Mahmuda Maya - এম. এম. মুক্তি

Mahmuda Maya - এম. এম. মুক্তি Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Mahmuda Maya - এম. এম. মুক্তি, Digital creator, Gazipur.

কল্পনার কোন সীমা নেই—নেই ধরাবাঁধা কোন নিয়ম
শব্দে-বাক্যে বুনে তাই কল্পনা বানাই অবিরাম।
~মাহমুদা মায়া মুক্তি
Selected Writer✍️ on Papri (app)
Artist 🖌️
Felinophile🐈
Fictophile📚

https://papri.io/writers/writer-1-20

ফাইনাল এডিট চলছে। তো, ফাইনাল এডিট করতে গিয়ে পেজ ডেকোরেশনও চেঞ্জ করলাম। প্যারার মাঝের লিলিফুল, চাপ্‌টার নাম্বারের ফন্ট,  ...
05/10/2025

ফাইনাল এডিট চলছে। তো, ফাইনাল এডিট করতে গিয়ে পেজ ডেকোরেশনও চেঞ্জ করলাম। প্যারার মাঝের লিলিফুল, চাপ্‌টার নাম্বারের ফন্ট, চারপাশের লতাবৃত্তটা আজ এড করেছি।
সুন্দর না? এসব এডিট করতে আমার দারুণ ভালো লাগছে।
এইতো আর কিছুদিন। এরপর-ই আমার প্রথম বই পাবলিশ হবে ইনশা-আল্লাহ। যেদিন ফুল প্রচ্ছদ (ফ্রন্ট+ব্যাক+স্পাইন) প্রকাশ করব, সেদিন-ই প্রকাশিত হবে আমার প্রথম বই!
ডিজাইনগুলো কেমন?

 #সন্ধ্যাবন্দনা—১২ ুক্তি [📌: সকল প্রকার কপি-পেস্ট‚ কাহিনি থেকে ধারণা/আইডিয়া কপি করা নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে লিংক শেয়ার করুন।]ব...
05/10/2025

#সন্ধ্যাবন্দনা—১২
ুক্তি
[📌: সকল প্রকার কপি-পেস্ট‚ কাহিনি থেকে ধারণা/আইডিয়া কপি করা নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে লিংক শেয়ার করুন।]
বারো
অন্ধকার বারান্দায় বসে নিঃশব্দে তারা ভরা আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে মায়া। রিকার্দোর দেওয়া তিন দিন সময়ের দুই দিন ইতোমধ্যে অতিক্রম হয়ে গেছে। আর মাত্র একটা দিন। সে কী করবে বুঝতে পারছে না। দ্বিধান্বিত সে। অতিরিক্ত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গিয়ে রিয়ন তাকে বিপদের সম্মুখীন করেছে। এর থেকে পরিত্রাণ সে কীভাবে পাবে? যেভাবে রিয়নের থেকে পালিয়েছিল‚ সেভাবে তো আর পালাতে পারবে না।
পালানো কখনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। বিপদ একবার পিছু নিলে দশ হাত মাটির নিচ অবধি পৌঁছে যাবে। একথা সে ইতোমধ্যে উপলব্ধি করেছে।
নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলতেই সে নিজের পাশে আরো একজনের উপস্থিতি অনুভব করে। ঘাড় বাঁকিয়ে পাশে তাকালে রিদিকে দেখতে পায়। তাকে মর্মাহত দেখাচ্ছে। মায়া উৎসুক কণ্ঠে প্রশ্ন করে‚
“কী হয়েছে‚ আপু?”
বিমর্ষতাপূর্ণ দৃষ্টিতে রিদি মায়ার দিকে ফিরে তাকায়। ছোট সুরে উত্তর দেয়‚
“তুই সঠিক ছিলি।”
“কোন বিষয়ে?”
“ফয়সাল চৌধুরি। সে চরিত্রহীন।”
রিদি মায়ার সমস্ত মনোযোগ আকর্ষণ করতে সফল হয়। তার দিকে ঘুরে বসে মায়া ভ্রূকুটি করে জিজ্ঞাসা করে‚
“ঘটনা কী?”
“গত সন্ধ্যায় তাকে কল করেছিলাম। একটা মেয়ে সেই কল রিসিভ করেছিল।”
“মেয়ে? হতে পারে তার বোন বা ওরকম কেউ।”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিদি। না বোধক মাথা নেড়ে সে আরো জানায়‚ “মেয়েটার সাথে সে হোটেলে ছিল। এবং সে রিদি নামে কাউকে চিনে না‚ এমন জবাব দিয়েছিল আমায়।”
এমন উদ্ভাসনে মায়ার কেমন ব্যবহার করা উচিৎ বা প্রতিক্রিয়া করা উচিৎ সে জানে না। সে নিজের চিন্তায় এতটা ডুবে ছিল যে নিজের বড় বোনের দিকে খেয়াল করেনি।
সে জানে রিদি ফয়সালকে পছন্দ করত। প্রতিদিন কথাবার্তা চলায় সম্ভবত দুর্বলও হয়ে পড়েছিল। দুইটা দিন যাবত মেয়েটার মনোভাব ঠিক নেই।
মায়া নিজেও দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ভাবে, নিজের সমস্যার কথা তাকে জানিয়ে তার দুশ্চিন্তা বাড়ানোর মানে স্বার্থপরতা ছাড়া কিছুই হবে না। সে রিদির কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের দিকে টেনে নেয়। বুকে জড়িয়ে কুঁকড়ানো চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে‚
“এটা নিয়ে মন খারাপ করে না‚ আপু। এমন ঘটনা মেয়েদের জীবনে কম-বেশি ঘটে। সে তোমার যোগ্য ছিল না। তোমার যোগ্য ব্যক্তি তোমার অপেক্ষায় আছে। তুমিও তার অপেক্ষায় থাকো।”
চুপচাপ সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে রিদি আবারও দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
___________

রিকার্দো এবং মায়া মুখোমুখি বসে আছে। একে অপরের দিকে গম্ভীর চাহনিতে তাকিয়ে আছে উভয়েই। তিন দিনের পরিবর্তে মায়া দশ দিন সময় নিয়ে নিয়েছে। এ কারণে রিকার্দো রাগান্বিত। যদিও এই সাত দিনে সে মায়ার পরিবারের সাথে কথা বলে ফেলেছে। অপেক্ষা শুধুমাত্র মায়ার জবাবের। রিকার্দো নেতিবাচক জবাবের প্রস্তুতি নিয়ে আসেনি। নেতিবাচক জবাব সে গ্রহণ করবে না।
রাশভারি কণ্ঠস্বরে অবশেষে মায়া প্রশ্ন করে‚
“আমার জবাব না শুনে তুমি আমার পরিবারের লোকের সাথে কথা বলেছ কেন?”
“আমি তোমায় আগেই সাবধান করেছিলাম,” রিকার্দোর কণ্ঠস্বরও গম্ভীর।
“এত কিসের তাড়া তোমার? আমি বিয়ে করব না।”
“তোমার কাছে বিকল্প কোন পথ নেই।”
“কী করবে তুমি? জোর করবে?”
বিরক্তবোধ করে রিকার্দো। নিজের শরীর ঠেলে চেয়ারের হেলান ছেড়ে সম্মুখে এগিয়ে আসে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে গলার স্বর কিঞ্চিৎ কোমল করে বলে‚
“দেখো‚ মায়া। বুঝার চেষ্টা করো। তুমি-ই নিরাপদে থাকবে।”
“কিসের নিরাপত্তা?” মায়ার কণ্ঠস্বর একই রকম শোনায়। “আমি তোমার কাছে নিরাপত্তা চেয়েছি?”
“তুমি চাওনি কিন্তু তোমার নিরাপত্তা প্রয়োজন। রিয়ন সাধারণ কেউ নয় এটা আমরা উভয়েই জানি,” রিকার্দোর ভেতরকার ক্ষোভ যেন আত্মপ্রকাশ করছে। সে আরো বলে‚ “তোমার সাথে ঘটে যাওয়া দূর্ঘটনা‚ তোমার বিভ্রম‚ ভয়—সবকিছুর মূলে ঐ রক্তচোষাটা দায়ী , তা আমি বেশ ভালোভাবে জানি। তুমি ওর থেকে পালিয়ে বেরুচ্ছ, সেটাও আমার অজানা নয়।”
মায়া আশ্চর্যান্বিত হয়। ভ্রূ যুগল আরো গাঢ়ভাবে কুঁচকে রিকার্দোর দিকে তাকায়। সন্দেহের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সে প্রশ্ন করে‚
“এবং তুমি কে? একটা পৈশাচিক রক্তচোষার থেকে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী কখনো সাধারণ মানুষ হতে পারে না। তুমি কী লুকাচ্ছ‚ ফারাজ?”
রিকার্দো কিছুটা শান্ত হয়। এমনটা নয় যে সে মায়ার এসব প্রশ্নের জন্য অপ্রস্তুত। বরং সে প্রস্তুত ছিল। শান্ত অভিব্যক্তি ও সুরে রিকার্দো জবাব দেয়‚
“রিয়নের বিপরীত। নেকড়ে মানব।”
বিস্ময় ও চমকে মায়ার চোখজোড়া বড় বড় হয়ে উঠে। সবটা কেমন সিনেমাটিক লাগছে তার নিকট। একদিকে রক্তচোষা এবং অপরদিকে নেকড়ে মানব। এবং এদের মধ্যেখানে যেন সে ফেঁসে গেছে।
মায়ার নীরব ও চমকপ্রদ অভিব্যক্তি পাঠ করে রিকার্দো ফের বলে‚
“আমায় ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। আমি রক্তচোষা নই। রক্ত আমার মাঝের পিশাচকে যখন তখন জাগ্রত করে না।”
“কিন্তু পূর্ণ চন্দ্র ঠিক তা করে।”
মায়ার প্রত্যুত্তরে রিকার্দো একটু হাসে। সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে সে বলে‚
“নেকড়ে মানব সম্পর্কে তোমার জ্ঞান আছে তবে! বেশ। কিন্তু রক্তচোষাদের মতো আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কারো ক্ষতি করি না। এটা আমাদের একটি অভিশাপ। যা থেকে আমাদের জাতি আজও মুক্ত হতে পারেনি।”
রিকার্দো সাবধানে মায়ার একটি হাত নিজের দুই হাতের মাঝখানে নিয়ে আরো যুক্ত করে বলে‚
“আমায় বিশ্বাস করো, আমরা নিজেদের সঙ্গীর ক্ষতি করি না। সেই সাথে আমি আমার দলের আলফা। দলনেতা। আমায় বিয়ে করলে তুমি আমার দলের লুনা হবে। আমার দলের প্রতিটি সদস্য তোমায় নিজেদের জীবন বাজি রেখে রক্ষা করবে। সেটা পূর্ণিমার রাত হলেও।”
এসব বিষয়ে মায়া অল্প-স্বল্প জানে। সে জানে যদি সে রিকার্দোকে বিয়ে করে তার দলের লুনা হতে পারে ,তবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ একটি দল সতর্ক এবং প্রস্তুত থাকবে। কিন্তু এটা কি সঠিক হবে? সন্দিহান মনে মায়া প্রশ্ন করে‚
“কিন্তু তোমার সঙ্গী? যতটুকু আমার ধারণা প্রাকৃতিকভাবে তোমার জন্য সঙ্গী নির্ধারিত আছে।”
খানিকটা বিষণ্ণ হয়ে আসে রিকার্দোর অভিব্যক্তি। মায়ার হাতটি মুক্ত করে দিয়ে সে অনাগ্রহে জবাব দেয়‚
“আমার প্রথম সঙ্গী আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল৷ এবং আমি তা মেনে নেওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে আমাদের মাঝে যে বন্ধন ছিল তা ছিন্ন হয়েছে। বর্তমানে আমি সঙ্গীহীন। সুতরাং‚ আমি যে কাউকে নিজের সঙ্গী হিসেবে বাছাই করতে পারব।”
পুনরায় মায়ার মুখপানে তাকায় রিকার্দো। ইতিবাচক জবাবের প্রত্যাশায় সে আবারও প্রশ্ন করে‚
“তোমার জবাব কী‚ মায়া?”
নিশ্চুপ মায়া খানিকক্ষণ একই অবস্থানে বসে থাকে। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে সে। একই সাথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নিজের উপর জোর খাটাচ্ছে। চাপ সৃষ্টি করছে।
বেশ খানিকটা সময় অতিক্রম হওয়ার পর সে রিকার্দোর মুখপানে তাকায়।
“আমার দুটো শর্ত আছে‚ ফারাজ।”
“হ্যাঁ। অবশ্যই শর্ত থাকতে পারে। আমাকে অনুমান করতে দাও। তোমার প্রথম শর্ত হচ্ছে তুমি তৎক্ষনাৎ কোন প্রকার সম্পর্ক চাও না। তাই তো?”
হেসে উঠে মায়া। নেতিবাচক মাথা নেড়ে বলে‚ “না‚ না। সেরকম কিছু না। আমার প্রথম শর্ত আমি তোমার জাতি সম্পর্কে সবটা জানতে চাই।”
“অবশ্যই‚ অবশ্যই। ডার্ক হাউল দলের লুনা হলে সবটা জানা তোমার অধিকার।”
“দ্বিতীয় শর্ত‚ আমার উপর কোন প্রকার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।”
দ্বিতীয় শর্তে রিকার্দোর অভিব্যক্তির কিঞ্চিৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু সে বাচনিক কোন উত্তর দেয় না। শুধুমাত্র মাথা নাড়ায়। এবং প্রশ্ন করে‚
“তাহলে তোমার জবাব হ্যাঁ? তুমি এই বিয়েতে রাজি?”
ঢোক গিলে মায়া। এই পর্যায়েও সে দ্বিধাবোধ করছে। কারণ তার মন সায় দিচ্ছে না। ভালবেসেছে একজনকে এবং বিয়ে করবে আরেকজনকে। বিষয়টা কেমন অনুচিত মনে হচ্ছে। আবার সে যাকে ভালোবেসে তাকেও জীবনে চায় না। তাহলে এখন উপায়?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে মায়া সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে।
“হ্যাঁ। আমার কোন আপত্তি নেই।”
সে জবাব দেয় এবং তৎক্ষনাৎ ভিন্ন কোন দিকে তাকায়। মন মস্তিষ্কে‚ নিজের সাথেই নিজের দারুণ যুদ্ধ চলছে।


