাম।এখন প্রায় সাড়ে পনেরো হাজার শ্রমিক কাজ করে।আমাদের ফ্যাক্টারির একজন এমপ্লয়ির সর্বনিম্ন বেতন সাড়ে আট হাজার টাকা।আর সবোর্চ্চ বেতন প্রায় লাখের উপরে।মূল ডিউটি টাইম,ন'ঘণ্টা।
সাথে দুপুরের লাঞ্চ ফ্রী।ওভারটাইম করলে হালকা নাস্তারও ব্যবস্থা আছে।

✴️মাঝখানে অনেকগুলো বছর কেটে গেছে।
এখন দু'হাত ভরে প্রচুর টাকা কামাই।কাঁচা চুলে পাক ধরেছে।গায়ের চামড়াও কেমন কুঁচকে গেছে।চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা পরতে হয়।আমার ছেলেমেয়েরাও যার যার মতো প্রতিষ্ঠিত।যে আমি ছাত্র জীবনে মা কে একমুঠো ভাত খাওয়াতে পারিনি। সেই আমিই আজ প্রায় পনেরো হাজার মানুষের খাদ্যে, বস্ত্রের দায়িত্ব নিয়েছি।তারা যখন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে, দুপুরে আয়েশ করে, ভাত খেতে বসে।আমি সি সি টিভি ফুটেজে তা মুগ্ধ চোখে দেখি।এই সাদা ফুলের মতো ভাতের প্রতি আমার প্রচুর দূর্বলতা থাকলেও কেন যে আজও ভাত খেতে পারি না।এখনো ভাতের প্লেট দেখলেই মায়ের মুখখানা চোখের সামনে ভেসে উঠে।
✴️একটানা এতক্ষণ কথা বলে, এনামুল হক হাঁপিয়ে গেছেন।একরাশ মুগ্ধ জনতা পেছনে ফেলে সে আস্তে আস্তে স্টেজ থেকে নেমে গেলেন।এখন ঘড়িতে পাঁচটা বাজে।সন্ধ্যে ছ'টায় একটা পাচ তরা হোটেলে, বিদেশি ক্লায়েন্টদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে।এখন না গেলে বড্ড দেরি হয়ে যাবে।চারপাশে পুলিশ, সিকিউরিটি এনামুল হক কে গাইড দিয়ে গাড়িতে তুলে দিলেন।

শেয়ার করবেন

☸️☸️☸️ব্যর্থতা_কিংবা_সফলতা
লেখা_Bobita_Ray
সংগৃহীত।


ঘটনা ১. এরশাদ তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। অতিথিদের মধ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও আছেন। ড্রেসকোড অনু...
28/12/2025

ঘটনা ১. এরশাদ তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। অতিথিদের মধ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও আছেন। ড্রেসকোড অনুযায়ী সবাইকে স্যুট পড়তে হবে। কিন্তু জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কোন স্যুট নাই। উনি না করে দিলেন। এরশাদ ঘটনা শুনার পর চৌধুরী সাহেবের জন্য এক জোড়া নতুন স্যুট বানিয়ে দিলেন।

ঘটনা ২. ১৯৯৬ সাল। ক্ষমতায় শেখ হাসিনা। উনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া তখন সদ্য আণবিক শক্তি কমিশন থেকে অবসর নিয়েছেন। চাকরি বাকরি নাই। প্রধানমন্ত্রী ফোন করলেন ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে। ড. ওয়াজেদ মিয়া দেখা করলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাথে। তখন ওয়াজেদ মিয়া প্রচুর ধুমপান করতেন। জাফরুল্লাহর প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্যে ধূমপায়ীদের নিয়োগ দেওয়া হয়না। প্রধানমন্ত্রীকে উনি সেটা জানিয়ে দিলেন। পরে ১ মাস সময় নিয়ে ড. ওয়াজেদ মিয়া ধুমপানের অভ্যাস ত্যাগ করে চাকুরীতে যোগ দিলেন।

৩. ক্ষমতায় জিয়াউর রহমান। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎপ্রার্থী। প্রেসিডেন্ট তার ব্যাস্ত সময় থেকে দশ মিনিট সময় বরাদ্দ দিলেন। দশ মিনিটের সে সাক্ষাৎপর্ব শেষ পর্যন্ত ৪ ঘন্টা পর শেষ হল। জিয়াউর রহমান পরে উনাকে মন্ত্রীত্বের অফার করেছিলেন, উনি সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

