27/03/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
মানব সন্তানকে ক্লেশের মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে,
সর্বশক্তিমান আল্লাহ এখানে নিরাপত্তা পূর্ণ শান্তির শহর মাক্কা মুআযযমার শপথ করেছেন শাবিব ইবন বিশর রহঃ ইকরিমাহ রহঃ হতে তিনি ইবন আব্বাস রাঃ হতে বর্ণনা করেন যে,হে মুহাম্মাদ এই শহরে যুদ্ধ করা তোমার জন্য অনুমোদন দেওয়া হল ( কুরতুবী ২০/৬০,দুররুল মানসুর ৮/৫১৮ ) সাঈদ ইবন যুবাইর রহঃ আবূ সালিহ রহঃ আতিয়াহ রহঃ যাহহাক রহঃ কাতাদাহ রহঃ সুদ্দী রহঃ এবং ইবন যায়িদ ও রহঃ অনুরুপ বর্ণণা করেছেন ( কুরতুবী ২০/৬০,দুররুল মানসুর ৮/৫১৮ ) হাসান বাসরী রহঃ বলেন
আল্লাহ তাআলা শুধু ঘন্টা খানেকের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাক্কায় যুদ্ধ করার অনুমতি দিয়েছিলেন দুররুল মানসুর ৮/৫১৮ উপরোক্ত মনিষীগণ যেসব বক্তব্য রেখেছেন তার ওই অনুমোদন পাওয়া যায় সবার কাছে গ্রহণীয় একটি সহিহ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করার দিন থেকে এই শহরকে মক্কা পবিত্র করেছেন অতএব আল্লাহর অনুমোদন ক্রমে এর শহরটি বিচার দিবস পর্যন্ত পবিত্র থাকবে এর গাছ এর লতাপাতা এবং ঘাস সমূহ কখনো কর্তন করবে না একমাত্র এক ঘন্টার জন্য এখানে যুদ্ধ করার জন্য আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল আজকেই আবার এর পবিত্রতা বহাল করা হয়েছে যেমনটি গতকাল ছিল
অত এব এখানে যারা উপস্থিত আছো তারা তাদের কাছে এ খবর পৌঁছে দিবে যারা এখানে উপস্থিত নেই ( ফাতহুল বারী ৪/৫৬ ) অন্য একটি হাদিসে আছে যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এখানে মক্কায় যুদ্ধবিগ্রহের বৈধতা সম্বন্ধে কেহ আমার যুদ্ধকে যুক্তি হিসেবে পেশ করলে তাকে বলে দিতে হবে আল্লাহ তাআলা তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য অনুমতি দিয়েছেন তোমাদের জন্য দেননি ( ফাতহুল বারী ১/২৩৮ ) আল্লাহ তাআলা বলেন মুজাহিদ রহঃ আবূ সালিহ রহঃ কাতাদাহ রহঃ যাহহাক রহঃ হাসান বাসরী রহঃ খুসাইফ রহঃ শুরাহবিল ইবন সাদ রহঃ এবং অন্যান্যরা বলেন যে জন্মদাতা বলতে আদমকে আঃ এবং মানব জাতি হল আদম সন্তান ( কুরতুবী ২০/৬১,দুররুল মানসুর ৮/৫১৯,তাবারী ২৪/৪৩২ ) এই উক্তিটি উত্তম বলে অনুভূত হচ্ছে কেননা এর পূর্বে মক্কা ভূমির শপথ করা হয়েছে যা সমস্ত যমীন ও বস্তি সমূহের জননী অতঃপর মাক্কার অধিবাসীদের শপথ করা হয়েছে অর্থাৎ মানুষের মূল বা শিকড় আদম আঃ এবং তার সন্তানদের শপথ করা হয়েছে আবূ ইমরান রহঃ বলেন যে এখানে ইবরাহীম আঃ এবং তার সন্তানদের কথা বলা হয়েছে
ইমাম ইবন জারীর রহঃ এবং ইবন আবী হাতিম রহঃ বলেন যে এখানে সাধারণভাবে সকল পিতা এবং সকল সন্তানদের কথা বলা হয়েছে ( তাবারী ২৪/৪৩৩ ) অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু বলেন আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি ক্লেশের মধ্যে দিয়ে ইবন আবী নাযিহ রহঃ এবং যুরাইজ রহঃ আতা রহঃ থেকে তিনি ইবন আব্বাস রাঃ থেকে কাবাদ শব্দ সম্পর্কে বলেন যে মানুষকে কষ্টকর পরিস্থিতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে তা কি তোমরা লক্ষ্য করো না অতঃপর তিনি তার জন্মের সময়ের যন্ত্রণা বয়ঃ বৃদ্ধির সাথে দাঁত গজানো ইত্যাদি উল্লেখ করেন ( তাবারী ২৪/৪৩৪ ) আল্লাহ তায়ালা আর ও বলেন