📌: এটা ই-বুক (ফ্রি)। সুতরাং সম্পূর্ণ গল্প ফেসবুকে দেওয়া হবে না। প্রথম ২৬টা পর্বের মতো আসবে (রেসপন্সের উপর ডিপেন্ডেড)। এপে অলরেডি ৩০+ পর্ব আছে৷ বিনামূল্যে পড়ে ফেলুন। সম্পূর্ণ উপন্যাসের ফ্রি ই-বুক লিংক প্রথম কমেন্টে।

চলবে......
যে বা যারাই পড়বেন, রেসপন্স করার অনুরোধ। রেসপন্স ভালো আসলে সম্পূর্ণ উপন্যাস ফেসবুকে আসতে পারে।

বিষয়টা নিয়ে বললে অনেকে কটুক্তিতে বলতে পারেন যে, ফেসবুকে ব্যাক করে সারতে পারেনি শুরু হয়েছে উনার রঙ-ঢঙ! কারণ আমি জানি আমি ...
03/10/2025

বিষয়টা নিয়ে বললে অনেকে কটুক্তিতে বলতে পারেন যে, ফেসবুকে ব্যাক করে সারতে পারেনি শুরু হয়েছে উনার রঙ-ঢঙ! কারণ আমি জানি আমি ম্যাক্সিমামের নিকট অপছন্দনীয় ব্যক্তি।
কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল করুন। নিচের স্ক্রিনশটগুলো দেখুন। না। Views দেখবেন না। এটাতে বুঝা যাবে না কতজন পড়েছে। কারণ একটা পোস্ট নিউজফিডে যেতেই পারে। সবাই যে তা পড়বে এমন না।
আপনি দেখুন Viewers সংখ্যা। জ্বি, এই সংখ্যার মানুষগুলো একদম গল্পপোস্টে ক্লিক করে গল্প পড়েছে। চুপিচুপি গল্প পড়েছে। অথচ রেসপন্স ১০টাও আসে না। অর্ধেকজনও যদি রিয়েক্ট করত অন্তত ৩০টার মতো রেসপন্স হতো।
কেন? চুপিচুপি ৭-৮ মিনিটে গল্পটা পড়তে পারলেন অথচ একটা রিয়েক্ট দিতে পারলেন না? খুব ক্ষতি হয়ে যায়। এতটা বিবেকহীন মানুষ আপনারা! অথচ আমার কাছে অনেকের প্রোফাইলেরও স্ক্রিনশট আছে। দিব্যি দেখেছি এই সংখ্যক মানুষের প্রোফাইলগুলো। ম্যাক্সিমাম নন-ফলোয়ার। কিন্তু পোস্টগুলো ঠিক-ই রেগুলার নীরবে ফলো করে যাচ্ছেন। চো-রের মতন।
এজন্যই আমি ফেসবুকে দিতে চাই না। এপে অন্তত দেখতে পাই কতজন পড়ল, কারণ ওখানে ভিউয়ার্স কাউন্ট হয়৷
আপনাদের এই কাজে সাধুবাদ জানাই। 🙂
দেখুন, যদি নিজেদের বিবেক বলে যে রেসপন্স করবেন, তবে করবেন। আর যদি বলে করবেন না, তবে করবেন না।
আমিও ১ম খণ্ডের বেশি বাংলায় ফেসবুকে দিব না। তবে কি, এগুলো সব ইংরেজিতে ট্রান্সলেট হয়ে বই আসবে। তখন এমনিতেই এসব বাংলাগুলো ফেসবুক ডিলেট করে দিব।
বইয়ের বিষয় থেকে যেটা মনে হলো, এর হার্ডকপির কভার (ফ্রন্ট+ব্যাক সাইড) এডিট হয়েছে। ২০ তারিখের দিকে প্রকাশ হতে পারে, ইনশাআল্লাহ।

 #সন্ধ্যাবন্দনা—১১ ুক্তি [📌: সকল প্রকার কপি-পেস্ট‚ কাহিনি থেকে ধারণা/আইডিয়া কপি করা নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে লিংক শেয়ার করুন।]এ...
02/10/2025

