22/07/2026
মানুষ ও দৃষ্টিভঙ্গি।
মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে মূলত মানুষের বিদ্যা শিক্ষা জ্ঞাণ গড়িমা উপলব্ধি অনুধাবন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার প্রয়োগের ওপর।
আর তাই মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি উর্বর ও চেতনা লব্ধ করে গড়ে তুলতে তার পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ একটা বিরাট ভূমিকা পালন করে।
সাধারণত মানুষের দেখা বোঝা শেখা উপলব্ধি করা এবং হৃদয়ঙ্গম করার বিষয়গুলো বেশী গুরুত্ব পায় এই ক্ষেত্রে।
যেমন ধরুন একটি শিশুকে যদি দিনের পর দিন পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া যত রকমের দুস্কৃতি, অপরাধ, অপকর্ম,রাহাজানি, ছিনতাই, মারামারি, চুরি, ডাকাতি, লুটপাট,ঘুষ, বেয়াদবি,নষ্টামি,বেহায়াপনা, ধর্ষণ, ধ্বংসযজ্ঞ, যুদ্ধ, নেশা,মাদক সহ বিভিন্ন রকমের অসংলগ্ন আচরণ আচরণ ও অপ-স্বংস্কৃতি সমূহ দেখার ও বোঝার সুযোগ করে দেয়া হয় এবং তার ভাবনা চিন্তা আর অনুভুতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে তাহলে তাকে এই পৃথিবীটা সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলা হলে সে নিশ্চয়ই কোন ভাবে ভাল অথবা ইতিবাচক মন্তব্য করবে না। বরং পৃথিবী সম্পর্কে সে মন্দ ও নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতঃ খারাপ ও নিন্দনীয় মন্তব্য করবে। সেই সাথে তার আচরণ সমূহও প্রভাবিত হতে পারে নেতিবাচক কর্মকান্ডের প্রতি। এমনকি এটা বিপদজনক সাব্যস্ত হতে পারে শিশুর জন্য।
পক্ষান্তরে, কোন একটি শিশুকে যদি পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া সকল ভাল ও উৎকৃষ্ট ধরনের কাজ কর্ম, বিজ্ঞান, আবিষ্কার, খেলাধুলা, শিল্পকর্ম, মানবতার দৃষ্টান্ত, শান্তি প্রতিষ্ঠা, দরিদ্রকে সহায়তা, দেশাত্মবোধ, অবকাঠামো, যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং মানুষের মধ্যে বিদ্যমান আন্তরিক সম্পর্ক, সহযোগিতার মনোভাব, সুশীল সমাজের প্রগতিশীল কাজকর্ম, বিদ্যা শিক্ষার কদর ও মর্যাদা, ইতিবাচক স্বাংকৃতিক চর্চা সহ শালীন ও মার্জিত জীবন বোধের চর্চা সমূহ দেখার বোঝার ও উপলব্ধি করার সুযোগ করে দেয়া হয় তাহলে তার মনোভাব গঠন হবে ধনাত্মক ধারায় তথা সে ভাল ও উৎকৃষ্ট ধরনের বদ্ধমূল ধারণা পোষণে আগ্রহী হবে। আর তাকে যদি আমাদের এই পৃথিবীটা সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলা হয় সে অবশ্যই গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভাবে ভাল মন্তব্য করবে।
এমতাবস্থায় বুঝতে বাকী থাকে না মানুষ পরিবার ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দ্বারা সম্পূর্ণভাবে না হলেও অনেকাংশে প্রভাবিত। তাই অভিভাবক হিসেবে প্রত্যেকের দায়িত্ব তাদের শিশুদের ও সন্তানদের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে এমন বিষয় গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে শিশুদের কিছু সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া যাতে করে তারা ভাল ও উৎকৃষ্ট কিছু দেখে পড়ে বুঝে উপলব্ধি করে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে পারে।আর অবশ্যই মনে রাখতে হবে আপনার সন্তানদের মন্দ ও খারাপ কিছুর সঙ্গ কিংবা সংস্পর্শ যাতে কোন ভাবেই না হয়।
কারণ কি করে অন্যায় ও অপরাধ দূর্নীতি বন্ধ করে সমাজকে এগিয়ে নেয়া যায় তা আজকের দিনে সকলের ঐকান্তিক দ্বায়িত্ব।আর আমারা কেউ এই দ্বায়কে অস্বীকার করতে পারি না। এমতাবস্থায় দৃষ্টিভঙ্গি গঠন ও পোষণ যদি ইতিবাচক হয় তাহলে মানুষ ভাল তথা উৎকৃষ্ট ধরনের কিছু করতেই আকৃষ্ট হয়।