তার জননী তাকে গর্ভে ধারণ করে কষ্টের সাথে এবং প্রসব করে কষ্টের সাথে ( সূরা আহকাফ ৪৬:১৫ ) মা সন্তানকে দুধ পান করানোর এবং লালন-পালন করায় ও কঠিন কষ্ট স্বীকার করেছেন কাতাদাহ রহঃ বলেন যে ভাবার্থ হচ্ছে কঠিন অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন ইকরিমাহ রহঃ বলেন যে ভাবার্থ হল কঠিন অবস্থায় এবং দীর্ঘ সময়ে সৃষ্টি করা হয়েছে ( দুররুল মানসুর ৮/৫২০ )
আল্লাহর রাহমাত ও নিআমাতরাজী দ্বারা মানুষ পরিব্যপ্ত
মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন তারা কি মনে করে যে তাদের উপর কেহ ক্ষমতা বান হবে না এর ভাবার্থে হাসান বাসরী রহঃ বলেন তারা ধারণা করে যে তাদের ধন-সম্পদ নিতে কেহ সক্ষম নয় কাতাদাহ রহঃ বলেন তারা কি মনে করে যে তাদের উপর কারো কর্তৃত্ব নেই তারা কি জিজ্ঞাসিত হবে না যে তারা কোথাও থেকে ধন-সম্পদ উপার্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে ( তাবারী ২৪/৪৩৬ ) নিঃসন্দেহে তাদের উপর আল্লাহর কর্তৃত্ব রয়েছে এবং আল্লাহ তাদের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান অতঃপর বলা হয়েছে আদম সন্তানরা বলে বেড়ায় আমরা বহু ধন-সম্পদ খরচ করে ফেলেছি মুজাহিদ রহঃ হাসান রহঃ কাতাদাহ রহঃ সুদ্দী রহঃ এবং অন্যান্যরা বলেন যে এর অর্থ হচ্ছে আদম সন্তান বলে বেড়ায় যে সে অনেক সম্পদ ব্যয় করছে ( তাবারী ২৪/৪৩৬ ) আল্লাহ বলেন তারা কি মনে করেছে যে তাদেরকে কেহ দেখছে না অর্থাৎ তারা কি নিজেদেরকে আল্লাহর দৃষ্টি থেকে অদৃশ্য মনে করে
এরপর মহান আল্লাহ বলেন আমি কি মানুষকে দেখার জন্য দুটি চক্ষু তাদের প্রদান করিনি মনের কথা প্রকাশ করার জন্য কি আমি তাদেরকে জিব্বা দেইনি কথা বলার জন্য পানাহারের জন্য চেহারা ও মুখ মন্ডলের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কি আমি তাদেরকে দুটি ওষ্ট প্রদান করিনি
ভালো মন্দের পার্থক্য নির্ণয় করার ক্ষমতা ও আল্লাহ প্রদত্ত নিআমত,
আল্লাহ তাআলা বলেন আমি তাদেরকে ভাল মন্দ দুটি পথ ই দেখিয়েছি সুফিয়ান শাওরী রহঃ আসিম রহঃ হতে তিনি জিরর রহঃ হতে তিনি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাঃ হতে বর্ণনা করেন যে আয়াতে বর্ণিত পথ দুটি হচ্ছে ভাল পথ ও খারাপ পথ ( তাবারী ৪৩৭ ) এক ই কথা বলেছেন আলী রাঃ ইবন আব্বাস রাঃ মুজাহিদ রহঃ ইকরিমাহ রহঃ আবূ ওয়াইল রহঃ আবূ সালিহ রহঃ মুহাম্মাদ ইবন কাব রহঃ যাহহাক রহঃ আতা আল খুরাসানী রহঃ এবং অন্যান্যরা ( তাবারী ২৪/৪৩৭-৩৮ ,দুররুল মানসুর ৮/৫২১-২২ ) যেমন মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শত্রু বিন্দু হতে তাকে পরীক্ষা করার জন্য এজন্য আমি তাকে করেছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি হয় সে কৃতজ্ঞ হবে না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে ( সূরা ইনসান ৭৬: ২-৩ )
সঠিক পথে চলার জন্য উৎসাহ প্রদান,
আল্লাহ তাআলা বলেন অর্থাৎ ওরা মুক্তি ও কল্যাণের পথে চলেনি কেন তারপর মানুষকে সতর্ক করতে গিয়ে বলা হচ্ছে তোমরা কি জানো আকাবা কি?কোন গোলামকে মুক্ত করা অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে খাদ্য দান করা মুসনাদ আহমাদে আবূ হুরাইরাহ রাঃ হতে বর্ণিত আছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি কোন মুমিন গোলামকে মুক্ত করে আল্লাহতালা ওই গোলামের প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বিনিময়ে তার প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি দান করে থাকেন এমনকি হাতের বিনিময়ে হাত পায়ের বিনিময়ে পা এবং লজ্জাস্থানের বিনিময়ে লজ্জাস্থান