#সন্ধ্যাবন্দনা—১১
ুক্তি
[📌: সকল প্রকার কপি-পেস্ট‚ কাহিনি থেকে ধারণা/আইডিয়া কপি করা নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে লিংক শেয়ার করুন।]
এগার
বাড়ির পেছন দিককার উঠোনে কাঠের তৈরি বেঞ্চ। বিকালবেলা বসে আড্ডা দেওয়া বা আবহাওয়া উপভোগের জন্য তৈরি। মায়া সেখানেই বসে আছে। চারপাশ থেকে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ভেসে আসছে। দূরে কোন জঙ্গলে শেয়াল হুক্কাহুয়া শব্দে ডাকছে। কখনো তা পৈশাচিক হাসির মত শুনাচ্ছে।
দুশ্চিন্তা এবং আতঙ্কে বারংবার মায়ার গলা শুকিয়ে আসছে। ঢোক গিলে গলা ভেজানোর বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে সে। এই আতঙ্ক এবং দুশ্চিন্তা রিকার্দোকে নিয়ে। সে নিশ্চিত রিয়ন নিজ প্রতিজ্ঞা প্রতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। সুতরাং‚ রিকার্দোর নিকটবর্তী হয়ে যে সে তার কোনরূপ ক্ষতি না করে ফিরে আসবে এমন কোন মিথ্যা আশা সে করছে না।
কাঠের বেঞ্চটা হঠাৎ নড়ে উঠে। চিরচেনা সুঘ্রাণ শুঁকতেই মায়া পাশ ফিরে তাকায়। স্নেহময় হাসিতে রিয়ন তার মুখপানেই তাকিয়ে আছে। একটি হাত তার পেছনের দিকে এলিয়ে দেওয়া। তা মায়ার কাঁধ স্পর্শ করেছে।
সব কিছু উপেক্ষা করে মায়া বজ্রকণ্ঠে প্রশ্ন করে‚
“ফারাজের সাথে কি করেছ?”
মুক্ত হাতটি উঁচিয়ে বিশৃঙ্খল চুলের মাঝে চালনা করে রিয়ন জবাব দেয়‚
“যাই করি না কেন। তার হৃৎপিণ্ড এখনো সচল। চক্ষুশূল তোমার অনুরোধে উপড়ে দেইনি।”
রিয়নের এমন জবাবে মায়ার মাঝের সকল আতঙ্কিত অনুভব ক্রোধে পরিণত হয়। নিজেকে সামলাতে না পেরে রিয়নের গালে সজোরে চড় বসিয়ে দেয়। যদিও তার শক্ত চোয়ালে মায়া নিজেই হাতে কিছুটা ব্যথা পেয়েছে।
রিয়ন মুখমণ্ডল একদিকে কিঞ্চিৎ বাঁকিয়ে ঠোঁট উলটায়। রাগান্বিত হওয়ার পরিবর্তে তার ঠোঁটের কোণা এক অদ্ভুত হাসি দখল করে নেয়।
মায়া একই বজ্রকণ্ঠে বলে উঠে‚ “তুমি জানো আমার জীবনে রিকার্দোর অবদান কতটুকু? সে আমার জীবন বাঁচিয়েছে। সে আমার ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পরিবর্তে তুমি তাকে আহত করে এসেছ? সমস্যা কী তোমার? আমাকে কেন শান্তিতে বাঁচতে দিচ্ছ না?”
রিয়ন খানিকক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একই হাসিতে মায়ার মুখপানে তাকিয়ে সবটা শুনতে থাকে। মায়ার ব্যক্ততা শেষে যেই হাত দিয়ে সে তাকে চড় দিয়েছে সেই হাত চেপে ধরে তাকে নিজের দিকে টেনে আনে। মায়ার হাত উঁচিয়ে তার লালচে আঙ্গুলগুলো চুম্বন করে। তার দৃষ্টি মায়ার দৃষ্টিতে স্থির। সে তার প্রতিটি স্পর্শে মায়ার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছে। মায়ার চকিত হওয়া‚ তার কম্পিত শ্বাস-প্রশ্বাস যা সে আড়াল করার বৃথা চেষ্টা করছে এবং অবশেষে তার শুকনো ঢোক গেলা।
“কতবার বলেছি নিজেকে আঘাত করবে না। আঙ্গুলগুলো কেমন টনটন করছে!” রিয়নের কণ্ঠস্বর গভীর অথচ কোমল। সে মুক্ত হাত বাড়িয়ে মায়ার গাল ছুঁয়ে বলে‚
“তোমার জীবন বাঁচিয়েছিল। কারণ তখন তোমার মৃত্যুদূত সেই স্থানে উপস্থিত ছিল না। এর মানে এই না যে তুমি যখন ঘুমাবে তখন রিকার্দো তোমায় ঠিক সেভাবে স্পর্শ করবে যেভাবে এখন আমি করছি।”
মায়া এমন বিস্ময়কর প্রকাশের জন্য প্রস্তুত ছিল না। তার চোখজোড়া খানিকটা প্রশস্ত হয়। রিকার্দো তাকে এভাবে স্পর্শ করেছিল? কখন? কবে? মনে প্রশ্ন থাকলেও সে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকে। রিয়ন আরো যুক্ত করে বলে‚
“হ্যাঁ‚ আমি কৃতজ্ঞ ওর প্রতি। এজন্য‚ সম্ভবত এজন্য তোমার কথা মেনে আমি তাকে হত্যা না করে ফিরে এসেছি। কিন্তু আমাকে সন্দেহ করো না যখন আমি বলব , কেউ নিজের জাত শত্রুকে নিজ হাতের মুঠোয় পেয়ে জীবিত ছেড়ে দেয় না।”
কৌতূহল‚ বিহ্বলতা এবং সন্দেহ তার মন-মস্তিষ্কে মুহূর্তে বাসা বাঁধে। ভ্রূ যুগল কপালের মাঝখানে একত্রে সংকুচিত করে সে প্রশ্ন করে‚
“জাত শত্রু? কী বলতে চাচ্ছ তুমি? ফারাজ তোমার জাত শত্রু কীভাবে হয়?”
মায়ার এমন অভিব্যক্তি এবং প্রশ্নে রিয়ন কিঞ্চিৎ হেসে উঠে। ঘটনাটি তার নিকট চিত্তাকর্ষক মনে হয়৷ সে উপলব্ধি করে রিকার্দোর পরিচয় সম্পর্কে মায়া সম্পূর্ণ অনবগত।
“আচ্ছা? তুমি জানো না রিকার্দো প্রকৃতপক্ষে কে? মন-ময়ূরী, তুমি এতটা নিষ্পাপ এবং অনাড়ম্বর কেন?”
নিজের কণ্ঠস্বরকে বিপদজনকভাবে নিচু করায় রিয়নের কণ্ঠস্বর আরো গম্ভীর এবং সম্মোহনী শোনায়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত কোন জবাব সে দেয় না। মায়াকে আরো কাছে টেনে নিয়ে তার কপালে গভীরভাবে চুমু দিয়ে খানিকক্ষণ একই অবস্থানে অবস্থান করে। মায়ার একবার ইচ্ছা হয় তাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিতে। কিন্তু এই অনুভূতিও উপেক্ষা করার মতো নয়।
অবশেষে সে হঠাৎ ধাক্কায় রিয়নকে দূরে সরিয়ে দেয়৷ কিন্তু রিয়ন চমকায় না। সে এমন কিছুর প্রত্যাশায় থাকার কারণে উলটো হেসে উঠে।
“তুমি ভেবেছ যাচ্ছেতাই আমাকে বলবে আর আমি সব বিশ্বাস করব?”
না বোধক মাথা নাড়ে রিয়ন। অস্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ করে সে।
“না‚ মন-ময়ূরী। আমি বেশ ভালোমতো জানি তুমি আমার তুলনায় ঐ কুকুরটার প্রতি বেশি বিশ্বাস রাখো৷ কিন্তু আমিও সেদিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন তুমি দ্যেজা ভু’র শিকার হবে।”
সে মায়ার দিকে দুই কদম এগিয়ে আসে। রাশভারী কণ্ঠে সে জানায়‚
“আমি স্পষ্ট তোমাদের মাঝে জন্মানো আকর্ষণ দেখতে পাচ্ছি‚ মায়া। কিন্তু ভুল করেও অন্য কারো হওয়ার অথবা অন্য কাউকে জীবনে স্থান দেওয়ার দুঃসাহস করো না। তুমি চাও বা না চাও‚ তুমি আমার ছিলে‚ আমার আছ এবং আমার থাকবে। তুমি ছয় ফুট মাটির নিচে থাকলেও সেই মাটি এবং তোমার আত্মার উপর শুধুমাত্র আমার অধিকার থাকবে। শুধুমাত্র আমার। এবং আমার উপর শুধুমাত্র তোমার অধিকার। ”
রিয়ন অপেক্ষা করে না। প্রস্থান ঘটে তার। একই স্থানে মূর্তি ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকে মায়া। যেই স্থানে খানিকক্ষণ আগে রিয়ন দাঁড়িয়ে ছিল সেই স্থানে তার দৃষ্টি স্থির। অজান্তে চোখ ভরে দুই ফোঁটা নোনাজল গড়িয়ে পড়ে তার।
____________
মায়া ক্লিনিকে রোগীর সাথে কথা বলতে বলতে তার রিপোর্ট দেখছিল। এমন সময় দরজায় টোকা পড়লে কৌতুহলী দৃষ্টিতে সেদিকে তাকায় সে। সে নার্সের উপস্থিতি আশা করছিল। কিন্তু নারী দেহের পরিবর্তে সে পুরুষ দেহটি দেখে খানিকটা চিন্তিত এবং বিস্মিত হলো। রিকার্দো গম্ভীর এবং কঠিন অভিব্যক্তিতে দাঁড়িয়ে আছে। মায়ার মনোযোগ আকর্ষণ করতেই সে প্রশ্ন করে উঠে‚
“তোমার সাথে কিছু প্রয়োজনীয় কথা ছিল।”
মায়া লক্ষ্য করে রিকার্দোর একটি হাত তুলনামূলকভাবে কালচে রঙের। ঘটনা অনুমান করে সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এরপর জবাবে মাথা নেড়ে জানায়‚
“প্লিজ‚ খানিকক্ষণ বসো। আমি উনাকে বিদায় দিয়ে আসছি।”
ছোট একটি হাম্ তুলে রিকার্দো দরজা থেকে সরে যায়। মিনিট দশেক পরে মায়া নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। চেম্বার ছেড়ে বাহিরে আসলে রিকার্দোকে ওয়েটিং রুমে অপেক্ষারত দেখতে পায়।
“ফারাজ।”
মায়া রিকার্দোর নাম ধরে ডাকতেই সে তৎক্ষনাৎ মেঝে থেকে দৃষ্টি উঠিয়ে তার দিকে তাকায়। নিজ আসন ছেড়ে উঠে তার নিকটবর্তী হয় সে। আশেপাশে তাকিয়ে সে নিচু স্বরে বলে‚
“একটু ব্যক্তিগত বিষয়। নির্জন কোথাও যাওয়া যায়?”
মায়া সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে। রিকার্দো তাকে সামনে এগোতে ইশারা করে।