৪. ১৯৯৫ সাল। সাভার গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস এর ক্যান্টিনে বসে আছি। একজন একটা গল্প বললেন। কিছুদিন আগে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বাবা এখানে এসেছিলেন। যাওয়ার সময় ক্যান্টিন থেকে দুইটা সিঙারা আর এক কাপ চা খেয়ে চলে যাচ্ছিলেন। ম্যানেজারও বিল চাননি, উনিও বিল দেননি। এটা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কানে যাওয়া মাত্রই একজন স্টাফ পাঠিয়ে বিল নিয়ে আসেন। বাবাও তার ছেলের সম্পর্কে জানতেন, তাই উনিও আর কথা বাড়াননি। এমনই পাগলাটে আর কিছুটা ক্ষ্যাপাটে ছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সেটা সম্ভবত ১৯৯৪ সালের শেষদিকে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে প্রথম চাকরি গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস এ। জয়েন করার পর দেখা করতে গেলাম জাফর ভাইয়ের সাথে (ওনাকে সবাই ভাই বলত, এটাই নিয়ম)। উনি কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বললেন, তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো ছাত্ররা যেদিন দেশের হাল ধরবে সেদিনই প্রকৃতপক্ষে দেশের উন্নয়ন শুরু হবে। শুরু হলো নতুন অধ্যায়। প্রায় চার বছর খুব কাছে থেকে এমন একজন মানুষের সাথে কাজ করতে পেরেছি। আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি উনার সেই ভাঙা জিপে করে সারা বাংলাদেশ। সফর সঙ্গী হিসাবে আমাকে কেন জানি পছন্দ করতেন। এমন দেশপ্রেমিক কাজপাগল মানুষ বাংলাদেশে দ্বিতীয়টা আপনি পাবেন না। যতক্ষন জেগে থাকেন, ততক্ষন কাজ, ততক্ষন দেশের চিন্তা, মানুষের চিন্তা।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক ছিলেন না। তিনি যখন যা-ই বলেছেন সেটি তাঁর বিবেচনাবোধ থেকেই বলেছেন। নিজের স্বার্থ বা উপার্জনের কথা চিন্তা করে তিনি কথা বলেননি। সত্য বলায় শুভাকাঙ্ক্ষীদের কোনো নিষেধও তিনি শোনেননি।

এক অর্থে জাফর ভাই অদ্ভূত মানুষ ছিলেন। ঢিলেঢালা শার্ট প্যান্ট। পুরোনা বাসায় আসবাবপত্রও পুরনো, গাড়িটাও ভাঙাচোরা। খাওয়া দাওয়ার ঠিক নাই। চুল কেটে দিতেন উনার স্ত্রী শিরীন ভাবী। নিজের কোন আয় নাই, থাকতেন শ্বশুর বাড়িতে। সব মিলিয়ে নির্মোহ একজন মানুষ। পাওয়ার কথা চিন্তা করেননি, নিজের জন্য কখনো কিছু চাইতে দেখিনি। অথচ পৃথিবীর তাবত চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা উনাকে সমীহ করতেন খুব, এরকম প্রচুর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আমি নিজে। মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন উনি বিলাতে। আর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই এফআরসিএস পরীক্ষা, যার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন চার বছর। কিন্তু পরীক্ষা না দিয়েই চলে এলেন দেশে, যোগ দিলেন মুক্তিযুদ্ধে।

একসময় দেশের ৮০ ভাগ ওষুধ বিদেশি কোম্পানি তৈরি করত। তার করা ওষুধ নীতির ফলে এখন ৯৫ ভাগ ওষুধই দেশে উৎপাদন হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে মিলিয়ন ডলারের ওষুধ এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

দেশ ও জাতির জন্য তার অবদান বলে শেষ করা যাবেনা। ১৯৪১ সালের আজকের এই দিনে চট্রগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন গরীবের ডাক্তার খ্যাত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

শুভ জন্মদিন জাফর ভাই।
#সংগৃহীত ফেইসবুক ওয়াল থেকে

 #নীরব_প্রতিশোধ:--- প্রতিশোধ মানেই চিৎকার, ঝগড়া বা ক্ষতি—এই ধারণা ভুল।সবচেয়ে গভীর ও প্রভাবশালী প্রতিশোধ ঘটে  #নীরবে, য...
28/12/2025

#নীরব_প্রতিশোধ:---
প্রতিশোধ মানেই চিৎকার, ঝগড়া বা ক্ষতি—এই ধারণা ভুল।
সবচেয়ে গভীর ও প্রভাবশালী প্রতিশোধ ঘটে #নীরবে, যখন কেউ বুঝতেই পারে না—কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবচেয়ে বেশি কেঁপে ওঠে।

নিচে এমন ৮টি নীরব প্রতিশোধের পথ তুলে ধরা হলো, যেগুলো কাউকে আঘাত না করেই আপনাকে বিজয়ী করে তুলবে।

✅নীরব থাকুন, কিন্তু নিজের উন্নতিকে দৃশ্যমান করুন

আপনার প্রকৃত প্রতিশোধ হলো—
নিজেকে বদলে ফেলা,
নিজেকে গড়ে তোলা,
এবং এমন জায়গায় পৌঁছানো, যেখান থেকে তারা দূর থেকেই আপনার সাফল্য দেখতে বাধ্য হয়।
আপনার উন্নতিই তাদের সবচেয়ে বড় জবাব।

✅আপনার অনুপস্থিতিই হোক তাদের অনুশোচনার কারণ

মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায় তখনই—
যখন দেখে, যাকে তারা অবহেলা করেছিল,
সে মানুষটি তাদের ছাড়াই আরও সুন্দর ও স্থিতিশীল জীবন গড়ে তুলেছে।

