AAS News

AAS News Mail me for your news Sponsor. [email protected]

পুলিশ ও ময়নাতদন্তের তথ্যে গরমিল, বিদ্যুৎ ও শার্ট বিতর্কে আরও বাড়ছে রহস্যরংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষ...
25/08/2026

পুলিশ ও ময়নাতদন্তের তথ্যে গরমিল, বিদ্যুৎ ও শার্ট বিতর্কে আরও বাড়ছে রহস্য
রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের বড় ধরনের অমিল পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে আসামির পোশাক বিতর্ক, ঘটনার সময় বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং ফোন জব্দ করার বিষয়ে পুলিশের অস্পষ্টতায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) ময়নাতদন্ত শেষে ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কুমার বিশ্বাস জানান, নিহত চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি অনুযায়ী কারও চোয়াল ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে মেলেনি। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, নিহতদের মুখমণ্ডলে কোনো রাসায়নিক বা অ্যাসিড ব্যবহারের আলামত পাওয়া যায়নি; বরং কয়েক দিন মরদেহ পড়ে থাকায় পচন প্রক্রিয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই মুখ ও চেহারার এমন পরিবর্তন হয়েছে। পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন নমুনা সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ দাবি করেছিলেন, নিহত মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মুখের চোয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্তের তথ্যের পর পুলিশের এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের পোশাক নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। জেলা ডিবি পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর গায়ে যে প্রিন্টের শার্ট ছিল, আটক হওয়ার পর আসামি সিদ্ধার্থ দাসের গায়েও হুবহু একই নকশার শার্ট দেখা যায়। সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাসের দাবি, ‘আমি যখন ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিই, তখন ওর গায়ে কেবল একটি ঘিয়া রঙের গেঞ্জি ছিল। পরে কীভাবে ওর গায়ে এই শার্ট এল, তা আমি জানি না।’ এই অভিযোগের জবাবে ডিবি কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘এটি আড়ংয়ের শার্ট, যা হাজার হাজার মানুষের থাকতে পারে। আসামিকে গ্রেপ্তারের সময়ও তার গায়ে এই শার্টই ছিল।’

আসামিদের গতিবিধি ও ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শেষ রাতে বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় আসামিরা শিক্ষকসহ চারজনকে হত্যা করে এবং শুক্রবার জুমার নামাজের সময় স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যায়। তবে সিদ্ধার্থের বাবার দাবি, বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় সিদ্ধার্থ বাসায় খেয়ে পাশের সীমান্তদের বাসায় যায় এবং শুক্রবার সকালেও সে বাড়িতে নাস্তা করেছে। প্রতিবেশী সীমান্ত দাসের পরিবার অবশ্য সিদ্ধার্থের তাদের বাসায় যাওয়ার দাবি অস্বীকার করেছে। অন্য আসামি মুগ্ধ দাসের মা জানান, বৃহস্পতিবার রাতের পর শুক্রবার দুপুরে বাড়ি ফিরে তার ছেলে ফুটবল খেলতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল।

বাসার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েও রহস্য কাটছে না। নিহতদের স্বজন পূজা চক্রবর্তী জানান, শনিবার রাতে তিনি পরিবারের সবার ফোন বন্ধ পেয়ে বাসায় এসে তালাবদ্ধ ও অন্ধকার দেখতে পান। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা আলামত নষ্ট করতে দুটি ফোন ডিটারজেন্ট পানিতে ভিজিয়ে রেখেছিল। তবে পরিবারের ব্যবহৃত মোট চারটি ফোনের মধ্যে বাকি দুটি ফোন কোথায় এবং কার কাছে রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট কিছু জানায়নি।

ঘটনার রাতে পুরো বাসাটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর এক ইলেকট্রিশিয়ানকে ডেকে লাইন সচল করা হয়। ওই ইলেকট্রিশিয়ান জানান, খুঁটি থেকে মেইন লাইনের সংযোগটি সুনির্দিষ্টভাবে খুলে ফেলা হয়েছিল, যা কোনো স্বাভাবিক যান্ত্রিক ত্রুটি নয়। এ বিষয়ে ডিবি পুলিশ জানায়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি তাদের জানা নেই।

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে (১২) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বাড়ি মাছুয়াপাড়া এলাকাতেই। ময়নাতদন্তের অমিল এবং পারিপার্শ্বিক নানা অসংগতির কারণে হত্যাকাণ্ডটির প্রকৃত মোটিভ ও নেপথ্যের ঘটনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।

বন্ধ হয়েছে ৯৫ কারখানা, কাজ হারিয়েছেন ৬২ হাজার শ্রমিকবিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চ...
25/08/2026

