05/12/2025
এক ছোট্ট গ্রামে রিনা নামের এক মহিলা তার একমাত্র ছেলে আকাশের সাথে বাস করত। আকাশের বাবা তাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রিনা অনেক কষ্ট করে আকাশকে বড় করত। রিনা যেমন ভালোবাসাময়ী মা ছিল, তেমনি আকাশও ছিল খুব শান্ত ও ভদ্র ছেলে।
একদিন রিনা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন ছিল, যা তাদের কাছে ছিল না। আকাশ তার মাকে বাঁচাতে সবার কাছে সাহায্য চাইল, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। রিনা ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
আকাশের হাত ধরে রিনা বলল, "আমার সোনা, আমি হয়তো আর বেশিদিন বাঁচব না। কিন্তু মনে রেখো, আমি সবসময় তোমার সাথে আছি। তুমি কখনো নিজেকে একা ভেবো না।"
রিনার মৃত্যুর পর আকাশ একদম একা হয়ে পড়ল। তার কোনো আত্মীয়-স্বজন ছিল না যে তাকে আশ্রয় দেবে। গ্রামবাসী তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেও, মায়ের অভাব পূরণ করার মতো কেউ ছিল না।
আকাশ প্রতিদিন মায়ের কবরের পাশে গিয়ে বসত আর মায়ের সাথে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোর কথা ভাবত। তার চোখে জল এলেও, সে মায়ের দেওয়া শেষ কথাগুলো মনে করত – "আমি সবসময় তোমার সাথে আছি।"
একদিন গ্রামের এক শিক্ষিকা, যিনি আকাশকে খুব ভালোবাসতেন, তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন। তিনি আকাশকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন এবং তাকে পড়াশোনার সুযোগ করে দিলেন। আকাশ পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল এবং শিক্ষিকার সাহায্যে সে জীবনে অনেক উন্নতি করল।
বড় হয়ে আকাশ একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ হলো। সে একটি স্কুল তৈরি করল যেখানে অসহায় ও এতিম শিশুরা বিনামূল্যে পড়াশোনা করতে পারত। সে জানত মায়ের ভালোবাসা হারানোর বেদনা কতটা কষ্টকর, তাই সে চেয়েছিল কোনো শিশু যেন ভালোবাসার অভাব অনুভব না করে।
আকাশ সবসময় তার মাকে স্মরণ করত এবং মায়ের দেওয়া শিক্ষা ও ভালোবাসা তার জীবনের পথপ্রদর্শক ছিল। সে বুঝত, মা শারীরিকভাবে না থাকলেও, তার ভালোবাসা সব সময় আকাশের সাথে ছিল।