✅অপ্রয়োজনীয় তর্ক বন্ধ করুন—নীরবতাকে বেছে নিন

প্রতিক্রিয়া না দেওয়া দুর্বলতা নয়।
যে আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, তাকে গুরুত্ব না দেওয়াই
সবচেয়ে তীক্ষ্ণ নীরব প্রতিশোধ।
উপেক্ষা অনেক সময় শব্দের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।

✅মানসিকভাবে সম্পর্ক ও স্মৃতি থেকে সরে আসুন

যারা আপনাকে ব্যবহার করেছে বা আবেগ নিয়ে খেলেছে—
তাদের আর আপনার অনুভূতির ওপর ভর করে বাঁচতে দেবেন না।
মানসিক বিচ্ছিন্নতাই এখানে আপনার মুক্তি।

✅নিজের জীবন এত সুন্দর করুন, যাতে তারা ফিরে তাকাতে বাধ্য হয়।।

আপনার শান্ত হাসি, আত্মবিশ্বাস, কাজ ও সাফল্য অর্জন একদিন নিঃশব্দে বলে দেবে,
“এই মানুষটাকে হারানো ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।”

✅নিজের সম্মান ও সীমারেখা স্পষ্ট করুন।।

যেখানে একসময় আপনি বাধ্য হয়ে “হ্যাঁ” বলতেন,
এখন সেখানে দৃঢ়ভাবে “না” বলতে শিখুন।
অসম্মান গ্রহণ না করলেই মানুষ সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়ে।

✅নিজের শান্তিকেই বিজয়ে রূপ দিন।।

প্রতিশোধ মানে কাউকে ভেঙে দেওয়া নয়।
প্রতিশোধ মানে—
নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া,
যেখান থেকে কেউ আর আপনাকে ভাঙতে পারে না।

✅যে কষ্ট আপনাকে দুর্বল করেছিল, সেটাকেই শক্তিতে রূপান্তর করুন।।

যে মানুষ কষ্টকে শক্তিতে পরিণত করতে পারে,
তাকে আর কোনো পরিস্থিতি থামিয়ে রাখতে পারে না।

✅✅জীবনে কাউকে আঘাত করে জয়ী হওয়া জরুরি নয়।
সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ হলো—
নিজেকে এমন জায়গায় দাঁড় করানো,
যেখান থেকে আপনি আর কখনো কারও অবহেলা, ব্যবহার বা অবমূল্যায়নের শিকার হবেন না।

✴️সহবাসের পরেই কেন আসে 'মৃত্যুর' মতো ঘুম?বিছানায় নিজেকে বাঘ মনে করা পুরুষটি কেন চূড়ান্ত মুহূর্তের ঠিক পরেই একটি মৃত লাশে...
27/12/2025

✴️সহবাসের পরেই কেন আসে 'মৃত্যুর' মতো ঘুম?

বিছানায় নিজেকে বাঘ মনে করা পুরুষটি কেন চূড়ান্ত মুহূর্তের ঠিক পরেই একটি মৃত লাশের মতো নেতিয়ে পড়ে? যে শরীর কিছুক্ষণ আগেও উত্তেজনায় কাঁপছিল, এক ফোঁটা নির্গত হওয়ার পর কেন মনে হয় শরীরের সব শক্তি কেউ শুষে নিয়েছে? আপনি কি কখনও ভেবেছেন, এই ক্লান্তি কি আপনার পৌরুষের অভাব, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির গভীর কোনো ষড়যন্ত্র?

✴️আপনার মনে কি প্রশ্ন জাগে না—যৌন মিলন কি আসলেই শক্তির উৎস, নাকি এটি তিলে তিলে আপনাকে শেষ করে দিচ্ছে?

ফরাসিরা অর্গাজম বা চরম তৃপ্তিকে বলে "La Petite Mort" বা "ছোট মৃত্যু"। কেন জানেন? কারণ যৌন মিলনের সময় আপনার মস্তিষ্ক ডোপামিন আর অক্সিটোসিনের বন্যায় ভাসতে থাকে। কিন্তু ক্লাইম্যাক্সের ঠিক পরেই পুরুষের শরীরে 'প্রোল্যাক্টিন' (Prolactin) নামক হরমোনের বিস্ফোরণ ঘটে। এই হরমোন আপনাকে তৃপ্ত করে ঠিকই, কিন্তু একইসাথে আপনার শরীরকে জোর করে 'স্লিপ মোডে' পাঠিয়ে দেয়। আপনি চাইলেও তখন চোখ খোলা রাখতে পারেন না।

✴️এখন প্রশ্ন হলো, আপনার সঙ্গিনী যখন আপনার আদরের অপেক্ষায়, তখন আপনার এই নাক ডেকে ঘুমানো কি স্বার্থপরতা নয়? নাকি আপনি আপনার বায়োলজির কাছে অসহায় দাস?