বন্ধ হয়েছে ৯৫ কারখানা, কাজ হারিয়েছেন ৬২ হাজার শ্রমিক
বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্রে বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে। অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে প্রবাসী আয় ও রিজার্ভসহ ১২টি খাতে অগ্রগতি অর্জিত হলেও, মূল্যস্ফীতি ও মাথাপিছু ঋণসহ বাকি ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে অবনতি হয়েছে। জানুয়ারির পর থেকে এ পর্যন্ত প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি শিল্প-কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন।গতকাল সোমবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘সরকারের ছয় মাস :একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান হয়।বিগত ছয় মাসের মূল্যায়ন তুলে ধরে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রধান দুটি প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বিগত ছয় মাসের সার্বিক পর্যালোচনায় এই দুটির একটিতেও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যায়নি, বরং দুই প্রত্যাশাতেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের অস্বস্তি। বিগত সরকারের কাছ থেকে বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। টাকা সংকট, ব্যাংকিং খাতের করুণ দশা, অনাদায়ী ঋণ, অর্থ পাচার ও রাজস্ব ঘাটতির মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে ছিল। তবে এগুলো সামলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আশানুরূপ গতি দেখা যায়নি। দুর্নীতি বন্ধ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট এবং ‘মব কালচার’ বন্ধ করাই ছিল মূল লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে পদায়ন করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পরও দেশে মব ভায়োলেন্স অব্যাহত রয়েছে। নারী, শিশু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে, যার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যায়নি। গুম ও মানবাধিকার রক্ষায় তৈরি আইনে নানা ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে। বিশেষ করে, আইন ভঙ্গকারীকে দিয়ে অনুসন্ধান করানোর কারণে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে।অবশ্য সরকারের কিছু সাফল্য রয়েছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এ সরকার যখন আসে, তখন উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু কাঠামোগত অসুবিধা পেয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতিও তখন ইতিবাচক ছিল না। শুরু হয় যুদ্ধ। সমস্যা হচ্ছে, দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে এ সরকার একটি সমন্বিত দলিল তৈরি করল না। এ কারণে এখন বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার বারবার বলছে যে তারা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু কী পরিস্থিতি থেকে দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে, তার একটি সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করা হয়নি। ফলে এখন সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে পরিসংখ্যানের সমন্বয় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিনিয়োগে গতি নেই, বন্ধ হয়েছে ৯৫ কারখানা

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াকে অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সিপিডির পর্যালোচনার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪.৫ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে মূলধনি যন্ত্রপাতির জন্য ঋণপত্র খোলার প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক হয়েছে এবং নিট বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। উত্পাদন খাতের পরিস্থিতিকে ‘শঙ্কাজনক’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি থেকে নেতিবাচক অবস্থায় চলে গেছে। এসব সূচকে দ্রুত বেসরকারি বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। দেবপ্রিয় বলেন, রিজার্ভ বাড়া বা পুঁজিপণ্য আমদানির মতো কিছু সূচক ইতিবাচক দেখালেও সেগুলোর পেছনের কারণও বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বাড়াটা স্বাস্থ্যের লক্ষণ নাকি এটা রক্তশূন্যতার লক্ষণ? এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, বিনিয়োগ না হওয়ার কারণে আমদানি কম হচ্ছে এর প্রভাবে রিজার্ভ বাড়ছে।

সিপিডির পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিনটি শিল্পঘন এলাকা গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী এলাকায় ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এতে ৬১ হাজার ৮৮১ জনের কর্মসংস্থান হারিয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রায় ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। সেই বিবেচনায় রাজস্ব আদায় পরিস্থিতিও ‘উদ্বেগজনক’ বলে মনে করছে সিপিডি।

‘আড়াই-তলা সরকার’: সরকারের কাঠামো নিয়েও মন্তব্য করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার বিশেষ সহকারীদের নিয়ে গঠিত সরকারকে তিনি ‘আড়াই-তলা সরকার’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বেশি জনপ্রিয়। সরকারের যে অ্যাপ্রুভাল রেটিং, সেটাও খারাপ না, ৫০-এর ওপরে। কিন্তু জনপ্রিয় হলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তার যে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা আছে, সেটা দিয়ে উনি রাজনৈতিক সাহস দেখিয়ে নিজের দলের লোকজনদের ঠিক পথে পরিচালনা করতে পারবেন কি না, আমলাকে ঠিক জায়গাতে রাখতে পারবেন কি না—এটিই আমি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি। ছয় মাসের সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়নে তিনি বলেন, ‘দিতে চাই ‘এ’, কিন্তু টানে তো ‘বি’-এর দিকে।’