নদীর পাড়ে কালো রঙের গাড়িটা থামানো। ভেতরের সিটে পাশাপাশি বসে আছে মায়া এবং রিকার্দো। রিকার্দো শক্তভাবে স্টিয়ারিং হুইল ধরে আছে। উভয়ের মাঝে এক গভীর নিরবতা। রিকার্দোর দৃষ্টি সামনে‚ নদীর পানিতে হলেও মায়ার দৃষ্টি তার দিকে। সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে রিয়ন রিকার্দোর কেমন ক্ষতি করেছে৷
দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিকার্দো অবশেষে উভয়ের মাঝের নীরবতা ভঙ্গ করে বলে ‚
“রিয়ন এডরিন। লোকটার সাথে তোমার পরিচয় কীভাবে?”
মায়া এমন প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত ছিল। সে স্বাভাবিকভাবে সততার সাথে জানায়‚
“কানাডা থাকাকালীন সময় পরিচয় হয়। এরপর তার সাথে একটা সম্পর্কেও জড়িয়েছিলাম। কিন্তু মাত্র মাসখানেক চলে তা। এরপর আমি সবটা শেষ করে ফিরে আসি।”
“সম্পর্ক শেষ করার কারণ কী ছিল?”
রিকার্দোর এমন প্রশ্নে মায়া খানিকটা বিভ্রান্তিতে পড়ে। অতীত স্মরণ হতেই তার সমস্ত দেহে ভয়ের এক অদ্ভুত উত্তপ্ত স্রোত বয়ে যায়। দৃষ্টি বাহিরের দিকে ফিরিয়ে মায়া জবাবে বলে‚
“এমনি। অনুভূতি শেষ হয়ে গিয়েছিল।”
রিকার্দো মায়ার দিকে ফিরে তাকায়। বৃদ্ধাঙ্গুলের নখ কামড়াচ্ছে সে। ঘন ঘন চোখের পলক ফেলছে। সে যে সত্য লুকাচ্ছে তা রিকার্দো বেশ বুঝতে পারলেও তাকে চাপ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আবারও ক্ষণিকের নীরবতা। এবারের নীরবতাও রিকার্দো-ই ভাঙে। আকস্মিক প্রশ্ন করে বসে‚
“বিয়ে করবে আমাকে?”
চমকে উঠে মায়া। এমন কিছুর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না সে। এতটা সহজে এবং সোজাসাপটাভাবে এমন প্রশ্ন করা যায়? বিস্ফোরিত চোখে সে রিকার্দোর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে‚
“তুমি রসিকতা করছ?”
মায়ার চোখে চোখ রেখে গম্ভীর অভিব্যক্তিতে ডানে বামে মাথা নাড়ে রিকার্দো।
“না। একদম না। আমি সত্যি সত্যি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। যদি তোমার কোন আপত্তি না থাকে।”
মায়া অনুভব করে তার হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। আনন্দ বা লজ্জাতে নয়। বরং ভয়ে।
রিয়নের ভয়।
সে নিঃশব্দে রিকার্দোর থেকে চোখ সরিয়ে নেয়। কিন্তু রিকার্দো দমে যায় না,
“তোমার আশাতীত মান অনুযায়ী কোন ঘাটতি আছে আমার মাঝে?”
“না। ঘাটতি নেই তোমার মাঝে,” মায়া নিচু স্বরে জবাব দেয়। দীর্ঘশ্বাস লুকানোর বৃথা চেষ্টা করে। “বিষয়টা বেশ জটিল‚ ফারাজ। আমি পা—।”
মায়ার কথা মাঝ থেকে কেটে নিয়ে রিকার্দো বলে‚ “আমার তোমাকে পছন্দ। তোমার সকল চাহিদা মেটানোর মতো সামর্থ্য আমার আছে। আভিয়ান‚ রিদি‚ আঙ্কেল-আন্টির সাথেও আমিই কথা বলব। তুমি শুধুমাত্র হ্যাঁ বলে দাও।”
“কিন্তু রিকার্দো‚ তুমি বুঝতে পারছ না। আমার সাথে তুমি নিজেকে জড়ালে তোমার—।”
আবারও কথার মাঝে বাধা সৃষ্টি করে রিকার্দো প্রশ্ন করে‚ “বিপদ হতে পারে? পরোয়া করি না। সামলে নিব।”
মায়া নিশ্চুপ হয়ে যায়। রিকার্দো কি রিয়নের উপর ক্ষোভ ও জেদ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে? বুঝতে পারছে না মায়া। কোনটা সঠিক , কোনটা ভুল তাও চিন্তা করতে পারছে না সে। শুকনো ঢোক গিলে সে।
“মায়া‚ রাজি হয়ে যাও। আমি তোমার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব। রিয়নের ছায়াও তোমার আশেপাশে পড়বে না।”
মায়া রিকার্দোর দিকে ফিরে তাকায়। এমন নিশ্চয়তায় সন্দিহান হয় সে। রিকার্দো সম্পর্কে সেদিন রাতে রিয়নের প্রতিটি কথা স্মরণ হতে থাকে তার। কে রিকার্দো?
তাড়াহুড়োতে সিদ্ধান্ত সে নিবে না। আবারও অনাকাঙ্ক্ষিত ও স্থায়ী বিপদের সাথে সে নিজেকে জড়াবে না। ভিন্ন দিকে তাকিয়ে সে জবাবে বলে‚
“আমার সময়ের প্রয়োজন।”
রিকার্দো মাথা নাড়ায়। সেও সামনে ফিরে তাকায়। মায়ার এমন জবাব তার পছন্দ হয়নি। একই দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে সে প্রশ্ন করে‚
“কতদিন?”
“জানি না।”
“অবহেলা করার দুঃসাহস করো না। আমি ইচ্ছা করলে আভিয়ান‚ আঙ্কেল-আন্টি সবাইকে মানিয়ে তোমায় জোরপূর্বক বিয়ে করতে পারি‚ মায়া।”
কপাল কুঁচকে রিকার্দোর দিকে তাকায় মায়া‚ “হুমকি দিচ্ছ?”
“না।” রিকার্দো নিজেও মায়ার দিকে ফিরে তাকায়। তার দৃষ্টি কঠিন। কণ্ঠ অত্যন্ত গম্ভীর। সে এর আগে মায়ার সাথে এমন আচরণ করেনি। “শুধুমাত্র জানাচ্ছি। ৩ দিন সময় দিচ্ছি তোমায়। জবাব না পেলে বাকি ব্যবস্থা আমি নিজেই করব।”
নির্বাক মায়া শুধুমাত্র তার দিকে তাকিয়ে থাকে। এ কোন মহাবিপদের মধ্যেখানে ফেঁসে গেল সে? একজন কি যথেষ্ট ছিল না? এখন আবার আরো একজন? ভাবছে সে।

📌: এটা ই-বুক (ফ্রি)। সুতরাং সম্পূর্ণ গল্প ফেসবুকে দেওয়া হবে না। প্রথম ২৬টা পর্বের মতো আসবে (রেসপন্সের উপর ডিপেন্ডেড)। এপে অলরেডি ৩০+ পর্ব আছে৷ বিনামূল্যে পড়ে ফেলুন। সম্পূর্ণ উপন্যাসের ফ্রি ই-বুক লিংক প্রথম কমেন্টে।
চলবে......
যে বা যারাই পড়বেন, রেসপন্স করার অনুরোধ। রেসপন্স ভালো আসলে সম্পূর্ণ উপন্যাস ফেসবুকে আসতে পারে।
পাপড়ির পাঠকগণ, নতুন পর্ব এসেছে এপে।

02/10/2025

আসসালামু আলাইকুম।
পোস্টটা যাদের সামনে যাবে কাইন্ডলি একটু রেসপন্স করবেন।

📌: #সন্ধ্যাবন্দনা—১১তম পর্ব রাতে আসবে। আর এপেও নেক্সট পার্ট আসবে আজ ইনশাআল্লাহ।

 #সন্ধ্যাবন্দনা—১০ ুক্তি [📌: সকল প্রকার কপি-পেস্ট‚ কাহিনি থেকে ধারণা/আইডিয়া কপি করা নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে লিংক শেয়ার করুন।]দ...
30/09/2025

#সন্ধ্যাবন্দনা—১০
ুক্তি
[📌: সকল প্রকার কপি-পেস্ট‚ কাহিনি থেকে ধারণা/আইডিয়া কপি করা নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে লিংক শেয়ার করুন।]
দশ।