আলী ইবন হুসাইন রহঃ এ হাদীসটি শোনার পর এ হাদীসের বর্ণনাকারী সাঈদ ইবন মারজানাকে রহঃ জিজ্ঞেস করেন আপনি কি স্বয়ং আবূ হুরাইরাহর রাঃ মুখে এ হাদীসটি শুনেছেন তিনি উত্তরে বললেন হ্যাঁ তখন আলী ইবন হুসাইন রহঃ তার গোলাম মুতাররিফকে ডেকে বলেন যাও তুমি আল্লাহর নামে মুক্ত ( আহমদ ২/৪২২, ফাতহুল বারী ৫/১৭৪,১১/৬০৮ , মুসলিম ২/১১৪৭ ,তিরমিযী ৫/১৪৪ ,নাসাঈ ৩/১৬৮ )
মুসনাদ আহমাদে আমর ইবন আবাসাহ রাঃ হতে বর্ণিত আছে নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি আল্লাহর যিকরের উদ্দেশে মাসজিদ তৈরী করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ঘর বানিয়ে দেন আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিম দাস কে মুক্ত করে আল্লাহ মুক্তকারীর ফিদাইয়া মুক্তিপণ হিসেবে গণ্য করে থাকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি দান করে থাকেন যে ব্যক্তি দ্বীনি আমল করা অবস্থায় বার্ধক্য উপনীত হয় তাকে কিয়ামতের দিন নূর দেওয়া হবে ( আহমাদ ৪/৩৮৬ ) অন্য এক রিওয়ায়াতে ইমাম আহমাদ রহঃ আবূ উমামাহ রহঃ হতে তিনি আমর ইবন আবাসাহ রহঃ হতে বর্ণনা করেন যে আস সুলাইম রহঃ তাকে বলেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছেন এমন একটি হাদিস কোনরকম কমানো বাড়ানো ছাড়া আমাদেরকে বর্ণনা করুন তখন আমর রাঃ বলেন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি
মুসলিম থাকা অবস্থায় যার তিনটি সন্তান জন্ম লাভ করে এবং সাবালক বালেগ হওয়ার পূর্বে যদি তারা মারা যায় তাহলে আল্লাহর তরফ থেকে তার প্রতি করুনা করে তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করে ধূসর বর্ণ ধারণ করে বিচার দিবসে আল্লাহ তা'আলা তা আলোকিত করবেন যে ব্যাক্তি জিহাদের মাঠে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি তীর ও নিক্ষেপ করে এবং তা যদি শত্রু পর্যন্ত পৌঁছে তা শত্রুকে আঘাত করুক কিংবা না করুক সে একটি দাস মুক্ত করার সাওয়াব প্রাপ্ত হবে যদি কোন ব্যক্তি একজন মুসলিম দাসকে মুক্ত করে তাহলে আল্লাহ তা'আলা মুক্তিপ্রাপ্ত দাসের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের জন্য মুক্তকারীর প্রতি অংগ প্রত্যঙ্গ জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন
যদি কোন ব্যক্তি জিহাদ করার জন্য আল্লাহর উদ্দেশ্য দুটি পশু প্রস্তুত করে রাখে তাহলে জান্নাতের যে আটটি দরজা রয়েছে তার যে কোনোটি দিয়ে প্রবেশ করার জন্য আল্লাহতালা তাকে অনুমতি দিবেন ( আহমাদ ৪/৩৮৬ ) ইমাম আহমাদ এই হাদীসটি বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা থেকে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং এর প্রতিটি সনদ উত্তম ও মযবূত সমস্ত প্রশংসাই একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার জন্য,
এটা ও আবার ঐ শিশু যে ইয়াতীম বা পিতৃহীন হয়েছে আর তার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে যেমন মুসনাদ আহমাদে সালমান ইবন আমির রাঃ হতে বর্ণিত আছে যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন মিসকীনকে সাদাকাহ দেয়া হল শুধু একটি সাদাকা আর আত্মীয় স্বজনকে সাদাকাহ করলে একই সাথে দুটি কাজের সাওয়াব পাওয়া যায় একটি হল সাদাকার সাওয়াব এবং আর একটি হল আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখার সাওয়াব