অনেকে ভাবেন যৌন মিলন মানেই হয়তো বিশাল কোনো ব্যায়াম। কিন্তু সত্যিটা হলো, একবারের মিলনে আপনি হয়তো মাত্র ১০০-১৫০ ক্যালোরি পোড়ান। তাহলে কেন মনে হয় আপনি যুদ্ধ জয় করে এলেন? এর কারণ শারীরিক নয়, মানসিক। উত্তেজনার সময় আপনার হার্টবিট বাড়ে, রক্তচাপ বাড়ে, মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়। যখনই 'রিলিজ' হয়, শরীর ঝপ করে রিলাক্সড হয়ে যায়। এই আকস্মিক পতনই আপনাকে অবসন্ন করে তোলে।

✴️ভেবে দেখুন: আপনি কি আসলেই ক্লান্ত, নাকি আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে বোকা বানিয়ে বিশ্রাম নিতে বাধ্য করছে যাতে আপনি দ্বিতীয়বার এখনই সক্ষম না হন? প্রকৃতি কি চায় না আপনি বারবার মিলিত হন?

সমাজে প্রচলিত আছে, "বেশি মিলন করলে শরীর ক্ষয় হয়ে যায়, হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে যায়।" সত্যিই কি তাই? নাকি এটি দুর্বলদের অজুহাত? বিজ্ঞান বলে, পরিমিত যৌনতা ইমিউনিটি বাড়ায়। কিন্তু অতিরিক্ত আসক্তি?

অতিরিক্ত যৌন মিলন আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে সবসময় হাইপার-অ্যাক্টিভ রাখে। বারবার ডোপামিন রিলিজ হওয়ার ফলে মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারায়। তখন শরীর আর সেক্সকে আনন্দ হিসেবে নেয় না, নেশা হিসেবে নেয়। আর যেকোনো নেশার শেষ পরিণতি হলো—চরম অবসাদ এবং ক্লান্তি।

✴️আপনার কি মনে হয় না, যে শক্তি আপনি বিছানায় ব্যয় করছেন, তা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে লাগালে আপনি বিশ্ব জয় করতে পারতেন? নাকি যৌনতাই আপনার জীবনের একমাত্র চালিকাশক্তি?

অনেক মনোবিজ্ঞানী বলেন, মিলনের পর পুরুষের দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া আসলে এক ধরনের 'পলায়ন'। ঘনিষ্ঠতার পর যে ইমোশনাল বা আবেগি মুহূর্ত তৈরি হয়, অনেক পুরুষ তা হ্যান্ডেল করতে পারেন না। তাই অবচেতনভাবেই তারা ঘুমের দেশে পালিয়ে যান।
আপনি কি আপনার সঙ্গীর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে ভয় পান বলেই ঘুমিয়ে পড়েন? নাকি সত্যিই আপনার শরীরে আর এক বিন্দু শক্তি অবশিষ্ট থাকে না?

✴️যৌনতা শুধুই শরীরের ঘাম ঝরানো নয়, এটি মস্তিষ্কের এক জটিল রসায়ন। মিলনের পর ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ক্লান্তির দোহাই দিয়ে সঙ্গীকে এড়িয়ে যাওয়া কি কাপুরুষতা নয়? আপনার শরীর হয়তো হরমোনের দাস, কিন্তু আপনার মন? সেটার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?

এখন নিজেকে প্রশ্ন করুন—আজ রাতে আপনি কি শুধুই নিজের সুখের জন্য বিছানায় যাবেন, নাকি সঙ্গীকেও সেই পূর্ণতা দেবেন যা ঘুমের চেয়েও দামী?
✴️সংগৃহীতঃ ডাঃ ফারহানার ফেইস বুক ওয়াল থেকে।

, , , , , , ******ng, , ,

আপনার বয়স কি ২০ থেকে ৩০ এর কোঠায়?অভিনন্দন! আপনি নিজের জীবনটা নিজ হাতে ধ্বংস করার প্রজেক্টে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।হ...
27/12/2025

আপনার বয়স কি ২০ থেকে ৩০ এর কোঠায়?
অভিনন্দন! আপনি নিজের জীবনটা নিজ হাতে ধ্বংস করার প্রজেক্টে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।

হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি। ডানে-বামে তাকানোর দরকার নেই। এই যে হাতে ১০-১৫ হাজার টাকার চায়না ফোন বা কিডনি বেচা আইফোন নিয়ে স্ক্রল করছেন আর ভাবছেন "জীবনটা তো এনজয় করছি"—আসলে আপনি এনজয় করছেন না, আপনি ধীরে ধীরে একটা "সামাজিক গোলামে" পরিণত হচ্ছেন। ৩০ বছর বয়সের পর যখন বাপের হোটেল বন্ধ হবে, আর পকেটে একটা সস্তা সিগারেট কেনার টাকাও থাকবে না, তখন বুঝবেন এই তথাকথিত "এনজয়মেন্ট" আপনার পশ্চাৎদেশে কীভাবে লাথি মারে।

আজকে আমি কোনো মোটিভেশনাল স্পিকারের মতো মিষ্টি কথা শোনাতে আসিনি। আমি এসেছি আপনার গালে থাপ্পড় মেরে ঘুম ভাঙাতে। কারণ ৩০ বছরের আগে নেওয়া কিছু ফালতু, আবেগি এবং "লোক দেখানো" আর্থিক সিদ্ধান্ত আপনাকে আগামী ৪০ বছর ধরে কুকুরের মতো খাটতে বাধ্য করবে।