রাত ১০টা অতিক্রম করেছে। অফিস শেষে রিকার্দো বাড়ির উদ্দেশ্যে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল। বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় কিছু রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাফের মালিক সে। যেগুলোর শাখা দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
প্রফুল্লমনে গান শুনতে শুনতে সে নিরাপদে বাড়ি এসে উপস্থিত হয়েছে। গ্যারেজে গাড়ি রেখে সে বাড়ির পেছনের দিককার উঠানে ক্ষণিকের জন্য দাঁড়ায়। আকাশে চাঁদ নেই। অমাবস্যা। দুই ঠোঁটের মাঝে সিগারেট রেখে তা জ্বালিয়ে একটানে খানিকটা তামাক পুড়া ধোঁয়া টেনে নেয়। মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকার পরিবেশে সেই ধোঁয়া মিলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তামাক পোড়ার গন্ধ ঠিক থেকে যাচ্ছে। খানিকটা দূরে এক মানব ছায়া দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার কপাল কুঁচকে আসে। দীর্ঘ কয়েক ফুঁকে সিগারেট শেষ করে রিকার্দো সেদিকটায় এগিয়ে যায়।
গলার স্বর উঁচিয়ে সে প্রশ্ন করে‚ “কে ওখানে?”
প্রত্যুত্তরে প্রথমে সে শিস বাজানো শুনতে পায়৷ যেন মানব ছায়াটা পোষা কুকুরকে ডাকছে।
“তোর জাত শত্রু।”
মুহূর্তে ক্ষিপ্ত হয় রিকার্দো। দুপাশে শূন্যে ঝুলন্ত হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আসে তার। তা দেখে রিয়ন ব্যাঙ্গাত্মক বাঁকা হাসিতে দুই কদম এগিয়ে আসে। বিদ্রূপাত্মক সুরে প্রশ্ন করে‚
“আরে! টমির রাগ হচ্ছে?” রিকার্দোর দুই গালে মৃদু আঘাতে চড় দিয়ে আরো যুক্ত করে‚ “দাঁত কোথায় তোমার‚ টমি? গর্জন করছ না কেন?”
রিকার্দো জবাব দেয় না। মন-মস্তিষ্কে তার বহু প্রশ্ন। কিন্তু ক্রোধানলে সব ভস্ম হচ্ছে। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রিকার্দো মুষ্টিমেয় ডানহাতে রিয়নকে ঘুষি দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু রিয়ন তার তুলনায় দ্রুত। তার আঘাত রিয়নকে স্পর্শও করতে পারে না। সে খানিকটা পেছন দিকে পিঠ বাঁকিয়ে রিকার্দোর আঘাতকে অনায়াসে প্রতিহত করে৷ আবারও একই হাসিতে সে প্রশ্ন করে‚
“এতো মন্দগতি? কুকুরের মালিক কি তাকে পর্যাপ্ত মাংস খেতে দেয় না?”
দাঁতে দাঁত চেপে কিড়মিড় করতে থেকে রিকার্দো পালটা প্রশ্ন করে‚ “তুই বাংলাদেশে টিকে আছিস কীভাবে?”
“এর তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আমি তোর কাছে কী কারণে এসেছি।” রিকার্দোর দিকে আবারও এগিয়ে আসে রিয়ন। হাত নাড়িয়ে বলে‚ “কর‚ কর। এই প্রশ্ন কর৷ আমি জবাব দেওয়ার জন্য ছটফট করছি।”
“কী কারণে এসেছিস?”
রিকার্দো যখন রিয়নের কথানুযায়ী প্রশ্নটি করল তখন রিয়ন সন্তোষজনকভাবে হাসল। নিজের অবস্থানে ফিরে গিয়ে রিকার্দোর দিকে তাকিয়ে বিদ্রূপাত্মক সুরে জবাব দিল‚
“তোর হাতটা আমার খুব পছন্দ হয়ে। হাতটা আমার চাই।”
তাচ্ছিল্যভরে হেসে উঠে রিকার্দো।
“নেকড়ের অঞ্চলে এসে আলফাকে হুমকি! চেষ্টা করে দেখ।”
“চেষ্টা করতে আসিনি। নিতে এসেছি।”
কিছু বুঝে উঠার আগে রিয়নের অভিব্যক্তির পরিবর্তন হয়। রিকার্দো কোন প্রতিক্রিয়া করতে পারবে তার পূর্বে রিয়ন পৈশাচিক শক্তিতে তার ঘাড় চেপে ধরে সজোরে মাটিতে আছড়ে ধরে৷ থমকে থাকে না রিকার্দো। পৈশাচিক শক্তি এসে ভর করে তার শরীরেও। চোখজোড়া রক্তিম হয়ে উঠলে দৈহিক আকারের পরিবর্তন ঘটে। রূপ নেয় কালচে লোমশ দানবীয় নেকড়ে মানবের। গর্জন করে উঠে রিকার্দো৷ তার গর্জন শুনে বাড়ির ভেতর থেকে একসাথে ছুটে আসে সাত-আটজনের একটি দল। রিয়নের উপস্থিতিতে তাদের মাঝেও পরিবর্তন বয়ে আনে। ক্ষিপ্ত হয়ে অর্ধপাশবিক রূপে গর্জন করতে আরম্ভ করে।
তা দেখে রিয়ন থুতনির দিকে ঠোঁট উলটে বলে উঠে‚
“উপস!”
_____________
ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে ওয়াশরুমে মায়া হাত-পা ধুয়ে নিচ্ছে। তার পাশেই রিদি দাঁড়িয়ে আছে। সারাদিন ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা তাকে শুনাচ্ছে। খানিকটা লাজুক অভিব্যক্তি তার। মায়া তার প্রতিটি কথা মনোযোগ সহকারে শুনছে। কোথাও হাসছে‚ কোথাও মাথা নেড়ে সায় দিচ্ছে আবার কোথাও মতের বিরোধিতা করছে।
রুমে ফিরে এসে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে থেকে মায়া রিদিকে প্রশ্ন করে‚
“ছেলের নাম যেন কি বললে?”
কিছুটা লাজুকভাবে রিদি জবাবে বলল‚ “ফয়সাল চৌধুরী।”
মায়া নিরবে হাম্ তুললো। দৃষ্টি তার নিজের পায়ের দিকে। পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে থেকে সে কিছু ভাবল।
“ছবি আছে?”
“হ্যাঁ‚ আছে তো। কেন? দেখবি?”
রিদি মায়ার জবাবের অপেক্ষা করল না। দ্রুত হাতে নিজের মোবাইল ফোনটা উঠিয়ে গ্যালারিতে সেকেন্ড কয়েক ঘাটাঘাটি করল। এরপর একটি ছেলের ছবি বের করে মায়ার দিকে এগিয়ে দিল। মায়া বেশ খানিকক্ষণ মনোযোগ সহকারে ছেলেটার ছবি দেখল। এরপর অনাগ্রহ প্রকাশে বলল‚
“এই প্রস্তাবে মত না দেওয়াটাই ভালো হবে। সুবিধার মনে হচ্ছে না।”
রিদি কপাল কুঁচকালো। একবার ছবির দিকে তাকিয়ে আবারও মায়ার দিকে তাকাল সে। মায়ার জবাবে সে কিছুটা বিভ্রান্ত।
“মানে? তুই সামান্য ছবি দেখে কীভাবে বলতে পারিস সুবিধার নয়?”
মায়ার ঠোঁটের কোণা অলক্ষ্যে প্রশস্ত হলো। বালিশ ঠিক করতে করতে বলল‚ “আমি তো শুধুমাত্র আমার মতামত জানালাম। বেশ‚ উপদেশ বলতে পারো। বাকিটা তোমার উপর নির্ভর করে। কারণ জীবন তোমার। জীবনসঙ্গীও তোমার হবে।”
রিদি কোন জবাব দেয় না। নির্বাক ও বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে মায়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। মায়া একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানার দিকে ইশারা করে আবারও বলে‚
“রাত অনেক হয়েছে। এখন ঘুমান‚ ম্যাডাম।”
রিদি সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে। বাতি নিভিয়ে মায়ার পাশে শুয়ে পড়ে। খানিকক্ষণের নিরবতা। রিদি মায়ার দিকে তাকিয়ে থাকলেও মায়া কপালে এক হাত ঠেকিয়ে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছে৷
“তুই এমনটা কেন বললি?”
আবারও হাম্ তুলে মায়া রিদির দিকে তাকায়। মুচকি হেসে জবাবে পালটা প্রশ্ন করে‚
“ছেলেটাকে ভালো লেগেছে তোমার?”
রিদি এবারও সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে। অকাতরে মায়ার জবাবের অপেক্ষা করে।
“ভেবে চিন্তে‚ সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিও। এটা সম্পূর্ণ জীবনের বিষয়। লম্বা যাত্রা। ক্ষণিকের না। প্রয়োজনে লোকটাকে কিছুদিন যাচাই করো।”
রিদি মায়ার কথার অর্থ এবং ইঙ্গিত বুঝতে পারে। সে আর কোন কথা বাড়ায় না। অসুস্থতার কারণে ঔষুধ সেবন করায় ক্ষণিকের ভেতর তার চোখজোড়া ঘুমের কারণে ভারী হয়ে আসে। ঘুমিয়ে যায় সে।
“তোমায় স্পর্শকারী সকলের পরিণতি এমন অথবা এর থেকেও ভয়ঙ্কর হবে।”
নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মায়া। তার মস্তিষ্ক জুড়ে শুধুমাত্র এই একটি কথার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। কারণ অজানা। ঢোক গিলে গলা ভেজানোর চেষ্টাতে ব্যর্থ হয় সে। উঠে বসে পাশের টেবিল থেকে পানি পান করে।
হঠাৎ এক আতঙ্ক তাকে ঘিরে ধরে। তার স্মরণ হয় রিকার্দোর কথা। সেদিন রিকার্দো তাকে বিভিন্ন কারণে-অকারণে স্পর্শ করেছিল। রিয়ন তার কোন ক্ষতি করবে না তো?