পে-স্কেলের সিদ্ধান্ত দেরি হলে পরিস্থিতি জটিল হবে

এক প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো করতে সরকার রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না। বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না, বরং যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে বলে মনে করেন তিনি। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ছয় মাসেও বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। কেন পারছেন না? একটা বড় বিষয় আছে, আর্থিক সক্ষমতা। অন্তর্বর্তী সরকার বেতন-কাঠামোর যে প্রতিবেদন দিয়ে গেছে, তা মূল্যায়ন করে ভাগে ভাগে বেতন-কাঠামো বাস্তবায়নের একটা সুপারিশ এসেছিল এবং তা সবাই মেনেও নিয়েছিল। এত দেরি না করে শুরুতেই যদি ২০-২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে দিতেন আর সময় প্রার্থনা করতেন, সেটা খুব ভালো হতো। এখন যে জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে, তা ভালো হয়নি। বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না, বরং যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে বলে মনে করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

জুরেলের সেঞ্চুরি, ছক্কায় তৃতীয় পন্ত আর শেষ বিকেলে আলোকস্বল্পতা বিতর্কশেষ বিকেলে স্কোরটা ৫০০ পেরোতেই ভারত ইনিংস ঘোষণা করল...
25/08/2026

জুরেলের সেঞ্চুরি, ছক্কায় তৃতীয় পন্ত আর শেষ বিকেলে আলোকস্বল্পতা বিতর্ক

শেষ বিকেলে স্কোরটা ৫০০ পেরোতেই ভারত ইনিংস ঘোষণা করল। ভারতের ইনিংস শেষে শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ে নেমে ২ বল খেলতেই দিনে দ্বিতীয়বার বৃষ্টি-বিরতি। শ্রীলঙ্কা তখনো রানের খাতা খুলতে পারেনি। আধঘণ্টা পর আবার খেলা শুরু। ম্লান হয়ে আসা দিনের আলোতে কতক্ষণ খেলা চলবে, সেটি নিয়ে তখন আলোচনা।

খেলা হতে পারল আর ১৬ বল। লঙ্কানদের আপত্তি ছিল আলোকস্বল্পতা নিয়ে। সে আপত্তি গ্রাহ্য না করে আম্পায়াররা তবু লাইট মিটার দিয়ে মেপে খেলা চালিয়েছেন ১৬ বল । তবে এর মধ্যেই সর্বনাশ শ্রীলঙ্কার। ২ উইকেট যে পড়ে গেছে। নাইটওয়াচম্যান প্রবাত জয়াসুরিয়া বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতারের বলে এলবিডব্লু হতেই শেষ দিনের খেলা। এর আগে ওপেনার লাহিরু উদারা প্রসিধ কৃষ্ণার বলে জয়সোয়ালের ক্যাচ হয়ে ফিরে গেছেন। শেষ বিকেলে চরম অস্বস্তিতে পড়া লঙ্কানরা দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ৮ রান নিয়ে।

এর আগে হয়েছে যা হওয়ার সেটিই। ভারত আরেকবার প্রথম ইনিংস শেষ করেছে বড় স্কোর নিয়ে।

৬০০, ৬২২/৯ ডি., ৪৮৭, ৪৬২, ৫০৩/৯ ডি.—শ্রীলঙ্কায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচ টেস্টে ভারতের প্রথম ইনিংসের স্কোর। যার সর্বশেষটি আজই করেছে ভারতীয়রা।

কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডে প্রসিধ কৃষ্ণা পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ৫০০ এনে দিতেই ড্রেসিংরুম থেকে শুবমান গিলের ইশারা, ‘চলে এসো’। ১১ নম্বরে নামা কৃষ্ণার প্রথম স্কোরিং শট শেষেই ভারত যখন ইনিংস ঘোষণা করল, অন্য প্রান্তে ধ্রুব জুরেল অপরাজিত ১১৫ রানে, যা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

ভারত দ্বিতীয় দিনটা শুরু করে ৫ উইকেটে ৩০০ রান নিয়ে। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেটসংখ্যাটা ৬ হয়ে যায়। টেস্ট অভিষেকে মাত্র ৬ রান করেই আশিতা ফার্নান্ডোর বলে দ্বিতীয় স্লিপে আরেক অভিষিক্ত কামিল মিশারার হাতে ক্যাচ হয়েছেন সারাংশ জৈন।
জৈনের বিদায়ের পর আবার উইকেটে ফেরেন আগের দিন হাতে আঘাত পেয়ে উঠে যাওয়া ঋষভ পন্ত। লঙ্কান পেসার আশিতা ফার্নান্ডো বাউন্সার দিয়ে স্বাগত জানান পন্তকে। ডাক করেই সেই বাউন্সার সামলানো পন্ত সাত বল পরে আরেক লঙ্কান পেসার লাহিরু কুমারকে হুক করে পেয়ে যান ছক্কা। টেস্ট ক্যারিয়ারে যেটি ছিল পন্তের ১০১তম ছক্কা। তাতে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে ছাড়িয়ে ছক্কার সংখ্যায় টেস্ট ইতিহাস তৃতীয় সেরা হয়ে যান ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। পরে আরেকটি ছক্কা মারা পন্তের ওপরে আছেন শুধু ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস (১৩৮) ও নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (১০৭)।লাঞ্চের পর প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে পন্ত যখন ফিরলেন, পন্ত-জুরেলের সপ্তম উইকেটে যোগ হয়েছে ১১২ রান। পন্ত ফিরেছেন ৬৩ রানে। জুরেল তখন অপরাজিত ৫৯ রানে। এরপর টেলএন্ডারদের নিয়ে আরও ৮৪ রান যোগ করেন পাড়িক্কালের পর ভারতের ইনিংসের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান।ভারত ১ম ইনিংস: ১৩৮ ওভারে ৫০৩/৯ ডি. (পাড়িক্কাল ১১৭, জুরেল ১১৫*, পন্ত ৬৩, গিল ৫০, জয়সোয়াল ৪৫, জাদেজা ৪৩; আশিতা ৪/১০৬, জয়াসুরিয়া ২/১৩২, নুয়ান্থা ২/১৫৪)। শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩ ওভারে ৮/২ (মিশারা ৫*; কৃষ্ণা ১/১, সুতার ১/৬)। (দ্বিতীয় দিন শেষে)