⚠️ সাবধান! এই লেখাটি আপনার আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে পারে। মানসিকভাবে প্রস্তুত না হলে, দয়া করে এখানেই থেমে যান। বাকিটা নিজ দায়িত্বে পড়ুন।
❗ এই লেখা একটা আয়না, যেটা দেখলে আপনি নিজেকে সহ্য করতে পারবেন না। সাহস থাকলে পড়ুন—ভয় পেলে এখনই পেছনে যান।

তো এবার চলুন, আপনার ভণ্ডামির মুখোশটা একটু খুলে দেই।

আপনার বেতনের বা হাতখরচের অর্ধেক টাকা যায় ধানমন্ডি বা বনানীর ক্যাফেতে চেক-ইন দিতে। কেন? কারণ ফেসবুকে মানুষ দেখবে আপনি "কুল"।
শুনুন হে আধুনিক ভিখারি, আপনার ওই ২০০ টাকার কফি আর ৫০০ টাকার বার্গারের ছবি দেখে যারা "Wow" রিয়েক্ট দেয়, আপনার মা যখন আইসিইউতে ধুঁকবে, তখন তারা এক টাকা দিয়েও সাহায্য করবে না।
বন্ধুদের আড্ডায় ভাব নেওয়ার জন্য লোন করে বা কিস্তিতে আইফোন কেনা, বাইক কেনা—এটা কোনো স্মার্টনেস না, এটা হলো "টোকাই মেন্টালিটি"। আপনি এমন সব মানুষের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে চাইছেন, যারা আপনাকে নিয়ে দুই পয়সা ভাবে না।
চ্যালেঞ্জ: আজ থেকে "লোক দেখানো" খরচ বন্ধ করতে পারবেন? নাকি "লোকে কী বলবে" ভাবতে ভাবতে জীবনটা শেষ করবেন?

বাংলাদেশে একটা ছেলের বয়স ২৫-২৬ হলেই শুরু হয় বিয়ের চাপ। আর বিয়ে মানেই— ১০ লাখ টাকার ডেকোরেশন, ৫ লাখ টাকার স্বর্ণ, আর ৫০০ মানুষকে বিরিয়ানি খাওয়ানো।
কার টাকা এটা? বাপের পেনশনের টাকা? নাকি ব্যাংক লোন?
যে মেয়ে বা ছেলের জন্য আপনি ৩০ লাখ টাকা খরচ করে একদিনের বাদশা সাজছেন, সেই টাকার লোনের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে আপনার আগামী ১০ বছরের দাম্পত্য জীবন নরক হয়ে যাবে। হানিমুন শেষ হওয়ার আগেই শুরু হবে সংসারে অভাবের ক্যাচাল।
সমাজ আপনাকে শেখায়—"বিয়েতে খরচ না করলে মানসম্মান থাকে না।"
আমি বলি—"পকেটে টাকা না থাকলে মানসম্মান এমনিতেই থাকে না।" ওই ৫০০ বিরিয়ানি খাদক আপনার সংসারের বাজার করে দিবে না।
সাহস আছে কোর্ট ম্যারেজ করে সেই টাকাটা ব্যবসায় লাগানোর? নাকি সমাজের ভয়ে লেজ গুটিয়ে পালানো ভীরু আপনি?

শহরে থাকেন মেসে, বাথরুমের কলে পানি থাকে না, অথচ গ্রামের বাড়িতে ৫০ লাখ টাকা খরচ করে দোতলা দালান বানাচ্ছেন। কেন? বছরে দুই ঈদে গিয়ে ওখানে সেলফি তুলবেন বলে?
এটাকে বলে "আর্থিক মূর্খতা"। ওই বাড়ি আপনাকে এক টাকাও ইনকাম দেয় না। অথচ ওই ৫০ লাখ টাকা যদি শহরে কোনো ছোট ফ্ল্যাট বা ব্যবসায় খাটাতেন, ৩০ বছর বয়সে আপনি মাসে ১ লাখ টাকা প্যাসিভ ইনকাম করতে পারতেন।
কিন্তু না, আপনার তো দরকার "বাপের ভিটায় রাজপ্রাসাদ", যাতে গ্রামের চাচাতো ভাই হিংসায় জ্বলে। হিংসা করে কেউ মরে না ভাই, কিন্তু টাকার অভাবে আপনি ধুঁকে ধুঁকে মরবেন।

বিসিএস বা সরকারি চাকরির পেছনে ৫-৬ বছর দৌড়ে যৌবন শেষ করছেন। টেবিল ল্যাম্পের আলোয় মুখ গুজে পড়তে পড়তে আপনার মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো জানেন না চাকরি হবে কি না।
শুনুন, ৩০ বছর বয়সের আগে যদি রিস্ক না নেন, তবে আপনি পুরুষ/নারী নামের কলঙ্ক।
বাপ-মা শিখিয়েছে—"বাবা, একটা নিরাপদ চাকরি ধর, জীবন সেটল।"
পৃথিবীতে "সেটল" বলতে কিছু নেই। করোনা আর মুদ্রাস্ফীতি এসে দেখিয়ে দিয়েছে, আপনার ওই নিরাপদ চাকরি যেকোনো মুহূর্তে ভ্যানিশ হতে পারে।
ব্যবসা করতে ভয় লাগে? লস খাওয়ার ভয়?
মনে রাখবেন, "যে যুবক ৩০ এর আগে লস খায়নি, সে ৪০ এর পরে গিয়ে পথে বসে।"
চাকরিতে আপনি মাস শেষে বেতন পাবেন, কিন্তু কখনো ধনী হতে পারবেন না। আর ধনী হওয়ার স্বপ্ন যদি না থাকে, তবে এই লেখা আপনার জন্য না, আপনি গিয়ে সিরিয়াল দেখুন।