হৃদস্পন্দন স্পষ্টত অস্বাভাবিক হয়ে উঠে তার। ঘাড় বাঁকিয়ে ঘুমন্ত রিদির দিকে তাকায় সে। নিঃশব্দে নিজের মোবাইল উঠিয়ে নিয়ে সে নিজের রুম থেকে বারান্দায় চলে যায়। কনটাক্ট লিস্ট খুঁজে রিকার্দোর নাম্বার বের করে অবিলম্বে তাকে কল করে। কল হচ্ছে‚ কিন্তু রিসিভ করা হলো না। বিরক্তবোধ করে মায়া। রিকার্দো কি এত দ্রুত ঘুমিয়েছে? সে আরো কয়েকবার তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে।
একই স্থানে থমকে দাঁড়িয়ে মেঝের অনির্দিষ্ট স্থানে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকল সে। এরপর কল লিস্ট থেকে রিয়নের নাম্বার বের করে নিল। আজ অবধি বেশ অনেকবার রিয়ন তার সাথে যোগাযোগ করতে কল করেছিল। কিন্তু মায়া তাকে উপেক্ষা করেছে। এক পর্যায়ে নাম্বার ব্লকও করেছিল। ভাগ্যবশত তা মুছে দেয়নি।
আকম্পিত আঙুল মোবাইলের স্ক্রিনে স্পর্শ করে রিয়নকে কল করে। তার মনে বাসা বাঁধা ভয় আরো দ্বিগুণ রূপ ধারণ করে যখন সে উপলব্ধি করে রিয়ন নিজেও কল রিসিভ করছে না। যতটুকু সে রিয়নকে জানে এভাবে তার কল এড়িয়ে চলার পাত্র রিয়ন নয়। যতো ব্যস্ততা হোক বা গভীর রাত।
_____________
লড়াইয়ের চরম মুহূর্ত। ‘ডার্ক হাউল’ নামক নেকড়ে মানবের যে দল‚ সেই দলের সকল সদস্যরা একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। পাশবিক চাপা গর্জন করে চলেছে। লড়াইয়ে কোনপ্রকার অংশ নিচ্ছে না তারা। কারণ এটা তাদের আলফার আদেশ।
নেকড়ে রূপী রিকার্দো এবং রক্তচোষা রিয়নের মাঝে লড়াই চলছে। একে অপরকে নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করছে। রক্তাক্ত হচ্ছে উভয়ে। আশেপাশে যতপ্রকার ছোট ও মাঝারি আকৃতির গাছপালা ছিল সব দুমড়েমুচড়ে প্রায় মাটির সাথে মিশেছে।
এক পর্যায়ে রিকার্দো রিয়নকে নিজ থাবার নিচে চেপে ধরতে সফল হয়। প্রচণ্ড উত্তেজনা এবং শক্তি ব্যয়ের কারণে সে হাঁপাচ্ছে। তার প্রতিটি উত্তপ্ত শ্বাস-প্রশ্বাস যেন ছোটখাটো ঝড়। একই অবস্থা রিয়নের ক্ষেত্রেও।
রিকার্দো প্রাণনাশক চূড়ান্ত আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হয়।
“হিহিহি‚ তুমি বেশ সুদর্শন।” আকষ্মিক এক পরিচিত কণ্ঠস্বর অভদ্রভাবে তার চিত্ত বিক্ষিপ্ত করে। ঘাড় বাঁকিয়ে শব্দের উৎস খোঁজার চেষ্টা করে সে। আবারও ভেসে আসে‚
“বেলুনের মতো ফেঁপে উঠো না যেন। বাংলা ভাষায় ‘সুদর্শন’ এর আরেক অর্থ গোবরে পোকা।”
অদূরেই পিষে যাওয়া ঘাসের উপর একটি মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখে সে। মেয়েলি কণ্ঠস্বরটি সেই ফোন থেকেই ভেসে আসছে। কৌতূহল‚ ভয় এবং সন্দেহের মিশ্রিত এক অদ্ভুত অনুভূতিতে রিয়নকে নিজ থাবা থেকে মুক্ত করে মোবাইলের দিকে এগিয়ে যায়। রিকার্দোর এমন কাজে রিয়ন অস্ফুটভাবে একগাল হেসে উঠে।
কণ্ঠটার মালকিন মায়া। যখন স্ক্রিনে ‘মন-ময়ূরী’ নামে তার কনটাক্ট নাম্বারের ১১টি সংখ্যা স্পষ্ট দেখতে পায় তখন চাপা গর্জনে রিকার্দো প্রশ্ন করে‚
“মায়ার নাম্বার তোর কাছে কীভাবে?”
ইতোমধ্যে কিঞ্চিত শান্ত হয়ে উঠেছে রিকার্দো। মনুষ্য রূপে ফিরে এসেছে সে। কুঁজো হয়ে মাটি থেকে ফোন উঠিয়ে কুঞ্চিত ভ্রূতে আবারও প্রশ্ন করল‚ “ওর সাথে তোর কিসের সম্পর্ক?”
সুযোগের সদ্ব্যবহার করে রিয়ন। রিকার্দো কিছু বুঝে উঠার আগে সে পাশ থেকে ভাঙা গাছের ডাল কুড়িয়ে বিঁধিয়ে দেয় তার ডান বাহুতে। যন্ত্রণায় মৃদু চিৎকার করে উঠে রিকার্দো। হাঁটু ভেঙে আসে তার। মাটির উপর নতজানু হয় সে। ডার্ক হাউল দলের অন্যন্য মানব নেকড়ে নিজেদের আলফাকে সাহায্য করতে অগ্রসর হয়। কিন্তু দলনেতার পরবর্তী শক্ত অবস্থান দখলকারী বেটা হাত বাড়িয়ে তাদের নিষেধ করে। কোন মূল্যে দলনেতার আদেশ অমান্য করা যাবে না।
রিকার্দোর হাত থেকে ফোন নিচে পড়ে যায়। কিন্তু মাটি স্পর্শ করার আগে রিয়ন তা ধরে ফেলে। মুখ ভর্তি রক্ত মাখা থুতু ফেলে রিয়ন কল রিসিভ করে কোমলভাবে হাসে।
“কল করার আর ভালো সময় পেলে না‚ মন-ময়ূরী? এত ভালো একটা ম্যাচ উপভোগ করছিলাম।”
রিয়নের জবাব শুনে যে মায়ার হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়েছে তা সে মায়ার নীরবতা থেকে বেশ বুঝতে পারছে। অতঃপর নীরবতা ভেঙে মায়া প্রশ্ন করে‚
“কোথায় তুমি?”
“ওহ… আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর সাথে আছি। তুমি তাকে চেনো।”
“তোমার বন্ধুকে আমি কীভাবে চিনব? আর বাংলাদেশে তোমার মতো পিশাচের বন্ধু হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।”
চাপা গর্জনে এবং কোঁকানিতে রিকার্দো নিজ বাহুতে বিঁধে থাকা গাছের ডালটি বের করার চেষ্টা চালাতে থাকে। রিয়ন তা দেখে তাচ্ছিল্য করে মায়াকে জবাবে জানায়‚
“আমি নিশ্চিত‚ তার নাম রিকার্দো গ্রে’সান।”
মায়া যেই শঙ্কায় ছিল তাই যেন সত্য হলো। বিস্ফোরিত চোখে সে অনুভব করল আতঙ্কে তার শরীর আকম্পিত হচ্ছে। ভয়ার্ত কণ্ঠে হুমকি দিয়ে বলল‚
“তুমি ওর কোন ক্ষতি করার কল্পনাও করবে না‚ রিয়ন।”
“না। সেটা কেন করব। আমি তো কোন কল্পনা করি না। মন-ময়ূরী, তুমি তো আমাকে সবচেয়ে ভালোভাবে জানো।”
রিয়নের এমন জবাবের পেছনে লুকায়িত অর্থ মায়া বেশ বুঝতে পারল। সে শুকনো ঢোক গিলে প্রসঙ্গ এবং রিয়নের মনোযোগ পালটাতে বলল‚
“আমার সাথে এক্ষুণি দেখা করো। বাড়ির পেছন দিকটায় অপেক্ষা করছি আমি।”
আনন্দিত হয়ে উঠে রিয়ন। দুই জোড়া সূঁচালো দাঁত সম্পন্ন দু’পাটি দাঁত বের করে হেসে বলে‚ “যথাজ্ঞা‚ মহারাণী।”
কল কেটে দেয় রিয়ন। রিকার্দো ততোক্ষণে নিজের বাহু থেকে সফলভাবে ডালটি বের করে নিতে পেরেছে। শুধু তাই নয়। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে চেয়েছিল সেও। কিন্তু রিয়নের হৃৎপিণ্ড বরাবর সেই ডাল বিঁধিয়ে দিতে ব্যর্থ হয় সে। সময়মতো প্রতিহত করে রিয়ন দাম্ভিকতার হাসি হাসে।
“কতোটা বোকা তুই! আমার পদক্ষেপ আমার উপরই প্রয়োগ করতে চাচ্ছিস?”
রিকার্দো তার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি ঘটায়‚ “মায়ার সাথে তোর কিসের সম্পর্ক?”
রিয়নের কণ্ঠে তাচ্ছিল্যতা। সে বিরক্তিকর অর্থহীন শব্দ উচ্চারণ করে মাথা নাড়ায় । শয়তানসুলভ হাসিতে সে জবাব দেয়‚
“তোকে বলা যাবে না। এটা খুব ব্যক্তিগত এবং গভীর সম্পর্ক।”
রিয়ন সঙ্কেতপূর্ণ চাহনিতে মৃদু শব্দে হেসে উঠে। সে রিকার্দোর বাম হাত মুচড়ে তার পেছনের দিকে টেনে ধরে। আবারও চাপা গর্জন করে উঠে সে,
“ভেবেছিলাম মায়ার কথানুযায়ী তোকে ছেড়ে দিব। কিন্তু খুব সম্ভবত সেটা তোর অপছন্দনীয়। মেয়েটা তোর জন্য কতো ভাবে! আফসোস‚ তার ভাবনার মূল্য দিলি না।”
রিয়ন আরো শক্তি প্রয়োগ করে রিকার্দোর হাত টেনে ধরলে তা কটমট শব্দ করে উঠে। ব্যথায় রিকার্দো চোখ বন্ধ করে চিৎকার করে উঠে।
“হাতটা নিচ্ছি না। কিন্তু তোর ব্যবহারের উপযোগীও থাকতে দিচ্ছি না। দ্বিতীয় বার আমার মায়াকে স্পর্শ করার স্পর্ধা করিস না। দলের আলফা থেকে ভস্মীভূত হতে সময় লাগবে না।”
রিয়ন রিকার্দোকে ধাক্কা দিলে সে মুখ থুবড়ে মাটির উপর পড়ে যায়। প্রস্থান ঘটে রিয়নের। এক হাতে গভীর ক্ষত এবং অপর হাতের হাড় ভাঙা। নিজেকে দুর্বল ব্যতীত অন্য কিছুই মনে হচ্ছে না তার। ডার্ক হাউল দলের বেটা এগিয়ে এসে রিকার্দোকে সামলানোর চেষ্টা করে।