‘আপত্তিকর পোশাকে’ রাখিবন্ধনের বিজ্ঞপন, তুমুল বিতর্কে কৃতিরাখিবন্ধন মানেই ভাই-বোনের সম্পর্ক, ভালোবাসা আর পারিবারিক বন্ধনে...
25/08/2026

‘আপত্তিকর পোশাকে’ রাখিবন্ধনের বিজ্ঞপন, তুমুল বিতর্কে কৃতি

রাখিবন্ধন মানেই ভাই-বোনের সম্পর্ক, ভালোবাসা আর পারিবারিক বন্ধনের উদ্‌যাপন। ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে এবার একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিল একটি গয়না ব্র্যান্ড। বিজ্ঞাপনচিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। কিন্তু প্রচারের পরই সেই ‘আধুনিক’ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। কৃতির পোশাক থেকে শুরু করে একটি পোষা কুকুরকে রাখি পরানোর দৃশ্য—বিজ্ঞাপনের একাধিক বিষয় নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তি জানিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ।

বিজ্ঞাপনটিতে কৃতিকে দেখা গেছে অফ হোয়াইট রঙের ব্রালেটধর্মী ব্লাউজ, কেপ ও ড্রেপড স্কার্টে। সাজ ও পোশাকে ছিল আধুনিকতার ছাপ। উৎসবের চেনা আবহের সঙ্গে সমকালীন ফ্যাশনের মিশেল ঘটানোই ছিল সম্ভবত বিজ্ঞাপনটির উদ্দেশ্য। কিন্তু সেই পোশাকই হয়ে উঠেছে সমালোচনার অন্যতম প্রধান কারণ।
অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর প্রশ্ন, রাখিবন্ধনের মতো একটি পারিবারিক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবের বিজ্ঞাপনে এমন পোশাক বেছে নেওয়ার প্রয়োজন কী ছিল? তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন, উৎসবকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করতে গিয়ে বিজ্ঞাপনটি মূল আবহ থেকে অনেকটাই সরে গেছে।

লাইনে গ্যাস নেই, বৈদ্যুতিক চুলা কিনেও লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিপ্রায় এক মাস ধরে গ্যাস নেই, কবে নাগাদ আসবে সেটিও জানেন না রাজধা...
25/08/2026

লাইনে গ্যাস নেই, বৈদ্যুতিক চুলা কিনেও লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি

প্রায় এক মাস ধরে গ্যাস নেই, কবে নাগাদ আসবে সেটিও জানেন না রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার চান মিয়া হাউজিংয়ের বাসিন্দারা। বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কিনেও মিলছে না সমাধান। উল্টো সেখানে দেখা দিয়েছে লোডশেডিং। ফলে বৈদ্যুতিক চুলায়ও স্বাচ্ছন্দ্যে রান্না করতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় কাজী তাহমিদা আফরোজ নামের এক গৃহিণীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, প্রায় এক মাস ধরে তাঁদের এলাকায় গ্যাস নেই। প্রথম দিকে তিন থেকে চার দিন একটু একটু গ্যাসের দেখা মিললেও এর পর থেকে একটানা সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন তাঁরা।

তাহমিদা আফরোজ আরও বলেন, ‘প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা গ্যাস থাকলেও কোনোভাবে কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়; কিন্তু কখন কী হবে, কোনো আশাই নেই। যার জন্য ভোগান্তিতে আছি। চুলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ।’