মাস্টার্স পাস করেছেন, কিন্তু একটা শুদ্ধ ইংরেজি ইমেইল লিখতে পারেন না। এক্সেল পারেন না, প্রেজেন্টেশন দিতে হাত-পা কাঁপে।
আপনার এই সার্টিফিকেটের দাম দুই পয়সাও না যদি না আপনার "বিক্রিযোগ্য দক্ষতা" থাকে।
আজকের যুগে ডিগ্রির চেয়ে স্কিলের দাম বেশি। আপনি বাপের টাকা খরচ করে এমবিএ করছেন, অথচ ইউটিউব দেখে ফ্রিতে স্কিল শেখার সময় আপনার নেই।
কারণ? কারণ আপনি অলস। আপনি অজুহাত খুঁজছেন।
মনে রাখবেন, মার্কেটপ্লেস আপনার সার্টিফিকেটের জিপিএ দেখবে না, দেখবে আপনি কত দ্রুত কাজটা করে দিতে পারেন।

প্রেম করছেন? ভালো কথা। কিন্তু গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ডের গিফট, রিচার্জ, আর ডেটিংয়ের বিল দিতে দিতে মাসের ২০ তারিখেই পকেট ফাঁকা?
যাকে ইমপ্রেস করার জন্য আপনি আজ নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংস করছেন, ৫ বছর পর সে যখন বিসিএস ক্যাডার বা ধনী ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে চলে যাবে, তখন দেবদাস হয়ে ফেসবুকে স্যাড স্ট্যাটাস দেওয়া ছাড়া আপনার আর কোনো যোগ্যতা থাকবে না।
বাস্তবতা হলো: টাকা থাকলে ভালোবাসা জানলা দিয়ে আসে, আর টাকা না থাকলে ভালোবাসা দরজা দিয়ে পালায়। এটা নিষ্ঠুর সত্য।

কল্পনা করুন আপনার বয়স ৪০।
চুলের অর্ধেক পেকে গেছে। ব্যাংকে কোনো সেভিংস নেই। একটা ছোটখাটো চাকরি করেন, যা দিয়ে সংসার চলে না।
হঠাৎ আপনার মা স্ট্রোক করল বা বাচ্চার হার্টে ফুটো ধরা পড়ল। হাসপাতালে ডাক্তার বলল, "জরুরি ৫ লাখ টাকা লাগবে।"
আপনার কাছে নেই। বন্ধুদের কাছে চাইলেন, তারা ফোন ধরল না। আত্মীয়রা মুখ ফিরিয়ে নিল।
তখন হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করবেন আর ভাববেন—"কেন ২০ বছর বয়সে ওই ফালতু খরচগুলো করেছিলাম? কেন তখন সেভিংস বা ইনভেস্ট করিনি?"
আপনার চোখের সামনে আপনার প্রিয়জন বিনা চিকিৎসায় ধুঁকবে। সেই দৃশ্য সহ্য করার ক্ষমতা আপনার আছে তো?

এখনো সময় আছে। ৩০ বছর বয়সের আগেই এই সিদ্ধান্তগুলো নিন:
১. শো-অফ কালচারকে লাথি মারুন। ছেঁড়া জুতা পরে ঘুরুন, কিন্তু ব্যাংকে টাকা জমান।
২. বিয়ের নামে অপচয় বন্ধ করুন। সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান।
৩. নিরাপদ চাকরির মোহ ঝেড়ে ফেলে রিস্ক নিন। ছোটখাটো ব্যবসা বা সাইড হাসল শুরু করুন।
৪. আড্ডা আর প্রেম কমিয়ে নিজের স্কিল বাড়ান। নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন যেন মানুষ আপনার সময় পাওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয়।

আপনি কি পারবেন সমাজ আর আবেগের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের মেরুদণ্ড সোজা করতে? নাকি আপনিও সেই ভেড়ার পালের একজন হয়েই থাকবেন, যারা দিনশেষে কসাইয়ের হাতে জবাই হয়?

সিদ্ধান্ত আপনার।
প্রশ্ন: আজ থেকে ১০ বছর পর আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান? এক সফল বিজয়ী হিসেবে, নাকি হাসপাতালের বিল মেটাতে না পারা এক অসহায় পরাজিত মানুষ হিসেবে?