📌: এটা ই-বুক (ফ্রি)। সুতরাং সম্পূর্ণ গল্প ফেসবুকে দেওয়া হবে না। প্রথম ২৬টা পর্বের মতো আসবে (রেসপন্সের উপর ডিপেন্ডেড)। এপে অলরেডি ৩০+ পর্ব আছে৷ বিনামূল্যে পড়ে ফেলুন। সম্পূর্ণ উপন্যাসের ফ্রি ই-বুক লিংক প্রথম কমেন্টে।

চলবে......

যে বা যারাই পড়বেন, রেসপন্স করার অনুরোধ। রেসপন্স ভালো আসলে সম্পূর্ণ উপন্যাস ফেসবুকে আসতে পারে।

নেক্সট ছোটগল্প(৭ হাজার শব্দ হলে)/ উপন্যাসিকার (৭ হাজার শব্দের বেশি হলে) নাম  #নীলাভ_অনুরাগ। আজ থেকে লেখা শুরু করব। আগামী...
29/09/2025

নেক্সট ছোটগল্প(৭ হাজার শব্দ হলে)/ উপন্যাসিকার (৭ হাজার শব্দের বেশি হলে) নাম #নীলাভ_অনুরাগ। আজ থেকে লেখা শুরু করব। আগামী মাসে সম্পূর্ণটা Papri এপে আসবে ইনশাআল্লাহ।
এই গল্পটাও #আইসক্রিম গল্পের মতো হবে। রোমান্টিক। এরপর #যে_পাখি_নীড়_ভেঙেছে গল্পের হ্যাপি এন্ডিং এর গল্পটা লিখব। মানে সিজন ২ও বলতে পারেন।
সেই সাথে #সন্ধ্যাবন্দনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। আসলে মেসেঞ্জার গ্রুপে জানিয়ে দিব।

 #সন্ধ্যাবন্দনা—০৯ ুক্তি [📌: সকল প্রকার কপি-পেস্ট‚ কাহিনি থেকে ধারণা/আইডিয়া কপি করা নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে লিংক শেয়ার করুন।]ন...
29/09/2025

#সন্ধ্যাবন্দনা—০৯
ুক্তি
[📌: সকল প্রকার কপি-পেস্ট‚ কাহিনি থেকে ধারণা/আইডিয়া কপি করা নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে লিংক শেয়ার করুন।]
নয়
সকাল সকাল ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে মায়া প্রস্তুত হয়ে নেয়। প্রয়োজনীয় সবকিছু ব্যাগে গুছিয়ে নিয়েছে সে। এরপর ঘুমন্ত রিদিকে বিছানায় রেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরে। চাবি ঘুরিয়ে গাড়ির ইঞ্জিন চালু করতেই মৃদু কম্পনে গাড়ি রাস্তায় নামিয়ে চালাতে থাকে সে। নিজের বাড়ি ফিরে যাচ্ছে সে। অতিথির মতো ‚ না জানিয়ে। সারাদিন এবং রাত সেখানেই থাকবে।
দুপুরের পর রিদিকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে। গতরাতে নূরজাহান বেগম মায়াকে গোপনে জানিয়ে রেখেছিলেন। এবং সে নিজের দায়িত্ব অনুমানও করতে পেরেছিল। একদিনের জন্য তাকে রিদিদের বাড়ি থেকে দূরে থাকতে হবে।
চারপাশের অন্ধকার কেবলমাত্র বিলীন হতে শুরু করেছে। পূবের আকাশের মেঘগুলোর বিবর্ণ রঙ রঙিন হতে আরম্ভ করেছে। ভোরবেলা হওয়ায় পথে তেমন একটা গাড়ি নেই। ব্যস্ততা শুরু হওয়ার সময় এখনও হয়ে উঠেনি। ধীরে ধীরে গাড়ি চালাচ্ছে সে।
‘ঐ বাঁশি কি বিষের বাঁশি—তবু কেনো ভালোবাসি,
লগ্ন ভোরে আড়াল থেকে—দেখেছি পোড়া হাসি।’
অট্টালিকা পূর্ণ অঞ্চল থেকে গজারবনের জঙ্গলে গাড়ি চালালে শুনশান পরিবেশে মায়া গান চালু করে দেয়। গানের তালে তালে সে গুনগুনও করছে। মাঝের কিছু কিছু পঙক্তি তাকে খুব আকৃষ্ট করে। শুনতে খুব ভালো লাগে।
আকষ্মিক বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বাইক তার গাড়ির সামনে চলে আসায় তাকে ব্রেক চাপতে হয়। এতে সে খানিকটা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মাথায় স্টিয়ারিং হুইলের আঘাত লাগবে লাগবে করেও লাগেনি। উন্মুক্ত চুলগুলো মুখমণ্ডলের দুইপাশে নেমে এসেছে।
ভয়ে হৃৎস্পন্দন বেড়ে গিয়েছে তার। দ্রুত দরজা খুলে নেমে গাড়ির সামনের দিকে এগিয়ে যায় সে। রাস্তায় বাইক দেখা যাচ্ছে না। পাশ কাটিয়ে ঝোপঝাড়ে গিয়ে পড়েছে। কিন্তু চালক তার গাড়ির সামনে রাস্তায় আধশোয়া অবস্থায় পড়ে আছে। মায়াকে না দেখে নিজে নিজে উঠে বসে রাগান্বিত কণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠে সে‚
“আরেহ অন্ধ নাকি? গাড়ি চালাতে না পারলে রাস্তায় কেন আসো? বাসায় খেলনা গাড়ি নিয়ে খেলতে পার না?”
সাহায্য করতে এসে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে এসে এসব কথাবার্তা শুনে মায়ার নরম মন-মেজাজ মুহূর্তে অগ্নি লাভায় পরিণত হয়। লোকটাকে সাহায্য না করে সে তুড়ি বাজিয়ে বলে উঠে‚
“এই যে অসভ্য‚ নির্বোধ লোক কোথাকার। কি মনে করেন নিজেকে? আপনি এত ভালো বাইক চালাতে পারলে রং সাইডে কেন গাড়ি চালাচ্ছিলেন? তাও আবার অতিরিক্ত গতিতে।”
রাস্তায় বসে থাকা রিয়ন অপ্রত্যাশিত কণ্ঠস্বর শুনে চমকে উঠে। ঘাড় বাঁকাতেই মায়ার রাগান্বিত মুখমণ্ডল দেখতে পায় সে। এতো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি!
হেলমেট পরিহিত অবস্থায় তার সমস্ত মুখমণ্ডল জুড়ে তুষ্টির এক হাসি ছড়িয়ে পড়ে। সে বেশ মনোযোগ সহকারে মায়ার রাগান্বিত কথাগুলো শুনছে।
মায়া নিজের চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে আরো বলল‚
“বাইক পেয়ে কি নিজেকে পাইলট ভেবে বসেছেন? নাকি সড়কটা আপনার বাবার? বাঙালি জাতির এই এক সমস্যা। নিজের ভুলের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে অন্যেরটা খুঁজে বেড়ায়। আমাকে বাড়ি বসে খেলনা গাড়ি দিয়ে খেলতে বলছেন! আপনার স্পর্ধা দেখে আমি হতবাক।”
রিয়ন গালে হাত দিয়ে পা গুছিয়ে সেখানে আরো আরাম করে বসে। জবাবে নরম কণ্ঠে বলে‚
“হতবাক হলে এত কথা কোথা থেকে আসছে? তাছাড়া আমি তো বাঙালি নই‚ মন-ময়ূরী।”
তাকে সম্বোধনের জন্য ব্যবহৃত নাম শুনে স্তব্ধ হয় মায়া। তার মাঝের রাগ কোথাও বিলীন হতে আরম্ভ করেছে। রাগের পরিবর্তে এক পরিচিত ভয় তাকে আকৃষ্ট করছে। মায়ার স্তব্ধতায় রিয়ন আবারও প্রশ্ন করে‚
“কি হলো? শেষ? ভালোই তো লাগছিল শুনতে। নাকি গলা শুকিয়ে গেছে? পানি এনে দিব?”
কম্পিত হাত দুটো এগিয়ে মায়া ধীরে ধীরে হেলমেট খুলে নেয়। পরমুহূর্তে রিয়নের সস্মিতপূর্ণ মুখমণ্ডল দেখামাত্র সেই হেলমেট হাত থেকে পড়ে যায়। কিন্তু মাটি স্পর্শ করার আগে রিয়ন তা ধরে ফেলে।
“আরে‚ সাবধানে। ভেঙে ফেলবে তো।”
চোখ তুলে আবারও মায়ার দিকে তাকায় সে।
“মনে হচ্ছে একটু বেশি অভিঘানিত তুমি। রক্তচাপ কি বেড়ে গেল? বসো‚ বসো। আমার সামনে একটু বসে নিজেকে শান্ত করো। এক অজুহাতে মাঝ রাস্তায় প্রেম বিনিময়ও হয়ে যাবে।”
শুকনো ঢোক গিলে মায়া পেছনে ছুটে যায়। গাড়ির ভেতর চড়ে দরজা লাগিয়ে বন্ধ ইঞ্জিন চালু করে নেয়। রিয়ন তখনও নিজের অবস্থানে স্থির। শুধুমাত্র কালো গ্লাব্স পরিহিত হাত দুটো তার পেছনের দিকে পিচ ঢালা রাস্তার উপর ঠেকানো।
তার চাহনিতে মায়া একটি চ্যালেঞ্জ দেখতে পায়। যেন সে মায়াকে তার উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছে। মায়া আবারও শুকনো ঢোক গিলে। শক্তভাবে একহাতে স্টিয়ারিং হুইল চেপে ধরে। সে জানে তাকে ভীরু বলে আখ্যা করা হবে । তবুও গতি বাড়িয়ে সে রিয়নের পাশ কাটিয়ে দ্রুতবেগে গাড়ি চালিয়ে যায়।
পেছন দিকে ঘাড় ঝুলিয়ে দিয়ে মৃদু শব্দে রিয়ন হেসে ওঠে। যেন সে মায়ার ঠিক এই কাজটার প্রত্যাশায় ছিল।
_________
মায়া বছর খানেক আগে নিজ পিতৃনিবাস ছেড়েছিল। চিরস্থায়ী ভাবে না। আবার অস্থায়ীভাবেও না।
শৈশবকালের স্মৃতি বিজড়িত গ্রামীণ পথঘাট নেই। বড়বড় অট্টালিকা এবং প্রশস্ত সড়ক দানবের মতো সব গিলে খেয়েছে। সবুজের ছোঁয়াও নেই। সেই নদী‚ সেই খাল-বিল‚ কাশফুলের চর‚ শস্যক্ষেত‚ সারি-সারি তালগাছ‚ দানবতুল্য বটগাছ‚ হিজলগাছ‚ তেঁতুল গাছ—ইত্যাদি সবকিছু কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে। গিলে খেয়েছে আধুনিকতা নামক নতুন যুগ।