মোহাম্মদপুরের ওই হাউজিংয়ের আরেক বাসিন্দা মোস্তফা নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা সবাই কষ্টের মধ্যে আছি। যদি তারা গ্যাস না দিতে পারে তাহলে প্রিপেইড মিটারের বিল কিংবা যারা লাইনের গ্যাস ব্যবহার করে তার বিল বাদ দিয়ে দেওয়া উচিত। কোথাও থাকবে আবার কোথাও থাকবে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না। এটা খুবই দুঃখজনক।’
চলমান গ্যাস–সংকটের সমাধান হিসেবে অনেকেই ঝুঁকছেন বৈদ্যুতিক চুলার দিকে। কিন্তু সেখানেও সংকট যেন পিছু ছাড়ছে না, নতুন করে যোগ হয়েছে লোডশেডিং। চান মিয়া হাউজিংয়ের বাসিন্দা রাসেল দাস বলেন, ‘গ্যাসের সংকট সমাধানের জন্য বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছি; কিন্তু গতকাল আমি বাসায় রান্না বসাইছি, বিদ্যুৎ চলে গেছে। চাকরি করে বাসায় ফিরে এসব ঝামেলা নতুন করে আমাদের সমস্যায় ফেলছে।’রাসেল দাসের মতো একই অভিযোগ করে মোস্তফা নাজমুল হাসান বলেন, ‘বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে আমার পুরো খাবারটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু খরচের বোঝা তো আমার কাঁধে। আমার আয় তো বাড়ছে না।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের আমাদের একটা শিডিউল দেওয়া দরকার। কারণ, এই খরচের বোঝা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের কাছে অনুরোধ, দয়া করে আমাদের দিকে তাকান। এই সমস্যার সমাধান করেন। আমরা যাতে দুটো ডালভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারি।’তবে এই সমস্যা শুধু মোহাম্মদপুরেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর কলাবাগান, কাফরুল, কাজীপাড়া, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস–সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় সামান্য সময়ের জন্য মিটমিট করে গ্যাস এলেও অধিকাংশ জায়গায় সারা দিনই চুলা জ্বলছে না। এমন পরিস্থিতিতে দুর্ভোগ আরও বাড়ার আগেই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ শুরু হচ্ছে ৯ বছর পর২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ইউটিউবে প্রকাশিত হয় শাকিব খানের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ছবির...
25/08/2026

শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ শুরু হচ্ছে ৯ বছর পর
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ইউটিউবে প্রকাশিত হয় শাকিব খানের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ছবির টিজার। ২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের সেই টিজারে শাকিবের লুক ও অ্যাকশন দেখে চমকে গিয়েছিলেন তাঁর ভক্তরা। টিজার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকের প্রশ্ন ছিল—কবে মুক্তি পাবে সিনেমাটি? কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর আর মেলেনি। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ৯ বছর। এই সময়ে ছবিটির আর কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।

অবশেষে অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। সব জটিলতা কাটিয়ে ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ছবির কাজ আবার শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভার্টেক্স প্রোডাকশন হাউস। এ নিয়ে শাকিব খানের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেছেন প্রযোজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আছেন শাকিব খান। চলতি সপ্তাহেই তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ফেরার পর প্রযোজক জানে আলমের সঙ্গে আলোচনা করে ছবিটির শুটিংয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করবেন।
আশিকুর রহমান পরিচালিত ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ছবির প্রথম কিস্তির শুটিং হয় অস্ট্রেলিয়ায়। সেই শুটিংয়ের পর প্রকাশ করা টিজারেই শাকিবের নতুন লুক ও অ্যাকশনের মুহূর্ত দর্শকের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি করে। কিন্তু পরে প্রযোজকদের অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতায় ছবিটির কাজ থেমে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে ছবিটি নিয়ে আর কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি।

এখন ছবি–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছর ‘অপারেশন অগ্নিপথ’–এর দ্বিতীয় কিস্তির শুটিং শুরু হবে। শাকিবের কাছে ২৫ দিনের শিডিউল চাওয়া হয়েছে। জানে আলম জানালেন, এই লটে শুটিংয়ের পুরোটা দেশের বাইরে করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ছবিটি নিয়ে শাকিব খানও ইতিবাচক। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। প্রযোজকের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমিও চাই দর্শকের আগ্রহে থাকা ছবিটি শেষ হোক। দেশে ফেরার পর বাকি আলোচনা করে পুরো শিডিউল ঠিক করা হবে।’