ইমাম তিরমিযী রহঃ এবং ইমাম নাসাঈ রহঃ এই হাদীসটি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং এর বর্ণনা দ্বারা সঠিক ( আহমাদ ৪/২১৪ ,তিরমিযী ৩/৩২৪,নাসাঈ ৫/৯২ ) ইবন আব্বাস রাঃ হতে এর অর্থ করেছেন এমন মিসকীন যে ধূলালুন্ঠিত পথের উপর পড়ে আছে বাড়িঘর নেই বিছানাপত্র নেই ( তাবারী ২৪/৪৪৪) এছাড়া যার ক্ষুধার জ্বালায় পেট মাটির সাথে লেগে আছে যে নিজের গৃহ হতে দূরে রয়েছে যে মুসাফির,ফকীর মিসকীন পর মুখাপেক্ষী ঝনী কপর্দকহীন খবরা খবর নেওয়ার মতো যার কেহ নেই যার পরিবার সদস্য অনেক অথচ সম্পদ কিছুই নেই এ সময় প্রায় একই অর্থবোধক তদুপরি এই ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সেইসব কাজের জন্য আল্লাহর কাছে বিনিময়ে প্রত্যাশা করে সেই পুরস্কৃত হবে যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন অর্থাৎ যারা বিশ্বাসী হয়ে পরকাল কামনা করে এবং ওর জন্য যথাযথ চেষ্টা করে তাদের প্রচেষ্টা সমূহ আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে ( সূরা ইসরা,১৭:১৯ )
মুমিন পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেহ সৎ কাজ করবে তাকে আমি নিশ্চয়ই আনন্দময় জীবন দান করব ( সূরা নাহুল ১৬:৯৭ ) যেমন মহান আল্লাহ তায়ালার বলেন এবং পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যে মুমিন হয়ে সৎ কাজ করে তারা দাখিল হবে জানাতে সেখানে তাদের দেওয়া হবে অপরিমিত জীবনোপকরণ ( সূরা গাফির,৪০:৪০ ) তারপর তাদের আরো বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তাবারাকা তায়ালা বলেন তারা লোকদের দুঃখ কষ্ট সহ্য করার এবং তাদের প্রতি পরস্পর সহানুভূতি এবং অনুগ্রহ করার জন্য একে অপরকে নাসীহাত করে যেমন হাদিসে রয়েছে অনুগ্রহকারী ব্যক্তিকে আল্লাহতালা অনুগ্রহ করবেন তোমরা পৃথিবীবাসীদের প্রতি অনুগ্রহ কর যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন ( আবূ দাউদ ৫/২৩১ )
অন্য এক হাদীসে রয়েছে যে ব্যক্তি অনুগ্রহ করে না তার প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করার হয় না ( মুসলিম ৪/১৮০৯ ) সুনান আবূ দাউদে আবদুল্লাহ ইবন আমর রাঃ হতে বর্ণিত হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের প্রতি অনুগ্রহ করে না এবং আমাদের বড়দের অধিকার স্বীকার করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় ( আবূ দাউদ ৫/২৩১ ) এরপর আল্লাহ বলেন এসব লোক তারাই যাদের ডান হাতে আমলনামা দেয়া হবে
বাম হাতে আমলনামা প্রাপ্ত দের অবস্থা,
এরপর আল্লাহ বলেন আর আমার আয়াতকে যারা মিথ্যা বলে অবিশ্বাস করেছে তাদের বাম হাতে আমলনামা দেওয়া হবে তারা আগুন পরিবেষ্টিত হবে ঐ অগ্নি হতে কোন দিন মুক্তি পাবে না এবং অব্যাহতি ও মিলবে না ওই আগুনের দরজা দিয়ে তাদের বের হওয়ার পথ অবরুদ্ধ থাকবে কাতাদাহ রহঃ বলেন যে এর ভাবার্থ হচ্ছে তারমধ্যে কোন জানালা থাকবে না ছিদ্র থাকবে না কোন আলো থাকবে না সে জায়গা হতে কখনো বের হওয়া সম্ভব হবে না ( তাবারী ২৪/৪৪৭ )
🎤 আলোচনায় তাফসীরে মুহাম্মাদ তামিল
সূরা বালাদ এর সম্পূর্ণ তাফসীর, মহান আল্লাহ তায়ালা সবাইকেই বুঝার তৌফিক দান করুন আমীন