অতিথির মতো মায়ার হঠাৎ আগমনে খাবার টেবিলে বসা পরিবারের সদস্যরা কিছুটা চকিত হলেও পরমুহূর্তে সকলে আনন্দিত হয়ে উঠে।
মাহতাব আলম হাত বাড়িয়ে পানির গ্লাস উঠিয়ে তা পান করে নেন। এরপর হাস্যোজ্জ্বল অভিব্যক্তিতে বলেন‚
“আমার মা এসেছে! ঠিক সময়ে আসছ। আসো‚ নাস্তা করে নেও। তোমার পছন্দের ভুনা খিচুড়ি করছে তোমার মা।”
সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই হাতের বামে মোড় নেয় মায়া। মাহতাব আলমের ব্যক্ততা শেষে সে তার দিকে ভ্রূকুটি করে তাকায়। অপ্রসন্নে সে জবাবে প্রশ্ন করে‚
“আমি তো কাউকে জানিয়ে আসিনি। তাহলে খিচুড়ি কার জন্য রান্না করা হয়েছে? আমার জন্য? আমার খাবারের পরিমাণ চাল দেওয়া হয়েছে ওতে?”
মাহতাব আলমের মুখের হাসি বিলীন হয়। অনুমান করতে পারলেন নিজ কন্যাসন্তানের মাঝে তার প্রতি জমানো ক্ষোভের অবসান ঘটেনি। মৌনাবলম্বনে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। নূর তা লক্ষ্য করল।
চাবি বের করে নিজের রুমের তালা খুলতে থাকা মায়াকে পিছু ডেকে নূর প্রশ্ন করে‚
“সকাল সকাল বাবার সাথে এভাবে কথা না বললে কি হতো না‚ মায়া? তোমার জন্মদাতা তো।”
পিছু ঘুরল না মায়া। উদাসীন হাবভাব তার।
“তুমি আছো তো‚ ভাবি। পুত্রবধু তো মেয়ে-ই। তাই না? তুমি ঠিকঠাক ব্যবহার করলেই চলবে। এই মেয়ের জন্য উনি এমনিতেও কখনো ভাবেননি।”
রুমের ভেতরে প্রবেশ করামাত্র সে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। দীর্ঘকাল বন্ধ থাকায় রুমটাতে ভ্যাপসা এক দুর্গন্ধ জন্ম নিয়েছে। সে পূবের জানালা খুলে দিয়ে খানিকটা পরিষ্কার করে এবং ফ্যান অন করে। ব্যাগ হাতড়ে সঙ্গে আনা এয়ার ফ্রেশনার বের করে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়।
দেহাভ্যন্তরে খাদ্য পরিপাকতন্ত্র খাবারের জন্য বিক্ষোভ শুরু করলেও মায়া তা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে শক্ত বিছানায় শুয়ে পড়ে। মাথার নিচে দুটো বালিশ। সেগুলোও শক্ত। যেন পাথরের তৈরি বিছানা এবং বালিশ। এরপর চোখ বন্ধ করতেই ক্ষণিক সময়ের ব্যবধানে সে ঘুম রাজ্যে বিচরণ করতে আরম্ভ করে।
___________
এদেশের আইন ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে একসময় মায়া নিজেই রিয়নকে বিস্তারিত জানিয়েছিল। সেই সুযোগকে সে বর্তমানে কাজে লাগাচ্ছে। খুব একটা সমস্যার সম্মুখীন তাকে হতে হচ্ছে না।
ন্যায্য দামের তুলনায় অধিক দাম দিয়ে সে চার বেডরুম বিশিষ্ট একটি দোতলা বাড়ি এবং আশেপাশের জমিটুকুও কিনেছে। জনবসতি থেকে দূরে এর অবস্থান। বাড়ির আশেপাশে বহুলাংশে অল্প বয়স্ক গাছগাছালি। অনেকটা জঙ্গলের মতো পরিবেশ। শুনশান পরিবেশ। থেকে থেকে বন্য পাখির ডাক ভেসে আসে কেবল।
স্বাস্থ্যবান সিংহাসনতুল্য আসনটাতে বসে আছে রিয়ন। তার সামনে মেঝেতে বসে আছে এক শ্যামবর্ণা। বয়সের দিক থেকে কিশোরী। বাম হাতটি রিয়নের দিকে বাড়ানো।
রিয়নের চোখজোড়া বন্ধ। শারিরীক উজ্জ্বলতা বিলীন হয়ে বর্তমানে ফ্যাকাশে হয়ে আছে। যেন কোন মৃতদেহ। একহাতে মেয়েটার হাত শক্ত করে চেপে ধরে রক্ত শুষে নিচ্ছে সে। সে অনবরত ঢোক গিলছে। মেয়েটার হাত থেকে রক্ত গড়িয়ে শুভ্র মেঝেতে জমছে। নিজ রক্ত তৃষ্ণা নিবারণে ব্যস্ত রিয়ন।
মেয়েটা ঠোঁটজোড়া একত্রে দুপাটি দাঁতের সারির মাঝে চেপে ধরে যন্ত্রণা সহ্য করে নিচ্ছে। কয়েক মুহূর্ত অতিক্রম হওয়ার পর পাশে বসে থাকা এলিথ শব্দ করে উঠে,
“এবার থামো‚ রিয়ন।”
কিন্তু রিয়ন থামে না। সে রক্ত নেশায় নিমজ্জিত। তার পৈশাচিক শক্তির নিকট মেয়েটা নিজের হাতটাও নাড়াতে পারছে না। রক্ত শুষে নেওয়ায় হাতটাও কেমন অসাড় হয়ে আসছে। কণ্ঠে খানিকটা কঠোরতা বজায় রেখে এলিথ আবারও বলে উঠে‚
“যথেষ্ট‚ রিয়ন। মেয়েটা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।”
অপ্রসন্নে রিয়ন থামে। মেয়েটার হাতের মাংস থেকে সূচালো দুই জোড়া দাঁত বের করে আনতেই সে ব্যথায় কোঁকিয়ে উঠে৷ তার অনুচ্চস্বরের কান্না শুনে রিয়ন দাম্ভিক সস্মিতে মেয়েটিকে মুক্ত করে দেয়।
“বাঙালি নারীর রক্তের স্বাদ বহু আগে একবার গ্রহণ করেছিলাম। ঐশ্বরিক সেই স্বাদ! তার রক্ত স্বাদের তুলনায় তোরটা অধিক নোনতা।”
সে ঠোঁটের আশেপাশে লেগে থাকা রক্ত তর্জনীর সাহায্যে চেটে নিল। ধীরে ধীরে মেয়েটার হাত কালচে বর্ণ ধারণ করছে। তার শরীরে রিয়নের বিষাক্ত দাঁতের বিষক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এলিথ নিজ আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। টেবিলের উপর রাখা কালো তরলে পূর্ণ গ্লাসটি মেয়েটার দিকে এগিয়ে দেয়। বিনা বাক্যে সে জঘন্য স্বাদযুক্ত তরল পান করে নেয়৷ মেয়েটার মনে হতে লাগল উক্ত তরল খাদ্যনালী দিয়ে যতদূর এগুচ্ছে সমস্তটা যেন পুড়ে ছাই করে যাচ্ছে। কখনো কখনো তার এই তরল সম্পর্কে জানার ইচ্ছা জাগে। কিন্তু মৃত্যু ভয়ের কারণে সেই ইচ্ছাকে নিজের মাঝে ধামাচাপা দিয়ে দেয় সে।
কিন্তু আজ এলিথ স্বেচ্ছায় তরল পদার্থটি সম্পর্কে জানিয়ে বলল‚
“এটা অ্যান্টি ভেনম। রিয়নের বিষ যেন তোর কোন ক্ষতি করতে না পারে‚ মৃত্যুমুখে ঠেলে দিতে না পারে সেজন্য ওর-ই রক্ত দিয়ে এই ভেনম তৈরি করা হয়েছে।”
এলিথ মেয়েটির দিকে কিছু টাকার নোট এগিয়ে দেয়। মুহূর্তে তার অভিব্যক্তি থেকে সকল যন্ত্রণা বিলীন হয়ে যায়। এই কাগজের নোটগুলোই তার প্রয়োজন। এই কাগজের নোটের কারণে সে প্রতিনিয়ত মানুষরূপী পিশাচটার সেবা করে যাচ্ছে।
হাসিমুখে মেয়েটি উক্ত স্থান ত্যাগ করল। ততক্ষণে রিয়ন নিজেকে পরিষ্কার করে নিয়েছে। তার দৈহিক বর্ণও স্বাভাবিক হয়েছে। রাশভারী কণ্ঠস্বরে রিয়ন বলল‚
“সেদিন রিকার্দো নামের কুকুরটাকে অনায়াসে চিত্তবিক্ষেপ করতে সফল হয়েছিলে‚ এলিথ। অভিনয় দারুণ করতে পারো। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কথা বলে তোমার ব্যবস্থা করে দিব?”
এলিথ বিরক্তবোধ করল। তীব্র ব্যঙ্গপূর্ণ হাসিতে সে জবাব দিল‚
“সেই সাথে তোমার অস্তিত্ব নিয়ে কিছু একটা করি?”
রিয়নের চোখজোড়া তখনও ঈষৎ রক্তিম। ভ্রূ কুঁচকে ঈষৎ রক্তিম ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সে এলিথের দিকে তাকাল। ব্যঙ্গাত্মক হাসিতে সে তাকে চ্যালেঞ্জের ভঙ্গিতে বলল‚
“চেষ্টা করতে পারো। কিন্তু ব্যর্থ হলে নিজ অস্তিত্ব মেটানোর জন্যও প্রস্তুত থেকো।”
স্বাভাবিকভাবে রিয়ন নিজ আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।এলিথের দিকে এগোতে থাকল সে।
“আমি ভাবছি‚ এতো সুন্দরী একটা জাদুকরীর রক্তের স্বাদ কেমন হতে পারে।”
এলিথের চোখে দৃষ্টি স্থির রেখে রিয়ন চোখ টিপে তার মুখে রক্তমাখা রোমালটি ছুড়ে দেয়। এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। মুষ্টিমেয় রুমাল হাতে এলিথ রাগে ফুঁসতে থাকে। যখন সে রিয়নের অনুপস্থিতি অনুভব করতে পারে তখন সে হুংকার করে উঠে। থরথরে কেঁপে উঠে চারপাশের আসবাবপত্র।

📌: এটা ই-বুক (ফ্রি)। সুতরাং সম্পূর্ণ গল্প ফেসবুকে দেওয়া হবে না। প্রথম ২৬টা পর্বের মতো আসবে। এপে অলরেডি ৩০+ পর্ব আছে৷ বিনামূল্যে পড়ে ফেলুন। সম্পূর্ণ উপন্যাসের ফ্রি ই-বুক লিংক প্রথম কমেন্টে।
চলবে......

Address

Gazipur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mahmuda Maya - এম. এম. মুক্তি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Mahmuda Maya - এম. এম. মুক্তি:

Share