দেশে ফিরেই শুটিং নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন শাকিব খান। প্রথমে ‘সোলজার’ ছবির শুটিং। এরপর মাসখানেক বিরতি দিয়ে ঈদুল ফিতরের ছবি ‘নিঃস্ব’র শুটিং শুরু করবেন। রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের ব্যানারে তৈরি এই ছবির পরিচালক মেহেদী হাসান। ঈদুল ফিতরের ছবির কাজ শেষ করে প্রায় মাসখানেকের বিরতি দিয়ে শুরু করবেন ঈদুল আজহার ছবির শুটিং। এরপরই ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ছবির টানা শুটিং শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে ছবিটির শুটিংয়ের পুরোনো ফুটেজও উদ্ধার করা হয়েছে। সম্পাদনা ও কালারের কাজও শেষ করা হয়েছে। গল্পে কিছু পরিবর্তন ও নতুন সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই শিল্পী তালিকাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। শুরুতে ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে ছিলেন শিবা আলী খান। এবার তিনি ছাড়াও থাকবেন দেশের বাইরের একজন নায়িকা। ছবিতে আরও অভিনয় করছেন মিশা সওদাগর, তাসকিন রহমান, টাইগার রবি ও কাবিলা।
‘অপারেশন অগ্নিপথ’ ছবিটি আগামী বছরের ডিসেম্বরে মুক্তির পরিকল্পনা করছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।

গ্যাস–সংকটে সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলায় বাড়তি খরচস্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় থাক...
25/08/2026

গ্যাস–সংকটে সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলায় বাড়তি খরচ

স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন আজমল হোসাইন। আড়াই মাস ধরে তাঁর বাসায় গ্যাস আসছে না। শুরুর দিকে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেয়েছেন। এখন রান্নার জন্য বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন। এতে খরচ বেড়েছে। আজমল বলেন, ‘চুলার দামই পড়েছে সাত হাজার টাকা। চুলার জন্য বিদ্যুতের বিল আসছে বেশি। আগে ১৫০০ টাকা বিল আসত, এখন আসে ২৮০০ টাকা।’

নিরাপদ খাওয়ার পানি নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আজমল। গ্যাস না থাকায় পানি ফুটাতে পারছেন না। পানি না ফুটিয়ে খেয়ে তাঁর দুই ছেলে আরসালান (২) ও আহসান (৯) অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। আজমল বলেন, ‘পানির এটিএম বুথ থেকে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করি। এই পানি বিশুদ্ধ কি না সন্দেহ হয়। কারণ, প্রথম যখন এই পানি খাই, তখন আমিসহ পুরো পরিবারের ফুড পয়জনিং হয়েছিল।’

মিরপুরের হাজি মার্কেট এলাকায় থাকেন গৃহিণী আয়েশা সিদ্দিকা। তিনি জানান, চার মাস ধরে তাঁর বাসায় গ্যাসের সমস্যা। কিছুদিন আগে মধ্যরাতে কিছুটা গ্যাস এলেও এখন একদমই আসে না। বিকল্প হিসেবে গ্যাসের সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন তিনি। আয়েশা বলেন, ‘এখন তো এমনিতেই বিদ্যুৎ বিল বাড়তি। তার ওপর ইন্ডাকশন চুলা জ্বালানোর জন্য বিল আরও বেশি আসে। আগে ১ হাজার টাকা বিল আসত, এখন আসে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। আর সরকারকে তো গ্যাসের জন্য টাকা দিচ্ছিই।’

দেশে ৯ বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের।
টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের পর ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে। তবে এলএনজির নতুন কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমতে কমতে ১৯ আগস্ট বিকেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে অবশ্য এলএনজির একটি কার্গো আসায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট। এতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। তবে গ্যাস–সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও সময় লাগবে।

ওষুধ নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস সুস্থ রাখবে লিভারশরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে লিভার অন্যতম। শরীরে প্রবেশ করা বিভি...
24/08/2026

ওষুধ নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস সুস্থ রাখবে লিভার
শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে লিভার অন্যতম। শরীরে প্রবেশ করা বিভিন্ন পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করা, রক্ত থেকে কিছু ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ, পিত্তরস তৈরি এবং রক্ত জমাট বাঁধার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে লিভার।অ্যালকোহল, কিছু ওষুধ, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে কোনো খাবার সরাসরি লিভারকে ‘ডিটক্স’ বা পরিষ্কার করে দেয়—এমন ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।লিভারের সুস্থতায় খাদ্যতালিকায় যেসব খাবার রাখা যেতে পারে—রসুন

রসুনে বিভিন্ন সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত রসুন খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও বিপাকীয় কার্যক্রমের জন্য উপকারী হতে পারে।

সাইট্রাস ফল

কমলা, মাল্টা, জাম্বুরা ও লেবুর মতো ফলে ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব ফল সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে লিভারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যে সহায়ক হতে পারে।

ব্রোকলি ও অন্যান্য সবজি

ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য ক্রুসিফেরাস সবজিতে ফাইবার ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। নিয়মিত শাক-সবজি খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং লিভারের জন্যও উপকারী।

হলুদ
হলুদে কারকিউমিন নামের একটি যৌগ রয়েছে, যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে হলুদ বা কারকিউমিনকে কোনো লিভার রোগের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

আখরোট

আখরোটে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে বাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

বিটরুট
বিটে ফাইবার, ফোলেট ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। অন্যান্য সবজির মতো এটি নিয়মিত ও পরিমিত খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

