30/05/2026
ঈদুল আজহা মানেই কোরবানির হাটে বিচিত্র সব নামের পশুর আগমন। কখনো ‘কালা পাহাড়’, কখনো ‘বাংলার সম্রাট’—কত শত নাম! তবে এবারের কোরবানির হাটে সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলেছে একটি মহিষ, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। আমেরিকার সাবেক বা বর্তমান প্রভাবশালী কোনো নেতার নামে পশুর নামকরণ এবং তার শারীরিক গঠনের সাথে সেই নামের এক অদ্ভুত মিলের কারণে বিষয়টি শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও বেশ ভাইরাল হয়।
সবাই যখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল যে, ট্রাম্প নামের এই মহিষটি শেষ পর্যন্ত কত দামে কোরবানি হচ্ছে, ঠিক তখনই এলো একটি চমকপ্রদ খবর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ হস্তক্ষেপে মহিষটিকে কোরবানি না দিয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানায় হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। তবে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি দারুণ ইতিবাচক ও দূরদর্শী দিক রয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানো উচিত?
একটি আন্তর্জাতিক আকর্ষণের স্থায়িত্ব: মহিষটিকে যদি স্বাভাবিক নিয়মেই কোরবানি দিয়ে দেওয়া হতো, তবে ঈদের দিন বিককেলের মধ্যেই এর গল্প শেষ হয়ে যেত। কিন্তু এটিকে চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসায় এর আকর্ষণ এখন বছরের পর বছর টিকে থাকবে। মানুষের মনে এর রেষ বা কৌতূহল সহজে কমবে না।
বিনোদনের নতুন খোরাক: এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ মিরপুর চিড়িয়াখানায় কেবল এই ‘ট্রাম্প’ মহিষটিকে একনজর দেখতে ভিড় জমাবে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি হবে দারুণ এক বিনোদনের উৎস।
বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি: বিশ্ব মিডিয়া ইতিমধ্যে এই মহিষটিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এখন যখন খবর ছড়াবে যে বাংলাদেশ সরকার একটি ভাইরাল পশুর প্রতি সংবেদনশীলতা দেখিয়ে সেটিকে সংরক্ষণ করেছে, তখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি অন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে। এটি প্রমাণ করে যে আমরা শুধু হুজুগে ভাসি না, যেকোনো বৈশ্বিক আকর্ষণকে কীভাবে ইতিবাচকভাবে ধরে রাখতে হয় তাও জানি।
সমালোচনার স্রোত বনাম বাস্তবতার জয়
অবশ্যই এই সিদ্ধান্তের সমালোচনাও কম হচ্ছে না। অনেকেই বলছেন, কোরবানির হাটের গরুর বা মহিষের পেছনে সরকারের এত বড় মহলের মাথা ঘামানোর কী দরকার ছিল? কিংবা চিড়িয়াখানা কি এখন হাটের পশুর জায়গা?
একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি: সমালোচনা থাকবেই, কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার—সবকিছুকে চিরাচরিত নিয়মের ফ্রেমে বাঁধলে কোনো নতুন বা ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি হয় না।
মহিষটিকে কোরবানি দিলে সেটি স্রেফ মাংসের ওজনেই হারিয়ে যেত। কিন্তু আজ সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে এটি একটি জীবন্ত আকর্ষণে পরিণত হলো।
যাঁরা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন, তাঁদের ভাবনার জায়গাকে সম্মান জানিয়েও বলা যায়—সরকারের এই পদক্ষেপটি ছিল অত্যন্ত ‘আউট অফ দ্য বক্স’ বা প্রথাগত চিন্তার বাইরে। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটি এখন আর কোনো কোরবানির পশুর হাটের গল্প নয়, এটি এখন আমাদের জাতীয় চিড়িয়াখানার এক অনন্য আকর্ষণ। এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
এখন দেখার বিষয়, চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি হিসেবে ‘ট্রাম্প’ দর্শকদের কতটা আনন্দ দিতে পারে!