আয়নায় নিজের চেহারার দিকে তাকিয়ে উত্তরটা দিন।

আপনার যদি কলিজায় জোর থাকে, তবে শেয়ার করে অন্যকেও এই আগুনের আঁচ দিন। আর যদি ভীরু হন, তবে এড়িয়ে যান।

(লেখাটি কাল্পনিক নয়, আমাদের চারপাশের নির্মম বাস্তবতা। গায়ে লাগলে মলম নয়, ওষুধ লাগান—অর্থাৎ নিজেকে বদলান।)
✴️সংগৃহীত ডাঃ ফারহানা র ফেইসবুক ওয়াল থেকে

আপনার সন্তানকে আপনি নিজেই তিলে তিলে খুন করছেন— অথচ ভাবছেন আপনি দুনিয়ার সেরা বাবা-মা!থান! স্ক্রল করবেন না। লেখাটা পড়ে যদি...
25/12/2025

আপনার সন্তানকে আপনি নিজেই তিলে তিলে খুন করছেন— অথচ ভাবছেন আপনি দুনিয়ার সেরা বাবা-মা!

থান! স্ক্রল করবেন না। লেখাটা পড়ে যদি আপনার গায়ে আগুন না লাগে, তবে বুঝবেন আপনার বিবেকের মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই। আজ কিছু নগ্ন সত্য কথা বলব, যা শুনলে আপনার সাজানো সংসারের মুখোশ খুলে পড়বে।

আপনি কি মনে করেন? সন্তানের জন্মদিনে ১০ হাজার টাকার খেলনা, ঈদের দিন ব্র্যান্ডের জামা, আর নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করিয়েই আপনি বাবা-মায়ের দায়িত্ব শেষ করে ফেলেছেন? নিজেকে খুব "স্যাক্রিফাইসিং" বাবা-মা মনে হচ্ছে, তাই না?

শুনুন তবে, আপনি আসলে আপনার সন্তানের হাতে একটা চকচকে পিস্তল তুলে দিয়েছেন, যা দিয়ে সে ভবিষ্যতে নিজের চরিত্র আর মানসিকতাকে গুলি করে মারবে।

হ্যাঁ, আমি আপনাকেই বলছি। ওই যে আপনি, যিনি অফিস থেকে ফিরে সোফায় গা এলিয়ে স্ত্রীর সাথে একটা ভালো কথা বলেন না, কিংবা ওই যে আপনি, যিনি স্বামীর পকেটের দিকে তাকিয়ে সারাদিন খিটখিট করেন— আপনারা দুজনেই সন্তানের সবচেয়ে বড় শত্রু।

ভণ্ডামিটা কোথায় জানেন?
আপনারা ফেসবুকে "হ্যাপি ফ্যামিলি"র ছবি দেন, বিবাহবার্ষিকীতে একে অপরের উদ্দেশ্যে বিশাল কাব্য লেখেন, অথচ ঘরের চার দেয়ালের ভেতর আপনারা একে অপরের মুখও দেখতে চান না। আপনাদের এই "ফেসবুকিয় প্রেম" দেখে দুনিয়া হয়তো হাততালি দেয়, কিন্তু আপনার সন্তান? সে কোণায় দাঁড়িয়ে সব দেখছে। সে দেখছে, তার বাবা তার মাকে সম্মান করে না। সে দেখছে, তার মা তার বাবাকে অবজ্ঞা করে।

আপনার সন্তান কোনো দামি আইফোন বা ভিডিও গেম চায় না। বিশ্বাস করুন, ওসব ওর কাছে আবর্জনা। ওর কাছে সবচেয়ে দামী উপহার হলো— আপনাদের দুজনের ভালোবাসা। কিন্তু আপনারা কী দিচ্ছেন?
চিৎকার, চেঁচামেচি, অপমান, আর একে অপরকে ছোট করার এক জঘন্য প্রতিযোগিতা। আপনারা ভাবছেন দরজা বন্ধ করে ঝগড়া করছেন বলে সন্তান কিছু বুঝছে না?
ভুল! বাচ্চার সিক্সথ সেন্স আপনার চেয়েও প্রখর। সে বাতাসের ভারী ভাব অনুভব করতে পারে। সে যখন দেখে বাবা মাকে গালি দিচ্ছে, কিংবা মা বাবার নামে বিষোদগার করছে— ঠিক সেই মুহূর্তে তার কচি মস্তিষ্কে একটা ভয়াবহ মেসেজ সেট হয়ে যাচ্ছে: "ভালোবাসা মানেই যুদ্ধ, বিয়ে মানেই অশান্তি।"

আপনারা সন্তানকে লক্ষ টাকা খরচ করে স্কুলে পাঠান "ভদ্রলোক" বানাতে। আর বাড়িতে আপনারা তাকে শেখান কীভাবে অমানুষ হতে হয়। সিলেবাসের বই তাকে যা শেখায়, তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি সে শেখে আপনাদের আচরণ দেখে।
বাবা যদি মাকে সম্মান না দেয়, আপনার ছেলে শিখবে— "নারীদের ওপর চড়াও হওয়াই পৌরুষ।"
মা যদি বাবাকে সারাদিন ছোট করে কথা বলে, আপনার মেয়ে শিখবে— "পুরুষ মানুষকে সম্মান করার কোনো প্রয়োজন নেই।"
ভবিষ্যতে যখন আপনার ছেলের ঘর ভাঙবে, বা আপনার মেয়ে ডিপ্রেশনে ভুগে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবে— তখন ভাগ্যকে দোষ দেবেন না। আয়নায় গিয়ে নিজের দিকে তাকাবেন। বীজটা আপনিই বুনেছিলেন।

"বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার করছি" — এই ডাহা মিথ্যে কথাটা বলা বন্ধ করুন!
এটা আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় ভণ্ডামি। আপনারা সংসার করছেন নিজেদের লোকলজ্জার ভয়ে, সমাজের ভয়ে। আর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন ওই মাসুম বাচ্চাটাকে।
যে ঘরে বাবা-মায়ের মধ্যে ভালোবাসা নেই, শ্রদ্ধা নেই, সেই ঘর কোনো "ঘর" নয়, ওটা একটা মানসিক কসাইখানা। আর আপনারা সেই কসাইখানার কসাই। প্রতিদিন একটু একটু করে সন্তানের আত্মবিশ্বাস, তার নিরাপত্তা বোধ, তার ভালোবাসার ক্ষমতা কেটে টুকরো টুকরো করছেন।

একটা ভাঙা পরিবারে বড় হওয়া সন্তান যতটা না কষ্ট পায়, তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি ট্রমা নিয়ে বড় হয় সেই সন্তান— যে দেখে তার বাবা-মা একসাথে আছে ঠিকই, কিন্তু একে অপরকে ঘৃণা করে। একে অপরের সাথে কথা বলে না, একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসে না। এই "সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট" বা "বিষাক্ত নীরবতা" আপনার সন্তানের জন্য ক্যান্সারের মতো।

ভয় পাচ্ছেন? পাওয়া উচিত!
আজ আপনি ভাবছেন, "আমার সন্তান তো ঠিকই আছে, রেজাল্ট ভালো করছে।"
অপেক্ষা করুন। যৌবনে পা দেওয়ার পর দেখবেন আসল খেলা। সে যখন রিলেশনশিপে জড়াবে, সে হবে ইনসিকিউরড, পজেসিভ, অথবা ভায়োলেন্ট। সে কাউকে ভালোবাসতে ভয় পাবে, অথবা ভালোবাসার নামে শোষণ করবে। কারণ সে তো "সুস্থ সম্পর্ক" কী জিনিস, তা কোনোদিন দেখেইনি! তার রোল মডেল তো ছিলেন আপনারা— দুটি অসুখী, অতৃপ্ত, একে অপরকে ঘৃণা করা মানুষ।

আপনার সন্তানকে পৃথিবীর সবচেয়ে দামী গিফট দিতে চান?
ব্যাংক ব্যালেন্স বা ফ্ল্যাট লিখে দেওয়া লাগবে না। আগে নিজের সঙ্গীকে সম্মান করতে শিখুন।
আজ অফিস থেকে ফিরে বাচ্চার জন্য চকোলেট না এনে, আপনার স্ত্রীর জন্য একটা গোলাপ নিয়ে আসুন। বাচ্চার সামনে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরুন।
স্ত্রীরা, আজ স্বামীর ভুল না ধরে, বাচ্চার সামনে তার বাবার প্রশংসা করুন।
সন্তানকে দেখান যে, মতপার্থক্য থাকলেও কীভাবে সম্মান বজায় রেখে কথা বলা যায়। তাকে দেখান, ভালোবাসা মানে শুধু ফেইসবুক স্ট্যাটাস নয়, ভালোবাসা মানে একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে হাসা।

আর যদি তা না পারেন?
যদি আপনাদের সম্পর্ক এতটাই বিষাক্ত হয়ে গিয়ে থাকে যে তা আর ঠিক করা সম্ভব নয়, তবে দয়া করে "বাচ্চাটার জন্য" একসাথে থাকার নাটক করবেন না। আলাদা হয়ে যান। তবু সন্তানকে ওই রোজকার বিষাক্ত বাতাস থেকে মুক্তি দিন। কারণ, একটা সুখী একান্নবতী পরিবারের চেয়ে, দুটো আলাদা কিন্তু শান্তিময় বাড়ি অনেক ভালো।

শেষ করার আগে একটা হাড়হিম করা প্রশ্ন রেখে যাই:
আজ রাতে যখন আপনার সন্তান ঘুমাচ্ছে, তার মাসুম মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করবেন—
"আমি আমার পার্টনারের সাথে যেমন আচরণ করি, ভবিষ্যতে আমার সন্তানের সাথে তার পার্টনার ঠিক হুবহু এমন আচরণ করলে আমার কেমন লাগবে?"

যদি উত্তরটা "ভয়ঙ্কর" হয়, তবে এখনই সাবধান হন। কারণ প্রকৃতি খুব নির্মম, সে ঠিক আপনার দেওয়া ব্যবহারটাই সুদে-আসলে আপনার সন্তানের মাধ্যমে আপনার কাছে ফিরিয়ে দেবে।

এখন সিদ্ধান্ত আপনার। আপনি কি সন্তানের জন্য একটা "জাহান্নাম" বানিয়ে যাবেন, নাকি তাকে একটা "ভালোবাসার স্বর্গ" উপহার দেবেন?

(যাদের গায়ে লাগল, বুঝবেন সমস্যাটা আপনাদেরই। সাহস থাকলে শেয়ার করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করুন।)

Address

Gaffargaon

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ahassn Habib posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Ahassn Habib:

Share