গাজর

গাজরে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। শরীরে এগুলো ভিটামিন এ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। লিভারসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত শাক-সবজি খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রিন টি

গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে সাধারণ গ্রিন টি এবং ঘনত্ব বেশি গ্রিন টি-এক্সট্র্যাক্ট এক জিনিস নয়। অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রিন টি-এক্সট্র্যাক্ট গ্রহণের সঙ্গে লিভারের ক্ষতির ঘটনা দেখা গেছে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।

আপেল

আপেলে ফাইবার, বিশেষ করে পেকটিন রয়েছে। পর্যাপ্ত ফাইবার হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত ফল রাখা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, ফাইবার ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে এটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

লিভার ভালো রাখতে শুধু খাবার নয়

লিভার সুস্থ রাখতে কোনো একটি ‘ডিটক্স খাবার’ এর ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
লিভারের কোনো রোগ, অস্বাভাবিক লিভার এনজাইম বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে শুধু খাবারের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ভারতীয় বিদ্যুৎ আমদানিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার্জভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে নতুন একটি চার্জ দিতে হবে বাংলাদেশকে। ‘স...
24/08/2026

ভারতীয় বিদ্যুৎ আমদানিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার্জ
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে নতুন একটি চার্জ দিতে হবে বাংলাদেশকে। ‘সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ’ নামে এ খাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ভারতীয় আধা পয়সা পরিশোধের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুতের বিদ্যমান মূল্যহারের সঙ্গে এ চার্জ আলাদাভাবে যুক্ত হবে। ফলে বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা খরচ বাড়বে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি)।পিডিবি সূত্র জানায়, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং পিডিবি ইতিমধ্যে এসএনএ চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের শিডিউলিং, মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং এবং আর্থিক নিষ্পত্তির ব্যয় এসএনএ চার্জে যুক্ত করেছে এনভিভিএন। প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে মতামত চেয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ভারত প্রথমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য এক ভারতীয় পয়সা এসএনএ চার্জ প্রস্তাব করেছিল। পরে দরকষাকষি করে পিডিবি তা অর্ধেকে অর্থাৎ আধা পয়সায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

এনভিভিএন পিডিবিকে জানিয়েছে, এসএনএ চার্জ বিদ্যুতের মূল ট্যারিফের অংশ নয়। আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড পরিচালনা ও আর্থিক নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার ব্যয় মেটাতে এ মাশুল নেওয়া হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গ্রিড-সংশ্লিষ্ট মাশুল নিষ্পত্তির জন্য এসএনএ ব্যবস্থা চালু করেছে ভারতের জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিইআরসি।

সিইআরসির বিধিমালা অনুযায়ী, গ্রিড পরিচালনা, বিদ্যুৎ সরবরাহের শিডিউল তৈরি, মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং এবং নির্ধারিত শিডিউল ও প্রকৃত বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যে পার্থক্যের কারণে সৃষ্ট আর্থিক দায় নিষ্পত্তিসহ গ্রিড-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব পালন করে এসএনএ।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের বিদ্যুৎ খাতের বিধিবিধান অনুযায়ী এ চুক্তি করা প্রয়োজন। চুক্তি সইয়ে বিলম্ব হলে ভারত থেকে বাংলাদেশের ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি রয়েছে। প্রতি ইউনিটে মাশুলের পরিমাণ আপাতত কম মনে হলেও বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করায় সামগ্রিক আর্থিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে ভারতের ইতিমধ্যে এসএনএ চুক্তি রয়েছে। ভারত বর্তমানে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে যে হারে এসএনএ মাশুল নেয়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই হার বিবেচনায় নিতে প্রস্তাব করে পিডিবি। বাংলাদেশ চুক্তির আওতাভুক্ত পুরো ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ একটানা আমদানি করলে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ আসবে ১১ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট। প্রতি ইউনিটে আধা পয়সা হিসাবে এসএনএ চার্জ দাঁড়াবে ঘণ্টায় ৫,৮০০ ভারতীয় রুপি।

ভারতের বিদ্যুৎ গ্রিড ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে পৃথক ‘কন্ট্রোল এরিয়া’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির ক্ষেত্রে মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং এবং লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কার্যক্রমের ব্যয় বিদ্যুতের মূল দামের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত না করে আলাদা এসএনএ চার্জ হিসেবে আদায় করবে তারা।
ছয়টি পৃথক চুক্তির আওতায় বর্তমানে ভারত থেকে সর্বোচ্চ ২,৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসির একটি কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এই পাঁচটি চুক্তির আওতায় মোট ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রেই নতুন এসএনএ চুক্তি প্রযোজ্য হবে। এর বাইরে ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য পিডিবির পৃথক চুক্তি রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা চুক্তির মধ্যেই এসএনএ চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ঐ ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য নতুন করে আলাদা এসএনএ চুক্তি করতে হবে না।দেশীয় গ্যাসের ঘাটতি, আমদানি করা জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং স্থানীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা সামাল দিতে ভারতীয় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। নতুন এসএনএ চুক্তি কার্যকর হলে বিদ্যুতের মূল ট্যারিফের পাশাপাশি প্রতি ইউনিট আমদানির বিপরীতে ভারতীয় আধা পয়সা অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হবে। ঐ পাঁচটি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ বছরে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করে তাতে বছরে প্রায় ৬ কোটি টাকা খরচ বাড়বে।

আপত্তির মুখে কনসার্ট বন্ধ, কী বলছেন শিল্পীরাদুই দিনের ব্যবধানে ব্রাক্ষণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে কনসার্ট বাতিলের ঘটনায় নতুন ...
24/08/2026

আপত্তির মুখে কনসার্ট বন্ধ, কী বলছেন শিল্পীরা

দুই দিনের ব্যবধানে ব্রাক্ষণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে কনসার্ট বাতিলের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও নির্বাচিত সরকারের সময়ে একই পরিস্থিতি আবার তৈরি হওয়াতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সংস্কৃতি অঙ্গনে। এ ঘটনায় শিল্পী, আয়োজক ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা। এ প্রসঙ্গে দেশের পাঁচ সংগীতশিল্পী ও সুরকারের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখন করেছেন মনজুর কাদের।

শেখ সাদী খান

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই দেখছি, আমরা একে অন্যকে খোঁচাখুঁচি করার রাজনীতি করছি। কিন্তু সবাই মিলে দেশের জন্য কীভাবে কিছু করা যায়, দেশটাকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়—সেই জায়গায় আমাদের চিন্তাভাবনা খুব একটা নেই। এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো সংগীতসমৃদ্ধ একটি জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের সাম্প্রতিক ঘটনাটি পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। আমি মনে করি, সংস্কৃতি যদি আমাদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে রাজনীতি টিকবে কীভাবে? রাজনীতির সঙ্গে সংস্কৃতির একটি সুন্দর মেলবন্ধন ও সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। কারণ, প্রত্যেক জাতিরই নিজস্ব সংস্কৃতি আছে, আর সেই সংস্কৃতিই জাতির পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা মহলের উগ্র আচরণ দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। গত কয়েক বছরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার ঘটনাগুলো যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখা যাবে, কিছু উগ্রপন্থী মানুষই এসবের পেছনে জড়িত। তারা সংস্কৃতিকে ঘিরে একধরনের ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
আমার জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ লাইনে উচ্চ শব্দের কারণ দেখিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনার কথা শুনেছি। আমার প্রশ্ন হলো, যদি শব্দ নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কেন? শব্দ কমিয়ে অনুষ্ঠান করার সুযোগ করে দেওয়াটাই তো আসল দায়িত্ব ছিল। সমাধান করতে হবে, সংস্কৃতির পথ বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়।

সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা বিষয়টিতে সূক্ষ্ম ও সুদৃষ্টি দিন। কারণ, সাংস্কৃতিক বলয়টাই যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে রাজনীতিও নষ্ট হয়ে যাবে। সংস্কৃতি ও রাজনীতির মধ্যে সুন্দর সমন্বয় থাকা জরুরি।

সরকারের কাছে আমার প্রথম চাওয়া—আপনারা যেহেতু দেশ পরিচালনা করছেন, সারা দেশে আপনাদের সংস্থা, প্রতিনিধি আছে—তাই দেশবাসীকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন—এই দেশ আমাদের সবার। আমাদের একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। গান-বাজনা এ দেশের মানুষের রক্তে, মগজে, মননে মিশে আছে। সাংস্কৃতিক চর্চায় কেউ যেন কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে। আর যারা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এমন একটি স্পষ্ট বার্তা আসা দরকার। আমি বিশ্বাস করি, এই বার্তাটি পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই দ্রুত বদলে যাবে।

সরকারপ্রধানের প্রতিও আমার অনুরোধ—আমাদের সংস্কৃতি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমাদের দলগত আদর্শ বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু দেশের সংস্কৃতি, দেশের মানুষের স্বার্থ এবং দেশের মঙ্গলের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। আর যাঁরা উগ্রপন্থী হয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করছেন, তাঁদের প্রতিও অনুরোধ—এসব করে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকে নষ্ট করবেন না, আমাদের জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবেন না। আমরা সবাই মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই। আর দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সাংস্কৃতিক চর্চার পথ কোনোভাবেই অবরুদ্ধ করা যাবে না। সংস্কৃতি
না বাঁচলে দেশটাকেও টিকিয়ে রাখা যাবে না।

Address

Gazipur
গাজীপুর

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when AAS News posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share